Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভুতের গলির সেই ভূত কি ফিরে এলো ?????

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১৪/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 569বার পড়া হয়েছে।

পূর্ব প্রকাশিতের পর

ঘর থেকে বের হতে গিয়ে একটা হোচট গেল দরজায় রাশেদ, মনটা ই খারাপ হয়ে গেল আজকে দিন টা মনে হয় কুফা
আল্লাহ আজকে ইন্টারভিউ টা যেন ভালো হয়. এই জব টা পাইয়ে দাও আল্লাহ

ঘর থেকে বের হয়ে আজকে মনের খুতখুতানি যাচ্ছেনা .সব ঠিকমত নিয়েছে তো , দেখি সব আবার চেক করি l

রেসুমে আছে ঠিক থাক ,পেন আছে ,

কি ভাইজান যাবেন? এক রিকশা ওয়ালা এসে ঘন্টি বাজাল.

সোনারগাঁও হাতিরপুল কত?
৫০ টাকা .পাগল নাকি ৫০ টাকা কেন?
ভাইজান হরতাল এর মধ্যে বাইর হইছি জানের ডোর লইয়া
কি একটা দেশে যে আছি কোনো নিয়ম কানুন ছাড়া যে ভাবে পারতেছে হাতিয়ে নিচ্ছে সব কিছু,l
পুরা দেশটা হয়ে গেছে করাপ্টেড .সবাইকে চাবুক পেটা করা উচিত l

এই দাড়াও ভাই ব্যাক কর, আমার আবার বাসায় যেতে হবে, আমার মনিবাগ বাসায় রেখে এসেছি

তাইলে ভাইজান আরো ১০ টাকা বেশি দিতে হবে

দূর ও মিয়া দিব তাড়াতাড়ি চল

মা কে ফোন করি

মা দেখো তো বিছানার উপরে ওয়ালেট টা ফেলে আসছি, বুয়া কে দিয়ে একটু পাঠাতে পারবে নিচে? আমি নিচে সিড়িতে আছি l

আমার চুলায় মাছ ভাজি করতেছি, তুই আসনা খোজ করে নিয়ে যা

আমার অফিস এর দেরী হয়ে যাচ্ছে আর তুমি আছ তোমার মাছ ভাজি নিয়ে.

দাড়া দুই মিনিট সময় দে হাত ধুয়ে নেই, ফোন ধরে রাখ

কোথায় পাচ্ছিনা তো কোথায় রাখছিস?

তোমার চোখের সামনে পড়ে থাকলে ও খুঁজে পাবেনা, তুমি চোখে ঠিকমত দেখো নাকি?

পাইছিরে পাইছিরে তোর্ বালিশ এর নিচে , দাড়া আমি এখনি আসতেছি
কি আশ্চর্য তুমি আসবা কেন? বুয়া র হাতে দাও.

কি যে বলিস বুয়া রে কোনো বিশ্বাস আছে তোর্ মনি ব্যাগ নিয়ে গায়েব হয়ে যাবে. l

আমার মনিবাগ এ নেওয়ার মত তেমন কিছু নাই, একশ টাকা ছাড়া ,আমার রিকশা ভাড়া.l

মা যথারীতি নিচে নেমে এলেন , রাশেদ কে ওয়ালেট নিয়ে দওয়া পড়ে ফু দিয়ে দিলেন বললেন “দেখবি তোর্ আজকে চাকরি হয়ে যাবে, ”

বুজা গেল মা আসলে দোয়া পড়ে ফু দেওয়ার জন্য নিচে নেমে আসছে l

সরি মা তোমাকে রুড ভাবে কথা বলছি

থাক মন খারাপ করিসনা, দোয়া.ইউনুস পড়তে পড়তে যা . হরতাল এর মধ্যে কি তোর্ ইন্টারভিউ হবে?

কি জানি আমি তো আর যোগাযোগ করিনি, আজকে ইন্টারভিউ ডেট,

ঠিক আছে যা ফি আমানিল্লাহ ছল ছল চোখে মা তাকিয়ে থাকলেন

আহ আমাদের মা গুলি এত ভালো কেন? আমাদের দেশে অহংকার করার মত কিছু নাই সুধু এক মা ছাড়া l

হাতিরপুল এর কাছে রিকশা ঘুরাতে হলো. পিকেটার রাস্তা আটকে রেখেছে, ঐদিকে যাওয়ার কোনো উপায় নাই.

ভাইজান এই রাস্তা টুকু হাইটা যাইতে হবে, ঐদিকে গাড়ির রাস্তা রিকশা যাবেনা .

রিকশা থেকে ভাড়া মিটিয়ে হাটা সুরু করলো. আজকে গরম পরছে ভিশন
রবির কি তেজ রে ” অসহায় অবস্থায় ও ছন্দ আসতেছে মাথায় ভালো ই তো

anchor টাওয়ার এ যখন পৌছল তখন রীতিমত সে ক্লান্ত পিপাশাত্ত

কি ইন্টারভিউ দিবে আল্লাহ জানে , হয়তবা লোক আগে নেওয়া হয়ে গেছে সুধু দেখানোর জন্য সাজানো ইন্টারভিউ l

অফিস এ এসে দেখে রেগুলার ডে এর মত সবাই কাজ করছে. মানুষ এখন আর হরতাল ভয় পায়না বা পাত্তা দিতে চায়না. এখন আর কেউ চায়না রাজনীতিবিদ দের হাতের পুতুল হয়ে থাকতে.l

রিসেপশনিস্ট তাকে ওয়েলকাম বলল সে নিজের পরিচয় দিয়ে বলল

I have an interview for administrative assistant at 10 :30

oh yes Sir is very busy today.he is with one foreign deligate but he leave it for you বলে একটা এনভেলপ তার দিকে বাড়িয়ে দিল .

এনভেলপ খুলে প্রথমে পেল appology নোট সরি আপনাদের সাথে দেখা হলনা .
২ন্দ লেটার ..ohhhh. ইটস এপয়েন্টমেন্ট লেটার .রাশেদ প্রায় চিত্কার দিয়ে ফেলল আনন্দে .রিসেপশনিস্ট হেসে ফেলল, সে বুজতে পেরেছে রাশেদ কেন খুশি l

Congratulation Mr Rashed you are welcome at our office
So when you will join at work

check your envelop you have another letter that have to sign & return

I can join today .সে আনন্দ চেপে রাখতে পারলনা .
রিসেপশনিস্ট আবার হেসে ফেলল .ok then its settled you are joining tomorrow or you can join one week after beginning of the next month

no no its ok I will join tomorrow I feel bored at home , had enough rest last yr cause for a long time I was looking for a job

সে যে বেশি কথা বলতেছে আনন্দ উত্তেজনায় একটু পড়ে সচেতন হলো bye বলে অফিস থেকে বের হয়ে আসল l

এই খুশির খবর সারা পৃথিবীকে জানাতে হবে সফিক কে ফোন দেওয়া যাক আগে

হ্যালো দোস্ত খবর কি ?

আরে আমার তো বড় কান্ড হয়ে গেছে l

বলিস কি কান্ড এর সঙ্গে মূল, শিকড়, ফুল পাতা গজিয়ে কি রাস্তার মাজখানে দাড়িয়ে আছিস

নারে আমার চাকরি হয়ে গেছে HSBC তে চিত্কার করে বলল সে

বলিস কিরে বলে সফিক আর এক চিত্কার দিল সব বন্দুদের একে একে ফোন দিয়ে জানালো মিজান, হাসান, রাজীব

সবাই বলে মিষ্টি খাওয়া দোস্ত

না আজকে না ..আজকে আমার মাকে প্রথম নিষ্টি খাওয়াব, আমার মায়ের দোয়ায় আমার এ চাকরি পেয়েছি আগে মাকে সালাম মিষ্টি খাইয়ে দিব. মাসের প্রথম সালারী যখন পাব তখন তদেরকে chinese খাওয়াব.

অক পরে কথা হবে .

ইশ মিষ্টি কেনার টাকা ই নাই. দেখি ক্রেডিট কার্ড টা ট্রাই করি ৫০০ টাকা থাকলে ই হলো. মিষ্টি নিয়ে ক্রেডিট কার্ড ইউস করার সময় আল্লাহ আল্লাহ করতে লাগলো আল্লাহ সন্মান বাচাও..যাক ক্রেডিট কার্ড টা accept হইছে. খুশিতে রিকশা চড়ে বসলো l

আহা আজি এ বদন্তে এত ফুল ফুটে এত বাসী বাজে ..এত পাখি গায় জোরে জোরে গান গাচ্ছে

রিকশা ওয়ালা হাসিমুখে ফিরে ফিরে বার বার তাকে দেখছে l

“কি ব্যপার ভাইজান আপনি কি আজকে অনেক খুশি ?

খুব , যদি পারতাম তোমারে ৫০০ টাকা ভাড়া দিতাম. আমার কাছে এখন নাই, পরে কোনদিন ইন সা আল্লাহ দিব.

এই আস্তে আস্তে চালাও বলতে বলতে তার পিছনের রিকশা জোরে একটা ধাক্কা দিল, সামনের রিকশা য বাড়ি খেয়ে রাশেদ পরে গেছে রাস্তায়. হাতের মিষ্টি ছিটকে রাস্তার আরেক কোনায় গিয়ে পড়ল. পায়ের ব্যথা য মাগো বলে রাস্তায় বসে পড়ল, চোখে মুখে অন্ধকার দেখা সুরু করলো.

হায় হায় ভাইজান আপনি ঠিক আছেন ?রিকশা ওয়ালা হাহাকার করে উঠলো.

আমার মিষ্টির প্যাকেট কষ্ট করে নিয়ে আস ভাই , আমি ঠিক আছি

রিকশা ওয়ালা মিষ্টি প্যাকেট এ হাত দেওয়ার আগে একটা গাড়ি তার উপর দিয়ে চলে গেল , মিষ্টি প্যাকেট ছিড়ে সারা রাস্তায় ছড়িয়ে গেল

রাশেদ এর মন টা খুব খারাপ হয়ে গেল l

রিকশা ওয়ালা তাকে ধরে আবার রিকশা য বসিয়ে দিল
রিকশা চলতে সুরু করলো l

=========================================================
বাবাটার কান্ড দেখো , এত জোরে টিভি ভলিউম দিছে, পাশের বাসার মানুষ নিচ্চয় কমপ্লেইন করবে l

মাজে মাজে বাচাদের মত জোরে হাত তালি দিচ্ছেন আর চিত্কার করে বলছেন
আওয়ামী লিগ এর সবার এবার লোটা কম্বল নিয়ে ছুটাছুটি সুরু হয়ে যাবে l

আয়েশা র বাবা মিজান রহমান বয়স ৫২ দেখতে মনে হবে তিরিশ এর কম আর আচার আচরণে মনে হবে দশ বছর এর বালক l

বাবা আমার পরীক্ষা কালকে , এত সাউন্ড দিয়ে টিভি দেখলে আমি কিভাবে পড়ায মনোযোগ দেই l

এদিকে আয় মা দেখে যা বাহ বাহ গোলাম মাওলা রনি তোমাকে সালুটে

কি বাবা

দেখনা আওয়ামী লিগ এর এক এম পি কিভাবে আওয়ামী লিগ আর পলিটিশিয়ান দের নিয়ে কি কথা বলতেছে শোন শোন l

আয়েশার এখন বাবার কোথায় কোনো মনোযোগ নাই , জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে পাশের ছাদে চশমা পরা ছেলেটা ছাদে হাটাহাটি করছে, আর মাঝে  মাঝে চোখ তেরছা করে তাদের ছাদের দিকে তাকাচ্ছে l বুঝা যাচ্ছে এ অপেক্ষা তার জন্য l

কিয়েকদিন ধরে আয়েশা আর ওই ছেলে র দৃষ্টি বিনিময় হচ্ছে. দুই জন ই বিকাল এর নির্দিষ্ট সময়ে ছাদে বই নিয়ে চলে আসে পড়া শুনার ভান করে দুজন দুজন কে লক্ষ্য করে l

আয়েশা কে আসতে দেখে ছেলেটির মুখে হাসি দেখা দিল. দুজন এখন দুজনের নাম জানেনা ,তারপর ও প্রতিদিন কিছুক্ষণের জন্য ছাদে না আসলে না দেখা হলে সেদিন তাদের খাওয়া হয়না, টিভি দেখতে ইচ্ছে হয়না,পড়তে ইচ্ছে করেনা,

নিচ থেকে আয়েশার মার গলা শোনা গেল

আয়েশা কোথায় তুমি মা ? পড়াশোনা ফেলে ছাদে কেন?

মা এত ঠান্ডা এত ভদ্র ভাবে কথা বলে মনে হয় একটা কবিতার বই.
মা আর বাবার প্রেম কাহিনী লাইলী মজনু র প্রেম কাহিনী কে ও হার মানায়

সিড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে যা দেখল মা বাবার প্রেমময় কান্ড লজ্জায় লাল হয়ে গেছে আয়েশা. দুজনের এত প্রেম আয়েশার মাঝে মাঝে নিজেকে বাড়তি মনে হয়.

কি বাবা মায়ের চুল আচড়ে দাও আর আমার টা দাও না কেন ?
তোর্ মাতো ক্লান্ত ,কাজ থেকে আসছে তুই তো খেয়াল করিসনা তোর মায়ের

আয় আমার কাছে আয় ছোটবেলার মত তোর্ চুল আচড়ে দেই..আর তুই পরে তোর্ মায়ের পায়ে তেল দিয়ে ম্যাসেজ করে দিস .পায়ে ব্যথা করতেছে নাকি তোর্ মায়ের l

না না আমি ঠিক আছি .আয়েশার কালকে পরীক্ষা, যাও মা টেবিল এ ফ্রুটস রাখা আছে l খেয়ে নামাজ পড়ে পড়তে বস.বলে উঠলেন আয়েশার মা l

আর পড়ালিখা সব গোল্লায় গেছে, কালকে কি পরীক্ষা দিবে আল্লাহ ই জানে এখন ৫ টা চ্যাপ্টার বাকি পড়ার.

আয়েশা জানালা র পর্দা সরিয়ে দিল. যা ভেবেছিল বেচারা এখনো ছাদে বসে আছে. আয়েশা এখন আর ছাদে যেতে পারবেনা তাহলে মা সন্দেহ করবে l

ছেলেটি কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকাতে তাকাতে না দেখে চলে যাচ্ছিল তখন তার চোখ পড়ল নিচের জানলায় আয়েশাকে .সে হেসে ফেলল , হাত ইশারায় বুজাতে চাইল ব্যপার কি ? এই প্রথম ছেলেটা কথা বলার মত ভঙ্গি করলো
আয়েশা লজ্জা পেয়ে হেসে দিল l

আয়েশা দেখত এই ড্রেস টা কি তোর্ পছন্দ নাকি ..বলতে বলতে হটাত করে মা রুম এ ঢুকলো.

থতমত খেয়ে আয়েশা মুখ ফিরিয়ে এদিকে এসে বসলো পর্দা ঢেকে দিয়ে l

আমার এক কলিগ এই ড্রেস আমাকে গিফট করলো..এটা একেবারে অল্প বয়সী র জন্য মানানসই.আমার এসব ড্রেস এখন পড়া উচিত না l

কি যে বল মা তোমার চেয়ে বয়স্ক মহিলারা ও এই ড্রেস পরে .আর তুমি তো মা আমার এভার গ্রিন মা .তুমি যাই পর তাই তোমাকে মানায় .তুমি অবশ্যই কালকে এই ড্রেস পরে কাজে যাবে, আমি তোমাকে সাজিয়ে দিব l

মা ঘর থেকে চলে যাওয়ার পর তাড়াতাড়ি দৌড়ে এসে জানালার পর্দা সরিয়ে দিল .না এখন সে আর নাই. চলে গেছে l

আয়েশার মনটা এত খারাপ হয়ে গেল যে এখন আর পড়তে ইচ্ছে করছেনা .অথচ অনেক পড়া বাকি l
==========================================================

আকাশের দিকে তাকিয়ে নীল্ এর মন টা ঝর ঝরে হয়ে গেল.আকাশটা সুন্দর মেঘলা হয়ে আছে l
মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি দেখলে যারা ঘরে দরজা জানালা বন্দ করে বিরস হয়ে বসে থাকে নীল্ নাশফি তাদের দলে না .বৃষ্টি দেখলে দরজা খুলে বেরিয়ে আসে রাস্তায় l
কান পেতে শুনতে চেষ্টা করে বৃষ্টি র গান.অন্য সবার চেয়ে তার জীবন, রুচি, মন মানসিকতা কিছুটা আলাদা l সে সবসময় একাকী,বিষন্ন.কিন্তু তার একাকিত্ব বা বিষন্নতাকে সে সবসময় উপভোগ করে, নিশ্সন্গতা থেকে সে তার আত্নার খোরাক পায়.প্রকৃতির সঙ্গে তখন আরো নিবিড় একাত্ততা অনুভব করে l
একটা বড় কাঠাল গাছ জড়িয়ে আছে তাদের বিল্ডিং টার সাথে. গাছের একটা বিরাট ঢাল ছাদে এসে  পড়েছে..ছাদে দাড়িয়ে বৃষ্টি তে ভিজতে ভিজতে গাছে র ঢালে পরম মায়ায় হাত বুলাতে থাকে নীল্ l রাস্তার ওই মাথায় আছে একটা টিনের চালের ছিমছাম বাড়ি l ওই বাড়ির মেয়েটি কে নীল্ সবসময় খেয়াল করে .মেয়েটি ও বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে তাদের হাস আছে দৌড়াচ্ছে হাস গুলির সাথে আর হাসিতে ভেঙ্গে পড়ছে l
মেয়েটির পক্ষে ঘুনাক্ষরে ও কল্পনা করা সম্ভব না তার সামনে বিল্ডিং এ এক ছেলে তাকে প্রতিদিন লক্ষ্য করে কত কবিতা গান রচনা করে যাচ্ছে মেয়েটির নাম বর্ষা ,সে সরকারী  বাংলা উচ্চ মাধ্যমিক দিতীয় বর্ষের ছাত্রী ,তার বাবা এই কলেজ এর সহকারী অধ্যাপক l
হাসের সঙ্গে দৌড়াতে দৌড়াতে একসময় বর্ষা পা পিছলে আছার খেল .সে লাফ দিয়ে উঠে তাড়াতাড়ি এদিক ওদিক দেখল কে ওকে দেখল না তো, তাহলে লজ্জার সীমা থাকবেনা , দেখতে দেখতে সামনের বিল্ডিং এর নীল্ এর সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল
ই ছি লজ্জায় সে লাল হয়ে গেল
নীল্ হা হা করে হেসে ফেলল জোরে , ছেলেটির হাসি দেখে লজ্জায় চোখে হাত দিয়ে ঘরের দিকে দৌড় দিল বর্ষা .ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার আগে মাথা ঘুরিয়ে চোখ এর কোনা দিয়ে তাকালো. নীল্ আবার জোরে হেসে হাত নেড়ে যা বোজাতে চাইল..টেক কেয়ার
নিচে নেমে দেখে বাবা এসে ড্রয়িং রুম এ বসে খবরের কাগজ পড়ছেন, তার মুখ খুব গম্ভীর l
কিরে তোর্ কাগজ পত্রের খবর কত দূর .বাবাকে বলা সম্ভব হছেনা কেস টা রিজেক্ট হয়েছে l বেচারার জমানো কষ্টের টাকা দিয়ে এপলাই করেছিল, বাবার চোখে চোখ রাখতে ও মন বিষন্ন হয়ে যাচ্ছে l
নে এই ভিসিটিং কার্ড টা ধর ,গোলাম মাওলানা রনি র আড্রেস তার সেক্রেটারি আমার পরিচিত, সে চেষ্টা করবে তার সাথে দেখা করিয়ে দিতে, চেষ্টা করবে তোকে ভিসিটিং অথবা ওয়ার্ক ভিসাতে পাঠাতে. না পারলে টোটাল টাকা রিটার্ন করবে.চিন্তা করিসনা দেখা করে আস l
ও মা তাহলে বাবাকে সব বলে দিছে,.মা কে নিয়ে আর পারা গেল না ,নিষেধ করার পর ও বাবাকে বলে দিল l
বাবা যে কোথায় আছে এসব এম পি দের কি সময় আছে  কার কি কোনো প্রবলেম সলভ করার , এরা নিজের আখের গোছাতে বাস্ত থাকে, না গিয়ে ও উপায় নাই. ওই সেক্রেটারি কত টাকা খাবার জন্য বসে আছে আল্লাহ জানে l
এনভেলপ নে এখানে দশ হাজার টাকা আছে, সেক্রেটারি কে দিয়ে খুব রিকোয়েস্ট করে বলবি তোর্ সাথে যেন রনি র দেখা করিয়ে দেয়. ছোটবেলায় রনি তো আমাদের বাসায় আসত. তোর্ চোট চাচার বন্ধু ছিল, সে এমনি খুব ভালো ভদ্র ছেলে ছিল, এখন  এম পি হয়ে কি চেঞ্জ হয়ে গেছে কিনা কে জানে, চোট চাচার রেফ দিবি l
বাসা থেকে বের হয়ে রিকশা ভাড়া করতে যাবে দেখে পাশের বিল্ডিং এর বর্ষা রিকশা কে ডাকছে জিজ্ঞাসা করছে
‘এইযে ভাই চাদনী চক যাবেন?
ভাইজান আমারে ঠিক করে উঠছে বলে উঠলেন রিকশা ওয়ালা
না ঠিক আছে ভাই তুমি ওনারে নিয়ে যাও. উনি সম্ভবত ফার্মেসী তে যাবেন, উনি একটু আগে এক্সিডেন্ট করেছেন l
কথা শুনে বর্ষার পিত্তি জ্বলে গেল, ইটস ok থাঙ্কস ফর ইউর হেল্প আমি ফার্মেসী তে যাচ্ছিনা, চাদনী চক এ আপনি কি কানে শুনেন না ?
তাহলে তো আর কোনো অসুবিধা নাই, আসুন আসুন আমি ও চাদনী চক এর দিকে যাচ্ছি l
আপনি চাদনী চক এর দিকে যাবেন কেন?ভিড়ের সুযোগে মেয়েদেরকে ধাক্কা দিতে, বিদ্রুপ এর স্বরে বলল বর্ষা.,কিছু ছেলে তো এই করতে যায়. মেয়েদের এই মার্কেট এ l
নাউজুবিল্লাহ, অস্তাগ্ফিরুরাল্লাহ না না আমি খুব ভদ্র ছেলে, কোনো বাজে চিন্তা করবেননা আমাকে নিয়ে প্লিস l
দেখতে ই পাচ্ছি কিরকম ভদ্র, টিপ্পনির সুরে বলে
আস আস তোমাকে নামিয়ে আমিও এক জায়গায় যাব,বাবার অর্ডার, কাজ শেষ করে তোমাকে আবার চাদনী চক থেকে পিক করব যদি তোমার সম্মতি পাই, বলে হাসলো নীল্
বর্ষা হেসে ফেলল, উঠে এসে বসলো নীল্ এর পাশে, সে কিছুটা আরষ্ট,
এত কাঠ কাঠ হয়ে বসে আছ কেন? ইজি হও, বাবা আমি অনেক ভদ্র, এ দেখছ  আমার হাত এ হাত এ সুধু কাগজ আর কলমে তোমার রূপ সৌন্দয্যের বর্ণনা করবে, তোমাকে কখনো অন্যায় স্পর্শ করবেনা বা তোমার অমর্যাদা করবেনা, তোমার কাছে এ আমার প্রমিস.
আপনি দেখি একেবারে পাগল, আমাকে আজকে ই মাত্র দেখলেন, একদিন ই এতকিছু ভেবে ফেললেন?
আমি তোমাকে গত দুই মাস ধরে ফলো করতেছি. তোমার নাম বর্ষা নাজির , তোমার বাবার নাম আব্দুর নাজির, উনি সরকারী বাংলা কলেজ এ হিস্ট্রি এর প্রফেসর, তোমার মা ধানমন্ডি গার্লস স্কুল এর টিচার. তুমি H .S .C  exam দিবে সামনের বছর.সব ঠিক আছে?
ও আল্লাহ আপনি বুজি সারাখ্ক্ষণ ফলো করতেন আমাকে বলে হেসে ফেলল বর্ষা
সারাখ্ক্ষণ না সুধু কলেজ যাওয়া আর আসার পথে, আর মাজে মাজে যখন বাগানে এসে বাগানে গাছগাছালির সাথে গল্প কর তখন আমাদের ছাদ থেকে দেখি
বর্ষা লজ্জা পেয়ে আবার হেসে দিল l
বর্ষা কে চাদনী চক এ নামিয়ে সরাসরি ফোন ছাড়া গোলাম রনি র অফিস এ এসে পৌছল l
অনেক লোক কাজ করছে কাকে যে জিজ্ঞাসা করবে রনি র কথা বুজতে পারছেনা, তখনি দেখতে পেল ডান দিকের রুম এ দরজা খুলে যিনি বের হলেন নীল্ গেস করলো ইনি হবেন গোলাম রনি
দেখতে বেশ সুদর্শন ভদ্রলোক, তারচেয়ে যেটা বড় চেহারাতে একটা সরলতা আর ভদ্রতার ছাপ. তিনি নিজেই এগিয়ে এসে বললেন ” আপনি কি কাউকে খুজছেন?
তার কথা বলার ধরন খুবই বিনয়ী
নীল্ মুহুর্তে মুগ্ধ হয়ে গেল একটু আগে তার যে এম পি সম্পর্কে নেগেটিভ থিঙ্কিং করে আসছিল তার জন্য মনে লজ্জা পেল l
আপনি আমার চাচা রবিন কে চিনেন, আমাদের বাসায় আগে যেতেন..
ওহ ওহ তুমি কি নীল্? তোমার কথা তো রবিন অনেক বলত আগে
ও কোথায় এখন?
চাচা ইউ এস এ থাকেন
আস আস আমার রুম এ আস, চা এর অর্ডার করি কেমন
না না ঠিক আছে নীল্ বিব্রত বোধ করতে থাকে, কিন্তু তিনি শুনলেন না অর্ডার দিয়ে দিলেন
সুধু চা না তার সাথে অনেক রকমের স্নাচ্ক্স, চমুচা, পাকৌড়া সহ টেবিল সাজিয়ে দিল ওনার অ্যাসিস্ট্যান্ট
টেনসন করনা, এসব জনগনের টাকায় না ,আমার নিজশ্শ সামান্য টাকা আমার বাবার বিসনেস আছে সেই টাকা দিয়ে কিনা, এম পি র সালারি টা আমি দেশের কাজে খরচ করার চেষ্টা করি.
অন্যরা তো এটা করেনা, আপনি ই সুধু এভাবে ফীল করেন.
জানি আমাদের দেশের পলিটিক্স শত বছরের ঘুনে ধরা, ঠিক হতে কিছুটা সময় নিবে
তবে আমি প্রথমে এ স্টেপ নিতে চাই, এমন ভিন্ন কিছু করতে চাই  যাতে সাধারণ মানুষের মনে পলিটিশিয়ান এর প্রতি যে বিরাগ জন্ম নিয়েছে তা আস্তে আস্তে দূর হয়,আমরা পলিটিশিয়ান রা যেন সাধারণের খুব কাছে গিয়ে তাদের মনের কথা গুলো  সুনতে পারি. যেমন আমি আজকে তোমার সাথে আপন খোলামেলা ভাবে কথা বলছি ঠিক তেমনি ভাবে দেশের প্রতি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চাই. তাদের খুব আপন একজন হতে চাই l
কথায় কথায় তাদের অনেক রাত হয়ে গেল.
ওহ রাত দশটা বেজে গেল ,নীল্ পুরাপুরি ভুলে গেল যে বর্ষার  চাদনী চক এ অপেক্ষা করার কথা.
কি ব্যপার তোমাকে চিন্তিত মনে হচ্ছে.
না আমার এক বন্ধু একজায়গায় সাত টায় অপেক্ষা করার কথা. আমি কথা বলতে বলতে ভুলে ই গিয়েছি l
চল আমি তোমাকে ড্রপ করে দিব , আর  তোমার কাগজ পত্র রেখে যাও, দেখি কি করা যায়.
নীল্ আর রনি গাড়িতে উঠে বসলো l
দুইজনের মনে চিন্তা র ঝড় বইতে লাগলো তবে তা ভিন্ন গতিতে
গাড়ি চলতে সুরু করলো নীল্ এর বাসার দিকে l

(পরবর্তিতে)

৬২১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল ,সাথেই আছি
    ঈদ মোবারক ।

  2. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ঈদ মোবারক ।
    ধন্যবাদ শেখ শান্ত

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম। সাথে আছি। ভাল লাগছে একটু একটু করে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top