Today 21 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভালোবাসা…!!!

লিখেছেন: সেতারা ইয়াসমিন হ্যাপি | তারিখ: ০৬/০৪/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 888বার পড়া হয়েছে।

সৃষ্টি লগ্ন থেকেই যার উৎপত্তি,

স্রষ্টাও ভালোবেসে সৃষ্টি করলেন

তাঁর সেরা সৃষ্টি,

“আশরাফুল মাখলুকাত”

নামকরণ করে দিলেন

মর্যাদার চূড়ান্ত আসন।

শুনেছি স্রষ্টার ১৮০০০ সৃষ্টির

মধ্যে মানুষই একমাত্র সৃষ্টি

যারা এত বেশী মর্যাদার অধিকারী।।

 

 

মানুষ সৃষ্টি করে বিভক্ত করলেন

নারী আর পুরুষে,

পুরুষের বাম পাঁজরের একটি হাড়

থেকে সৃষ্টি করলেন নারীকে,

কারণ পুরুষের সংগী হিসাবে,

সেবিকা হিসাবে, বন্ধু হিসাবে,

সর্বপরি অর্ধাংগিনী হিসাবে,

অর্থাৎ, নারী আর পুরুষ একে

অপরের উপর নির্ভরশীল,

একজন ছাড়া অন্যজন পরিপুর্ণ নয়।।

 

 

সেই পরিপুর্ণ জীবনের জন্য

তিনি দিয়েছেন পূর্নাংগ জীবন বিধান,

বেঁধে দিয়েছেন কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন,

যা মেনে চললেই কেবল শান্তি আসে

মনে, শান্তি আসে সমাজ সংসারে।

আর যখনি যারা এর বাইরে গেছে,

বিচ্ছিন্ন হয়েছে সরল পথ থেকে,

খুব কাছ থেকে আমি তাঁদের যন্ত্রনা

কাতর জীবন যাপন দেখেছি,

আর আঁতকে উঠে ক্ষমা ভিক্ষা চেয়েছি

প্রভুর কাছে, আমি যেন সরল পথের পথিক

হতে পারি এই আকুতি করে ।।

 

 

আজকের এই ডিজিটাল যুগে

ভালোবাসার সংজ্ঞাটাই আলাদা,

কি অবাদে মেলামেশা করে

আজকালকার নারীপুরুষ,

খুব বেশি আধুনিক তাঁরা,

পোশাক-আশাক, কথা- বার্তায়,

এমনকি চালচলনে,

দেখতে ভালই লাগে।

বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা

এগিয়ে চলি, আর তাই বিশ্ব যেভাবে

চলে আমাদেরকেও তো সেভাবেই

চলতে হবে, আমরা তো আর

পিছিয়ে থাকতে পারিনা।।

 

 

আর আজ বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে

চলতে গিয়ে আমরা কি সত্যি

সত্যি এগিয়ে চলেছি?

নাকি পিছিয়ে পরছি?

সততা, শুদ্ধতা, পবিত্রতা থেকে?

আজ চারপাশে কেন এত অবিশ্বাস?

কেন এত মারামারি, কাটাকাটি,

খুন-খারাবি আর রাহাজানি?

ডিজিটাল এ যুগে এসেও কেন

রুমানার মত সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ এর

একজন শিক্ষিকা কে দৃষ্টিহীন হতে হয়?

তাহলে আমরা কি আধুনিক হয়ে

ভালোবাসা নামক শব্দটা কে হারিয়ে ফেলছি?

নাকি সেটা কনভার্ট হচ্ছে অন্য কোন রূপে?

কামনা আর বাসনার ধুম্রজালে মিশে

কুয়াশা নয়তো ধুয়াশা রূপে?

 

 

তবে এটা ঠিক যে ডিজিটাল যুগের

ভালবাসার রূপ এখন ভিন্ন,

খুব অস্থির এখনকার জেনারেশন।

সবকিছুতেই তাঁদের খুব তাড়াহুড়ো,

ভালবাসার মাধ্যম খুব সহজলভ্য এখন,

মোবাইল, নেট, চ্যাট আরো কত কি…!

প্রথম দিন ক্রস কানেকশন,

দ্বিতীয়দিন আপনার ভয়েসটা খুব সুন্দর

বলে শুরু, তৃতীয়দিন থেকে রাত জেগে কথা

বলা তাঁরপর চতুর্থদিন ডেটিং…!

এভাবে দু-এক সপ্তাহ ঘুরা-ফিরা,

অবাদে মেলামেশা, তারপর মতের

একটু অমিল হলেই ব্রেক-আপ।

হা হা হা হা হা…।

কি হাস্যকর রূপ ভালোবাসার…!!!

 

 

আমার এই ব্রেক-আপ কথাটা

শুনলেই এত বেশি হাসি পায়

কেন জানিনা, আবার মায়াও হয়

ভালবাসার এমন করুন রূপ দেখে,

আর সবচেয়ে কষ্ট হয় যখন দেখি

তাঁরা অন্তরটাকে ছোঁয়ার চাইতে

শরীরের ছোঁয়াটাকে প্রাধান্য দেয় !!

এ জন্য দায়ী কে?

আমি মনে করি আমরা নিজেরাই দায়ী,

দায়ী আমাদের পারিবারিক শিক্ষা,

দায়ী আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা,

সাথে সামাজিক দায়িত্বহীনতা।

তাই এর দায়ভার এড়িয়ে গেলে চলবেনা,

সবাইকেই তার ভাগ নিতে হবে।।

 

ভালোবাসা স্বর্গীয়, ভালোবাসা বিশাল,

ভালোবাসা পবিত্র, ভালোবাসা অমৃত।

শুদ্ধ ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হোক সবার

জীবন, আর দূরে থাকুক অশ্লীল আর

অশালীন সবকিছু যা ভালোবাসা নামক

পবিত্র সত্তাকে কলুষিত করে ।

আমরা যেন সেই ভালোবাসার খোঁজ পাই,

যা জীবনকে সরলপথ দেখায়,

আর সেই জীবনে নেমে আসে স্বর্গের সুখ ।।

  

(সেতারা সিরাজ…২৬.০৬.২০১১)

৮৮০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ... নিজেকে মানুষ ভাবতেই বেশি ভাল লাগে। আমার Academic Background: M.Sc. in Botany, MBA করেছি Bank Management -এর উপর, তারপরে PGDHRM Complete করলাম BIM (Bangladesh Institute of Management) থেকে....। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। বর্তমানে সেনা কল্যাণ সংস্থা-তে আছি...রিসার্স অফিসার হিসাবে... আমি লেখক নই...তবে লেখা আমার রক্তে মিশে আছে কারণ বাবা ছিলেন সাংবাদিক...ছোটবেলা থেকেই লিখার চেষ্টা করতাম...বাবার পত্রিকায় তা প্রকাশও হতো যদিও কোনটাই বাবার মন মত হতোনা তবুও আমাকে উৎসাহ দেয়ার জন্যই হয়ত ছাপতেন সেসব লিখা...যার কোনটাই আমি সংরক্ষন করে রাখতে পারিনি...হয়ত গুরুত্বই বুঝিনি তখন...আজ বাবা নেই পৃথিবীতে...আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম লেখা কিন্তু পরক্ষনেই মনে হলো আমাকে লেখাটা ধরে রাখতেই হবে অন্ততঃ বাবার জন্য। তাই মাঝে মাঝে হাবিজাবি লেখার চেষ্টা করি। খুব সাধারণ জীবন-যাপন করতে ভালোবাসি...বাবা বলতেন কারো উপকার করতে না পারলেও কারো ক্ষতির চিন্তা যেন মাথায়ও না আনি...সেটা মেনে চলার চেষ্টা করি। সুখী হওয়ার চেষ্টা করি, অল্পতে খুশি থাকার চেষ্টা করি আর সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে বেড়াই তাঁর সৃষ্টির মাঝে। নিজের অবস্থান থেকেই চেষ্টা করি আশেপাশে সুবিধাবঞ্চিত-মানুষদের জন্য কিছু করতে। মানুষকে মানুষ ভাবতেই বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করি আর মনে প্রাণে বিশ্বাস করি মানব ধর্মই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ধর্ম।
সর্বমোট পোস্ট: ৪৪ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-১২-০৩ ১০:০৫:০৯ মিনিটে
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আপু সত্য কথাগুলো অকপটে বলে দিলেন। ইসলাম হতে আমাদের বিচ্যুতি ঘটছে দিনকে দিন

    চুপ করে দেখা ছাড়া আর করার কিছু নাই।

    লেখা ভাল লাগল আপু

  2. সেতারা ইয়াসমিন হ্যাপি মন্তব্যে বলেছেন:

    আসলে এক্ষেত্রে পারিবারিক সঠিক শিক্ষার বিকল্প নেই আপু… সেদিন একটা আর্টিক্যাল পড়ে চমকে উঠলাম যে ঢাকাতে নাকি আশংকা জনক ভাবে বেড়ে চলছে “লিভটুগেদার” ভিতরটা মোচর দিয়ে উঠল আপু… কোথায় যাচ্ছি আমরা…?

  3. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    অসাধারণ ভাবনার প্রয়াস
    অসাধারণ কাব্যতার প্রকাশ
    খুবই ভালো

  4. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর ভাবনার মালা গেঁথেছেন তবে আর একটু কাব্যিক হলে ভাল লাগতো।
    বানান ঠিক করে নিন কবি: সংগা>সংজ্ঞা…
    ধন্যবাদ।

  5. সেতারা ইয়াসমিন হ্যাপি মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ বুলবুল’দা… আসলে অভ্র-তে লিখতে গেলে মাঝে মাঝে একটু ঝামেলা হয়। আর এ ভুলটা অনিচ্ছাকৃত…! ধন্যবাদ ধরিয়ে দেয়ার জন্য…!

  6. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাবনা দারুণ চমৎকার এবং আদর্শিক
    শুভেচ্ছা রইলো কবি।

  7. সুমন সাহা মন্তব্যে বলেছেন:

    //এ জন্য দায়ী কে?

    আমি মনে করি আমরা নিজেরাই দায়ী,

    দায়ী আমাদের পারিবারিক শিক্ষা,

    দায়ী আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা,

    সাথে সামাজিক দায়িত্বহীনতা।

    তাই এর দায়ভার এড়িয়ে গেলে চলবেনা,

    সবাইকেই তার ভাগ নিতে হবে।।//

    সত্যিই এড়িয়ে গেলে চলবেনা। ভালো লাগলো আপি। শুভেচ্ছা।

  8. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    সত্যিই অনেক সত্যি কথা সহজ-সরল ভাষায় বলে গেলেন আপন মহিমায় !
    চমৎকার লেগেছে আপু । ভাল থাকুন নিরন্তর …

  9. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর ভাবনার মালা গেঁথেছেন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top