Today 23 Apr 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ব্রিটেনে লাউ চাষ ও লাউয়ের আদিগল্প (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ৩১/০৮/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 739বার পড়া হয়েছে।

ব্রিটেনের মাটিতে বাংলাদেশের সবজি চাষ নতুন কিছু নয়।আবার খুব যে বেশি চাষাবাদ হচ্ছে তাও নয়। অনেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে চেষ্টা করেন বাড়ির আঙ্গিনায়।কেউ সফল হন আবার কেউ কেউ বিফল হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকেন। ইচ্ছা থাকলেও প্রতিকূল পরিবেশে সফলতা অর্জন অতোটা সহজ কাজ নয়।বাড়ির আঙ্গিনায় ফল-ফুলের পাশাপাশি দেশীয় সবজি চাষ এখন কমিউনিটির অনেকের কাছেই একটি শখের বিষয় হয়ে উঠেছে।

বাড়ির আঙ্গিনা ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের ‘allotment’ প্লট বাত্সরিক লীজ নিয়ে অনেকেই সবজি চাষ করেন।এই প্রবণতা বাঙালি কমিউনিটিতে সিলেট অঞ্চল থেকে আগত প্রবাসীদের মধ্যেই লক্ষ্য করা যায় বেশি।

বলা যায় একান্ত শখের বসেই ব্রিটেনে বাঙালি কমিউনিটিতে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষাবাদ করে থাকেন।এতে পাওয়া যায় নির্মল আনন্দ।প্রতিদিনের নিয়মিত বাগান-কর্মে কিছুটা হলেও শরীরের ক্যালরি ক্ষয় হয়।কাজের ফাঁকে এবং অবসরে সময়টাও কেটে যায় বেশ অনন্দের মাঝে। আর নিজের হাতের স্পর্শে বাড়ির আঙ্গিনা সেজে উঠে প্রকৃতির আদিরূপ সবুজ-শ্যামল ভূমিতে।

lau

প্রবাসে বসে দেশীয় সবজি চাষের আগ্রহটা জন্মানোর পিছনে একটি বড় কারণ হলো হাতের কাছে সুযোগ তৈরী থাকা।এটি আমি এর আগেও বলেছি।আবারও বলছি। এর মানেটা হলো ব্রিটেনের বাড়িঘরের পরিকল্পিত আবাসন প্রক্রিয়ার ভিতর সেই সুযোগটা তৈরী করে রাখা আছে।এখানে প্রতিটি বাড়ির সামনে এবং পিছনে বাড়ির আকার ও আয়তন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমান খালি জায়গা রাখা হয়।ব্রিটিশদের আবাসন প্রক্রিয়ায় এটা একটা অসাধারণ পরিকল্পনা বলা যেতে পারে। বাড়ির সামনে কিছুটা কম জায়গা রাখলেও পিছনে রাখা হয় খানিকটা বড় জায়গা।

এছাড়া আগ্রহের আরও একটা বড় কারণ হলো হাতের নাগালে প্রয়োজনীয় সব কিছুই পেয়ে যাওয়া।যেমন কম্পোস্ট সার, বাঁশের খুঁটি,কাঁচি-কোদাল, খুন্তি সহ প্রয়োজনীয় উপকরণ একই দোকান থেকেই কেনা যায়।

lau doga
সালটা ২০০৯।বছর ছয় আগের কথা।স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় আমি প্রথম বাগান-কর্মে হাত দেই। তখন লন্ডনের নিউহ্যাম এলাকার গ্রীন স্ট্রীটের একটি বাড়িতে থাকি। প্রথমবারেই একটি লাউ গাছ লাগিয়ে পাঁচ-ছয় কেজি ওজনের বেশ কয়েকটা লাউ পেয়ে যাই। আর সেই থেকেই আগ্রহ।থেমে নেই এখনও।

আজকের লেখাটা শুধু লাউ চাষকে কেন্দ্র করেই। লাউ মূলত বাংলাদেশের শীতকালীন সবজি। গত বছরের মতো এবারও বাড়ির পিছনের আঙ্গিনায় লাউ চাষ করেছি। তবে লাউ এর পাশাপাশি এবারও দেশী শিম, টমেটো, বেগুন,শসা, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ, লালশাক, পুঁইশাক, মিষ্টি কুমড়াসহ বিদেশী রানার বীণ এবং কর্জেড চাষ করেছি।বাগানে এবারের নতুন অতিথি যুক্ত হয়েছে দুইটি। এরা হলো চিচিঙ্গা এবং লেবু। তবে চিচিঙ্গা চাষ করতে এখনও আর কাউকে দেখিনি।

chichinga ful

আমরা অনেকেই বলে থাকি লাউ একটি বাংলাদেশী সবজি।মূলত অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশে এর ব্যাপক চাষাবাদ হয় বলেই একে বাংলাদেশী সবজি বলে থাকি।বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার টনেরও বেশি লাউ উৎপাদিত হয়। উপযুক্ত আবহাওয়ার কারণে জনপ্রিয় এই সবজিটি বাংলাদেশে ব্যাপক চাষাবাদ হলেও এর আদি জন্মস্থান কিন্তু বাংলাদেশ নয়।

chichinga

ইতিহাস বলে লাউয়ের আদি জন্ম আফ্রিকায়।গবেষকরা মনে করেন পৃথিবীর আদিম চাষাবাদকৃত সবজির মধ্যে লাউ অন্যতম।বর্তমানে আফ্রিকা,এশিয়া, ইউরোপ এবং আমেরিকাসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কমবেশি লাউ দেখা যায়।তাই এই নিয়ে গবেষকদের মধ্যেও কৌতূহলের শেষ নেই।যার আদি জন্ম আফ্রিকায় সেটি আমেরিকায় কীভাবে বিস্তার লাভ করলো এই নিয়ে ব্যাপক গবেষণাও হয়।আমেরিকার একদল গবেষক লাউয়ের DAN এনালিসেস করে জানতে পারে আট থেকে নয় হাজার বছর পূর্বে আফ্রিকার মূল ভূখণ্ড থেকেই সমুদ্রে ভেসে এশিয়া এবং আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে লাউ এর বীজ।

begun

বিভিন্ন দেশে এই সবজিটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। ভারতে এর নাম লাউকি (lauki) বা dudhi এবং পাকিস্তানে একে বলা হয় kaddu । বাংলাদেশেও একে লাউ বা কদু বলা হয়।এর ব্যাপক প্রচলিত ইংরেজি শব্দ হলো bottle gourd বা calabash. এর বৈজ্ঞানিক নাম Lagenaria siceraria. ভিয়েতনামেও লাউ একটি জনপ্রিয় সবজি।ভিয়েতনামে একে বলা হয় bau canh. এ ছাড়া কোরিয়া, চায়না, বার্মা, শ্রীলংকা এবং পাকিস্তানেও লাউ এর বেশ কদর রয়েছে।

deshi sim

দেশীয় সব সবজিই যে ব্রিটেনের মাটিতে উত্পাদন করা যায় তা কিন্তু নয়।বাংলাদেশের শীতকালীন সবজিগুলোর মধ্যে লাউ সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা পেলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লন্ডনেও উত্পাদন করা যায়।এখানে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজি চাষে ঝুঁকি থাকে শতভাগ। তবে আগ্রহ এবং কৌশল জানা থাকলে আবার শতভাগ সাফল্যও ধরে রাখা যায়।প্রবাসে অনেকেই বলে থাকেন আমার এবং আমার স্ত্রীর নাকি ‘গ্রীন ফিঙ্গার’ ! কে জানে তামাটে-ব্রাউন আঙ্গুলগুলো আবার গ্রীন হলো কিভাবে ! হতে পারে আদিপেশা কৃষির প্রতি টান এবং মাটির প্রতি মমতা থেকেই হয়তো আগ্রহটা তৈরী হয়েছে।

shosha

লাউ চাষের সুবিধাটা হলো গাছে লাউ না ধরলেও খুব একটা মনোকষ্ট থাকে না। যদি ঠিক মতো লাউ গাছটি বেড়ে উঠে তাতেই লাভ। কারণ লাউ গাছের লতা-পাতা শুধু বাঙালিদের কাছেই নয় পৃথিবীর সর্বত্র সুস্বাদু আনাজ হিসেবে বিবেচিত এবং সমাদৃত।আমিও দেখেছি লন্ডনে প্রবাসীদের অনেকেই লাউ থেকে লাউ এর পাতা-লতা অনেক বেশি পছন্দ করেন।

লাউ এমন একটি আনাজ যার কোনো কিছুই ফেলনা নয়।গাছ থেকে সদ্যকাটা তরতাজা লাউ দিয়ে চিংড়ি বা শোল মাছের কারী এক অনন্য আস্বাদন! লাউয়ের দানা,খোসা এবং পাতা দিয়ে তৈরি করা যায় তিন পদের লোভনীয় ভর্তা। চিংড়ি দিয়ে পাতা-লতার ঝোল কার না পছন্দের? বার্মা, চায়না এবং ভিয়েতনাম সহ অনেক দেশেই চিংড়ি দিয়ে লাউ পাতার সুপ বেশ জনপ্রিয়।এছাড়া লাউ দিয়ে মিষ্টি জাতীয় সুস্বাদু পিঠাও তৈরী করা যায়।

হ্যাপি ব্লগিং।সবাইকে লাউ শুভেচ্ছা !!

চলবে …..

৭৩০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন লিখনী পড়ে খুবই ভালো লাগলো

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    অসম্ভব ভাল লাগল পোস্টটি। বিদেশে থেকেও দেশি সবজি চাষ করে খাচ্ছেন আর আমরা ঢাকায় বসে সব্বজি কিনে খাই।

  3. মরুভূমির জলদস্যু মন্তব্যে বলেছেন:

    সেই অনেক বছর আগে আমার এক বন্ধর বাবা কিছু ধান নিয়ে গিয়েছিলেন মধ্য প্রাচচে। একটা টবে সেই ধান লাগিয়ে চল সংগ্রহ করে ভাত রান্না করে খেয়েছিণের নিজ হাতে। অনেক দিনের পরনো কতা মনে পড়ে গেলো।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top