Today 16 Dec 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভারতীয় সিরিয়াল গ্রাস করেছে বাংলাদেশের নারী সমাজ ( পর্ব -১)

লিখেছেন: দ্বীপ সরকার | তারিখ: ২০/১১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1269বার পড়া হয়েছে।

ভারতীয় বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এবং বিভিন্ন সিরিজ বাংলাদেশের নারী সমাজের মাথামুন্ড নষ্ট করে দিয়েছে।
চাই পাড়া গাওঁ অথবা শহরের নারী।
আমার এলাকার এবং গ্রামের নারীদের তো আমি তাই দেখি। যত দুর জানি ও বুঝি গোটা দেশের মহিলাদের রুচি ইদানিং এক সুতোয় মিলেছে। তারা দিনের বারো ঘন্টার মধ্যে সাত আট  ঘন্টা ভারতের টিভি ও সিরিজ দেখে এবং তাতেই ওরা স্বাচ্ছন্দ বোধ করে।
আমার গড়পরতা অনুমান এদেশের ৮০% থেকে ৮৫% মহিলা ভারতীয় স্যাটেলাইট দেখে এবং দিন রাত তারা বিভিন্ন সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটায়।
মহিলাগন কাজের ফাঁকে সামান্য ফুরসুত পেলেই রিমোট নিয়ে বসে। স্টারজলসা,জিবাংলা,ইটিভি বাংলা,জলসামুভিজ,সনিআট,সঙ্গিত বাংলা। এই সব চ্যানেলের কোন না কোনটাতে চোখ লাগিয়ে ধ্যান মনে উপভোগ করে স্বপ্নের সিরিজগুলো।
এমনি কি গ্রামের আট দশজন মহিলারা যখন কোন জায়গায় একত্রিত হয় সেখানেও ওইসব সিরিজের দৈনন্দিন আপডেট খবর আলোচিত হয়। কারটা কেমন লাগলো তা নিয়ে হাসাহাসি, মাতামাতি চলে বেশ। জাস্ট কম্পিটিশনের মত তারা বিভিন্ন ঘটনা স্মৃতিস্থিত করে রাখে। এমন কথাও মেয়েদের মুখে শোনা যায় তারা নাকি রাতে স্বপ্নেও ওই সব অনুষ্ঠানের পুনরাবৃত্তি দেখে থাকে। সব চেয়ে পরিচিত এবং জনপ্রিয় যে সমস্ত টিভি ও সিরিজ দেখে থাকেন তা হলো স্টারজলসা,য় বোঝেনা সে বোঝেনা সিরিজে অরণ্য ঘোষ আর পাখির মধ্যে প্রেমের দোলাচলে পাওয়া না পাওয়ার হতাশা। উথালি পাথালি প্রেম।  কিরন মালা সিরিজে কটকটি রাণীর যাদুর কেরামতি। আঁচল সিরিজে টুসু ও কুষ এর বিরহ বিচ্ছেদের টানাপোড়েন।
জিবাংলা,য রাশি সিরিজে উজ্জল আর রাশির বিচ্ছেদ, মান অভিমানের খুনসুটি। দর্শক মহোদয়গন সারাক্ষনই এই চ্যানেল গুলোই ঘুরে ফিরে দেখেন।
একটা পর্ব শেষ হলে অন্য পর্বের জন্য অপেক্ষা করে থাকে চাতকের মত। মাঝে মধ্যে কি সব আনন্দ পায় বলে অনুমান করা যায়। হাত নাড়িয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে ইশারায় আনন্দ প্রকাশ করে। মধ্যে মিশেলে উঠে আবার টিভির নিকটে গিয়ে পারলে তো টিভির ভেতরে ঢুকে নিজেকে মিশিয়ে দেয়।  কি সব আনন্দ ও উৎফুল্লতা ওদের চোখে মুখে হাসিতে। স্বামী কখন অফিসে যাবে, কি তার প্রয়োজন। এই খেয়ালের চেয়ে সিরিয়ালের দিকে মনযোগটা অনেক বেশি। হঠাৎ যদি কোন পর্ব মিস হয়ে যায় ফের। মনে হয় বড় জবাবদিহিতায় পড়ে যাবে।

কাজ শেষে সন্ধ্যায় ঘরে ফির দরোজায় পা দিতেই  কানে ভেসে আসে হিন্দুদের উলু ধ্বনি। পুজো অথবা কোন শ্রাদ্ধের উলু ধ্বনি। আবার সকালে অফিস বা অন্য কর্মে যাবার সময়ও বেশ একই অবস্থা। তার মানে আমাদের মুসলমানদের ঘর দোরেও প্রতিদিন প্রতি মহুর্তে হিন্দুদের ধর্মীয় কালচারে মুখরিত হয়ে থাকে। আমাদের ইসলামিক শরীয়ত মতে হিসাব করলে ঘরে ফেরেস্তা থাকবার যৌক্তিকতা কতটুকু সেটাই প্রশ্ন । সকাল থেকে রাতে ঘুমে যাবার পূর্ব পর্যন্ত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কপালে তিলক,সিঁদুর, ধূতী ইত্যাদি দেখেই শেষ হয় দিনের।
আমাদের দেশীয় নাটক বা সিরিজ থেকে ভারতীয় সিরিজে একটা আলাদা বিষয় পরিলক্ষিত হয়।
আর তা হলো অধিকাংশ সিরিজে বিয়ের পরেও পরকিয়া প্রেম। ঘরে স্ত্রী উপস্থিত থাকার পরেও অন্যের আসক্তি এবং প্রেমে মাতামাতি দেখা যায়। যা আমাদের এই অঞ্চলের বাঙ্গালী নারীদের জন্য মন্দের দিক বটে। ইতিমধ্যে এর ক্রিয়া আমাদের নারীদের মধ্যে নতুন ধারার সুত্রপাত ঘটছে দৈনন্দিন। বেপরোয়া হয়ে উঠছে আমাদের এখানকার নারী সমাজ। অতি স্টাইলিস ভাবে নিজেদের গড়িয়ে তুলছে। স্বামীকে স্ত্রী মানছেনা। স্কুল  কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা না  তোয়াক্কা করছে বাবার শাসনের। না তোয়াক্কা করছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় নিজেদের জীবনের। কারন তাদের কচি মনে যা ধরে নিচ্ছে সেটাই শিখছে।
সেটার দিকেই মন ছুটছে । অল্প বয়সে উদাস হয়ে পড়ছে। প্রেম ভালোবাসার জন্য পাগলু হয়ে পড়ছে কচি মন। আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের পিছনে এইসব চ্যানেলের কুপ্রভাব রয়েছে। নারীদের অবক্ষয় ঘটছে একই কারনে।
এটা অধুনাকালের সকল কবি সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজিবীগন মানছেন যে ভারতীয় কিছু টিভিগুলো আমাদের জন্য অকল্যানকর। এটা আমাদের জন্য অতিব ভয়নক দিক বটে।

১,০৮২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
জন্মঃ প্রকৃত নাম সরকার শহিদুর রহমান। ছদ্ম নাম দ্বীপ সরকার। জন্ম ১৯৮১ইং, ১লা মার্চ। মুসলিম পরিবারে। বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন গয়নাকুড়ি গ্রামে। পিতা,মৃত হাবিবুর রহমান। দশ/বারো বৎসরে পিতাকে হারাই।  মাতা মোছাঃ আছিয়া বেওয়া। চার ভাই। পাঁচ বোন। ভাইদের মধ্যে ৩য়। শিক্ষাঃ গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শিক্ষায় হাতে খড়ি। তারপর ওখান থেকে একই এলাকার দাড়িগাছা দারুসসালাম দাখিল মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়া হয় । এখানেই শিক্ষার মুল ধারা শুরু।  ৪র্থ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বরাবরই ক্লাস ফার্স্ট এবং গোটা স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নাম্বার অর্জন করি। দিন রাত সমান করে পড়ার টান ছিলো। পড়া থেকে উঠিনি কোন সময়।স্কুল থেকে এসেই বই হাতে।শতবার ডেকে ডেকে ভাত খাওয়ানো। সেজন্য অনেকের বকা খেয়েছি। মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত একটানা রাত জেগে পড়েছি। এরকম কত রাত কাটিয়েছি বইয়ের ওপরে  তার গননা করা মুশকিল। তকে খেলাধুলার প্রতি কোন আকর্ষন ছিলোনা এখনো নেই। স্কুলের সকল ছাত্র ছাত্রী,শিক্ষক,এলাকার সকলেই মেধাবি ছাত্র ভাবতো, এবং সম্মান করতো। একবার ৯৯% ভোট পেয়ে এজিএস নির্বাচিত  হয়েছিলাম। এদিকে গান গজল হামদ নাত গাইতাম, কবিতা লিখতাম বলে সকলে শিল্পী এবং কবি বলে ডাকতো। গান গেয়ে মন জয় করতাম সকলের । বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে দিয়ে গান,হামদ নাত গেয়ে নিতো স্যারেরা। ৬ষ্ট/ ৭ম শ্রেণী থেকে কবিতা, গান, গজল রচনা করে অনুষ্ঠানে বলতাম। এখান থেকেই ১৯৯৫ ইং সালে ১ম বিভাগে দাখিল ( মেট্রিক) পাশ করি। আশানুরুপ রেজাল্ট হয়নি বলে স্কুলের শিক্ষকগন মন ভিজাতে পারেনি। আরো বড় স্বপ্ন ছিলো তাদের। প্রতি বৎসরে আমাকে চারটি করে পুরস্কার দিতো। ক্লাসের প্রথম,সমগ্র স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর, গান গাওয়া, রেগুলার স্কুলের জন্য। এর পর নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৯৮৭ইং সালে জেনারেল সেকশনে ৩য় বিভাগে এইচ এস সি পাশ করি। কিন্ত কাঙ্খিত ফলাফল না হওয়ায় চলমান স্বপ্নের ছন্দপতন ঘটলো। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে গেলো। তারপর সংসারে কিছুটা অর্থের দ্বৈন্যতা দেখা দিলো সংসারের ঝামেলা মাথা নিয়ে গাইবান্ধা জেলার কামদিয়া নুরুল হক ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হই এবং ১৯৯৯ইং সালে এখান থেকে ২য় বিভাগে গ্রাজুয়েশন সম্পুন্ন করি। এর পর আর পড়াশোনার দিকে যেতে পারিনি। অদম্য সাহস এবং মেধা থাকার পরেও অর্থ দ্বৈন্যতা আর সামনের দিকে এগুতে দেয়নি। তার পর ২০০১ ইং সালে একই গ্রামের তহমিনা খাতুনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই । বর্তমানে এক মেয়ে এক ছেলে। মেয়ে,শান্তা মারিয়া শানু এবং ছেলে, মেশকাত। সাহিত্যে আগমনঃ ছোটবেলা থেকে একটু একটু করে লিখলেও তা বড়সড়ো করে রুপ নেয় বগুড়া লেখক চক্রের সাথে যোগ দিয়ে। মুলত এখানেই অনেকের সঙ্গে পরিচয় ঘটে এবং স্থানীয় পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লেখা বের হতে থাকে। এসময় " কুয়াশা" নামে এক লিটিল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছিলাম। কবিতার ফোল্ডারও বের করেছিলাম দুটি। এর পর ধীরে ধীরে ব্লগ ফেসবুক,অনলাইন অনেক সাইটে পদচারনা। অভিজ্ঞতাঃ গ্রাজুয়েশন শেষ করে ২০০৫ ইং সালে একটি বেসরকারী সংস্থায় মনিটরিং এবং অডিট অফিসার পদে চাকুরিতে যোগদান করি। এখানে প্রায় আট বৎসর চাকুরি করার পর শারিরিক অসুস্থতার কারনে আর চাকুরিতে যেতে পারিনি। এই দীর্ঘ আট বৎসর চাকুরির চাপে সাহিত্য থেকে দুরে ছিলাম। কিন্ত সয়নে স্বপনে জাগরনে তিলে তিলে কবিতাকে ভালবেসেছি এবং মাথা থেকে তাড়িয়ে দিতে পারিনি একেবারে। প্রকট ইচ্ছা শক্তি আমাকে দীর্ঘ আট বৎসর পর হলেও কবিতার কাছে নিয়ে এসেছে। চাকুরির সুবাদে দেশের প্রায় ৬০টি জেলাসহ অনেক থানা,গ্রাম,ঐতিহাসিক স্থান,পর্যটন এলাকা ভ্রমন করার সুযোগ হয়েছে।
সর্বমোট পোস্ট: ১৪৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৭১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৯-৩০ ১৫:১৩:৩৮ মিনিটে
Visit দ্বীপ সরকার Website.
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    আমাদের দেশীয় নাটক বা সিরিজ থেকে ভারতীয় সিরিজে একটা আলাদা বিষয় পরিলক্ষিত হয়।
    আর তা হলো অধিকাংশ সিরিজে বিয়ের পরেও পরকিয়া প্রেম।

    পরকিয়া প্রেমের কারণে সভ্য সমাজের সুন্দর বন্ধন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়।

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    হয়তো তাই ।
    কিছু করার নেই

  3. দ্বীপ সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    দুজনকেই ধন্যবাদ

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    খালি মেয়েদের দোষ দিয়েন না। আপনারাও দেখেন আর দোষ দেন আমাদের। যা বললেন পোস্টে। নাটক না দেখলে এতসব ঘটনা জানলেন কেমনে হুম
    =D B-) B|

  5. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    বক্তব্য সঠিক নয়
    আরো ভাবনা দরকার

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top