Today 16 Oct 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা

লিখেছেন: রুবাইয়া নাসরীন মিলি | তারিখ: ২৭/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 685বার পড়া হয়েছে।

‘মেঘের উপর মেঘ করেছে— রঙের উপর রঙ, মন্দিরেতে কাঁসর ঘন্টা। বাজল ঠঙ ঠঙ। ও পারেতে বিষ্টি এল, ঝাপসা গাছপালা। এ পারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিক জ্বালা। বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলেবেলার গান— ‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান। ’ –   রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

রবি ঠাকুরের এই কবিতাটা আমার অনেক ভাল লাগে ।তবে  বৃষ্টি এলে নদে বান ডাকুক বা না ডাকুক আজকাল  ঢাকা শহরে ঠিক বান বা বন্যা চলে আসে । এবার যে রকম কটকটা অসহনীয় গরম পড়েছিল বা পরেছে তাতে বৃষ্টি অবশ্যই স্বস্তি নিয়ে আসে ।তবে আমরা যারা ঢাকাবাসী তারা এই স্বস্তির সাথে এক বিড়ম্বনার শিকার হই। আজকাল অল্পসল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ঢাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট ।  ঘরে থাকলে কোন ব্যাপার না ,গরম গরম ভুনা খিচুরির সাথে রিমঝিম বৃষ্টি বিলাস দারুন লাগলেও যারা বাইরে বের হন বা কাজের জন্য বের হতে হয় তাদের জন্য অপেক্ষা করে মহা দুর্ভোগ ।

বৃষ্টি ,শীত বা রোদ সব অজুহাতেই সিএনজি চালিত অটো বা রিকশাওয়ালা ভাইয়েরা ভাড়া বাড়িয়ে দেন ইচ্ছেমত ।তাদের কষ্ট অবশ্যই হয় বৃষ্টির মাঝে রিকশা চালাতে কিন্তু আমরাই বা কোথায় পাব বাড়তি টাকা?  তবে সবকিছু ছাপিয়ে এই দিনগুলোতে যে জিনিষটা বা বিষয়টা সবচেয়ে কষ্টকর আর ভয়ংকর তা হল জলাবদ্ধ রাস্তা ।

কাল,ময়লা ড্রেনের আর বৃষ্টির পানিতে যখন রাস্তাঘাট ডুবে থাকে তখন বোঝার কোন উপায় নাই কোথায় আছে ঢাকনা বিহীন ম্যানহোল বা খানাখন্দ। তাই সবসময় আতংকে কাঠ হয়ে থাকতে হয় হয় এই বুঝি পড়লাম কোন গর্তে।

আর তাছাড়া এই সময়টা অর্থাৎ বর্ষার শুরুতে বা শুরু হওয়ার আগ দিয়ে ওয়াসা ,বিদ্যুৎ (ডেসা),টি এন্ড টি  সবার কাজ করার হিড়িক পরে যায় । ফলে রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি করে একসা অবস্থা আর আমরা যারা আমজনতা তারা হই আমভর্তা মানে নাজেহাল ।

সরকারী এই প্রতিষ্ঠান গুলোর সমন্বয়হীনতার কারনে দেখা যায়, যে রাস্তা আগের মাসে ওয়াসা খোঁড়াখুঁড়ি করে গেছে তার মাসখানেক কি দিন পনের ও পরেই আবার হয়ত ডেসা বা অন্য কেউ সেই একি রাস্তা খুড়ছে ।এমনিতেই জনসংখ্যা আর যানবাহনের চাপে চাপিত এই ঢাকা তার উপর আবার খোঁড়াখুঁড়ি করে রাস্তাটা করে ফেলা হয় সংকীর্ণ । তাই অবধারিত ভাবেই যানজট এর কবলে পরতে হয় ।

মনে মনে ভাবি ইশ যদি এমন হত, বর্ষা আসার আগেই অর্থাৎ মার্চ মাসের মধ্যে সকল রাস্তার কাজ সেরে ফেলে হবে !!

আজও দেখলাম ফিতা হাতে ধানমণ্ডি স্টার কাবাব এর সামনের রাস্তা মাপজোখ করছে ।তারমানে দুই একদিনের ভিতর শুরু হবে কাটাকাটি ।এই রাস্তাটা এমনিতেই অনেক ব্যাস্ত আর প্রায় সারাক্ষণ ই যানজট লেগে থাকে তার পরে যদি এই সময় কাটাকাটি শুরু হয় তবে যানজট যে কি আকার ধারন করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।

যাই হোক বৃষ্টির দিন প্রতিদিন এই আশা নিয়ে বের হই যেন ম্যানহোল বা গর্তে না পরে ঠিকঠাক মত বাড়ি ফিরতে পারি । কারন আমি নিজেই সেদিন একটুর জন্য রিকশাসমেত  ড্রেনে পরতে পরতে বেঁচে গেছি ।

 

 

৬৭৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি মিলি ,ভাল লাগে বই পড়তে,ঘুরে বেড়াতে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ।
সর্বমোট পোস্ট: ৩৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৯৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৯-০৩ ১৫:৫৪:৫০ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. কামাল উদ্দিন মন্তব্যে বলেছেন:

    দিনে দিনে এসব সমস্যাগুলো প্রকট হচ্ছে, সমাধান কবে হবে কে জানে? এই জন্যই আমি ঢাকা শহরে সহজে যেতে চাই না।

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Besh bhaloi jibon vabba

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top