Today 10 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বিশ্ব সাহিত্যের বিতর্কিত চরিত্রঃ লোলিটা ও তার স্রষ্টা ভ্লাদিমির নাবোকভ

লিখেছেন: হাসান ইমতি | তারিখ: ১৯/০২/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 948বার পড়া হয়েছে।

মানুষে মানুষে ভাবনার ভিন্নতা আছে, ছিল, থাকবে, সাহিত্যে সব বলা যায়, এই প্রকাশকে শিল্পিত করে তোলাই সাহিত্যিকের কাজ, কিন্তু জীবন নিজে কি শিল্পিত ? বহু অনাকাঙ্ক্ষিত অন্ধকার কি জড়িয়ে নেই জীবনের বৃত্তে? যদি তাই হয় জীবনের শিল্পিত রুপায়নের মাধ্যমে সাহিত্য কি তবে পারে সমগ্র জীবনের ভাষা রূপ দিতে? এইসব প্রশ্নকে উস্কে দিয়েছে বিশ্ব সাহিত্যের কিছু বিতর্কিত সৃষ্টি। আমার এই সিরিজ লেখায় তুলে আনার ইচ্ছে রইল বাংলা ও বিশ্ব সাহিত্যের সেইসব বিতর্কিত ব্যাক্তিত্বদের নিয়ে যাদের লেখা ছড়িয়েছে বিতর্কের আগুন, তারা কি আসলেই ভাবনা ও জীবনের সমগ্রতাকে সাহিত্যে ধারন করেছেন না সীমা লঙ্ঘন করেছেন, এই বিতর্কের কোন শেষ নেই ।

লোলিটা ও তার স্রষ্টা ভ্লাদিমির নাবোকভঃ

এই লেখার শুরু করছি রাশিয়ান লেখক ভ্লাদিমির নাবোকভকে দিয়ে যাকে বলা হয়ে থাকে গত শতাব্দীর সবচেয়ে বিতর্কিত লেখক । কারণ একটাই গত শতাব্দীতে তার হাতেই জন্ম নিয়েছে সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত উপন্যাস ‘লোলিটা’।
আসলে আলোচিত বা সমালোচিত বলা কেন, এটি যে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বিতর্কিত উপন্যাস। এই একটা বই তাকে নিয়ে এসেছে পরিচিতির শীর্ষে, সাফল্যের চূড়ায়। দিয়েছে নাম, যশ, অর্থ, খ্যাতি, দুর্নাম সবকিছু!  ভ্লাদিমির প্রথমে ইংরেজিতে লেখেন ‘লোলিটা’ । ১৯৫৫ সালে প্যারিসে, তিন বছর পর নিউইয়র্ক থেকে বইটি প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি নিজেই রুশ ভাষায় অনুবাদ করেন ‘লোলিটা’।
বইটির আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেতে অবশ্য সময় লাগেনি। আসলে ‘লোলিটা’র পাতায় পাতায় ছিল বিতর্কিত হয়ে উঠার মতো মশলা। উপন্যাসে হামবার্ট নামের এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি তুলে ধরেছেন তার জীবনের গল্প। যেখানে দেখা গেছে ১২ বছর বয়সী এক বালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এক পুরুষের। কিশোরী মেয়েদের প্রতি আজন্ম টান অনুভব করে এসেছে এই বইয়ের মূল চরিত্র হামবার্ট । নাবোকভের লোলিটা সম্পর্কে আমার নিজের মত যদি বলি, এটি একটি শিল্পসম্মত কাজ, হয়তো খোলামেলা ভাবে তুলে ধরা হয়েছে একটি অতীত স্মৃতির ক্ষত থেকে উৎসারিত মনোবেদন, বর্তমান আন্যাবেলের ভেতর অতীত লোলিটাকে খোঁজার প্রয়াস এক অপূর্ণ ভালোবাসার হাহাকার। অন্য অনেকের সাথে নভোকভের পার্থক্য হল তিনি সাহসের সাথে খোলাখুলি ভাবে প্রকাশ করেছেন মনের ভাবনা । খোলামেলা ভাষার ব্যবহার বইটির প্রায় পুরোটা জুড়েই। বিতর্কিত এ উপন্যাসটি অবলম্বনে ১৯৬২ সালে স্ট্যানলি কিউব্রিক একটি সিনেমাও নির্মাণ করেন। সেটিও আলোচিত সমালোচিত হয়েছিল বিশ্বজুড়ে। এ বিতর্কে কিন্তু লাভই হয়েছিলো ভ্লাদিমির নাবোকভের। না হলে তার নামটা হয়তো গোটা বিশ্ব দূরে থাক সেন্ট পিটার্সবার্গের মানুষরাই জানত না। ১৯৭৭ সালের ২ জুলাই রাশিয়ান এ বিতর্কিত লেখক ভ্লাদিমির ৭৭ বছর বয়সে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

( চলমান )

৯৩৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি হাসান ইমতি, জন্মস্থান ফরিদপুর, বর্তমান বাসস্থান উত্তরা, ঢাকা । আমি মূলতঃ অনলাইন ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে লেখালেখি করে থাকি । এ ধারায় কবিতা ভিত্তিক সাইটের ভেতর রয়েছে বাংলা কবিতা, কবিতা ক্লাব, কবিতা ইবারয়ারি, গল্প কবিতা, বাংলার কবিতা ইত্যাদি এবং ব্লগের ভেতর সামহোয়্যার ইন ব্লগ, চলন্তিকা, ইস্টিশন, নক্ষত্র, আমার ব্লগ, চতুর্মাত্রিক ইত্যাদি। ইতিমধ্যে ই-ম্যাগের ভেতর অন্যনিষাদ, কালিমাটি, মিলন সাগর, জলভূমি, প্রতিচ্ছবি, বাঙ্গালিয়ানা সহ আরও কিছু ব্লগজিন ও বাজিতপুর প্রতিদিন, মিডিয়াবাজ, নব দিবাকর, তোমার আমার, বাংলা নিউজ ২৪, নারায়ণগঞ্জ টাইমস সহ আরও কিছু অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে আমার লেখা । প্রিন্ট মিডিয়ার ভেতর গত ২০১৫ ইং বইমেলায় সাহিত্যকথা, অন্যপ্রকাশ, তারুন্য সহ আরও কয়েকটি সংকলনে আমার লেখা প্রকাশিত হয়েছে । এর বাইরে ভারতের দিগন্ত পত্রিকা, যুগসাগ্নিক, ঢাকার লেখচিত্র প্রকাশনী, বাংলার কবিতাপত্র, অতসী পত্রিকাসহ আরও কিছু প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে আমার লেখা । অনলাইনে আয়োজিত আটকাহন সাহিত্য পুরস্কার, গল্পলেখা সাহিত্য পুরস্কার ও সৃষ্টিসুখের উল্লাসে সাহিত্য পুরস্কার সহ আরও কিছু সাহিত্য পুরস্কার আমার লেখাকে সন্মানিত করেছে । ব্যক্তি জীবনে আমি কমনওয়েলথ এম বি এ শেষ করে সি এ করার পাশাপাসি একটি উৎপাদন মুখী প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষা বিভাগে কর্মরত আছি । গুগলে অভ্র দিয়ে বাংলায় "হাসান ইমতি" লিখে সার্চ দিলে আমার সম্পর্কে আরও জানা এবং আমার লেখার একাংশ পড়া যাবে ।
সর্বমোট পোস্ট: ১৫৪ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৮০৮ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-১২-১৪ ১১:৫৬:২৪ মিনিটে
Visit হাসান ইমতি Website.
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    নাবোকভের লোলিটা সম্পর্কে আমার নিজের মত যদি বলি, এটি একটি শিল্পসম্মত কাজ, হয়তো খোলামেলা ভাবে তুলে ধরা হয়েছে একটি অতীত স্মৃতির ক্ষত থেকে উৎসারিত মনোবেদন, বর্তমান আন্যাবেলের ভেতর অতীত লোলিটাকে খোঁজার প্রয়াস এক অপূর্ণ ভালোবাসার হাহাকার। অন্য অনেকের সাথে নভোকভের পার্থক্য হল তিনি সাহসের সাথে খোলাখুলি ভাবে প্রকাশ করেছেন মনের ভাবনা ।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    চলুক সাথেই আছি

  3. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    ইচ্ছে রইল চালাবার … সময়ে কুলিয়ে উঠতে পারলেই সম্ভব, ভালোবাসা ।

  4. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার মনে হয় বিতর্কিত লেখা না লেখলে এজগতে বিখ্যাত হওয়া কঠিন।

  5. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখায় গভীরতা থাকতে হয়, জীবনের রঙ থাকতে হয়, নাহলে তা হয়ে যায় রসময় সাহিত্য ।

  6. মিলি মন্তব্যে বলেছেন:

    ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল বলেই এত বিতর্ক ,হয়ত আজকাল হলে এটাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিত সবাই । পিডোফেলিয়া নিয়ে এখন অনেক লেখালেখি হচ্ছে । ভালবাসা না সাইকি্যাট্রিক ডিসঅর্ডার তা নিয়ে আমি কনফিউসড !! বিশদ ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রইলাম ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top