Today 15 Jul 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বিশেষ যত্নে বাঁচুক প্রতিবন্ধী শিশু সাঈদুল আরেফীন

লিখেছেন: সাঈদুল আরেফীন | তারিখ: ০২/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 653বার পড়া হয়েছে।

বিশেষ যত্নে বাঁচুক প্রতিবন্ধী শিশু
সাঈদুল আরেফীন

আমাদের দেশে বরাবরই শিশুরা অধিকার বঞ্চিত থাকে। সেক্ষেত্রে পরিবেশগত কারণে প্রতিবন্ধী শিশুরাও নানা ভাবে অবহেলা ও বঞ্চণার শিকার হয়ে থাকে। কেন শিশুরা প্রতিবন্ধীত্বের শিকার হয় এ নিয়ে মানুষের মনে নানা ভাবে নিয়মিত প্রশ্ন জেগে ওঠে। শিশুরা প্রতিবন্ধীত্বের শিকার হয় মূলত ভূমিষ্ট হবার প্রাক্কাল থেকেই। শিশুদের ভালো ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য মায়ের জঠর থেকেই যত্ন নেয়া অত্যন্ত জরুরী।এই বিষয়গুলোতে আমাদের পরিবার গুলোর মধ্যে অনেক বেশী অসচেতনতা রয়ে গেছে। আমরা সবাই জানি,শিশুকে প্রতিবন্ধীত্বের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে মায়েদের পুষ্টিহীনতা থেকে বাঁচাতে হবে। শিশুদের বংশানুক্রমিক প্রতিবন্ধীতা থেকে বাঁচাতে হলে মায়ের পেটে থাকতেই যত্ন নিতে হবে।আমাদের দেশে গর্ভবতী মায়েদের অজ্ঞতা,অজ্ঞানতার কারণে শিশু ভূমিষ্ট হবার পর থেকেই নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। কেন শিশুরা মায়ের গর্ভ থেকে প্রতিবন্ধীতার শিকার হতে পারে তার কারণ খুঁজলে আমরা দেখতে পাই,ক) মায়ের বয়স ১৬ বছরের নীচে অথবা ৩০ বছরের ওপরে হলে । খ)গর্ভকালীন মায়েদের পুষ্টিহীনতায় ভোগা ।গ)গর্ভকালীন প্রথম অবস্থায় মা যদি কোন কড়া ঔষধ সেবন করে কিম্বা কীটনাশক , রাসায়নিক দ্রব্য গ্রহণ করে । ঘ)গর্ভকালীন মায়ের বিশেষ হাম হয়ে থাকে। সচরাচর এটি প্রভাব বিস্তার করে থাকে ।ঙ)গর্ভধারিণীর হৃদরোগ হয় কিম্বা মাদকাসক্তির অভ্যাস থাকে।যেমন-মদ পান করা , ধূমপান করা,তামাক ব্যবহার করা ইত্যাদি।এছাড়া,জন্মকালীন এবং জন্ম পরবর্তী সময়ে ও শিশুরা প্রতিবন্ধীত্বের শিকার হতে পারে।এ ধরনের অসংখ্য কারণ রয়েছে যা শিশুদের প্রতিবন্ধীত্বের শিকারে পরিণত করে। জন্মের পর পরই পুষ্টিহীনতার কারণে শিশু প্রতিবন্ধীত্বের শিকার হয় সেটা আমরা সচরাচর বিভিন্ন স্তরে জেনে থাকি। আয়োডিন এর অভাবে শিশু মানসিক,শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী,বামন হতে পারে।ভিটামিন এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়,চিরতরে অন্ধত্বের দিকে ধাবিত হয় অথবা ক্যালসিয়াম এর অভাব জনিত কারণে হাঁড় দুর্বল হয়ে যেতেপারে।এছাড়া,প্রাকৃতিক দূর্যোগ,যুদ্ধ বিগ্রহের কারণে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী হতে পারে।এইসব ক্ষেত্রে শিশুরাই সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হতে পারে।দেশে দেশে প্রতিবন্ধীত্বের ক্ষেত্রে শিশুরাই সবচাইতে সমস্যা সংকুল অবস্থায় পড়ে।

কী স্কুলে,কী খেলার মাঠে,কী শিশু পার্কে,কী খাবার টেবিলে,কী উৎসবে সর্বত্র প্রতিবন্ধী শিশুরা অনাদর,অবহেলা বঞ্চনার শিকার। সত্যিকার অর্থেই প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়নের জন্যে বাস্তবমূখী ও কার্যকরী নীতিমালার আলোকে প্রতিবন্ধী শিশুদের বিকাশের ক্ষেত্রে যোগাযোগ ,নড়াচড়া,খেলার জন্য হাতের ব্যবহার পদ্ধতি অনুসরণ করে বিশেষ যত্ন নেয়া যেতে পারে। থিয়েটার থেরাপী প্রক্রিয়া অবলম্বন করে প্রতিবন্ধী শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্যে নানাবিধ কর্মপন্থা পরিচালিত করছে উন্নয়ন সংস্থাগুলো।এর আশাব্যঞ্জক সুফল আমরা পেতে শুরু করেছি।আশার কথা যে,পঁচিশ হাজারের ও বেশী এনজিও প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে পূর্ণ্যােদ্যমে নিয়োজিত।শিশুর যখন তিনমাস,ছয়মাস,নয়মাস এবং দেড়বছর সেই সময় থেকে মূলত প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ যত্নের ব্যাপারে মা বাবা অভিভাবক সরকারী বেসরকারী সংস্থাগুলোকে অবশ্যই নজর দিতে হবে।

শিশুর প্রতিবন্ধিতা বিষয় শনাক্তকরণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ ও খেলাধুলার মাধ্যমে সহায়ক উপকরণের নকশা তৈরী ও স্থানীয় সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুকে বেসরকারী সংস্থাগুলো সহায়তা করতে পারে। এছাড়া ,স্কুলে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে শিক্ষকদের তাদের দায়িত্ব বোধ সম্পর্কে সচেতন করাসহ শ্রেনীকক্ষের কাজগুলোেেক প্রতিবন্ধী শিশুর উপযোগী করতে সহায়তা করাটা অবশ্যই জরুরী । সেইসংগে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে র‌্যাম্প ও সহায়ক উপকরণ তৈরীর মাধ্যমে সরকারী বেসরকারী সংস্থার সাথে স্থানীয় সুশীল সমাজ সহ সর্বস্তরেরর নাগরিকদের সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুরা পেতে পারে তাদের ন্যায্য অধিকার ভিত্তিক কিছু সহায়তা ।

প্রতিবন্ধী শিশুদের পারিবারিক পর্যায় থেকে মূলত সচেতনতার মাধ্যমে বিশেষ ভাবে উদ্যোগী হতে হবে সহায়তার ব্যাপারে।পারিবারিক ভাবে সচেতনতার ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা বাড়ানোার প্রক্রিয়ায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে আরো সোচ্চার হতে হবে। আরো গতিশীলতা বাড়াতে হবে তাদের কাজের মধ্যে। এক্ষেত্রে শিশু অধিকার উন্নয়নে যেসব এনজিও প্রত্যক্ষ ভাবে কাজ করছে তাদেরকেই সবচেয়ে অগ্রণী ভুমিকা রাখতে হবে। দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী সহ সকল জনগণের মধ্যে ব্যাপক ভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষা, প্রতিষ্ঠান,সরকারী বেসরকারী সংস্থা,স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা,সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সহ সর্বস্তরের জনগণের মাঝে মানুষ হিসেবে প্রতিবন্ধী শিশুদের বাঁচার অধিকার নিশ্চিতে মানসম্মত সচেতনতা কার্যক্রম গড়ে তুলতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করার। আমরা বিশ্বাস করি, শিশুদের মানসিক ভাবে বিকাশের মাধ্যমে একটা জাতির কল্যাণ অবধারিত। সেক্ষেত্রে,প্রতিবন্ধী শিশুরাই হোক মূল উপজীব্য বিষয়।
লেখক : কবি,প্রাবন্ধিক,কলামিষ্ট ,শিক্ষা ও উন্নয়ন গবেষক

৬৪৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সাঈদুল আরেফীন ১৯৬৮ সালের ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর কোরবানীগঞ্জে জন্ম গ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস বাঁশখালি উপজেলার জলদি গ্রামের নেয়াজর পাড়ায়। পিতার নাম মুহাম্মদ ফৌজুল কবীর এবং মায়ের নাম মরহুমা মোসলেমা খাতুন। আশির দশকের মধ্যভাগ থেকেই সরকারি মহসিন কলেজে পড়াকালীন সময় সাঈদুল আরেফীন সাহিত্য চর্চায় নিবেদিত হন। সেই থেকে কবিতা ,গল্প,প্রবন্ধ,নিয়ে নিরন্তর কলম চালান তিনি। আশির দশকের শেষভাগে সংবাদপত্রে যোগ দেন। চট্টগ্রাম প্রতিবেদক হিসেবে সাপ্তাহিক চিত্রালী,সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর,সন্দীপ সহ বিভিন্ন সময়ে অধুনালুপ্ত সমতা অপরূপ বাংলার প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। মূলত সংবাদপত্রে হাতে খড়ি হয় দৈনিক পূর্বতারাতে ক্ষুদে রিপোর্টার হিসেবে সরকারি মুসলিম হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে। বর্তমানে তিনি রাজনীতি,শিক্ষা,সাহিত্য, সংস্কৃতি,শিশু অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রবন্ধ কলাম এবং লিখে চলেছেন নিয়মিতভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও লিটলম্যাগ গুলোতে। চট্টগ্রাম বেতারে নিয়মিত আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও গবেষণামূলক স্বরচিত প্রবন্ধ ও কথিকা পাঠ ছাড়াও মাঝে মাঝে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে থাকেন। সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন ছোটবেলা থেকেই। তারই ধারাবাহিকতায় দশ বছরের পরিক্রমায় অনুপম নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত থেকে মানবসেবা শিক্ষা , সাহিত্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার একটি উজ্জ্বল সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আশির দশকেই। এখন যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামক একটি বেসরকারি উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনারারী ম্যানেজমেন্ট এডভাইজার হিসেবে কর্মরত থেকে প্রশিক্ষণ,উন্নয়ন নানা গবেষণাধর্মী কাজে জড়িত আছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সদস্য হিসেবে জড়িত থেকে শিক্ষার প্রসারেও কাজ করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর লামাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এছাড়া সাহিত্য ও সংস্কতি বিষয়ক পত্রিকা ঐতিহ্যের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি স্ত্রী ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। “মনে পড়ে জলকদর” তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ। এ গ্রন্থের মধ্য দিয়েই তিনি আমাদের জানান দিয়েছেন লেখালেখির মাঝখানে বিরতি দিলেও তিনি হারিয়ে যাননি। ইদানিং পত্র পত্রিকায় আবারো সক্রিয় হয়েছেন। এতে বেছে নেয়া তাঁর কবিতাগুলোর অধিকাংশই দৈনিক পূর্বকোণ,আজাদী ,মঞ্চ,সুপ্রভাত বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন লিটল ম্যাগে প্রকাশিত কবিতার সংকলন। আমাদের কাব্যভুবনে তাঁর আগমনকে স্বাগত জানাই। তাঁর কবিতা আশাকরি পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে। অচিরেই তাঁর শিশুতোষ প্রবন্ধ ও উন্নয়ন গবেষণামূলক দুটি প্রবন্ধের বই বেরোবে।
সর্বমোট পোস্ট: ২৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৫৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৬-১২ ১৩:৫৫:৪১ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    আজকের শিশুরা আগামিদিনে দেশের জন্য কাজ করবে।
    এরা দেশের ভবিষ্যৎ। মায়েরা শিক্ষিত হলে আমাদের দেশ এই সমস্যা থেকে অনেকাংশে মুক্তি পাবে। মা বাবা তথা পরিবারের সদস্যারা আরো সচেতন হতে হবে। চিকীৎসকরাও আরও সহযোগীতা বাড়াতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে।

  2. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    নাৱী বলিয়া অধম নয় নাৱীৱ পেটেই সন্তান হয় তাই ছোট মেয়েদেৱ পর্যাপ্ত শিক্ষায় শিক্ষিত কৱতে হবে লেখা ভাল লাগলো

  3. সাঈদুল আরেফীন মন্তব্যে বলেছেন:

    ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী ও ঘাস ফড়িং আপনাদের দুজনের মন্তব্যে জন্য অশেষ ধন্যবাদ। ভালো লাগলো আপনাদের কমেন্টস।

  4. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার লিখা ভাল লেগেছে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কবিদের সম্মান ও তাদের সম্পর্কে তুলে ধরার এ্রয়াস ভাল লেগেছে।

  5. সাঈদুল আরেফীন মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনাদের ভালোলাগাতেই প্রাণিত হই বারবার। গোলাম মওলা মওলা আকাশ ধন্যবাদ আপনাকে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top