Today 12 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভুতের গলির সেই ভূত কি ফিরে এলো ?????

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ২৭/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 536বার পড়া হয়েছে।

পূর্ব প্রকাশের পর

মাসুম আর তার মা নীলিমা রহমান এখানকার যে বড় টেম্পল আছে আজকে সেখানে এসেছে বিজয়া দশমী তে আমন্ত্রণ পেয়ে । আজকে তার অন্য কাজ ছিল, না আসলে মা দুখ পাবে বলে আসা, তার বন্ধুদের সঙ্গে মুভি দেখার প্রোগ্রাম মনে হচ্ছে আজকে ক্যানসেল হয়ে গেল ।

কি ব্যাপার মাসুম কেমন আছ তুমি ? অজয় সরকার , অজয় আঙ্কেল মায়ের বন্ধু , কি নীলিমা মাসুম এত শুকিয়ে যাচ্ছে কেন? খাওয়া দাওয়া করেনা ঠিক মত বললেন হেসে অজয় আঙ্কেল  ।

আজকাল এর ছেলে সারাদিন বার্গার হাবিজাবি সব বাহিরের খাওয়ার খায় , ঘরে সবজি ভাত এসব তো খেতে চায়না, স্বাস্থ্য হবে কোত্থেকে ? বললেন হেসে নীলিমা, মাসুম এর মা

তোমরা এখন বস আর আজকের মেসেজ তা পর, আমি ও আজকে এই মেসেজ এর উপর টক্ দিব, কেন অর্জুন প্রথমে যুদ্দ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ,এইযে গীতা চ্যাপ্টার ২ …বই খুলে দেখিয়ে দিলেন মাসুমকে

মাসুম শুনছে অজয় আঙ্কেল পড়ছেন ইংলিশ ট্রান্সলেশন ফ্রম গীতাগবাদ গীতা চ্যাপ্টার ২ ভার ৪

Sridhara Swami’s Commentary

I am not withdrawing from battle out of cowardice but because it is improper to attack my superiors. This is what Arjuna meant by asking the Supreme Lord Krishna: How shall I fight against Bhishma and Drona? When it is wrong to even speak of fighting against them, how can I then even consider actually fighting them? This is the factual meaning of these words expressed by Arjuna.

তারা আরো কিছুক্ষণ সময় কাটাল, আজকে মাসুম এর সবাই কে বেশ ভালো লাগলো । এখানে সুজয় দা, অজয় আঙ্কেল এর ছেলে, সারা দে , মহুয়া অন্টি, সঞ্জীব দা, পার্থ দা, এরা প্রত্যেকে এত ভালো, সবার সাথে কিছুক্ষণ মা ছেলের চমত্কার সময় কাটল।

মাসুম শুনছে অজয় আঙ্কেল পড়ছেন

চাচার কথা শুনতে শুনতে মাসুম অন্যমনস্ক হয়ে চলে যায় অতীতে, তার স্কুল জীবনে

বছর পাচ আগে মাসুম ভাবতে পারতনা এভাবে মন্দির এ আসবে, গীতা র আলোচনা শুনবে, হিন্দু ধর্ম কে সে গজাখুরি রূপকথার গল্প মনে করত, তার হিন্দু বন্ধু দের সঙ্গে অনেক যুদ্দ হত যখন ধর্মের প্রসঙ্গ আসত ।

রঞ্জিত নাম তার এক বন্ধু আছে সে কপালে সাদা চন্দন এর তিলক একে আসত, তাকে নিয়ে মজা করা ছিল মাসুম এর নিত্যদিনের অভ্যাস ।

কিরে তোর্ কি কালকে হলুদ পান চিনি হয়েছে নাকি? তোকে তো অনেক মিষ্টি লাগছে একেবারে মেয়েদের মত, সালোয়ার কামিজ পড়লে তোকে অনেক সুন্দর লাগবেরে ।

একদিন রঞ্জিত রেগে গিয়ে প্রিসিপাল এর কাছে কমপ্লেইন করেছে মাসুম সবসময় তাকে তার ধর্ম নিয়ে টিজ করে ।

যথা সময়ে প্রিন্সিপাল তাদের দুজনকে ডেকে পাঠালেন তার রুম, দুজনের সব কিছু শুনে শেষে দুজনকে এই নির্দেশ দিলেন, কারো ধর্ম নিয়ে কোনো কটুক্তি করা চলবেনা এটা মাসুম এর প্রতি আদেশ আর রঞ্জিত কে বলা হলো প্রতিষ্ঠান এর ডেকোরাম অনুযায়ী ড্রেস পরতে,

রঞ্জিত একটু তর্ক করার চেষ্টা করলো , প্রিন্সিপাল এর সাথে ,

মিস অনেক মুসলিম মেয়েরা হিজাব পরে সেটা কি তাহলে বন্ধ হবে?

হিজাব তা তো ড্রেস এর অংশ, তুমি চাইলে অকেশনাল ডে তে ধুতি পাঞ্জাবি পরবে, কিন্তু মুখে কোনো পেইন্ট অনুমোদিত না, মেয়েরা ও কপাল এ কোনো পেইন্ট করবেনা ।

ok both  of  you  I  command  follow  the  school rules

এরপর থেকে রঞ্জিত দেখা হলে ও মাসুম এর সাথে কথা বলতনা, মাসুম অবশ্য পরে এরজন্য দুখ ফিল করেছে ,

অনেকবার চেষ্টা করেছে সরি বলার, আমি মজা করেছি রে বলার পর ও রঞ্জিত এর রাগ কমেনি,

আমি আমার ধর্ম নিয়ে বাজে কথা লাইক করিনা, তোমার ধর্ম যেমন তোমার কাছে প্রিয়, আমার তা তেমন আমার কাছে, আমি কি তোমাকে কখনো টিজ করি খুব

এখন মাঝে মাঝে যখন মায়ের সাথে মন্দির এ আসে আগে র সংকীর্ণ মনের জন্য অনুশোচনা হয়, আগে খুব অহংকার ভরে মুসলমান ধর্ম নিয়ে কথা বলা, আলোচনায় অংশ নেওয়া, তালিম এ যাওয়া এগুলি ছিল তার রুটিন ওয়ার্ক ।অন্য ধর্মের কারো সাথে কথা হলে তাকে তাচ্ছিল্য করা, এবং তার সাথে ইসলাম ধর্মের মহত্ব এবং এটা যে সার্বজনীন আর বিশ্ব মানবতার ধর্ম সেটা বুজানোর চেষ্টা করত, এখন আর আগের মত এগ্রেসিভ ভাবে ধর্ম নিয়ে কথা বলার চেয়ে ধর্ম নিয়ে সে স্টাডি করতে ভালবাসে । অন্য ধর্মের প্রিন্সিপাল গুলি ও সে পড়ে । স্টাডি করার পর তার মনের প্রসারতা অনেক বেড়ে গেছে সে এটা মনে করে , সে এনালাইসিস করে এটা বুজলো, সব ধর্মের বেসিক জিনিস, সব রিলিজিয়াস প্লেস এ ঢুকলে মনে শান্তি অনুভব হয়, একইভাবে প্রতি ধর্মগ্রন্থ আমাদের সুদ্দতার কথাই, ভালো পথে চলার কথা বলে, এক এক গ্রন্থ একেকভাবে মূল প্রিন্সিপাল সব হলি বুক এ একই । সব ধর্ম সৃষ্টিকর্তাকে ভালবাসার কথা বলে, যে কাজ সৃষ্টিকর্তা দৃষ্টিতে অপছন্দনীয় তা বর্জনীয় . দশ টা কমান্ডমেন্টস মুসলিম, হিন্দু, খ্রীষ্টান সবার একই রকম ।

মা বাবার বাধ্য থাক,

সত্য বল,

মিথ্যে বলনা

অপরের সম্পত্তি আত্মসাত করনা,

চুরি করা মহাপাপ …  হটাত চিন্তার সুত্র ছিন্ন হয়ে গেল মায়ের কথায়

কিরে তুই কি তোর বন্ধুদের সঙ্গে বাহিরে যেতে চাস,

হা যাব তোমাকে নামিয়ে দেই আগে

আমি তোমাদের দুইজনকে নামিয়ে দিব কোথায় যাবে মাসুম জিজ্ঞাসা করলেন অজয় আঙ্কেল

আঙ্কেল কে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে পাঞ্জাবি আর দুটিতে ভাবলো মাসুম , যদিও একসময় এই আঙ্কেল কে অনেক অপছন্দ করত, মনে করত বাবার জায়গা অন্যায় ভাবে দখল করেছে মনে করে , আজকে সে সহানুভূতির সাথে মায়ের একাকিত্ব ফীল করে, মায়ের জীবনে চাচা ই একজন বড় অবলম্বন , এজন্য সম্পর্কটাকে আর খারাপ চোখে দেখেনা । এখন যদি মা বিয়ে করতে চায় সে সাপোর্ট দিবে মাকে , কিন্তু মা মনে হচ্ছে বিয়ে করতে চায় না তার কথা মনে করে ।

তাহলে এখন যা রাত আট টার মধ্যে ই ফিরবি কিন্তু মা বললেন , চাচা নামিয়ে দিলেন জুয়েল এর বাসার সামনে , তাদের প্রোগ্রাম আজকে কড়াই চিকেন এ খেয়ে থিয়েটার দেখবে ।

জুয়েল এর বাসায় এসে দেখে জমজমাট আড্ডা, সবাই উপস্থিত সুধু আয়েশা এখনো আসেনি ।

আয়েশার যে কি হয়েছে ফোন ধরেনা, কখনো কল করেনা, ফোন কখনো রিসিভ করলে দায়সারা ভাবে জবাব দিয়ে রেখে দেয় ।

এরপর ও আয়েশার জন্য আরো হাফ এন আওয়ার অপেক্ষা করা হলো, তারপর ও সে না আসাতে আয়েশা কে ছাড়া ই তারা রওয়ানা হলো ।

মাসুম এর এখন আর যাওয়ার আগ্রহ রইলোনা, সে মন খারাপ করে জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে থাকলো ।

==========================================

মাসুম বাসায় এসে পৌছল রাত দশ টায়, যদিও সে আট টার মধ্যে ফিরতে চেয়েছিল, কিন্তু তার চেহারাতে বিষাদ এর ছাপ টা এত বেশি প্রকট দেখা যাচ্ছে এই চেহারা নিয়ে মায়ের মুখোমুখি হওয়া যাবেনা । ঘরে ঢুকে মাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে বারান্দায় এসে দেখল মা খুব অসহায় ভাবে রেলিং এ হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে ।

মাসুম এসে মায়ের পিছনে দাড়ালো, মা এতই উন্মনা হয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে টের ই পেলনা ।

কি  মা  এভাবে একা বারান্দায় দাড়িয়ে আছ, শরীর ঠিক আছে তো ? আবেগ ভরে মায়ের কাধ জড়িয়ে ধরল ।মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো এখন থেকে মাকে আরো বেশি সময় দিবে ।

নীলিমা চমকে উঠলো, বুঝা যাচ্ছে অন্যমনস্কতার অতলে অবস্থান করছিল

কি এত দেরী  হলো কেন ? তোর্ ফোন ও বন্ধ, আমার টেনশন হচ্ছিল ।

এই যে মা এজন্য দেরী হলো তোমার প্রিয় চাইনিস আনতে গিয়ে,

আজকে তো আমি অনেক কিছু রান্না করলাম , মা হেসে স্নেহভরে বললেন

ওকে তোমার রান্না আমি খাব, আর তুমি খাবে আমার আনা খাওয়ার বলে মাকে আন্তরিক ভাবে জড়িয়ে ধরল ।

মা তাড়াতাড়ি টেবিল সাজাও, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি , ভিশন খিদে পেয়েছে ।

মায়ের অন্যমনস্কতা কাটানোর জন্য অতিরিক্ত চঞ্চলতা আর উত্ফুল্লতার ভান করলো ।

টেবিল এ এসে খাওয়ার আয়োজন দেখে মাসুম হতবাক

তার যত পছন্দের খাওয়ার আছে সব দিয়ে টেবিল সাজানো

ইলিশ মাছ ভাজি , ইলিশ এর ডিম ভুনা, চিকেন ফ্রাই , বীফ ঝাল , কই মাছের ঝোল, চিংড়ি মাছের মালায় কারি, খাসির সাদা মাংশ, আরো হরেক রকমের ভাজি ভর্তা .

হা হয়ে গেছে মাসুম , ব্যাপার কি মা এসব আজকে রান্না করলে? আজকে কি কোনো অকেশন আছে ?

আজকে তোর্ বাবার জন্মদিন ভুলে গেলি ?

মাসুম এর মন টা খারাপ হয়ে গেল মায়ের মন খারাপ কেন এবার বুজতে পারল ,

খাওয়া বন্দ করে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলো , নীলিমার খেয়াল করতে বলল কিরে খেতে কি ভালো হয়নি? খাচ্ছিস না কেন?

মা তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই, তুমি যদি কিছু মনে না কর

তুমি কি কখনো বাবার কাছে ফিরে যাবে? নীলিমা মাথা নাড়ায়

তোমাদের যখন আর একসাথে থাকার কোনো সম্ভাবনা নাই  তখন বাবার কথা আস্তে আস্তে ভুলে যেতে চেষ্টা কর? কেন তুমি এখনো বাবার জন্মদিন মনে কর?

আমি মনে করেছি তুই খুশি হবি, নীলিমা বললেন নিচু গলায় ।

আমি খুশি হইনি মা , যেটা করলে তোমার মন ভালো হয়, সেটা করলে ই আমি খুশি হই বেশি ।

আমি খুশি হব তুমি যদি অজয় আঙ্কেল কে বিয়ে কর .

আমার ছেলেটা কি পাগল এর মত কথা বলে , এখন আমি  তোর্ বিয়ে দিব পাগলা ছেলে ।

বাইশ বছরে আমাকে বিয়ে দিতে চাও? এমনি খাইয়ে খাইয়ে এই বয়সে মধ্য বয়সী দের মত ভুড়ি করে দিয়েছ ।

যা ফাজিল তোর্ কোথায় ভুড়ি ? কত সুন্দর স্বাস্থ্য, ঠিক তোর্ বাবার মত  ।

বেশি স্বাস্থ্য, বডি বিল্ডার এর স্বাস্থ্য এখনকার মেয়েরা এত স্বাস্থ্য পছন্দ করেনা

মেয়েরা আমাকে পাত্তা দেয়না জানো মা  কৌতুকের স্বরে বললে ও শেষের দিকে গলার  স্বর ভারী হয়ে গেল আয়েশার কথা মনে পড়ায় , এই ব্যাপার টা পরিষ্কার আয়েশা এখন আর তাকে পছন্দ করেনা ।

অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠলো মাসুম, তার জীবনে প্রথম সে কিচেন আসলো, খুব দ্রুত ডিম ফেটে অমলেট বানালো, পাউরুটি টোস্ট করলো, রুটি বানানোর চেষ্টা করে শেষে হাল ছেড়ে দিল, রুটির শেপ এবড়ো থেবড়ো হয়ে গেল

রাতে মায়ের রান্না করা কিছু সবজি, চিকেন সহ টেবিল সাজালো । মাকে আজকে বিগ সারপ্রাইস দিবে   তাড়াতাড়ি তার দুই  বন্ধু সফিক, সাহান  কে ফোন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিল । একজনকে বলল কোনভাবে আয়েশা কে ম্যানেজ করে তার বাসায় নিয়ে আসতে ।

অজয় আঙ্কেল কে ফোন করলো ,

আঙ্কেল এর  টেনশন ফীল করে হেসে ফেলল, ওনার গলা কাপছে টেনশন এ

কি ব্যাপার মাসুম তোমরা ঠিক আছ  তো ?

আঙ্কেল আপনি আমার বাসায় একটু আসতে পারেন এক্ষনি বলে তাকে দ্বিতীয় কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন রেখে দিল ।

জানে বিশ মিন এর মধ্যে আঙ্কেল চলে আসবে, সে এদিক তাড়াতাড়ি গোছাতে সুরু করলো ,

কলিং বেল এর শব্দে দরজা খুলতে দেখল আয়েশা, সফিক, সাহান ,খুশি হয়ে দেখল আয়েশা কে

আয়েশা মনে হলো আয়নায় মুখ দেখার স্কোপ ও পায়নি, কোনরকমে হাত মুখ ধুয়ে রাতের কুচকানো ম্যাক্সি পরে চলে এসেছে, চোখে মুখে ঘুম আর বিরক্তির ছাপ

কি ব্যাপার তোমার বন্ধু বলল তুমি খুব অসুস্থ, এই বুজি তোমার অসুস্থতার নমুনা, রাগে তার মুখ লাল হয়ে আছে ।

অসুস্থ ই তো আমি তোমার বিহনে, এইযে গায়ে হাত দিয়ে দেখো অনেক জ্বর । বলে আয়েশার হাত নিয়ে তার বুকে রাখল ।

রাগে আয়েশার মাথায় আগুন ধরে গেল, তার বন্ধুরা ও হাসতে সুরু করলো , সে ধাক্কা দিয়ে মাসুম কে সরিয়ে দিল , তুমি যখন ভালো আছ তো আমি গেলাম,

আয়েশা কে সত্যি সত্যি চলে যেতে দেখে তাড়াতাড়ি এসে মাসুম পথ আটকালো

প্লিস আয়েশা আজকে শেষ দিন, আর কোনদিন তোমাকে বিরক্ত করবনা, আমার মায়ের জন্য তোমাকে ডেকেছি । সামনের রুম টাতে যাও, ওখানে কিছু কাপড় অরনামেন্টস আছে তুমি আমার মাকে সাজিয়ে তুমি চাইলে সাজতে পারো, আমরা সবাই মিলে রেজিস্ট্রি অফিস যাব, তারপর একটা রেস্তুরেন্ট এ খাওয়ার পর তোমাকে আমি নামিয়ে দিব, প্রমিস । আজকে আমার মায়ের বিয়ে .

মায়ের বিয়ে মানি এরকম বিদঘুটে কথা আয়েশা জীবনে প্রথম শুনলো এ পুরা পাগল মনে হচ্ছে , কখন এই পাগল এর হাত থেকে রেহাই পাবে আল্লাহ ই জানে

অজয় আঙ্কেল প্রায় দৌড়ে ঘরে ঢুকলো

ব্যাপার কি মাসুম, তিনি উদ্বেগের সাথে জিজ্ঞাসা করলেন

হট্রগোল এর শব্দ পেয়ে নীলিমা বের হয়ে আসল ভিতরের রুম থেকে ,সবাইকে দেখে খুব অবাক

জয় কি ব্যাপার ? তুমি ঠিক আছ তো ?

এটা তো আমি জিজ্ঞাসা করতে চাচ্ছি নিলি  তোমরা ঠিক আছ? মাসুম আমাকে ফোন করে ইমার্জেন্সি বলে আসতে বলল ।

মাসুম কেশে গলা পরিস্কার করে বলল আজকে জয় আর নিলি র বিয়ে আমাদের দাওয়াত বলে একটু হাসলো .

অজয় আঙ্কেল হা হয়ে তাকিয়ে থাকলো, নীলিমা র মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল, ছেলে র পিঠে জোরে থাপ্পর দিয়ে বলল ” পাজি ছেলে মায়ের সঙ্গে এরকম ফাজলামি করে কেউ

মা তোমার মা বাবা বেচে নেই, তোমার বিয়ের দায়িত্ব ছেলেকে নিতে হবে .

অজয় আঙ্কেল হা হা করে জোরে হাসতে সুরু করলো , মাসুম এর পিঠে চাপড় দিয়ে বলল

নিলি এরকম একটা ছেলে সত্যি তোমার নিজেকে লাকি মনে করা উচিত , তুমি দেখছ কোনো ছেলে মাকে এরকম বন্ধুর মত ফীল করতে l সো পিচফুল

ওকে মাসুম তুমি চাইলে আমরা অবশ্যই বিয়ে করব, এখন না তোমার বিয়ের পরে, বলল চাচা হেসে ।

আমার এখন বিয়ের বয়স হয়নি আর আপনাদের বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বলল মাসুম টিপ্পনির সুরে ।

চাচা আবার হা হা করে জোরে হেসে উঠলো ।

মাসুম কে ডেকে কানে কানে বলল শোনো আমার কোনো  আপত্তি নাই তোমার মা যদি রাজি থাকে .

যত সব পাগলদের কান্ড বলে নীলিমা ঘরের ভিতরে ঢুকে গেল , আয়েশার কোনো সন্দেহ নাই এ ব্যাপারে , তবে এইমাত্র আয়েশার চোখে নতুন একটা জিনিস ধরা পড়ল , মাসুম তার মাকে অনেক বেশি কেয়ার করে বুজা গেল , এই প্রথম মাসুম কে সুধু বেশি কথা বলা ফালতু ছেলে বলে উড়িয়ে দিতে পারলনা ।

এরপর প্রতি মুহূর্ত আবার নুতুন করে যেন আবার আয়েশার জীবনে প্রেমের প্লাবন এনে দিল, সে মনে করেছিল তার প্রেমে ভাটা পড়ে গেছে , আসলে প্রেম টা সুপ্ত অবস্থায় ছিল , যতবার ই মাসুম তার দিকে তাকিয়ে হাসলো সে আগের মত ফীল করলো যখন তারা পরস্পরকে ছাদ থেকে দেখত প্রেমের প্রথম দিকে ।

তার মনে এখন অনুশোচনা আসতে লাগলো মাসুমকে এতদিন অবহেলা করার জন্য । মাসুম এর হৃদয় এর পরিচয় পেয়ে তার ভিতর টা ভরে গেল, গাড়িতে যেতে যেতে সে দেখল মাসুম মায়ের হাত ধরে কাধে মাথা দিয়ে বসে আছে , এমনকি সে এখন আয়েশা র উপস্থিতি ভুলে গেছে মনে হচ্ছে । আয়েশা কি কোনদিন তার মাকে এত টা ভালোবেসেছে?

গাড়ি এসে থামল রেস্তুরেন্ট এর সামনে, সবাই একে একে গাড়ি থেকে নামল , আয়েশা নামতে গিয়ে একটু হেলে পড়তে নিলে মাসুম এসে শক্ত হাত দিয়ে ধরে ফেলল ।

আয়েশা লজ্জা পেয়ে মাসুম এর দিকে তাকিয়ে হাসলো, তার হাসি বলে দিল তার মন আবার মাসুম এ ঠাই করে নিয়েছে ।

মাসুম এর তাই মনে হলো, কৃতজ্ঞচিত্তে ভালবাসার চোখে আয়েশার দিকে তাকিয়ে থাকলো. পুরানো কষ্টের কথা আর তার মনে রইলো না ।

(পরবর্তীতে)

 

৫৮৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম। সাথে আছি। ভাল থাকুনি সবসময়।

  2. সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রেমবোধ আর জীবনবোধ কাছাকাছি জায়গায় । পরবর্তির অপেক্ষায় রইলাম ।

  3. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সাথেই আছি ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top