Today 15 Nov 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বৃদ্বা রমনী বশীকরণে কার্তিকের আক্কেলসেলামি হইল কি?

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ০৯/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 491বার পড়া হয়েছে।

কার্তিক হঠাত করিয়া যাহাকে ঘরে আনিল সে ছিল তার বয়সের দুই গুনের চেয়েও একটু বেশি বয়সী।রমনীর বয়স সীমা ষষ্টদশ অতিক্রান্ত হইয়াছে।দেখিতে যে এককালে সুশ্রী ছিল তাহা বুজিতে অসুবিধা হয় না।বয়সের ভারে যৌবন অনেক আগেই গত হইয়াছে।প্রসাধনী ব্যবহার করায় গাল ও ঠোঁট দুটি চকচক করিলেও ভয়ে ঠোঁট দুইটি যেন প্রজাপতির বন্ধ ডানার মতো স্থির।উঁচকপালি রমনী ঘরে প্রবেশ করিবার মাত্রই উগ্রমূর্তি ধারণ করিয়া এইদিক ওইদিক তাকাইয়া নিল।

কার্তিকের বয়স এখন ২৫ ছুই ছুই। ভরা যৌবন।কার্তিক কী এক বৃদ্বা রমনী বিবাহ করিয়া ঘরে আনিল? ছেলের এমন হটকারী সিদ্বান্তে বয়োবৃদ্ব পিতার চক্ষু চরখগাছ।ইতিমধ্যে খবরটা নিশ্চয়ই চাউড় হইয়া গিয়াছে! বৃদ্ব পিতা রাগ সামলাইতে না পারিয়া উচ্চঃস্বরে কহিতে লাগিল: হে পুত্রধন, তুই ইহা কী করিলি? তুই কাহাকে বিবাহ করিয়া আনিলি? সমাজে মুখ দেখাইবার কী আর কোনো জো রহিল?

কার্তিক পিতার অপ্রত্যাশিত বক্তব্যে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। উত্তর দেয়, হে পিতা সমাজে আপনার মাথা উচু করিয়া রাখিবার জন্যই তো আমি এমন কর্মটি করিয়াছি।ইহা আমার জীবনের একটি অকণ্টক সিদ্বান্ত।সংসার সুরক্ষা করাই যে আমার পবিত্র দায়িত্ব।আপনাকে সুখী দেখিবার আশায় আমি এই দুঃসাহসিক কর্মটি সম্পাদন করিয়াছি।সবে তো গণতান্ত্রিক যাত্রায় অগ্রসর হইবার ইচ্ছা পোষণ করিয়াছি মাত্র।ভবিষ্যতে একই পথে আরো অগ্রসর হইয়া নিজেকেও সুখী করিব।

কার্তিকের আঁতলামো কথার মাথা-মুন্ডু কিছুই তার বাবার মাথায় প্রবেশ করিলনা।বাবা গলা ফাটাইয়া চিত্কার করিয়া কহিল … এই কী কহিলি তুই! সর্বনাশা কথা কহিলি। তুই ধ্বংস হইবি রে……. ধ্বংস হইয়া যাইবি।এই দুষ্কর্মে তোকে নির্ঘাত আক্কেলসেলামি গুনিতে হইবে।নচ্ছার ছেলের অসামাজিক দুরন্তপনায় বাবা হতভম্ব হইয়া গেল।এই বৃদ্ব বয়সে দস্যি ছেলে কিনা গণতন্ত্র শিখাইল? বৃদ্বা রমনী বিবাহ করিয়া ঘরে আনিল? কার্তিক, এর থেইক্কা ভালো তুই আমাকে এক মটকি বিষ আনিয়া দে, আমি ধ্বংস হইয়া যাই।আমার জীবন অবসান করি।

কার্তিক ঠান্ডা মাথায় আবার কহিল: ধ্বংস হইবার কী আছে বাবাজান! আপনি বেহুদা আমার উপর ক্ষিপ্ত হইয়াছেন! আমি যাহা করিয়াছি সব আপনার মঙ্গলের জন্য করিয়াছি।ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করিয়া সব কিছু ঠিকঠাক মতো করিয়াছি।আপনি দুশ্চিন্তা করিবেন না। সংসারে মনোরঞ্জনী স্ত্রী থাকিলে সংসার যে সুখের হয় বাবা!……. একটু সময় দাও দেখেবি সময়মত সব কিছুই সহিয়া যাইবে।আম জনতার ক্ষোভ যেই ভাবে সহিয়া যায়।

ছেলের এমন তির্যক বাক্য বিনিময় পিতা কিছুতেই সহ্য করিতে না পারিয়া নিজ পুত্রের দুষ্টু কর্মজ্ঞানে বার বার মূর্ছা যাইতে লাগিল।

কার্তিক এবং তার বাবা দুই জনের এই সংসার।বাবা রাজেশ্বর।একমাত্র সন্তান কার্তিককে জন্ম দেওয়ার সময় রাজেশ্বরের স্ত্রী দেহ ত্যাগ করেন।সেই থেকেই রাজেশ্বর আর কার্তিক এই সংসারের মালিক।স্ত্রীর মৃত্যুর পরে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রাজেশ্বর একপত্নীব্রত রহিয়া গেল। আর দ্বিতীয় বিবাহ করিবার উত্সাহ বোধ করে নাই।সেই ছেলে কিনা ষষ্টদশী বিবাহ করিয়া এমন ভয়ানক সর্বনাশী কান্ড করিল?

মাকুন্দ পুত্রের এমন কান্ড জ্ঞানহীন কর্মে ক্ষিপ্ত হইয়া রাজেশ্বর নিজের সমস্ত সম্পত্তি চ্যারিটিতে দিয়া দিতে মনস্থির করিল।কিছুতেই নিজের সম্পত্তি এই কুসন্তানকে ভাগ দিতে চাহেনা।রাজেশ্বরের সব কথার এক কথা এই কুকড়ে বুড়িটাকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ত্যাগ না করিলে তাহাকে তার সম্পত্তির ভাগ দেওয়া হইবে না। পুত্রের এমন বিচ্ছির কর্মে হতাশ হইয়া রাজেশ্বর আবার কহিল: এ কী করেছিস পুত্র? ভবিষ্যত বংশধর কী তোর্ কোনই প্রয়োজন নেই? বংশ বৃদ্বির দায়িত্ব যে এই সংসারে তোকেই নিতে হইবে।ওই বৃদ্বার গর্ভে কী তোর্ ঔরসজাত সন্তান কখনো আসিবে? সে তো বহুড়ি নয়।যৌন জীবন তাহার গত হইয়া গিয়াছে। রাজেশ্বর স্পষ্ট করিয়া জানাইয়া দিল: এই হট্টবিলাসিনীকে বাড়ি ছাড়া না করিলে তাহাকে তার সম্পত্তির এক কানাকড়িও দেওয়া হইবে না।সময় সীমা ৪৮ ঘন্টাই থাকিবে।

পিতার এমন ক্রুদ্ধস্বভাব আচরণে কার্তিক মুষড়ে পড়িলো।মানসিক উত্তেজনা সামলাইতে না পারিয়া কার্তিক চিত্কার করিয়া কহিয়া উঠিল: এই কী কহ পিতা? আপনার বংশধর তো আমি নিজেই। ইহাও কী আপনি ভুলিতে বসিয়াছেন? পিতা এমন করিয়া আমায় অভিশপ্ত করিবেন না।আপনার সম্পত্তির একক উত্তরাধিকার শুধুই আমি।স্বর্গীয় মাতার কছম খাইয়া কহিতেছে, পিতা আপনি একতন্ত্রী হইবেন না।আটচল্লিশ ঘন্টার সময়সীমা বাঁধিয়া দিয়া আমাকে দিশেহারা করিবেন না।সম্পত্তি নিয়া আপনি পলিটিক্স করিতেছেন ইহা আমি স্পষ্ট বুজিয়া গিয়াছি।

কার্তিকের রুষ্ট কথায় পিতার মাথা গরম হইয়া গেল।রক্তচক্ষু প্রদর্শন করিয়া উত্তেজিত কন্ঠে রাজেশ্বর পুত্রকে শাসাইয়া দিল: বেশি বাড়াবাড়ি করিসনা কার্তিক ……ওই বুড়িটাকে আগে গৃহত্যাগ কর।কার্তিক চোখ রাঙ্গাইয়া পিতাকে উত্তর দেয়…. সে এক চুলও নড়িবে না।পিতাও আঙ্গুল উঁচিয়ে এক হাত নিলো …. তার সিদ্ধান্তে সেও অনড়, সেও এক চুল নড়িবে না…….উত্তেজিত কন্ঠে পিতা বলিয়া উঠিল: কার্তিক…. কেশ নিয়া বেশি কিচ্ছা কাহিনী করিবি না …..আমরা কেহই রাজনীতিবিদ নই….কেশ নিয়া রাজনীতির অঙ্গনে অনেক মাতামাতি হইয়াছে …… বেশি চুদুর বুদুর করিছনা……. ইস আমার মাকুন্দ পুত্রের আবার কেশের বাহার!

পিতার সাফ কথা এঁড়েতর্ক বাদ দিয়ে ওই বুড়িটাকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ইনস্ট্যান্ট ডিভোর্স না করিলে তাহার কপালে সম্পত্তির অংশাংশি কিচ্ছুই জুটিবেনা।প্রয়োজনে স্বগৃহ হইতে নিজ পুত্রকে পরিত্যাগ করিতে বাধ্য করিবে।

কার্তিক পিতার কথায় কর্ণপাত করিলনা।কিছুটা বেহুশ অনুভব করিলেও নিজের পরিকল্পিত গোপন কথাটা এখানো পিতাকে জানানোর সুযোগ পায়নাই।পিতার তাত্ক্ষণিক রক্ত চক্ষুর কারণে সবকিছু গোলমাল পাকাইয়া গেল।সিচুয়েশন এখন আর মোটেই তাহার কন্ট্রোলে নাই।নিজের প্রয়োজনে যে কার্তিক এই দুঃসাহসিক কর্মটি সম্পাদন করে নাই ইহার রহস্য উন্মোচন না করিলে সংসারে যে বড় বিপদ ঘটিয়া যাইবে!

এই চরম সংকটে পিতৃ মহোদয়ের সাথে একান্ত সংলাপ ছাড়া তাহার আর গত্যন্তর নাই ইহা কার্তিক ইতিমধ্যেই উপলব্ধি করিতে সক্ষম হইয়াছে। রহস্যের জাল উন্মোচন করিয়া সন্দেহপ্রবণ বাকযুদ্ব মিটাইবার জন্যে সার্থক সংলাপ ছাড়া যে আর কিছুই করার নাই!

কার্তিক ইতিমধ্যেই অনুভব করিয়াছে পিতার বাঁধিয়া দেওয়া আটচল্লিশ ঘন্টার সময়সীমা অতিক্রম করিলে সংসারে লঙ্কা কান্ড ঘটিয়া যাইবে।সাংসারিক সংকটের দায় কার্তিকেই বহন করিতে হইবে।ইহার ফল হইবে চরম আত্মঘাতি এবং হুমকি স্বরূপ।মনের গোপন কথা কহিবার তরে কার্তিক একজন ঘনিষ্ট দূতীয়ালি খুজিয়া বাহির করিতে উদগ্রীব হইলো। কার্তিক তার জীবন ঘনিষ্ট এই সিদ্বান্তে অনড় থাকিয়া পিতৃ মহোদয়ের সাথে অনতিবিলম্বে ভুল বুঝা বুঝির অবসান চাহিল।

কার্তিক কি সঠিক কর্মটি সম্পাদন করিল? নাকি বৃদ্বা রমনী বশীকরণের জন্য তাহাকে আক্কেলসেলামি গুনিতে হইল?

৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    শওকত ভাই গল্পের নামটা ছোট হলে ভাল হয়।

  2. শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

    কী হতে পারে? আমির ভাই ধন্যবাদ।

  3. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    কার্তিক কি সঠিক কর্মটি সম্পাদন করিল? নাকি বৃদ্বা রমনী বশীকরণের জন্য তাহাকে আক্কেলসেলামি গুনিতে হইল?

    কার্তিক কি কর্ম সম্পাদন করিল অবশেষে জানা হলনা।ধন্যবাদ লেখককে চমৎকার গল্পটি উপহার দেওয়ার জন্য।

  4. শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

    আরজু আপনাকে ধন্যবাদ।গল্পটি পড়বার জন্য।
    কার্তিকের কর্মটি অবশেষে জানা হইয়াও হইলনা জানা।কার্তিক তো অবশ্যই কর্মটি সম্পাদন করিয়াছে।যাহা করিয়াছে তাহা পিতার জন্যই করিয়াছে।সেই জন্যই তাহার একজন ঘনিষ্ট দূতীয়ালির প্রয়োজন ছিল। কার্তিক পিতার একপত্নীব্রত রহিত করিয়া পিতাকে সুখী দেখিতে চাহিয়াছিল।এইটাই কার্তিকের সঠিক কর্ম| বৃদ্বা রমনী বশীকরণে কার্তিক ভুল করিয়াছিল কি ?

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top