Today 21 Jul 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভাসা ভাসা ভালোবাসা

লিখেছেন: মুহাম্মদ দিদারুল আলম | তারিখ: ১২/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 346বার পড়া হয়েছে।

উনি আবার প্রেমের খাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। হ্যাঁ, ইহা তাহার ২৪ তম প্রেম। নিজের বাবা-মা আর বন্ধুদের ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন প্রেমিকার হাত ধরে নিত্য নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। কখনো কখনো বন্ধুদের মিথ্যা বলে মানদাতার আমলের হোন্ডা নিয়ে ডেটিংয়ে যান।
তিনি গুটি গুটি পায়ে প্রেমের কোয়াটার সেঞ্চুরীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার সেঞ্চুরী করার খুব শখ। আশা করি তিনি পারবেনও। তার যে দক্ষতা, তিনি যেভাবে কাভার ড্রাইভ করতে পারেন। কখনো কখনো বলিংয়েও তিনি সিদ্ধ হস্ত। তার বল ধরার কৌশলও যে কেউ মুগ্ধ হবেন। পারফরমেন্স দেখে যে কেউ বলতে পারবেন যে তিনি সেঞ্চুরী পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারবেন।
তার প্রেমের শুরু হয়েছিল সেই হাইস্কুলের প্রথম দিক থেকে। আজ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। সুদীর্ঘ প্রেমের খেলায় পাকা খেলোয়াড় হয়ে ওঠেছেন। শুরুতে সে তার ক্লাসের রুকাইয়ার প্রেমে পড়ে। সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে টেরা চোখে রুকাইয়াকে দেখতো।তার এই হ্যাংলামি রুকাইয়া বুঝতো না। কিন্তু সে ছিল রুকাইয়ার প্রতি দিওয়ানা। সে যখন বুঝাতে গভীরভাবে চেষ্টা করছে তখন রুকাইয়ার হাতটা সুনিপুণভাবে অন্যজন কেচ করে ফেললো।প্রথম প্রেমে কেচ আউট হলো। তারপরও তার ভালোবাসার গভীরতা ছিল।
হাল ছাড়েনি। গভীর অনুশীলনে মগ্ন ছিল। হাল দরে রাখলো সে কিন্তু রুকাইয়াকে নিয়ে গেল অন্যজন। রুকাইয়াকে হারানোর শোকের ঘা শুকাতে না শুকাতে চোখ ঘুরিয়ে প্রেমের ব্যাটিং লাইনের পরিবর্তন করলেন। আলতো ভাবে প্রেমের বলকে ওঠিয়ে ওঠিয়ে মারার চেষ্টা করেন ঝুমাদের বাড়ির দিকে। নজর এবার ঝুমার দিকে। ঝুমা তার এক ক্লাস নিচের ছাত্রী। প্রতিদিন বিকেল বেলায় ঝুমার ব্যালকোনির সামনে তার প্রেমের প্র্যাকটিস চলতে লাগলো। ঝুমাও তা বুঝতে পারলো। দারুণ উৎসাহ দেয়া শুরু। সুন্দর হাতে চুঁড়ির রিনিঝিনি শব্দ করে করে তার দেয়া লাল গোলাপ গুলো ঝুমা ব্যালকোনি থেকে কেচ করে। কিন্তু না এখানে খেলায় নামার কিছুদিন পরে ঝুমার বাবার সুনিপুণ ফিল্ডিংয়ে তিনি আউট হয়ে গেলেন। দ্বিতীয়বারের মতো ব্যর্থ প্রেমে। এভাবে আস্তে আস্তে তিনি প্রেমের বারটি ওভার শেষ করলেন। তবে সুখ এবং দুঃখের বিষয় তাহার প্রেমের একটিও এক বছর পার করতে পারেনা। একটি প্রেমে মাত্র ৩৬২ দিন পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েছিল। ৩৬৩ দিনের মাথায় মোনা দেখে পেলে সে যে সিমন্তি রায়ের সাথে হাতে হাত রেখে সিমন্তিকে জড়িয়ে ধরে পার্কে ঝোঁপের আড়ালে যখন  সিমন্তির ঠোঁটের কাছে নিজের ঠোঁটটা নিবেন ঠিক তখন সামনে এসে মোনা হাজির। দুঃখের বিষয় হলো মিষ্টারের কাছ থেকে মোনা একই দিনে,একই স্থানে, একই সময়ে ডেটিংয়ের সময়টা ঠিক  করে নিয়েছিল,ওই দিকে সিমন্তিও সাথে প্রেমের নতুন ইনিংস খেলবে বলে তাকেও ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময় দিয়েছিলো মিষ্টার। মাথায় ছিলো না পূর্ববতী রের্কডের কথা। সেদিন ঘটনা অঘনে দু’টো প্রেমেই ভেঙ্গে গেলো। একটি শুরু হতে যাওয়া অপরটির বয়স এক বছর ছুঁই ছুঁই অবস্থায়।
এবার উনি দু’এক সপ্তাহ ষ্টপ থেকে আবার হাত বাড়ালেন প্রেমের দিকে। এবার প্রেমের বোলিংয়ে স্লো, মিডিয়াম কিংবা স্পিনিং থেকে ফাষ্ট বল ছুটতে শুরু করলেন। একসাথে কয়েকটা প্রেমের শুরু করলেন। ডেটিংয়ে পাক্কা খেলোয়াড় হয়ে ওঠলেন।
প্রিয় দর্শক থুক্কু পাঠক এবার মনে হয় ওই ব্যক্তিটির পরিচয় দেয়া উচিৎ। হ্যাঁ,তিনি হলেন টিটু হাসান। তিনি সত্যিই হাসান। আমাদের সমাজেরই একজন। পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। একজন ভালো ছাত্র, সুদর্শন, স্মার্ট, সুঠাম দেহের অধিকারী। কথা বলার ভঙ্গিতে পাক্কা। পড়ালেখা এখন তার অবশনাল হয়ে গেছে,ছাত্রী পড়ানো আর প্রেমের খেলা তার বাধ্যতামূলক পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।প্রতিবারেই সব প্রেমিকাকে তিনি বলেন-‘তুমিই আমার শেষ ভালোবাসা। তোমাকে না পেলে আমি মরে যাবো, আর কাউকে চাইনা’ এগুলো তার কমন ডায়ালগ।
আমাদের টিটু সাহেব এবার প্রেমের ফুল ফুটাচ্ছেন তার এক ছাত্রীর বাগানে। নন মেট্রিক এই ছাত্রীকে তিনি শিখাচ্ছেন পড়ালেখার পাশাপাশি প্রেমের নিত্য নতুন ডায়ালগ। দেখাচ্ছেন নতুন নতুন প্রেমের কৌশল। ছাত্রী জানেন না যে এটা তার প্রেমিক বা স্যারের কত নম্বর প্রেম। এ প্রেমের আগেরটা টিটু সাহেবের জীবন মরণ ছিলো। তার পরিবারের সবাই জানতো তার প্রেমে কথা। তারা জানতো না ওই প্রেম তার তালিকায় কততম স্থানে ছিলো। টিটুর পরিবারের সম্মতি ছিলো। কিন্তু বিধিবাম- তার প্রেমিকা প্রেমিকের কথামতো বাড়ী থেকে বের হয়ে আসেনি। যদি আসতো সবাই সানন্দ্যে টুম্পাকে গ্রহন করতো। মহা সুখে আছে টুম্পা। অপর প্রান্তে টিটুও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন তার সাথে টুম্পা রান আউট হয়ে যাওয়ায়। টিটুর উক্তি ইস্-আরেকটু হলেই মনে হয় পায়ে শিকল পরা হয়ে গিয়েছিলো। মনে মনে তখন গাইতেন-‘এই শিকল ভাঙ্গবো কেমন করে’।
তবে টিটু সাহেবের প্রেমের বেটিং বা বোলিংয়ের প্লাস পয়েন্ট হলো তাকে তার প্রতিটা প্রেমের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন তার মা-বাবা। প্রত্যেকটা প্রেমের ব্যাপারে তার মা-বাবা এক বাক্যে রাজি। ছেলে ব্যর্থ হলে মা বাবার আপসোস-ইস্!
টিটু এবার বলে দিয়েছে সেঞ্চুরী তিনি করবেন। ছেলে ভালো মন্দ যাই করুক না কেন মা বাবা খুব সহজে হাততালি দিতে কৃপণতা করেণনা। দু’টোতে সমান উৎসাহ দিয়ে থাকেন। আর উৎসাহ দিবেননা কেন ছেলেতো প্রেমের বোলিং করার সময় দামী দামী খেলোয়াড় গুলোর দিকে প্রেমের বল ছুঁড়েন, মাঠে টিকতে পারুক আর না পারুক। আসলে দূর্বলতা ও লোভ সবার মাঝেই কাজ করে তবে ব্যক্তিভেদে শুধু ভিন্নতা প্রকাশ পায়।
প্রিয় পাঠক,আসুন আমরা সফলতা কামনা করি টিটু সাহেবের জন্য। ওনি যেন ওনার লক্ষ ভেদ করতে পারেন। ওনার মা-বাবা যেন সন্তানের সফলতায় গর্ববোধ করতে পারেন।

৪৪১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৮ ১১:৫৮:৪৮ মিনিটে
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. শাওন রশিদ মন্তব্যে বলেছেন:

    হা হা হা… আমার এক বন্ধু কিছুদিন আগে অর্ধ শতক করেছে। তার যে কি গর্ব!!! ৩৩ টাতে সে আউট হয়েছে আর ১৭ টায় সে আউট করেছে।

  2. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রেমের সেঞ্চুরি।ভাল লেগেছে আপনার রম্যরচনা।

  3. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    আহা আমি ও যদি অমন হতে পারতুম,
    এক বউয়ের দিন আর মাঠি হতো না ।

    ভাল লাগলো………….

  4. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    সংশোধন:

    আহা আমি ও যদি অমন হতে পারতুম,
    এক বউয়ের হাতে সোনার দিন গুলো মোর মাঠি হতো না ।

    ভাল লাগলো………….

  5. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    আহা এত চমত্কার করে যদি লিখতে পারতুম

    আমি যাই বঙ্গে
    কপাল যায় সঙ্গে
    শেষ বার এর জন্য
    একটা আশা ছিল মনে
    একটা নোবেল পুরস্কার

    হলো না বুঝি আর
    এত কম্পিটিসন

  6. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো।

  7. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার অমন ইচ্ছা নেই । মনের মত যদি একজন পাই তাতেই তুষ্ট থাকব ।

  8. খাদিজাতুল কোবরা লুবনা মন্তব্যে বলেছেন:

    সত্য কখার রস রচনা…

  9. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    রসে ভরা ভালবাসা ভাল লাগল

  10. আঃ হাকিম খান মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লেগেছে আপনার রম্যরচনা।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top