Today 14 Dec 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বেদে সাপুড়ে এবং একটি ছেলে

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০১/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 736বার পড়া হয়েছে।

বাবুরাম সাপুড়ে
কোথা যাস বাপুরে
আয় বাবা দেখে যা
দুটো সাপ রেখে যা
যে সাপ জ্যান্ত
গোটা দুইটা আনত
তেড়ে মেরে ডান্ডা
করে দেই ঠান্ডা।

শামীম এসে দেখে জমজমাট আয়োজন এখানে। সে তার চাচার সাথে এসেছে গ্রামে চাচার এক বন্ধুর বিয়েতে। কয়দিন আগে শেখা কবিতা টি আবৃত্তি করছে চাচা মজা পেয়ে।

কিরে এখন ও তোদের গ্রামে সাপুড়ে বেদে এদের দেখছি। আমি তো ভাবছি বেদে সাপুড়ে তাদের খেলা এখন অচল।

চাচার বন্ধু হল ইমতিয়াজ চাচা। শামীম এর খুব প্রিয় বন্ধু এবং চাচা। কত কত খেলনা কিনে দেয় তাকে।

বেতের হরেক রকমের ঝুড়িতে অনেক ধরনের সাপ রাখা আছে।সাপের ফোসফোসানীতে একেকবার ভয়ে কেঁদে উঠছে ও।

এক বেদেনী মহিলা একেকবার এক সাপ বের করছে আর তার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে ।শংঙ্খচুড়, কালা অজগর, পান্যা সাপ, ঢোড়া সাপ।অনেক গুলি ছোট ছোট মাছ এর মত।

দুইটা সাপ উঠানে দাড় করিয়ে দিয়েছে সাপুড়ে ।বাঁশী বাজানো শুরু করেছে সাপুড়ে। সাপ দুইটা যে কোন কারনে মাটির কম্পনে দুলছে।মানুষ ভয় পাচ্ছে আবার মজা নিয়ে ও দেখছে।

মাঝে মাঝে ছোবল মারার জন্য সাপগুলো হিস হিস করে উঠছে।

ভয়ে ঘৃনায় সে বমি করা শুরু করল।

ছেলেটার বাতাস লাগছে।ঘরেত নেও একজন বলে উঠল।চাচা দৌড়ে ও কে জড়িয়ে ধরল।

শামীম পড়ে ক্লাস টু তে। তার স্কুল এর নাম শহীদ বরকত প্রাথমিক বিদ্যালয় ।পাশের গ্রামে তাদের বাড়ি।

পাশের বাড়িতে সাপের খেলা চলছে। একটা ছেলেকে উঠানে চাটাই তে শুইয়ে রাখা হয়েছে।

এ কি ছেলে টাকে এইভাবে মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়েছে কেন চাচা নাসের চিৎকার করতে থাকে।

হেরে ঝাড়া হবে এখন একজন জবাব দেয়।

ঝাড়া হবে মানি? চাচা নাসের বলে উঠেন।

তার বাজে বাতাস আইছে শরীরে।একই লোক আবার জবাব দেয়।

ছেলেটি একেকবার কাশি শুরু করলে আর থামানো যায়না।বাজে ধরনের হুপিং কাশি।

এই আপনারা কি বলেন এর তো কাশি হইছে।হসপিটালে নিয়ে ঔষধ দিলে হবে।টিকা দেয়নি বলে এই অসুখ।

এরমধ্যে ছেলেটার মৃগীর কাপুনী শুরু হয়েছে। সবাই ভয় পেয়ে ছেলেটার থেকে দুরে সরে দাড়ায়।

শ্যাওড়া গাছের পেত্নী ভর করছে আবার এক বেদেনী বলে উঠে।এই তেলটা গরম করার ব্যবস্থা করেন তো।বাঘের চর্বির তেল।

বাঘের চর্বি চাচা এবার ধমকে উঠে।কোথায় পেলেন? চাচা হাসেন প্রথমে পরে বকা দিয়ে বলে উঠেন এই এসব বাজে চিকিৎসা বন্ধ।

শামীম ভয়ে কাপছে।সাপের ফোসফোস শব্দ শোনা যাচ্ছে ঝুড়ির ভিতর থেকে ।তারসাথে এই ছোট বাচ্চার ভয়ন্কর কাপুনী।

চাচা ওর কাপা বন্ধ করে দাও।ফুফিয়ে সে কাদতে শুরু করে।ছেলেটি শামীম ছোটভাই নাসিমের বয়সী হবে। চার বছর হবে মনে হয়।

তার ইচ্ছে হচ্ছে ছেলেটিকে জোরে কাঁথা দিয়ে জড়িয়ে ধরে কাপুনী বন্ধ করে দেয়।শুধু ভয়ে সে কাছে যাচ্ছেনা।

এবার চাচা জোর করে সামনে গিয়ে ছেলের মাকে বলে কোলে নিয়ে নিল ধমক দিয়ে বললেন

একজন আসুন আমার সাথে হাসপাতালে।ভয় নেই আমি ডাক্তারী পড়ি ।এ সেরে যাবে।

ছেলেটিকে নিয়ে আসলেন চাচা নিকটস্থ হাসপাতালে।

এক সপ্তাহ পরের ঘটনা। শামীম বসে আছে ছেলেটির সঙ্গে তার বিছানায়।ছেলেটি এখন পুরো সুস্থ ।শামীম বারবার তার গালে চুমু দিয়ে আদর করে দিচ্ছে।এখন অনেক গুলগুলা চেহারার মনে হচ্ছে।

তার মা বাবা পাশে । শামীম এর মা অনুরোধ করে ছেলেটিকে নিয়ে আসলেন তাদের সাথে।ভাবলেন ভর্তি করে দিবেন।

দিন গড়িয়ে মাস মাস গড়িয়ে বছর ।ছোট ছেলেটি এখন অনেক হৃষ্টপুষ্ট।শামীমের হাত ধরে স্কুলে যায় ।সে এখন প্রথম শ্রেনীতে পড়ে।

আজ শামীম তাকে শেখাল মা লিখতে ।কিছু কিছু শব্দ শিখে ফেলল সে ।

আধো স্বরে বলল মাকে চিঠি লিখতে চাই।

৭১৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

২২ টি মন্তব্য

  1. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর ।
    খুব ভাল লাগল ছেলেটির সরল জীবন কথা ।

  2. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার শিশুতোষ লেখা এত ভাল লাগে কেন?

  3. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    শুধু মুগ্ধ হয়ে পড়ে গেলাম সুপ্রিয় মুন ! প্রবাসে ঈদের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি লেখা চাই তোমার কাছে —।

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      শুধু মুগ্ধ হয়ে পড়ে গেলাম সুপ্রিয় জসিম ভাই। কেমন আছ ?ঈদ কেমন গেল ? পাঞ্জাবি কিনেছ ? আর আমার জন্য শাড়ী ?

      • জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

        পাঞ্জাবি এবার হয়নি। তবে শাড়ি হবে; না প্রবলেম !!
        কিন্তু তোমার কাছে আমার লেখা চাওয়ার কী হবে?
        হায় কপাল ! এ ব্যাপারে যে কিছুই বললে না —– !

  4. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার মন খারাপ ভাল হয়ে যায় চলন্তিকায় ঢুকে তোমার কমেন্টস পড়লে। তুমি খুব সিন্সেরেলি ভালবেসে কমেন্টস কর। শুধু যে আমাকে কর তা না সবার লেখায় ভালবেসে কমেন্টস কর যা সত্যি আমি পছন্দ করি ভাল থাক ভাইয়া অনেক অনেক বেশী। অনেক শুভেচ্ছা তার সাথে ঈদ মোবারক।

    • জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

      চলন্তিকায় আমার যত —- সব তোমার একটি কমেন্টসের জন্য ! মনে আছে ?
      আর আমি হলফ করে বলতে পারি, চলন্তিকাকে তোমার চেয়ে বেশি কেউ ভালোবাসে না; আমিও না।
      ভালো থেকো নিরন্তর —– ।।

      • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

        বাহ! আবার একটা মনভরানো কমেন্টস করলে জসীম ভাই।আমি চলন্তিকাকে এখন ও অন্য ব্লগের চেয়ে বেশী মায়া করে ভালবাসি।চলন্তিকাকে ঘরের মানুষের মত মনে হয়।অনেক বেশী আপন ব্লগ।তোমার ও চলন্তিকা অনেক আপন তা দেখেছি।

        অনেক ধন্যবাদ তোমাকে এইভাবে আমাকে বোঝা মূল্যায়ন করায়।আমি কৃতজ্ঞ।তুমি ভাল থেক সবসময়।অনেক অনেক শুভেচ্ছা ভালবাসা তোমার জন্য।

  5. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    শিক্ষনীয় গল্পটি ভাল লাগলো । শুভ কামনা ।

  6. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভাল লাগল । শুভ কামনা ।

  7. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ছোট বেলা কত সাপ খেলা দেখেছি। এখন তো দেখাই যায় না

  8. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর গুছানো শিশুতোষ লেখা। আমিও শিশুদের মতোন পুরোটা পড়লাম।ভালো লাগা রইলো।

  9. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগল।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top