Today 23 Apr 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভাইয়ারে তুই কেমন আছিস?

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৯/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 801বার পড়া হয়েছে।

ভাইয়ারে তুই কেমন আছিস?

আমাদের ছেড়ে তুই কেমন আছিসরে?
তোর ওই জায়গাটা কেমনরে?

বেহেশতের বাগানটা কেমনরে ভাইয়া?তোর মত নিষ্পাপ শিশু অবষ্থায় যারা এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যায় তারা তো ওখানেই থাকে নারে?এ মনে হলে একদিকে ভাল লাগে কষ্টের মধ্যে।আমাদের কাছে পৃথিবীতে তোর জীবনটা ছিল বড় কষ্টের ।বড় অসহায় ছিলিরে তুই।

আজ তুই কেমন আছিস রে ভাইয়া?

চোখের পানিতে কাগজ ভেসে যাচ্ছে আমার।দরজা বন্ধ করে তোকে লিখছি।মাকে দেখতে দিতে চাইনা আমার চোখের পানি তোকে হারানোর বেদনা।তুই যাওয়ার পর সেই যে মা অসুস্থ হয়ে পড়ল এখনও মা পুরাপুরি সুস্থ নয়রে ভাইয়া।শুধু তোর ছবি হাতে নিয়ে বসে থাকে আর কাঁদে।আমরা আস্তে আস্তে তোর যত ব্যাবহার্য্য জিনিস মায়ের দৃষ্টিসীমা থেকে সরিয়ে নিয়েছি।শুধু তোর একটা ছবি মা সারাদিন হাতে নিয়ে বসে থাকে।কোনো সময়ও হাত ছাড়া করেননা।তোর রুমে গিয়ে সারদিন বসে থাকে।

জানিস রান্নাবান্না কিচেনের ভার এখন আমার উপরে ।তুই নিশ্চয় অবাক হয়ে যাচ্ছিস স্কুলে পড়ি ছোট আমি কিরকম রান্না করি।জানিস বাবা আমার রান্না খেয়ে অনেক খুশী।

আমার মাটাতো অনেক বড় হয়ে গিয়েছে।এত মজা করে রান্না করে এভাবে বলে।একটু পরে তাকিয়ে দেখি বাবার চোখের কোণে জল।বাবা চোখের জল দেখাতে চাননা।খেতে গিয়ে প্রথম দিন বোকা হয়ে গেছিরে।তরকারীতে না হয়েছে লবন না না মরিচ। এখন অবশ্য শিখে যাচ্ছি রান্না।বাবা আর আমি একসঙ্গে রান্না করি।লাইজু মশলা বেটে দেয়।জেসমীন পেঁয়াজ কেটে দেয়।আমরা খুব আনন্দ করে গান গাইতে গাইতে রান্না করি জানিস। তোকে আর মাকে মিস করি অনেক।মা এখন স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেননা।আর তুইতো চলে গেলি সে না ফেরার দেশে।

কেমন আছিসরে তুই সেই না ফেরার দেশে?জানিস ভাইয়া এইসময়টায় আল্লাহর উপর অভিমান হয়রে।বলতে পারিস আল্লাহ তোকে কেনই বা পৃথিবীতে পাঠাল এত সৌন্দর্য্য তা র সাথে এত অসহায়ত্ব সহ।তোর যখন জন্ম হল এত সুন্দর হলি দেখতে তুই।তোকে দেখলে সবাই বিস্মিত হয়ে যেত।আস্তে আস্তে তুই বড় হলি একবছর দুইবছর তিনবছর।তুই আর ঠিক বড় হতে পারলিনা।সেই শিশুই রয়েগেলি।ওভাবে তুই চলে গেলি না ফেরার দেশে।

ডাক্তার রা অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করল।বুঝতে পারলনা প্রথমে কিছুই।পরে বলল যা ডাক্তারী ভাষায় মানসিক শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী শিশু তুই।তোর জন্য নার্স রাখা হল।স্পেশাল ডাক্তাররা আসতে থাকল আমাদের বাসায়।আমার অবুঝ মনে কত কথা যে তোর জমে থাকত।তোর সাথে সারাদিন কথা বলতাম বিভিন্নভাবে।তুই কিছুই বুঝতিনা।শুধুই হাসতি।মাঝে মাঝে খলখল করে হেসে উঠে গলা আকড়ে ধরতি।তোকে গোসল করানো খাওয়া ছিল আমার দায়িত্বে।তোকে গোসল করিয়ে দিতাম আমি পলাশ।তোকে গোসলের সময় যে আনন্দে পানি নিয়ে খেলতে থাকতি। খাওয়ার সময়ে তুই কিছু বলতে পারতিনা।আনন্দে চেয়ে থাকতি আমার দিকে।

যেদিন তুই চলে গেলি সে এক মন খারাপ করা সকাল। কেন যেন কিছু ই ভালো লাগছিলনা রে। তোকে নাস্তা খাওয়াতে গেলাম। ভীষণ জ্বরে তোর্ গা পুড়ে যাচ্ছে। তাও তোর্ সেই স্বভাব সুলভ হাসিতে তাকালি আমার দিকে। প্রথম লোকমা খেলি। তার পর ই চলে গেলি। হারিয়ে গেলি। প্রথম কয়টা দিন শুধু সপ্ন দেখতাম তোকে।

এবারের ঈদ এ তোকে খুব উত্ফুল্ল মনে হচ্ছিল। একটু যেন তোর্ মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করছিল। ডাক্তার রা বলছিল হয়তবা যে কোনদিন তুই হটাত করে ই কথা বলা শুরু করবি। আমরা সবাই এত আশান্বিত হয়ে পড়লাম রে তোকে নিয়ে। মা দিনরাত তোকে দেখতে থাকত। সত্যি মাঝে মাঝে হটাত করে এমনভাবে তাকিয়ে থাকতি মনে হত তুই আমাদের চিনিস। তুই বুঝতে পারছিস। তারপর ও বিনা নোটিশ এ একদিনের জ্বরে চলে গেলিরে ভাইয়া। তুই যাওয়ার পর জানালা দিয়ে আকাশ যখন দেখতাম বুকের ভিতর কি ভীষণ হুহু করে উঠত। মাকে নিয়ে ছাদে এসে বসে থাকতাম। কাদতে কাদতে মা অসুস্থ হয়ে যেত। বাবা একসময় বলে উঠত বাস্তব্বাদীর মত। মন খারাপ করছ কেন ?আল্লাহ ওর ভালোর জন্য পৃথিবী থেকে নিয়ে গেছে।

আজকে তোর মৃত্যু বার্ষিকী। আম্মা আবার অনেকদিন পরে বিছানা থেকে উঠলো। তোর্ জন্য গরীব ফকির খাওয়াবে বলে নিজের হাতে রান্না করলো নিষেধ করা স্বত্বেও। কাঁদতে কাঁদতে আবার অসুস্থ হলো। আম্মাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। তুই উপর থেকে দোয়া করিস ভাইয়া।

মাকে দেখে আসি।তোকে আবার লিখব পরে।

তোর্ জন্য অনেক আদর ভালবাসা।

৮৪৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    এই সকাল বেলা মনটা ভিজিয়ে দিলেন আপু ! সত্যি কাহিনী কি? মহান আল্লহ তায়ালার কাছে দোয়া করি —————— ।। আমীন –আমীন —।।

  2. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    সত্যি ঘটনা। আমার ছোটভাই অল্প বয়সে মারা যায়। ধন্যবাদ জসিম ভাই কমেন্টসের জন্য। ভাল থাকবেন কেমন।

  3. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    বুকের গহীনে দীর্ঘ দিনের জমে থাকা ব্যথার বাষ্প এক নিঃশ্বাসে বেড়িয়ে এলো। খুবই বেদনাবিধুর। আমাদের সম্পর্ক গুলো এমনই। না চাইলেও ছিন্ন হয়ে যায় অদৃশ্য শক্তির টানে।

  4. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    কঠিন বেদনা। আল্লাহ্ তাকে ভাল রাখুন এবং আপনাদেরকে কঠিন এই শোক সইবার তৌফিক দিন।

  5. শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

    ছোট ভাইটির জন্যে দোয়া রইলো… আত্মার শান্তি কামনা করছি |

  6. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Mon ta bharakranto hoye gelo

    bhalo laglo

  7. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    সত্যি কঠিণ বেদনা
    বেশ ভাল লিখা
    ভাল ভাবনার প্রকাশ

    শুভ কামনা থাকলো
    শুভ রাত্রি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top