Today 17 Dec 2017
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ব্রিটেনে পার্লামেন্ট নির্বাচন: ভোট দেয়ার অভিজ্ঞতা

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ০৭/০৫/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 269বার পড়া হয়েছে।

ব্রিটেনে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয়ার অভিজ্ঞতা আমার এইবারই প্রথম নয়।এর আগেও অনেক বার ভোট দিয়েছি। পার্লামেন্ট এবং স্থানীয় সরকার সকল নির্বাচনেই ভোট দেয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না হলেও ভোট দেয়ার আনন্দ এবং সুযোগ থেকে নিজকে বঞ্চিত করিনি কখনও। সেই একই উদ্যমে আজও পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দিতে যাই সপরিবারে।পাঁচ বছর পরপর নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয় ব্রিটেনে পার্লামেন্ট ইলেকশন।

বাড়ির পাশেই রেডব্রিজ বরার আপহল প্রাইমারি স্কুল। আমাদের ভোট কেন্দ্র। হেঁটে গেলে দুই মিনিটের রাস্তা। আমি, আমরা কন্যা এবং স্ত্রী এক সাথেই বের হই ভোট দিতে।কন্যা এবারই প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছে আমাদের সাথে। তাই বাড়তি একটি উত্সাহ লক্ষ করা যাচ্ছে তিন জনের মধ্যেই।

এখানে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে রাজনৈতিক দলের সাপোর্টারদের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে না।নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বেই নাম ও ঠিকানা সম্বলিত পোলিং কার্ড ( polling card ) ইলেক্টোরাল কমিশন (electoral commission) থেকে পৌঁছে দেয়া হয় ভোটারদের বাড়ির ঠিকানায় ডাকযোগে। এই কার্ডেই উল্লেখ থাকে নির্বাচনের তারিখ, সময় এবং পোলিং স্টেশন এর নাম ও ঠিকানা। এবং এর উল্টো পিঠে লেখা থাকে কিছু নিয়মাবলী। প্রতিটি পোলিং কার্ডেই একটি করে ইউনিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকে।

ভোট দিতে হলে এই পোলিং কার্ড ( polling card ) সাথে নেয়ারও কোনো প্রয়োজন পড়ে না। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পোলিং স্টাফ এর কাছে শুধু নিজের নাম এবং ঠিকানা বললেই চলে। পরিচয় যাচাই করার জন্যে কোনো ছবি বা অন্য কোনো আইডি কার্ডেরও দরকার নেই।নির্বাচন কাজে নিয়োজিত পোলিং স্টাফ তাঁর হাতে থাকা ভোটার লিস্ট থেকে ভোটারের নাম ঠিকানা জেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যালট পেপার সরবরহ করে। ব্যালট পেপার পূরণের জন্যে গোপন বুথ থাকে। তবে যুক্তরাজ্যের নর্দান আয়ারল্যান্ড এ ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে ফটো আইডি (Electoral Identity Cards ) দেখানোর প্রয়োজন হয়।

নিজে ভোট দিতে না চাইলে বা সময়-সুযোগ না থাকলে প্রক্সি ভোট ( proxy vote) দেয়ারও লিগ্যাল সুযোগও রয়েছে ব্রিটেনে। যদি কেউ ব্যস্ততার কারণে কিংবা যে কারণেই হোক ভোট দিতে পারছে না বা ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সময় না থাকে সেই ক্ষেত্রে তাঁর ভোটটি ভোটারের মনোনীত অন্য যে কোনো ব্যক্তি দিতে পারবে। সেই ক্ষেত্রে প্রক্সি ভোট দেয়ার জন্যে তাঁকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ছয় কার্যদিবস পূর্বে মনোনীত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে নির্বাচন অফিস এ দরখাস্ত করতে হয়। মনোনীত ব্যক্তির নামও ভোটার লিস্টে থাকতে হবে। একজন ব্যক্তি একই নির্বাচনে দুইটির বেশি প্রক্সি ভোট দিতে পারবে না।আজকের এই পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রক্সি ভোট প্রদানের দরখাস্তের সময়সীমা ছিল ২৮ এপ্রিল বিকেল ৫ টা পর্যন্ত।

ডাকযোগেও (postal vote) ভোট প্রদান করা যায়। এই সুযোগটিও যে কোনো ভোটার চাইলে নিতে পারে। তবে ডাকযোগে ভোট প্রদানের জন্যে শুরুতেই ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সময় তা উল্লেখ করতে হয়।নির্বাচন অফিস থেকে ভোট অনুষ্ঠানের পূর্বে সময়মতো ভোটারের নিকট ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভোটার সেই মোতাবেক ব্যালট পেপার পূরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত পাঠিয়ে দিলেই ভোট প্রদান সম্পন্ন হয়ে যায়।আজকের নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট প্রদানের সময়সীমা ছিল ২১ এপ্রিল বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। এই হলো ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সুযোগ-সুবিধা।

সময় তখন পৌনে তিনটা প্রায়।হাটতে হাটতে আমরাও হাজির হই ভোট কেন্দ্রের সামনে। ভোট কেন্দ্রে পৌঁছেও বোঝার কোনো সুযোগ নেই যে এখানে ভোটা-ভোটি হচ্ছে। শান্ত-নিরিবিলি এক পরিবেশ বিরাজ করছে ভোট কেন্দ্রের চারিপাশে। বাড়তি কোনো মানুষ-জন নেই কেন্দ্রের আশেপাশে। স্কুলের গেইট দিয়ে দুই জনকে বের হতে দেখলাম। আমরাও ভিতরে প্রবেশ করি।

আপহল প্রাইমারী স্কুলের বৃহৎ একটি কক্ষে সাজানো হয়েছে ভোট কেন্দ্রের দুইটি বুথ এবং ছয়জন পোলিং স্টাফদের বসার জায়গা। তিনজন করে দুইটি লম্বা টেবিল পেতে বসে আছেন ছয়জন পোলিং স্টাফ। ভিতরে কোনো এজেন্ট নেই। বাহিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন নেই।দেয়ালে পোষ্টার নেই।পোলিং স্টেশন এর বাহিরেও বাড়তি লোকের আনাগোনা নেই।রাজনৈতিক আলোচনা নেই। সাপোর্টারদের ভিড় নেই। ভোটারদের লাইনও নেই। জটলা নেই। নেই কোনো কোলাহল।

দুপুর হওয়াতে এমনটি মনে হলো। ভোটারদের ভিড়-ভাট্টা নেই বললেই চলে। আমাদের আগে আরো তিনজনকে দেখেছি ভোট দিতে। মিনিট পাঁচের মধ্যে আরো দুই জনকে দেখলাম ঢুকতে। সকাল ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে।ভোটারদের ভিড় জমবে মূলত অফিস ছুটির পরে অর্থাৎ বিকেল পাঁচটার পরে।

আমরা পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ভোট দিয়ে বের হয়ে যাই পোলিং স্টেশন থেকে।হাতে কোনো কালির ছাপ নেই। এবার দেখবার পালা কে জিতে এই ভোটা-ভোটি তে !!

২৬৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    ওরা ইলেকশনের কি বোঝে?
    ওদেরকে পাঠিয়ে দিন – আমাদের দেখে কিছু শিখে যাক….

    দু:খে বুক ফেটে যায় ভাই
    বহুবছর ভোট দেয়া বন্ধ করেছি।
    এখন আর কাউকে ভোট দেই না –

    • শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

      আপনার মনের যন্ত্রণা বুঝতে পারছি ভাই ।কবে আমরা এই জটলা থেকে উদ্ধার পাব কে জানে ? মন্তব্যের জন্যে অনেক ধন্যবাদ ।

  2. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    সহমত পোষণ করছি

    সো নাইস
    পড় বেশ ভালোই লাগলো অনকে

  3. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক সুন্দর সিস্টেম । আহ ! যদি আমাদের সিস্টেমটাও এমন হতো !
    জেনে ভালো লাগলো আবার খারাপও । আমরা যে পারছি না….

    • শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

      //অনেক সুন্দর সিস্টেম । আহ ! যদি আমাদের সিস্টেমটাও এমন হতো !//…………..সবাই বেঁচে যেতাম

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর সিস্টেম

    ভাল লাগল আপনার অভিজ্ঞতা গল্প

    শুভকামনা

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top