Today 14 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বৃদ্ধাশ্রমের কেন, ঈদ হতে পারেনা আপন জনের সাথে

লিখেছেন: মুহাম্মদ দিদারুল আলম | তারিখ: ২৬/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 456বার পড়া হয়েছে।

ঈদের হাসি ছড়িয়ে পড়ুক সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। ঈদ মানেই আনন্দ, সেই সাথে পুরাতনকে ঝেড়ে ফেলে নতুনকে বরণ করা। ঈদ মানেই ধনী-গরীবের মিলন মেলা। ঈদ এলেই দূরে থাকা মানুষটিও চলে আসে সন্নিকটে। ফলে ঈদ বাড়িয়ে দেয় অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালবাসার টানটি। কিন্তু ঈদের এই আনন্দটুকু তখনি মাটি হয়ে যায়, যখন দেখা যায় পরিবারের এক সময়ের প্রধান ব্যক্তিটি থাকেন এই আনন্দের মুহুর্তে অনুপস্থিত। এখন আর আগের মতো যৌথ পরিবারে বসবাস করতে রাজি নন আমাদের আধুনিক জীবন ধারায় বসবাসে অভ্যস্থ মানুষগুলো। তারা এখন নিজেদের নিয়েই সদাব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন। তাদের কাছে যৌথ পরিবার ঝঞ্জালের ন্যায়। তাই তো বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা বাবা-মাকে পরিবারে পরিত্যক্ত বস্তুটির ন্যায় ভেবে পাঠিয়ে দেন বৃদ্ধাশ্রমে। কারণ তারা এটাকে আধুনিক সমাজের ফ্যাশন মনে করেন। কিন্তু তারা কি একটিবারও ভেবে দেখেছেন, যাদের পাঠিয়ে দিলেন বৃদ্ধাশ্রমে তারা কারা এবং কি হয় তাদের। আর এই পাঠানোটাই বা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। কারণ বৃদ্ধাশ্রমে থেকে ভালো ভালো খাবারের চেয়ে তাদের কাছে একত্রে পরিবারে থেকে সন্তান নিয়ে ডাল ভাত খাওয়াটাই কতটুকু সুখনিয়! আর এই ভাবনাটাই ভাবতে গিয়ে নিরবে নিশ্বাস ফেলছেন বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করা প্রতিটি প্রবীণ। আর এটা থেকেই দীর্ঘশ্বাস- কেন এই নিঃসঙ্গতা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পার হয়ে গেলে ৫৮-৬৮ বছর। তবুও তার প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি খুঁজে পেলনা রহিমা নামক এক বৃদ্ধা। অনেক কষ্টে গড়া নিজের সুখের ঘরে আজ নাকি তার নিজের স্থানটি শূন্য। জীবনের শেষ বেলায় এসে যখন জীবন নামক সূর্যটি অস্তের অপেক্ষায়, ঠিক তখনি পেটের দায়ে আজ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে একমুঠো ভাতের অপেক্ষায়। ছেলে-মেয়ে থাকা সত্বেও আজ সে এই পৃথিবীতে নিঃসঙ্গ জীবনের বাসিন্দা। তবে এটাই কি তার সারা জীবনের কষ্টের উপহার। যে সন্তানকে নিজে খেয়ে, না খেয়ে লালন-পালন করে বড় করে তুলেছেন, সেই সন্তানই আজ অচেনা মানুষ। রহিমা বলেন, পৃথিবীতে আসলে সবাই স্বার্থপর, তা না হলে তার স্বামী তাকে একা রেখে নিজে কেনই বা একা একা চলে গেল খোদার দরবারে। যদি একই সাথে দু’জনে যেতে পারতেন, তবে আজকের এই অবস্থা তার না। আর এ রকম হাজারো রহিমার বুক ভাঙ্গা হাহাকারে পৃথিবী নামক গ্রহটি আজ অভিশপ্ত। একটি সন্তানকে মা-বাবা অনেক যতেœ লালন-পালন করে বড় করে তুলে বেশি কিছুর প্রত্যাশায় নয়, শুধুমাত্র বৃদ্ধ বয়সে অসহায়তার সহায় হবে ভেবে। অথচ সেই সন্তানই বৃদ্ধ মা-বাবাকে ঘর থেকে বের করে স্থান করে দেয় কোন এক বৃদ্ধাশ্রমে। হায়রে বিধি তোর লীলা বোঝা বড় দায়। বিন্দু বিন্দু করে যে সুখের নীড় তারা তৈরি করেন অথচ সেই নীড়েই তখন তারা পরবাসি। হায়রে প্রাণের সন্তান! তোর বুঝি কোন দয়া মায়া নাই রে। গিরগিটের মতো রঙ বদলাস। যে মানুষ দুটি খেয়ে, না খেয়ে লালন-পালন করলো আজ বুঝি বউয়ের মায়াবি ছলনার কাছে সবকিছু ম্লান। বদলে যাচ্ছে পৃথিবী নামক গ্রহটির রূপ চিত্র, বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন চিত্র এখন আর আগের মতো যৌথ পরিবারগুলো চোখে পড়ে না খুব একটা কারণ মানুষ ছুটে চলেছে ডিজিটাল বিশ্ব বির্ণিমানে এখানে যৌথ পরিবারের মায়ায় বন্ধন অর্থহীন বরং একক পরিবারই সবার কাছে অধিক জনপ্রিয়। এখানে যেন পেছনে ফিরে তাকাবার সময় নাই কারো। সবাই ছুটছে তো ছুটছে দিনবদলের দিকে। কারণ ইতিহাস যুগ যুগ ধরে প্রমাণ করে চলেছে যে কোন কিছুই অতিরিক্ত ভাল নয়। আগে দেখা যেত যৌথ পরিবারগুলোতে ছিল কতনা মায়া-মমতার বন্ধন। মা-বাবা, দাদা-দাদী আরো অনেককে নিয়ে গড়ে উঠতো একটি সুখের নীড়। অথচ আজ আমরা দেখছি ডিজিটাল বিশ্ব গড়ার নামে মানুষের যান্ত্রিক জীবনের রূপ চিত্র। বৃদ্ধাশ্রমের মাছ-মাংস অথবা আরাম দায়ক বিছনার নিদ্রার চেয়ে নিজ সন্তানের হাতের একমুঠো ডাল-ভাত প্রতিটি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারই কাম্য। বিজ্ঞানীদের মতবাদ অনুসারে মানুষের জীবনের উত্থান পতন হয়। একটা সময় আসে যখন বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে জ্ঞান বুদ্ধি বৃদ্ধি পায়। অনুরূপভাবে আবার একটা সময় আসে যখন মানুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার জ্ঞান-বুদ্ধি হ্রাস পেতে থাকে। সূর্য অস্তের মতো তেজহীন হয়ে পড়ে। পরিণত হয় একটি শিশুতে। আর তখনি প্রয়োজন পড়ে একটু ভালবাসা ও একটু সহায়তার হাত। অথচ আমরা কি দেখছি! যে সন্তানটিকে অতি যতেœ লালন-পালন করেছিলেন, সেই সন্তানটিই তখন বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বিরক্ত বা ঝামেলা মনে করে কখনো গ্রামের বাড়ীতে বা কোন বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু তারা একবার কি কখনো একাকি ভেবে দেখেছে আজ যাদের বিরক্ত ও ঝামেলা মনে করে ঘর থেকে দূরে পাঠিয়ে দিল নির্বাসনে, এমনি একটি সময় তাদের জীবনে ফিরে আসতে পারে। কথায় আছে- নদীর স্রোত ও সময় কখনো কারো জন্য থেমে থাকে না। হারিয়ে খুঁজার কোন মানে হয় না। তাই সময় থাকতে চিন তারে কে তোমার আপনজন।

৫১১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৮ ১১:৫৮:৪৮ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর মানসিকতা নিয়ে লেখাটি মনকে নাড়া দিয়ে যায়।তবে আনুরোধ করি,লেখাটির মাঝে মাঝে প্যারাগ্রাফ রাখতে।

  2. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    শিরনামে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিলে বুঝি ভাল হতো ।

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার লেখাটি মন ছুঁয়ে গেল।

  4. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    বৃদ্বাশ্রম এর বৃদ্বা রহিমা বেগমকে নিয়ে লিখাটি মানবিক হয়েছে।
    ধন্যবাদ দিদারুল ভাই।

  5. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    বৃদ্বাশ্রমের কথা শুনলে মন্তা ব্যথায় ভরে যায়, কারণ এ সংসারে অনেক কুসন্তান আছে যারা বাবা-মায়ের খবর নেয় না।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top