Today 19 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বিশ্ব মা দিবস এবং উপলব্ধিতে চিরন্তন সত্তার নাম_মা জননী

লিখেছেন: সহিদুল ইসলাম | তারিখ: ১১/০৫/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 644বার পড়া হয়েছে।

image
অবতরণিকাঃ 
মা কে নিয়ে লেখা, কিভাবে শুরু করব? মা-কে নিয়ে পৃথিবীর অনেক লেখক, কবিও সাহিত্যিকগণ অনেক লেখা লিখছেন। পৃথিবীতে অনেক গুণীজন আছেন যারামাকে নিয়ে অনেক ভাল ভাল লেখালিখেছেন। আমার সীমিত জ্ঞানে লিখার যেসাহস করেছি তা অনেকের ভাল নাওলাগতে পারে। তাই সকল বন্ধুদের কাছেআমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, এবং আমার এঅল্প জ্ঞানে যতটুক, লিখেছি দয়াকরে ধৈর্যসহকারে পড়বেন বলে আশা রাখি।
যদি আমার এ লেখা পড়ে কারো মনে একটুহলেও মায়ের প্রতি ভালবাসার উদয় হয়তাহলে আমার এ শ্রম সার্থক হবে। সকলেরকাছে আমার অনুরোধ মা নামের এই অমূল্যরত্নটিকে কেউ অবহেলা করবেন না, তাহলেইহজনম ও পরজনমে কখনও সুখী হতেপারবেন না। অবশ্য অনেকে পরজনম বিশ্বাস করেন না, তারপরও বলি, কেউ পর জনম বিশ্বাস করুক বা না করুক মা হল একটি চিরন্তন সত্তার নাম, কোনোভাবেই তা অস্বীকার করা যায় না। যদি কারো মা পতিতাও হয় অথবা বিধর্মীও হয় তবু কোন অবস্থাতেই তার মনে কষ্ট দেয়া যাবে না। মা -কে নিয়ে লেখার সাহস আমি কোন দিনপাইনি, আজ অনেকটা সাহস নিয়ে লিখতেবসলাম। অতি ছোট্ট একটি শব্দ, পৃথিবীতেসবচেয়ে সুন্দর এবং মধুর শব্দটি হচ্ছে মা।জাতি, ধর্ম, বর্ণ সবকিছুর উর্দ্ধে যে, সেহলো মা, তার নেই কোন উপমা, তুলনা। মামানে সততা, মা মানে নিশ্চয়তা, মা মানেনিরাপত্তা, মা মানে অস্তিত্ব, মা মানে আশ্রয়, মা মানে একরাশ অন্ধকারে এক বুকভালবাসা, মা মানে সুন্দর জীবন, মা মানেসুন্দর জাতির উপহার। মা এমনই একমমতাময়ী, চিরসুন্দর, চির শাশ্বত; যার নেইকোন সংজ্ঞা। মধু মিশ্রিত এক মহৌষধেরনাম মা। মায়ের কাছে এলে মুহূর্তেই যেনসকল রোগ সেরে যায়। সবচেয়ে প্রিয় ‘মা’ শব্দটি সাময়িক মোহ বা অন্য কিছু, হয়ত এশব্দটির চেয়েও অন্য কোনো শব্দকেখানিকটা প্রিয় করে তোলে, কিন্তু অচিরেইতা বড় ‘ভুল’ প্রমানিত হয়। মা, মা, এবংমা, প্রিয় শব্দ একটিই, এবং একটিই। শুধুপ্রিয় শব্দই নয়, প্রিয় বচন – মা, ছির সত্যমা, প্রিয় অনুভূতি -মা।
মায়ের ভালবাসাঃ
একজন মা ১০ মাস ১০ দিন পেটে ধারণকরে সমস্ত যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে জন্ম দেয়সন্তান। শত-সহস্র কষ্টে লালন পালন করেসেই সন্তানটিকে, আস্তে আস্তে তাকে বড়করে। কেননা মাতৃসত্ত্বা হচ্ছে একজনমায়ের নিকট সবচেয়ে বড় সত্ত্বা। মাতৃত্বতাই নারীর অহংকার ও গর্ব। সব মায়েরভালোবাসাই অকৃতিম ও এক। প্রতিটিমানুষের কাছে তার মা তুলনাহীনা ওঅনন্যা। মা কখনও পুরানো হয় না, ঠিকআকাশের মতো। যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয়সবচেয়ে বড় সুখ কিসে? নিশ্চই তারজাবাব হবে মায়ের বুকে। মায়ের কাছেগেলে কখনও অপ্রাপ্তি থাকে না। তাই হয়তকখনও কখনও প্রাপ্ত বয়স্ক কোন সন্তানওনবজাতকের মতো অসহায় হয়ে যায় মাকেছাড়া। মায়ের বুক হচ্ছে সন্তানের জন্যনিরাপদ আশ্রয়। মায়ের ভালবাসা হচ্ছেসবচেয়ে শ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে নির্ভেজাল এবংস্বার্থহীন ভালবাসা। মায়ের এই স্বার্থহীনভালবাসার দুটি উদাহরণ গল্পের মাধ্যমেতুলে ধরছিঃ
০১। একদা এক লোক তার স্ত্রীকে খুবভালোবাসতো। সে তার মাকেওভালোবাসতো কিন্তু মায়ের ভালবাসা যেরূপপ্রাপ্য সেরুপ নয়। লোকটির স্ত্রী এবং তারমার সাথে ভাল সম্পর্ক ছিল না। তাই তারস্ত্রী সব সময় ভাবত কীভাবে তারশাশুড়িকে বাড়ী থেকে চির বিদায় করাযায়। একদিন লোকটির স্ত্রী মনে মনে বুদ্ধিআঁটল এবং লোকটিকে বলল, এই যে, শুনএকটি কথা, কি আর বলব লজ্জার কথা, তোমার মা এই বৃদ্ধা বয়সে বিয়ে করতেচায়। এমন লজ্জার কথা যদি কেও শুনেতাহলে কি আর আমাদের মানসম্মান থাকবে। লোকটি চিন্তা করল তাইতো লোকজনেযদি এই কথা শুনে তাহলে আমি মুখ দেখাবকি করে। তাই সে মনে মনে একটি বুদ্ধিআঁটল। মাকে বলল মা কে বলল মাতুমাকে আজ বেড়াতে নিয়ে যাব। মা বললনারে বাবা আমি এই বৃদ্ধা বয়সে কোথায়বেরেতে যাব। ছেলে বলল তুমি বেশী বুঝনা তো মা, আমি যা বলি তাই শুন। মা আরবেশী কথা না বলে ছেলের সাথে রওনা হল।ছেলে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী মাকে একজঙ্গলের ধারে ফেলে চলে আসতে লাগলএবং ভাবল একটু পড়েই সন্ধ্যে ঘনিয়েআসবে, বাঘ এসে জঞ্জালটিকে খেয়েফেললেই আমি বেচে যাই। সমাজেরমানুষের নিকট আমাকে আর অসম্মানিতহতে হবে না, কিন্তু বিধির কি অপূর্ব লীলাঠিক ফেলে আসার মুহূর্তেই প্রচণ্ড ঝড় উঠেএলো। মা খুব চিন্তায় পরে গেলেন, আল্লাহ্‌রনিকট হাত তুলে দোয়া করতে লাগলেন এইপ্রচণ্ড ঝড়ে আমার ছেলের না জানি কোনবিপদ হয়, হে আল্লাহ্‌ তুমি আমার জীবনেরবিনিময়ে আমার ছেলেকে নিরাপদে বাড়ীতেপৌঁছে দাও। ছেলে মায়ের দোয়া শুনেচমকে গেল। সে ভাবল যে মাকে আমিফেলে চলে আসলাম সেই মা যদি আমারজন্য দোয়া করতে পারে, এই মা আমারজন্য কখনো অমঙ্গল বা অসম্মান চাইতেপারে না। সে মাকে বাড়ীতে ফিরিয়ে নিয়েগেল, আসল কারণ বের করে তার স্ত্রীকেউপযুক্ত শাস্তি দিল।
০২। ছেলের নাম এরিক । ওর মায়ের একচোখঅন্ধ। এটা নিয়ে স্কুলের বন্ধুদেরসামনে এরিক খুবই বিব্রত হয়। একবার ওরমা খাবার নিয়ে স্কুলে গেলে এরিক চিৎকারকরে বললো ” তুমি মরে যাও না কেন ? তাহলে বন্ধুদের কাছে আমাকে লজ্জা পেতেহয় না। ছিঃ, কি বিশ্রী দেখা যায় একটাচোখে যখন তাকাও! “এরিক খুব মনোযোগদিয়ে লেখাপড়া করছে, কারণ যত দ্রুতসম্ভব প্রতিষ্ঠা পেয়ে এই বাড়ী থেকে সে চলেযেতে চায়।
খুব ভালো রেজাল্ট করলো এরিক, সেইসাথে প্রতিষ্ঠা! তার নিজের বাড়ি, গাড়ি, বউ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার! একচোখা অন্ধমায়ের কোন চিহ্নই নেই তারজীবনে। এদিকে বৃদ্ধা মা মৃত্যুর প্রহরগুনছেন। কিন্তু মরবার আগে একটি বারেরজন্য নাতিগুলোর মুখ দেখার লোভসামলাতে না পেরে ঠিকানা খুঁজে খুঁজে চলেএলেন ছেলের বাড়ি। বৃদ্ধাকে দরজায় দেখেএরিক হুংকার দিলো, “কোন সাহসেএসেছো এখানে? দেখছনা, তোমাকে দেখেআমার বাচ্চারা ভয় পাচ্ছে? এখনি দূর হওএখান থেকে”।
এর কয়েক বছর পরে স্কুলের পূর্ণমিলনীতেবিশেষ অতিথী হয়ে গেলো এরিক! অনুষ্ঠানশেষে কি মনে করে যেন বৃদ্ধাকে দেখতেগেলো সে। প্রতিবেশী অপর বৃদ্ধা জানালো, বছর দুই আগেই তিনি গত হয়েছেন আরযাবার আগে এরিকের জন্য রেখে গেছেনএকটি চিঠিঃ
আমার সোনামনি এরিক,
জানি, তুমি তোমার মা’কে অনেক ঘৃণাকরো। আমি তোমাকে জীবনে কিছুই দিতেপারিনি,
দিয়েছি শুধু লজ্জা। মা হিসেবে আমি ব্যর্থ।এ জন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থী। ছোটবেলায় তোমার একটা এ্যাক্সিডেন্ট হয়েতোমার একটা চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।তুমি সারাজীবন একচোখ দিয়ে দেখবে, মাহিসেবে এটা আমি মেনে নিতে পারিনি, তাইনিজেই বাকি জীবন একচোখ দিয়ে দেখবোবলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আজ তুমিদু’চোখ দিয়ে দেখতে পারছো, আমার কাছেএর চেয়ে বড় আনন্দের আর কিছু নেই।তুমি ভালো থেকো বাবা!!!
ইতি,তোমার ব্যর্থ মা!
মাকে নিয়ে আল্লাহ্‌র বানীঃ
০১. আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথেসদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননীতাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবংকষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভেধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছেত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থে, বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখনবলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমিতোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমিদান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমারপছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমারসন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমিতোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমিআজ্ঞাবহদের অন্যতম। (আল আহক্বাফ: ১৫)
০২. তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেনযে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করোনা এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহারকর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েইযদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীতহয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো নাএবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বলতাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা। (বনীইসরাইল: ২৩)
০৩. আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতারসাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি।তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভেধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরেহয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ওতোমার পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতেহবে। (লোকমান: ১৪)
মা সারা জীবন যে মায়া তিনি করেএসেছেন, তার কিঞ্চিৎ তাঁকে ফেরৎ দিলেইতিনি খুশী। তার চাহিদা আমাদের মতোএত বড় নয়। তিনি প্রতিদান চান না, তিনিপ্রাপ্য চান না, অধিকার নিয়ে কোনো কথাবলেন না তিনি। শুধু একটু মায়া চান। তারঋণ তো আমরা কখনো শোধ করতেপারবনা।
তাইতো মায়ের এক ধার দুধের দাম, কাটিয়া গায়ের চাম পাপুস বানাইয়া দিলে, ঋণের শোধ হবে না, এমন দরদী ভবে কেওহবে না আমার মা গো।
মাকে নিয়ে হাদিসের বানীঃ
০১. এক ব্যক্তি নবীজীর স. কাছে এসেবলল, সদ্ব্যবহার পাওয়ার অধিকার বেশিকোন মানুষের? তিনি বললেন, তোমার মা।লোকটা বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা। লোকটা বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপরওতোমার মা। লোকটা বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপর তোমার বাবা। -বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী
০২. রাসূলে খোদা (সা) বলেছেনঃ বেহেশ্‌তহচ্ছে মায়েদের পায়ের নিচে। ( কানযুলউম্মালঃ ৪৫৪৩৯, মুনতাখাবে মিযানুলহিকমাহঃ ৬১৪)
হে মহান সৃষ্টিকর্তা, বাবা মা আমাদের যেদুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা সহ্য করে আমাদের লালনপালন করেছে, তাদের প্রতি ভাল ব্যবহারকরার তৌফিক দান কর।
মা দিবসের ইতিহাসঃ
১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্টে সর্বপ্রথম মা দিবসপালন করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এইদিনটিকে অনেক উৎসাহ নিয়ে পালন করারজন্য সরকারী ছুটি ঘোষনা করা হয়। গতক’বছর ধরে বাংলাদেশে এ দিবসটি যথাযথমর্যাদার সাথে পালন করা হচ্ছে। একজনসন্তান হয়ে মায়ের প্রতি ভালবাসার দিনপ্রতিদিন এবং প্রতি মূহুর্ত। সন্তানের প্রতিমায়ের ভালবাসা চিরন্তন।
বর্তমানে প্রচলিত মা দিবসের সূচনা হয়১৯০৮ সালে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতেআমেরিকার ফিলাডেলফিয়ার এক স্কুলশিক্ষিকা এ্যানা জারবিস সেখানকারপারিবারিক বিচ্ছিন্নতা দেখে দারুন মর্মাহতহন। মায়ের প্রতি সন্তানদের অযত্ন, অবহেলা দেখে তিনি ভীষণ চিন্তিত হয়েপড়েন। তখন তিনি ভাবলেন মায়ের জন্যএকটি বিশেষ দিবস পালন করে সন্তানদেরমধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা যায় কিনা। কিন্তুতাঁর সেই ভাবনা বাস্তবায়নের পূর্বেই ১৯০৫সালের ৯ মে তিনি পরলোকগমন করেন।তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে এ্যানা এমজারবিস মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। মাহারানোর অনুভুতি তিনি তীব্রভাবে অনুভবকরেন। শেষ পর্যন্ত মায়ের শেষ ইচ্ছা মাদিবস পালনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যউঠেপড়ে লাগেন। অবশেষে ১৯০৮ সালেএ্যানা এম জারবিস তাঁর মা এ্যানা জারবিসফিলাডেলফিয়ার যে গির্জায় গিয়ে উপাসনা করতেন সেখানে সব মাকে নিয়ে একটিঅনুষ্ঠানের মাধ্যমে মা দিবসের যাত্রা শুরুকরেন।
আবার অনেকে মনে করেন অ্যানাজারভিসের পূর্বে এবং ১৯৭২ সালেযুক্তরাষ্ট্রের জুলিয়া ওয়ার্ড হোউই-এর পরে১৯৮৭ সালের দিকে মেরী টাওলাস সাসসিননামে একজন স্কুল শিক্ষক মাদার্স ডেউদযাপনের আয়োজন করে। ১৯০৪ সালেফ্রান্স মাদার ডে নিয়ে প্রচারাভিযান শুরুকরেন। এরপর তিন বছর পর অ্যানাজারভিস জাতীয় ভাবে মাদার্স ডে পালনেরউদ্যোগ নেন। তিনি মে মাসের দ্বিতীয়রোববারকে মাদার্স ডে হিসেবে নির্ধারণকরেন। ১৯১০ সালে পূর্ব ভার্জিনিয়াতে সেইদেশের সরকার প্রধান আনুষ্ঠানিক ভাবে মাদিবসের ঘোষণা দেন। ১৯১১ সাল থেকেপ্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই মা দিবস পালিত হয়েআসছে। আর্ন্তাতিক মা দিবস সংগঠন১৯১২ সাল থেকে মা দিবস পালন করেআসছে এবং অ্যানা জারভিসকে মাদার্স ডে-র প্রবর্তক হিসেবে ঘোষণা দেন।
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও মাতৃত্ববোধ জানাতেএখন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিভিন্নদেশে মা দিবস হিসেবে পালিত হলেও শুধুব্রিটেনে এ দিবস পালিত হয় মার্চ মাসে।কোন কোন দেশ আবার মে মাসের শেষরবিবার পালন করে থাকে।
এছাড়াও এ দিবসটি নানা দেশে নানা দিনেপালন হয়ে আসছে। নিন্মে তালিকাটি প্রকাশকরলামঃ
ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববার : নরওয়ে
২ ফেব্রুয়ারি : গ্রিস
৩ মার্চ : জর্জিয়া
৮ মার্চ : আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বসনিয়া অ্যান্ডহার্জেগভিনা, বুলগেরিয়া, লাউস. ম্যাকডনিয়া, মালডোবা, মন্টেনেগ্রো, রোমানিয়া ও সার্বিয়া।
মার্চের চতুর্থ রোববার : আয়ারল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাজ্য।
২১ মার্চ : বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, লেবানন, ওমান, ফিলিস্টিৱন, সৌদি আরব, সুদান, সোমালিয়া, সিরিয়া, সংযুক্ত আরবআমিরাত ও ইয়েমেন।
২৫ মার্চ : স্টেনেভানিয়া।
৭ এপ্রিল : আর্মেনিয়া।
মে মাসের প্রথম রোববার : হাঙ্গেরি, লিথুনিয়া, পর্তুগাল ও স্পেন।
৮ মে : আলবেনিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া।
১০ মে : এল সালভাদর, গুয়াতেমালা ওমেক্সিকো;
মে’র দ্বিতীয় রোববার : অ্যাঙ্গোলা, আরোবা, অস্ট্রেলিয়া, অষ্ট্রিয়া, বাহামাস, বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, বেলিজ, বারমুডা, ব্রাজিল, ব্রুনেই, বুলগেরিয়া, কানাডা, চিলি, কলম্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, কিউবা, সাইপ্রাস, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, ডোমিনিকা, ইকুয়েডর, ইশোনিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ঘানা, গ্রিস, গ্রেনাডা, হন্ডুরাস, হংকং, আইসল্যান্ড, ভারত, ইতালি, জ্যামাইকা, জাপান, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, পাপুয়া নিউ গিনি, পেরু, চীন, ফিলিপাইন, পুয়ের্তো রিকো, তাইওয়ান, দক্ষিণকোরিয়া, শ্রীলংকা, সেন্ট কিটস অ্যান্ডনেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেইন্ট ভিনসেন্টঅ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইন্স, সিন্ট মার্টিন, সিঙ্গাপুর, সুরিনাম, সুইজারল্যান্ড, ত্রিনিদাদঅ্যান্ড টোবাগো, তুরস্ক, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, উরুগুয়ে, ভেনেজুয়েলা ও জিম্ব্বাবুয়ে।
১৫ মে : প্যারাগুয়ে
২৬ মে : পোল্যান্ড
২৭ মে : বলিভিয়া
মে মাসের শেষ রোববার : আলজেরিয়া, ডোমিনিকান, ফ্রান্স, হাইতি, মরিশাস, মরক্কো, সুইডেন ও তিউনিশিয়া।
৩০ মে : নিকারাগুয়া
১ জুন : মঙ্গোলিয়া
জুন মাসের দ্বিতীয় রোববার : লুক্সেমার্গ
জুনের শেষ রোববার : কেনিয়া
১২ আগষ্ট : থাইল্যান্ড
১৫ আগষ্ট : কোস্টারিকা
অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সোমবার : মালাই
অক্টোবরের তৃতীয় রোববার : আর্জেন্টিনা
৮ ডিসেম্ব্বর : পানামা
২২ ডিসেম্ব্বর : ইন্দোনেশিয়া
 
বাংলাদেশ মে’র দ্বিতীয় রোববার মা দিবসপালন করে থাকে, সে অনুযায়ী আগামী ১০ইমে ২০১৫ ইং তারিখে বাংলাদেশে মা দিবসপালিত হবে তাই এই মা দিবস উপলক্ষেবিশ্বের সকল মাতার সুস্বাস্থ্য কামনা করছিএবং বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
“The World Mother’s Day, I hope the entire Mother’s Health and I have the meek veneration to announce to all Mothers of the world.”__ MOHAMMAD SAHIDUL ISLAM
মা দিবস সম্পর্কে আমার কিছু কথাঃ
আমাদের দেশে এ দিবসটি খুব একটাউপলব্ধির মধ্যে আসেনি। কারণপাশ্চাত্যের মতো এত নিষ্ঠুর আমরা এখনওহইনি যে, মাকে নিয়ে ওল্ড হোমে রেখেআসবো। তবুও আমাদের মায়েরা যে কিছুটাঅবহেলার শিকার সেটা অস্বীকার করারকোন উপায় নেই। আমি বাংলাদেশী, বর্তমানে সিংগাপুরে একটি ইন্টারন্যাশনালকোম্পানিতে প্রজেক্ট সুপারভাইজার হিসেবেকাজ করছি। আমি এখানে দেখেছি বাবা-মাযখন বৃদ্ধ হয়ে যায় তখন তাদেরকেবৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা হয়। ছেলে-মেয়েরাতাদের দেখতে একটু সময়ও পায়না।আবার দেখি মা দিবস বা বাবা দিবসে অথবাঅন্য কোন দিবসে তাদের বাবা-মায়েরকবরে দলে দলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেযায়। সময় থাকতে যাদের চিনলাম না, তাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে কিলাভ। মা হল, মা হল একটি ধ্রুবতারার নাম একটি চিরন্তন সত্তার নাম, কোনোভাবেই তা অস্বীকার করা যায় না। যদি কারো মা পতিতাও হয় অথবা বিধর্মীও হয় তবু কোন অবস্থাতেই তার মনে কষ্ট দেয়া যাবে না। আমি সবার কাছে অনুরোধকরব সময় থাকতে মাকে চিনুন। তাই তোবলিঃ
মা জননী নাইরে যাহার, ত্রিভুবনে তাহারকেহ নাইরে,
মায়ের মত আপন কেহ নাই রে, মায়ের মতআপন কেহ নাই।
সন্তানের তরে মায়ের দোয়াঃ
ইসলাম ধর্মে আছে “মা বাপ হচ্ছেতোমাদের বেহেশত, মা বাপ হচ্ছেতোমাদের দোজখ।” অর্থ্যাৎ যদি আমরা মাবাবার কথামত চলি, মা বাবার মনে কোনকষ্ট না দেই তাহলেই আমাদের জন্যবেহেশত সোজা হয়ে যাবে। আর যদি মাবাবার মনে কষ্ট দেই মা বাবার সাথেদুর্ব্যবহার করি তাহলে দোজখ চিরধার্য।সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া অতি দ্রুতএবং ১০০% কবুল হয়। এই দুনিয়াতেইসন্তানের উপর মায়ের দোয়া অতি দ্রুতএবং ১০০% কবুলের দুটি বাস্তব উদাহরণআমি নিন্মে তুলে ধরছিঃ
০১ নং উদাহরণঃ
হজরত বায়েজিদ বোস্তামি এর ঘটনাঃএকদিন বায়েজীদ বোস্তামি রহমাতুল্লাহিআলাইহি পানির গ্লাস হাতে নিয়ে মায়েরমাথার কাছে সারা রাত দাঁড়িয়ে ছিল।ফজরের আযান হল। মা ঘুম থেকে জাগ্রতহলেন। তিনি দেখতে পেলেন বায়েজীদপানির গ্লাস হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে। মা বললেনহে বায়েজীদ! তুমি এখানে এ অবস্থায় কেন? বায়েজীদ বলল, মা তুমি গভীর রাতে পানিচেয়েছিলে। কিন্তু পানি ঘরে না থাকায়অনেক দূর থেকে পানি এনেছিলাম তোমারজন্য। কিন্তু এসে দেখি তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ।তাই যতক্ষণ না তুমি ঘুম থেকে উঠবেততক্ষণ আমি এই পানির গ্লাস হাতে নিয়েতোমার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম। একথা শুনার সাথে সাথে বায়েজীদের মাবায়েজীদকে বিছানায় কম্বল দিয় শুইয়েদিল। আর ফজরের নামায শেষে মাবায়েজীদের জন্য এই বলে দোয়া করলেনযে, হে আল্লাহ আজকে বায়েজীদ আমারজন্য যা করেছে তার জন্য আমার কলিজাঠান্ডা হয়ে গেছে। হে আল্লাহ আমি তার মাহয়ে দোয়া করি, তুমি তাকে সুলতানুলআরেফীন বানাইয়া দিও। আর সেই দোয়া শেষ পর্যন্ত মঞ্জুর হয়ে গেল।
০২ নং উদাহরণঃ
মা এর সম্মান নিয়ে হযরত আবু হোরায়রা(রাঃ) এর ঘটনাঃ একদিন হযরত আবুহোরায়রা (রাঃ) রাসুল (সাঃ) এর নিকট এসেকাঁদছেন। রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হেআবু হোরায়রা তুমি কেন কাঁদছ? আবুহোরায়রা বললেন, আমার মা আমাকেমেরেছেন। রাসুল (সাঃ) বললেন, কেন তুমিকি কোন বেয়াদবী করেছ? আবু হোরায়রাবললেন, না হুজুর কোন বেয়াদবী করিনি।আপনার দরবার হতে বাড়ি যেতে আমাররাত হয়েছিল বিধায় আমার মা আমাকেদেরির কারণ জিজ্ঞেস করায় আমি আপনারকথা বললাম। আর আপনার কথা শুনে মারাগে আমাকে মারধর করল আর বলল, হয়ত আমার বাড়ি ছাড়বি আর না হয়মুহাম্মদ (সাঃ) এর দরবার ছাড়বি। আমিবললাম, ও আমার মা। তুমি বুড়ি মানুষ।তোমার গায়ে যত শক্তি আছে তত শক্তিদিয়ে মারতে থাকো। মারতে মারতেআমাকে বাড়ি থেকে বের করে দাও। তবুওআমি আমার রাসুলকে ছাড়তে পারবো না।তখন রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমার মাতোমাকে বের করে দিয়েছেন আর এজন্যআমার কাছে নালিশ করতে এসেছ? আমারতো এখানে কিছুই করার নেই। হযরত আবুহোরায়রা (রাঃ) বললেন, হে রাসূল (সাঃ) আমি আমার মায়ের জন্য এখানে নালিশকরতে আসি নাই। রাসুল (সাঃ) বললেন, তাহলে কেন এসেছ? আবু হোরায়রাবললেন, আমি জানি আপনি আল্লাহর নবী।আপনি যদি হাত উঠিয়ে আমার মায়ের জন্যদোয়া করতেন, যাতে আমার মাকে যেনআল্লাহ হেদায়েত করেন। আর তখনই সাথেসাথে রাসুল (সাঃ) হাত উঠিয়ে আল্লাহরদরবারে দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আমিদোয়া করি আপনি আবু হোরায়রার আম্মাকেহেদায়েত করে দেন।” রাসুল (সাঃ) দোয়াকরলেন আর আবু হোরায়রা বাড়ির দিকেদৌড়ে যাচ্ছেন। পিছন থেকে কয়েকজনলোক আবু হোরায়রার জামা টেনে ধরলএবং বললো, হে আবু হোরায়রা! তুমিদৌড়াচ্ছ কেন? তখন আবু হোরায়রাবললেন, ওহে সাহাবীগণ তোমরা আমারজামা ছেড়ে দাও। আমাকে দৌড়াতে দাও।আমি দৌড়াইয়া বাড়িতে গিয়ে দেখতে চাইআমি আগে পৌঁছলাম নাকি আমার নবীজিরদোয়া আগে পৌঁছে গেছে। হযরত আবুহোরায়রা দরজায় নক করতে লাগলো।ভিতর থেকে তার মা যখন দরজা খুললোতখন আবু হোরায়রা দেখলেন তার মারসাদা চুল বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে। তখন মাআমাকে বললেন, হে আবু হোরায়রা! তোমাকে মারার পর আমি বড় অনুতপ্তহয়েছি, অনুশোচনা করেছি। মনে মনেভাবলাম আমার ছেলে তো কোন খারাপজায়গায় যায়নি। কেন তাকে মারলাম? আমি বরং লজ্জায় পড়েছি তোমাকে মেরে।হে আবু হোরায়রা! আমি গোসল করেছি।আমাকে তাড়াতাড়ি রাসুল (সাঃ) এরদরবারে নিয়ে চল। আর তখনই সাথে সাথেআবু হোরায়রা তার মাকে রাসুল (সাঃ) এরদরবারে নিয়ে গেলেন। আর তার মাকেসেখানেই কালিমা পাঠ করে মুসলমান হয়েগেলেন।
এইরকম আরো অসংখ্য অসংখ্য ঘটনাবলীবিদ্যমান। আসুন আমরা সবাই এসবঘটনাবলী কোরআন ও হাদীস থেকে অধ্যয়নকরে মা বাবার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করিএবং তাদের সেবা যত্ন করে বেহেশত লাভকরি।
মা সম্পর্কে মহা-মনীষীদের বানীঃ
মা সম্পর্কে আব্রাহাম লিংকন বলেছেন“আমি যা হয়েছি বা যা হতে চাই তারসবটুকুর জন্যই আমি আমার মায়ের কাছেঋণি। আমার মায়ের প্রার্থনাগুলো সব সময়আমার সঙ্গে সঙ্গে ছিল”। এ বিষয়েবালজাক বলেছেন “ মায়ের হৃদয় হচ্ছে একগভীর আশ্রয়, সেখানে আপনি সহজেই খুঁজেপাবেন মমতার সুশীতল ছায়া” এবং জন গেবলেছেন, “মা, মা-ই তার অন্য কোন রূপনেই।” এ সম্পর্কে আল-হাদিসে আছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহশত্ এবংআল-কোরআনে আছে, যে গর্ভ তোমাকেধারণ করেছে সে গর্ভধারিণী মায়ের প্রতিকর্তব্য কর ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর।
ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউন বলেছেন যে, (Motherhood: All love begins and ends there.) মাতৃত্বেই সকলভালোবাসার শুরু এবং শেষ।
কার্ডিনাল মারমিলডও (Cardinal Mermillod) বলেছেন,
“মা হচ্ছেন তিনি, যিনি অন্য সকলের স্থানপূরণ করতে পারেন, কিন্তু তার স্থান কেউপূরণ করতে পারে না।”
দক্ষিণ আফ্রিকান লেখক অলিভার স্রেইনার(Oliver Schreiner) তার The Story of an African Farm-এ বলেছেন: “এমনকোনো মহান ব্যক্তি ছিলেন না, যার একজনমহান মা না-ছিল।”
আমেরিকান কবি ও লেখক রালফওয়ালডো এমারসনও (Ralph Waldo Emerson) বলেছেন: “মানুষ তা-ই যা তারমা তাকে বানায়।”
 
মা সম্পর্কে কবি সাহিত্যিকদের বানীঃ
কবি হাওয়ার্ড জনসন (Howard Johnson) ইংরেজি ভাষার কবি M-O-T-H-E-R শিরোনামে একটি অসাধারণকবিতা লিখেছিলেন। ‘মা’-কে কতোসুন্দরভাবেই না তিনি বর্ণনা করেছেন! তিনিলিখেছেন–
‘M’ is for million things she gave me,
‘O’ means only that she’s growing old,
`T’ is for the tears she shed to save me,
‘H’ is for her heart of purest gold;
‘E’ is for her eyes, with love-light shining,
‘R’ means right, and right she will always be,
Put them all together, they spell “MOTHER,”
A word that means the world to me
 
কবি হাওয়ার্ড জনসন (Howard Johnson) এর কবিতা যদি এক কথায়বলি তাহলে দাড়ায়, মা আমাদের জন্য কিনা করে থাকেন? মা জননী সন্তানের জন্যজীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত থাকে।
সমাপনী বক্তব্যঃ
নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, দেশ-বিদেশকোথাও কারও সঙ্গে ‘মা’-এর কোনো দ্বন্দ্বনেই। কোনো বিভেদ নেই। নেই তারতম্য।সবাই সমান, সবই সুন্দর। নারী-পুরুষভেদাভেদের বাইরে মা একটি নিজস্ব সত্তা, একটি সত্য। আর তাই মায়ের কাছে ছেলে-মেয়ে সব সন্তানই সমান, মা সর্বজনীন। মাভালোবাসা। একটি পরম মমতা। মা বুকেরকাছে জাপটে ধরে আগলে রাখা একটিছায়া। মাকে নিয়ে লিখলে আমার মনে হয়কয়েক দিনেও শেষ হবেনা। মা এর সাথেতুলনা হয় বিশ্বে এমন কিছুই নাই। তাই তোআমি আমার এ লেখার শেষে বলব ওগোমা, তুমি শুধুই মা, পৃথিবীতে নাই তোমারতুলনা।

৬০৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমার পরিচিতিঃ আমি, মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম, পিতাঃ ডাঃ মোঃ সফি উদ্দিন, ১৯৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী, আমার জন্ম-ঢাকা জেলার ধামরাই থানার বেলীশ্বর গ্রামে নানা আলী আজগর মুন্সির বাড়ীতে । পৈত্রিক নিবাস, ঢাকা জেলার ধামরাই থানার অর্জ্জুন-নালাই গ্রামে, কিন্তু বাবার চাকরী জনিত কারনে আমি ছোটবেলা থেকেই মানিকগঞ্জ জেলার, সাটুরিয়া থানার বরুন্ডী গ্রামে বড় হই। বর্তমানে এই গ্রামেই আমি স্থায়ী ভাবে বসবাস করছি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে আমি বাবা-মার প্রথম সন্তান। আমার লেখাপড়া শুরু হয় উমানন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং এই বিদ্যালয় থেকে ৪র্থ শ্রেণী ও বরুন্ডী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করি, পরে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত ধানকোড়া গিরীশ ইনস্টিটিউশন (হাই স্কুল) হতে ১৯৯২ সালে সাফল্যের সহিত এস,এস,সি পরীক্ষা পাশ করি । সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ হতে ১৯৯৪ সালে আই,কম, ১৯৯৬ সালে বি,কম এবং একই কলেজ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়_বাংলাদেশের অধীনে ১৯৯৮ সালে ব্যবস্থাপনা বিষয়ের উপর এম,কম সমাপ্ত করি। এম,কম শেষ পর্বের পরীক্ষা শেষ করার আগেই আমি ১৯৯৮ সালে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করি এবং চাকুরীরত অবস্থায় এম,কম সমাপনী পর্ব সাফল্যের সাথে সমাপ্ত করি। ২০০৮ সাল পর্যন্ত আমি বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করি। ২০০৯ সাল হতে আগস্ট/২০১৪ সাল পর্যন্ত জুরং শিপইয়ার্ড_ সিঙ্গাপুরে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে এবং সেপ্টেম্বর/২০১৪ হতে অদ্যাবধি প্রজেক্ট সুপারভাইজার হিসেবে _ স্যাম্বক্রপ মেরিন_সিঙ্গাপুরে কাজ করছি। আমি ছোটবেলা থেকে লেখালেখি করি । মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের আবহমান বাংলা ম্যাগাজিনে প্রথম লেখা শুরু। আমি গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ( রাজনৈতিক এবং সমসাময়িক) এবং উপন্যাস লেখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আধুনিক বা সাম্প্রতিক পটভূমিকা নিয়ে লেখাই হল আমার অভিগমন। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আমার মনকে সর্বাধিক ক্ষতবিক্ষত করে। আমার প্রথম প্রকাশিত বইয়ের নাম “আবীর”। যৌথভাবে আমার প্রকাশিত বই ১০০ কবির প্রেমের কবিতা ২য় এবং ৩য় খণ্ড। আমি দেশ এবং বিদেশের বেশ কিছু অনলাইন এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় নিয়মিত গল্প, কবিতা এবং উপন্যাস লিখছি_ এর মধ্যে রয়েছে _ বাংলারকন্ঠ (সিঙ্গাপুর), দৈনিক সিলেটের আলাপ, আমাদের কিশোরগঞ্জ, বাংলারকন্ঠ(অস্টেলিয়া), সাভার নিউজ ২৪ ডট কম, সংবাদ ২৪ ডট নেট, প্রিয় ডট কম, রাঙ্গুনিয়া ২৪ ডট কম, এবি নিউজ২৪, বিবেকবার্তা ডট কম, বাংলা কবিতা ডট কম, বিডি নিউজ ২৪ ডট কম, গল্প কবিতা ডট কম ইত্যাদি। মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম Sahidul_77@yahoo.com
সর্বমোট পোস্ট: ১৪৪ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৫৩৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-১০-১১ ১৭:০২:১৬ মিনিটে
Visit সহিদুল ইসলাম Website.
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়ে খুবই ভালো লাগলো অনেক

    সুন্দর ভাবনার প্রয়াস

    শুভ কামনা রইল

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর ভাবনার প্রয়াস

  3. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    মা-দিবস উপলক্ষে ‘মোরাল’ সমৃদ্ধ লেখাগুলো বেষ উপযোগী হয়েছে।
    কবিকে অশেষ ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই।

  4. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক সুন্দর, তাৎপর্যপূর্ণ আর জ্ঞানগর্ভ লিখা । খুব চমৎকার লিখেছেন । গল্প দুটিও অনেক শিক্ষণীয় ছিল । খুব ভালো লাগলো মা নিয়ে এই লিখাটি ।
    অনেক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানবেন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top