Today 24 Sep 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বিষাদময় প্রান্তর

লিখেছেন: আজিম | তারিখ: ০১/০৬/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 473বার পড়া হয়েছে।

 

সন্ধার কিছুটা আগে দিয়ে দু’টো জেলাশহর সংযোগকারী একটা রাস্তা দিয়ে চলে ঢাকায় ফিরছিলাম । যানের বামপাশের জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছিলাম বাড়ীগুলোর দিকে । কুঁড়েঘর বলতে বাল্যকালে যা বুঝতাম আমরা, যেমন ছনের ঘর, সেরকম ছনের ঘর দেখতে পাওয়া যায়না আজকাল । সহযাত্রীর কাছে জানতে পারলাম, ছনের মূল্য ক্রয়ক্ষমতার বাইরে এঁদের আজকাল । বাসাগুলো টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা এবং উপরেও ঐ টিনই । অনেক বাসা চাটাইয়ের, কিছু আবার বাঁশের তরজা দিয়ে ঘেরা । কোথাও বিস্তীর্ন সবুজ মাঠ, মাঠ ছাড়িয়ে দৃষ্টি প্রসারিত করলে আরো করূন চিত্রের অনেক বাড়ী দেখা যায় । মাঝে মাঝে নারিকেল গাছ, সুপারি গাছের এলোমেলো সমারোহ অথবা সারিবদ্ধ বিন্যাস । চোখ জুড়ানোর কী নেই গ্রামে-গঞ্জে !

বাড়ীগুলো থেকে সকালে বের হয় নীল ফ্রক আর সাদা পায়জামা পরা কিশোরী আর সাদা হাফ শার্ট পরা কিশোরেরা । দল বেঁধে ওরা স্কুলে যায় । না, এখানে ওদের যাওয়ার জন্য শহরের শিশু-কিশোরদের মতো কোন গাড়ী নেই, সাহায্যকারী হিসেবে ড্রাইভারও নেই যে, ধরে বইশুদ্ধ ব্যাগটা, পানির বোতলটা উঠিয়ে দেবে গাড়ীতে । তবে শহরের শিশু-কিশোরদের মতো নিষ্প্রান  হয়ে চলেনা এরা স্কুলের পথে । শক্ত হাতে বইগুলি ধরে ছোট ছোট দল হয়ে পাখির মতো কিচির-মিচির করতে করতে হেঁটে হেঁটে এরা স্কুলে যায় । বড়ই মধুর এই দৃশ্য ।

এরা একদিন বড় হবে । স্কুলের গন্ডী পেরিয়ে কলেজে যাবে, তারপর আরো উচ্চ শিক্ষায় যাবে অনেকে । সবার ভাগ্যে হবেনা অবশ্য উচ্চশিক্ষা । কারন এদের বাবারা, ভাইয়েরা  অতি দরিদ্র, উচ্চশিক্ষা দেওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা থাকলেও কুলিয়ে উঠতে পারবেনা । এভাবে অন্তরে একরাশ ব্যথা-বেদনা নিয়ে ঝরে পড়বে অনেকে, লেখাপড়া হবেনা ওদের আর, চুকে যাবে সেই পাঠ সারাজীবনের মতো । বন্ধুরা, বান্ধবীরা এগিয়ে যাবে । পারবেনা তারা, চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া পারবেনা কিছু করতেও । বিষাদে ভরা এক একটি জীবন হয়ে উঠবে ওদের ।

আর যারা এগিয়ে যাবে, কতটুকু এগিয়ে যেতে পারবে তারা ! শহরের ছেলেরা যেখানে কোচিং সেন্টারের বদৌলতে ভাল রেজাল্ট করে হয়ে যাবে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-অধ্যাপক-গবেষক, গ্রামের ওরা কী পারবে হতে তা ? এক-দু’জন ব্যতিক্রমী ছাড়া পারবেনা কেউ । তবে ব্যতিক্রম তো ব্যতিক্রমই ।

বাড়ীগুলির মতো এর মানুষগুলোও অবহেলিত । কারন এই বাড়ীগুলোর মানুষের টাকা নেই । সুযোগের অভাবে ওরা শিক্ষার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে । অধিকাংশই ওরা নিম্ন আয়ের মানুষ ।  নিম্ন-মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত পর্যন্ত ভাগকৃত শ্রেণির মানুষ । ছোটখাট ব্যবসা অথবা চাকরী-ই করেন ওরা । গ্রামের বাজারেও করেন, বড়-ছোট অফিস-আদালতেও করেন । ওদের ব্যবহার করেই, কমপক্ষে ওদের ভোট নিয়েই তো নেতারা আসেন সামনে । এসে ওদের ভুলে যান । ভোটের সময় ছাড়া কোনরকম যোগাযোগ তো থাকেইনা, দেখাই পাওয়া যায়না ওনাদের । টেলিভিশনের তাৎক্ষনিক জনমত জরীপের অনুষ্ঠানে, অর্থাৎ তাৎক্ষনিক মতামত গ্রহনের অনূষ্ঠানে সংখ্যাধিক্যতার কারনে এসমস্ত বাড়ীর মানুষেরাই সাক্ষাতকারে এসে পড়েন । এদেরই মতামত প্রতিফলিত হয় জাতীয় মতামতে, তাই এঁদের মতামতই হয়ে ওঠে ‘জাতীয় মতামত’, কান পেতে যে মতামত কেউ শোনেনা । আর তাই গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে সময় লাগেনা  একসময়কার প্রচন্ড জনপ্রিয় মানুষগুলোকে । অজানাও নয় এগুলি তাদের কাছে যে, ওদের অবজ্ঞা করলে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে হয় । তবুও এরকমই হয়, হয়ে আসছে । কারন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয়না ।

মনে বড় প্রশ্ন জাগে, আর কত ? কতকাল আর থাকবে এরকম ওদের জীবন? কারন সম্পদ কিছু মানুষের হাতে পুঞ্জিভূত । আপনি যদি কাউকে না ঠকান, তবে আপনি সম্পদশালী হতে পারবেননা । আপনি টেন্ডারবাজী করে সাধারন ঠিকাদারকে না ঠকালে আপনি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবেন কেমনে, আপনি ঘুষ খেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের মান খারাপ করলে আপনি সরকার তথা জনগনকে ঠকাচ্ছেন এবং এজন্য আপনি অঢেল অর্থের মালিক হচ্ছেন, আপনি ঘুষ খেয়ে চাকরীতে নিয়োগ দিচ্ছেন, আপনি ঠকাচ্ছেন এসমস্ত বাড়ীর বেকার অতিদরিদ্র ছেলেমেয়েদেরকে । আপনি অতি-দরিদ্রদের জন্য সরকার যে খাদ্যশস্য, টাকা দিয়ে থাকে, সেটা মেরে খান এবং এভাবে গ্রাম-বাংলার অসহায় গরীব-দুঃখী মানুষকে আরো গরীব-দুঃখী বানিয়ে দেন বলেই না আপনি বড়লোক ।

এমনকি আমাদের প্রায় সকল বুদ্ধিজীবি মানুষও মনে করেন, এভাবেই চলবে সবকিছু, এটাই ওদের নিয়তি । এভাবেই অন্যায়-অবিচারের মধ্য দিয়েই দেশ চলবে এবং এটাই স্বাভাবিক ।

এভাবে চলতে না দিলে কি হবে প্রিয় পাঠক ?

পটুয়াখালীর রাস্তার পাশের বিস্তীর্ন প্রান্তরগুলোর দিকে চেয়ে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিলাম বাংলাদেশের বিশাল প্রান্তরে ।

৫৪৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৩৭ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-১১-১৭ ০৭:২৪:৪৩ মিনিটে
banner

১৫ টি মন্তব্য

  1. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    এরা একদিন বড় হবে । স্কুলের গন্ডী পেরিয়ে কলেজে যাবে, তারপর আরো উচ্চ শিক্ষায় যাবে অনেকে । সবার ভাগ্যে হবেনা অবশ্য উচ্চশিক্ষা । কারন এদের বাবারা, ভাইয়েরা অতি দরিদ্র, উচ্চশিক্ষা দেওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা থাকলেও কুলিয়ে উঠতে পারবেনা । এভাবে অন্তরে একরাশ ব্যথা-বেদনা নিয়ে ঝরে পড়বে অনেকে, লেখাপড়া হবেনা ওদের আর, চুকে যাবে সেই পাঠ সারাজীবনের মতো । বন্ধুরা, বান্ধবীরা এগিয়ে যাবে । পারবেনা তারা, চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া পারবেনা কিছু করতেও । বিষাদে ভরা এক একটি জীবন হয়ে উঠবে ওদের । :-bd:-bd:-bd

    চমত্কার গল্প আজিম ভাই। অনেকদিন পরে আপনাকে পেলাম। । ধন্যবাদ আপনাকে। শুভেচ্ছা থাকল।

  2. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    শুভেচ্ছা নিবেন আপনিও আরজু আপা । ধন্যবাদ আপনাকেও ।

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আর যারা এগিয়ে যাবে, কতটুকু এগিয়ে যেতে পারবে তারা ! শহরের ছেলেরা যেখানে কোচিং সেন্টারের বদৌলতে ভাল রেজাল্ট করে হয়ে যাবে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-অধ্যাপক-গবেষক, গ্রামের ওরা কী পারবে হতে তা ? এক-দু’জন ব্যতিক্রমী ছাড়া পারবেনা কেউ । তবে ব্যতিক্রম তো ব্যতিক্রমই ।

    একদম সত্য কথা বলেছেন । আমরা পড়ে এসেছি গ্রামে । এখন বুঝি কতটা ঠকেছি আমরা :(

    ধন্যবাদ সুন্দর লেখার জন্য

    • আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

      গ্রামের অসহায় এইসব ছেলেমেয়েদের জন্য নায্যতা, সুশাসন কবে নিশ্চিত হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করা আমাদের সকলেরই কর্তব্য মনে করে এই লিখা লিখা হয়েছে ।
      ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য ।

  4. আঃ হাকিম খান মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম। বেশ কিছু কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ভালই হয়েছে।

  5. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    দিলেও কিছু হবে না
    না দিলেও কিছু হবে !! আসলে যা হওয়ার তাই হবে ! হা হা হা —- !!!

  6. গুলশনারা মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক দিন পর চলন্তিকাতে আসলাম। সবাইকে দেখে ভাল লাগছে। আপনার লেখাটাও ভাল হয়েছে।

    • আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

      চলন্তিকা-তে আমি প্রায় ছয়মাস । এই সময়ে আমি চলন্তিকায় থেকে, যেটাকে বলে মানসিক শান্তি, তা পেয়েছি ।
      অন্য ব্লগে থাকিনি, তা নয়, তবে এখানে দেখেছি সম্পাদক সাহেবের আতিথেয়তা খুবই উষ্ণ । আমার খুব ভাল লাগে আর তাইতো ফিরে আসি বারে বারে । অবশ্য চলেও যাইনি কখনও ।
      আপনি এসেছেন ভাল । থাকুন আর লিখাটা ভাল হয়েছে বলেছেন, এজন্য ধন্যবাদ ।

  7. ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মন্তব্যে বলেছেন:

    আবার ফিরে এসেছেন তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভাল থাকুন, চলন্তিকার পাশে থাকুন সবসময়।

  8. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    মাননীয় সম্পাদক, আমি কিন্তু চলে যাইনি কখনও, তাই ফিরে আসার কথা ওঠেনা । কিছুদিন কোন লিখা ছিলনা তাই একটু অনুপস্থিত ছিলাম, এই যা ।
    আপনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন কেন মাননীয় সম্পাদক! আমাদেরকে লিখার সুযোগ করে দিচ্ছেন, এজন্য আমি আপনার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।
    আশা করি আপনিও ভাল থাকবেন ।

  9. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লেখা

  10. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    মন্তব্যটিও কিন্তু খুব সুন্দর শান্ত ভাই । ধন্যবাদ ।

  11. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো ভাবনার ভালো লিখা

    পড়ে ভালো লাগলো কবি
    শুভ কামনা থাকলো

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top