Today 20 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভয়ংকর ভালকানের পাহাড়

লিখেছেন: সুরাইয়া নাজনীন | তারিখ: ২৬/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 551বার পড়া হয়েছে।

1

আগ্নেয়গিরি আবার কী? পৃথিবীতে কিছু পাহাড় আছে, যা থেকে উত্তপ্ত গলিত পাথর, ছাই আর গ্যাস বের হয়। সেই গলিত পাথর ও ছাইগুলোর তাপমাত্রা এতটাই বেশি থাকে যে, ওগুলো টকটকে আগুনের মতোই হয়ে থাকে। সেই আগুন বের করা পাহাড়গুলোকেই বলা হয় আগ্নেয়গিরি।

ভলকানো মানে আগ্নেয়গিরি। রোমান পৌরাণিক কাহিনীর আগুনের দেবতার নাম ভালকান। আর তাই বাংলায় যা আগ্নেয়গিরি তা আবার ইংরেজিতে ভলকানো। পৃথিবীর ভেতরের দিকে যে গ্যাসগুলো জমা হয়, সেগুলো আবার অতিরিক্ত তাপ ও অতিরিক্ত চাপের ফলে পৃথিবীর ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। পাহাড়ের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে ভেতরে জমে থাকা গলিত লাভা। মাটির নিচে গলিত যেসব পাথর ছাই থাকে, সেগুলোকে বলে ম্যাগমা। সেই ম্যাগমাই যখন মাটির ভেতর থেকে বাইরে খোলা বাতাসে আসে, তখন বলা হয় লাভা। লাভার তাপমাত্রা থাকে ৭০০-১২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কাজেই বুঝতেই পারছ যে, এই তাপমাত্রায় পাথর গলে যাওয়া খুব একটা কঠিন কিছু নয়।

এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ১৫১০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে ৮০টি বা তার বেশি আবার সমুদ্রের নিচে। পৃথিবীতে প্রতি দশজনের একজন বাস করে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির আওতায়, যদিও এটা বিপজ্জনক, তার পরও মানুষ আগ্নেয়গিরির কাছেই থাকে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, গত ৫০০ বছরে কমপক্ষে ২,০০,০০০ লোক মৃত্যুবরণ করেছে এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে। অথচ তারপরও মানুষ থাকতে চায় আগ্নেয়গিরির কাছে, কারণ আগ্নেয়গিরির ঢালে থাকে উন্নত এবং উর্বর মাটি, যাতে ফসল ভালো হয়। আর অনেক পাহাড়-পর্বতের সৃষ্টিই হয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে। যেমন মার্কিন মুলুকের হাওয়াই দ্বীপ, এটা তো তৈরি হয়েছে পাঁচ পাঁচটি পর্বত নিয়ে, যার ২টিই আগ্নেয়গিরি থেকে সৃষ্টি।

2

আগ্নেয়গিরিগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়Ñ সক্রিয়, সুপ্ত এবং বিলুপ্ত। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি প্রায়ই অগ্ন্যুৎপাত করে এবং যে কোনো সময় করতে পারে। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি হলো যে আগ্নেয়গিরিটা বেশ আগে অগ্ন্যুৎপাত করেছে আবার যে কোনো সময় করতে পারে। আর বিলুপ্ত আগ্নেয়গিরি হলো যেটা অনেক অনেক দিন আগে অগ্ন্যুৎপাত করেছে, তাই আর করার কোনো সম্ভাবনাও নেই। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো মাওনা লোয়া। এটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপে। মাওনা লোয়া ৪,১৭০ মিটার লম্বা। বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে, এটি মাউন্ট এভারেস্টের চেয়েও বড়। অবশ্য তা সমুদ্রের নিচের এই পর্বতের গোড়া থেকে চূড়া পর্যন্ত। যত দূর জানা গেছে, ১৮৭৩ সাল থেকে এই আগ্নেয়গিরিটি ৩৩ বার অগ্ন্যুৎপাত করেছে। এটা তো গেলো পৃথিবীর হিসাব, আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি কোনটি জান? এটা হলো মাউন্ট অলিম্পাস। এটা বুধগ্রহে অবস্থিত। মাউন্ট অলিম্পাস লম্বায় ২৭ কিলোমিটার আর প্রস্থে ৫২০ কিলোমিটার।

3

আগ্নেয়গিরির এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বিধ্বংসী ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার তামবোরা পর্বতে। এর ফলে শুধু না খেয়েই মারা গিয়েছিল ৯২ হাজার লোক। এর পরের ঘটনাটাও ঘটেছে ইন্দোনেশিয়াতেই। ১৮৮৩ সালে ক্রাকাতাও পর্বতে। এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সুনামি হয়েছিল। সেই সুনামিতেই মারা গিয়েছিল ৩৬,৪১৭ জন। ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত ‘পেলে’ পর্বতে ঘটে যাওয়া ১৯০২ সালের অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ের কারণেই মারা গিয়েছিল ২৯,০২৫ জন। ইতালির ভিসুভিয়াস পর্বতের অগ্ন্যুৎপাতে লাভা প্রবাহে আর উত্তপ্ত কাদার প্রবাহে মারা গিয়েছিল ৩,৫০০ জনের মতো। এটা অবশ্য অনেক দিন আগের কথা, সেই ১৬৩১ সালের।

৬০৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ২৪ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ০ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-১৭ ০৮:০৮:৫৭ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভিন্ন বিষয়
    তবু জানলাম

    অনেক ভাল লাগা।

  2. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    চমত্‍কার লিখেছেন তো !
    ভাল লাগা জানিয়ে দিলাম ।

  3. তুষার আহসান মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক অজানা কথা জানলাম

    ভাল লাগা ছুঁয়ে দিলাম পোস্টে।

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালকানের পাহাড়ের ভংকর রূপ জানলাম।

  5. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    জানলাম

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top