Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভুতের গলির সেই ভূত কি ফিরে এলো ?????

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১৬/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 547বার পড়া হয়েছে।

পূর্ব প্রকাশিতের পর
আশফাক এর অফিস থেকে বের হতে হতে চারটা বেজে গেল মিজান এর .আজকে এত গরম, পানির পিপাসা হচ্ছে.আশফাক এত বেশি খাওয়ার অর্ডার করছে ,একেবারে যত্ন করে খাইয়েছে স্নেহ ময়ী মা এর মত l

হটাত করে যেন যাদুমন্ত্রবলে তার ভাগ্য চেঞ্জ করে দিয়েছে তার পালনকারী আল্লাহ l

থাঙ্কস দয়াময় .তার বুকপকেট এ এপয়েন্টমেন্ট লেটার আর ত্রিশ হাজার টাকার চেক তার প্রথম মাসের বেতন অ্যাডভান্স.এত সব সৌভাগ্য একসঙ্গে মিজান বিশ্বাস করতে পারছেনা l জব এর পোস্টিং চিটাগাং .আশফাক অবশ্য বলেছে পরে ট্রান্সফার হয়ে আসা যাবে l

ঠিক বুজতে পারছেনা কি ডিসিশন নিবে, চাচা, কেয়া এদেরকে অসহায় অবস্থায় ফেলে এখন কি তার যাওয়া উচিত হবে?তাছাড়া কেয়া কে না দেখে তার পক্ষ্যে থাকা ও সম্ভব না l

ভাবতে ভাবতে হাটছে এলিফান্ট রোড এর রাস্তা টা দিয়ে. রিকশা নিতে হবে, আর হাটা যাচ্ছেনা l

পিছন থেকে এই যে এই যে বলে বলে এক নারী কন্ঠের ডাকার আওয়াজ শুনে তাকাতে দেখতে পেল রিকশা য় কেয়াকে ,

এত অন্যমনস্ক মানুষ হয়..আপনাকে কতক্ষণ ধরে মিজান সাহেব মিজান সাহেব বলে চিত্কার করে ডাকতেছি..আপনি হাসতে হাসতে কি চিন্তা করতে করতে হাটতেছেন l

“কি এত ভাবছিলেন বলুন তো ? প্রেমিকার কথা কেয়ার চোখে মুখে দুষ্টুমি র ছাপ.

এভাবে হটাত করে রাস্তায় দেখা হওয়াতে মিজান আনন্দের সাগরে ভেসে গেল

আপনার কথা মিজান ও দুষ্টুমির স্বরে বলল l

আপনি এখানে কেন?গাড়ি কোথায়? এমনি ইচ্ছে করলো একটু রিকশা য় ঘুরতে, সকালে বের হয়েছিলাম, হরতাল এর জন্য গাড়ি বের করিনি

একটু আমার সাথে আসুন তো, কিছু ছেলে দের ড্রেস কিনব, ছেলেরা কি চয়েস করে সেটা আমার চেয়ে আপনি ভালো বলতে পারবেন

আমার না ছেলেদের সাদা শার্ট, সাদা পাঞ্জাবি এসব এ ভালো লাগে

আপনার যখন ভালো লাগে, ছেলেদের ও ভালো লাগবে.হালকা গলায় বলল মিজান l

তারা ঘুরে ঘুরে চারটা শার্ট আর দুইটা ম্যাচিং পান্ট ,কিছু টাই, কিনলো,

“কার জন্য কিনছেন? আপনার হবু র জন্য বলল হাসতে হাসতে মিজান

জি হা আমার ফিউচার এর জন্য?

পাঠাবেন কিভাবে পার্সেল করে ?

হা আকাশের ঠিকানায় বলল কেয়া হালকা সুরে ..

কেনাকাটা শেষ করে কেয়া জোর করে এখানে নুতুন এক chinise ফুড এর দোকান আছে তাকে নিয়ে ঢুকলো

খাওয়া হলো, অনেক গল্প হলো হলো, কেয়ার ছোটবেলার অনেক মজার গল্প ও সোনা হলো ,তার সাত বছর বয়সে একবার আচার বয়ম ভেঙ্গে সে মায়ের বকার ভয়ে খাটের নিচে লুকিয়েছিল, পরে সে ঘুমিয়ে পড়েছিল খাটের নিচে. আর তাকে না খুঁজে পেয়ে মা বাবার কান্না, পুলিশ চলে এসেছিল,সারা শহরে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল, সন্ধার দিকে অন্ধকার এর জন্য খাটের নিচ থেকে যখন বের হতে বাধ্য হলো তখন এক মজার অবতারণা হলো., সবার হতভম্ব অবস্থা কিছুক্ষণের জন্য, পুলিশ এর সেন্ট্রি হেসে ফেলল ,” খুকি এভাবে আর লুকোচুরি খেলনা কেমন” মা একদিকে জড়িয়ে আদর করছে বাবা আরেক দিকে , বলতে বলতে আবার হেসে গড়িয়ে পড়ল কেয়া, মিজান ও হাসতে লাগলো তার সাথে l

রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে রিকশা ভাড়া করে কেয়া উঠলো, মিজান দাড়িয়ে থাকলো পাশে

“কি ব্যপার আসুন বাসায় যাবেন না ? দশটা বাজে তো

আমি আপনার সাথে .ইতস্তত করতে থাকে মিজান বলে আমি আরেকটা রিকশা নিচ্ছি .
বারে আমি তাহলে কার সাথে গল্প করব..তাছাড়া আমি, আপনি যখন এক জায়গায় যাচ্ছি , বাসা একজায়গায়, গন্তব্যস্থল মনের মঞ্জিল যখন এক জায়গায় পৃথক যাত্রা কেন বলল আস্তে করে l

মিজান উঠে এসে বসলো কেয়ার পাশে, কিন্তু যে জরসর হয়ে বসেছে

“আপনি কি জীবনে এই প্রথম কোনো মেয়ের পাশে রিকশা য় বসলেন বলে কেয়া জোরে জোরে হাসতে লাগলো l

কেয়াকে এত হাসি খুশি হালকা মুড এ এর আগে কোনো দিন দেখেনি মিজান
আপনাকে মনে করতাম অনেক গম্ভীর বলে তার দিকে তাকিয়ে হাসলো মিজান .

মা আর ভাইয়া আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে আসলে আমি আর বাবা হাসতে ভুলে গিয়েছিলাম ।

আপনার মা ?

আমার মা যখন আমার বয়স বারো তখন বাবার এক বন্ধুর সাথে newzealand এ চলে যান, পরে বাবা মা আলাদা হয়ে যান ।

কেয়ার কষ্ট টা অনুভব করে মিজান এর মনটা বেদনায় বিবর্ণ হয়ে গেল । সহানুভূতিতে কেয়ার একটা হাত নিয়ে নিজের হাতে চাপড়ে দিল.
সরি “আমার সত্যি কষ্ট হছে আপনার দুখ্খের অতীত টা মনে করিয়ে দিলাম বলে ।
আর এসব নিয়ে ভাববেন্ না ।

না এখন যখন মায়ের কথা মনে হয় ছোটবেলার আনন্দের সৃতি গুলি মনে করি, মাজে মাজে মায়ের সাথে ফোন এ কথা বলি, কিন্তু বাবাকে লুকিয়ে,বাবাকে কষ্ট দিতে চাইনা ।

খুব অবাক লাগে এ কথা মনে হলে “মা কিভাবে আমার এই চমত্কার বাবাকে ছেড়ে যেতে পারল, আমাকে ছেড়ে যেতে পারল।

এবার সত্যি মিজান এর কান্না অসতে থাকলো কেয়ার জন্য। পরম আবেগে হাত বাড়িয়ে নিজের বুকের সাথে কেয়া কে জড়িয়ে ধরল মিজান।  কেয়া ও নিজেকে আর সামলাতে পারলনা, মিজান এর বুকে মাথা রেখে কাদতে থাকলো ।

আস্তে আস্তে দুজনের আবেগ প্রশমিত হলো, কান্না ও থামল দুজন দুজনের মধ্যে একটা নির্ভরতা খুঁজে পেল. দুজনের সম্পর্ক আজকে একটা নুতুন মাত্রা পেল ।

রিকশা এসে বাসার দরজায় পৌছল, দুজনে রিকশা থেকে নামার পর কেয়া হাত থেকে মিজান কে দিল ।
এখানে কাপড় গুলি তোমার জন্য কিনা কেয়া তাকে তুমি বললে সম্বোধন করলো আজকে ।

তাদের আসার শব্দ পেয়ে দরজা খুলে চাচা বেরিয়ে আসলেন ,তার চোখে মুখে টেনসন এর ছাপ ।

“কি ব্যপার কোনো ফোন নাই, কোথায় ছিলে টেনসন এ থানা য় ফোন করতে যাচ্ছিলাম ।

সরি বাবা সরি সরি , ভুল হয়ে গেছে বাবা, ফোন দেওয়ার স্কোপ পাইনি, বলে জড়িয়ে ধরল বাবাকে কেয়া।

চাচার দিকে তাকিয়ে মিজান এর মনটা দুখে বেদনায় ম্রিয়মান হয়ে গেল.
মনে মনে সে এই প্রমিস করলো তার জীবনে যাই হোক না কেন এই বাবা মেয়ে কে তার শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলে সুখে রাখার চেষ্টা করবে l
==========================================


সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়েশা র দৌড়া দৌড়ি সুরু হলো.

“মা তাড়াতাড়ি নাস্তা দাও আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে .এই সময় কেয়ার খুব ব্য স্ততায় যায় .তার নিজের লাঞ্চ বাক্স রেডি করা, মিজান এর খাওয়ার হট পট এ রেখে যাওয়া, একই সঙ্গে আয়েশা নাস্তা রেডি করে দেওয়া. আজকে অবশ্য আয়েশা কে টিফিন দিতে হবেনা, পরীক্ষার পরে বাসায় চলে আসবে, ফ্রীজে ভাত তরকারী আছে, সে গরম করে খেয়ে নিবে ।

কোনো রকম দৌড়ে এসে একটুকরা রুটি মুখে দিয়ে ব্যাগ নিয়ে আবার দৌড়ে দরজার কাছে চলে গেল.আয়েশা ।

নাস্তা ঠিকমত খেয়ে যা বলল কেয়া

আমার সময় নাই ,আবার দৌড়ে এসে বলল ।

একটু দোয়া পড়ে ফু দাও তো , আজকের পরীক্ষায় একটা ডাব্বা পাব ।

ইনসা আল্লাহ তুই ভালো পরীক্ষা দিবি ,পিছনে থেকে বাবা এসে মাথা মুছিয়ে দিল ।

নিচে নেমে কোনো রিকশা না দেখে হাটতে সুরু করলো. রিকশা র খোজে পিছনে তাকাতে ই ঐদিকের ছাদে চশমা পরা ছেলে টাকে বসে থাকতে দেখল।

আয়েশার হৃদস্পন্দন থেমে গেল কিছুক্ষণের জন্য , ছেলেটি হাত ইশারায় কি যেন বলতে চাইল., সে ঠিক বুজলোনা,আস্তে আস্তে রাস্তার দিকে হাটতে লাগলো ।

এই এই পিছন থেকে মনে হচ্ছে কেউ ডাকছে তাঁকে, তাকাতে দেখল ছেলেটা তার দিকে হাসি মুখে এগিয়ে আসছে।

কি মেয়েরে চিত্কার করে ডেকে ই যাচ্ছি খেয়াল করেনা ।

দূর থেকে যতটা সুন্দর মনে হচ্ছিল সামনা সামনি ততটা সুন্দর না, চোখটা দেখলে মনে হয় অনেক পড়াশোনা করে, চাহনি তে একইসঙ্গে ভাবুক দার্শনিক ছাপ, চোখ দেখলে অনেক বুদ্দিমান ও মনে হয়. মুখের ভাবে মনে হয় সবসময় ডিবেট এ পার্টিসিপেট করে এবং উইন করে।

দূর থেকে মানুষ প্রথম দিন কাছে থেকে খুব অন্যরকম মনে হয়. মনে হয় সে কি একই লোক না আমি অন্য কাউকে দেখছি?

হটাত করে একটা গাড়ি ব্রেক কষে থামল তার সামনে ।

বাবা গাড়িতে “এই আয়েশা আয় তোকে কলেজ এ নামিয়ে দেই.
দুজন চমকে অন্যদিকে তাকানো র ভান করলো ।

আয়েশা র মন টা দমে গেল. ইশ বাবাটা এই সময়ে এসে হাজির হলো

না বাবা আমার গাড়ি লাগবেনা, তুমি চলে যাও, আমার ফ্রেন্ড ওয়েট করবে আমার জন্য ।

আয় তোদের দুজন কে নামিয়ে দেই, তুই না বললি তোর্ দেরী হয়ে যাচ্ছে ।

না বাবা ও এখন বের হয়নি, তোমার দেরী হবে, তুমি চলে যাও ।

মিজান সাহেব কি বুজলেন বললেন বিসমিল্লাহ বলে প্রশ্ন হাতে নিবি, 

পুরা প্রশ্ন টা আগে পড়ে ফেলবি, যেটা যেটা কমন হবে, সেগুলি তে দাগ দিয়ে রাখবি, তারপর একটা একটা করে উত্তর দিবি ।

আল্লাহ হাফেজ বলে বাবা চলে গেলেন ।

ওরে বাবা কি মিথ্যেবাদী মেয়ে রে ,এই মিথ্যে কি আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য? তাহলে মাফ করে দেওয়া গেল, কিন্তু আমার সঙ্গে মিথ্যে বলা যাবেনা অপু, আমি মাইন্ড করি মিথ্যে বললে, আমি হেফজোত করি ইসলাম এর ।

ই আল্লাহ তাই নাকি .হেফজোত শিবির এগুলি আমার দুই চোখের বিশ ।

শিবির পছন্দ করনা মানলাম, হেফজোত তোমার কোন মাথা বাড়ি দিল

তুমি কি তাহলে আ পার্টি তারা ছাড়া সারা দেশ রাজাকার তুই রাজাকার তুই রাজাকার, রাজাকার ধর, নিধন কর এই পার্টি.?

তার কথা বলার ভঙ্গিতে আয়েশা হেসে ফেলল।

বাহ তোমার হাসি তো অনেক মিষ্টি, কাছে না আসলে এই হাসিটা মিস করতাম , তুমি দেখতে ও অনেক সুন্ধরী সুবহানাল্লাহ, মাসাল্লাহ বলল মজার সুরে।

ওহ ও তোমার নাম ই তো জানা হয়নি কি নাম?

আয়েশা, আয়েশা রহমান

আল্লাহ এরকম ওল্ড নাম কে রাখল? নাম শুনলে কেউ কি মনে করবে তুমি এত সুন্দর একটা কিউট মেয়ে, মনে হয় বয়স্ক গ্লাস পরা ওল্ড লেডি, এই নাম চেঞ্জ কর প্লিস.এই ওল্ড নাম চলবেনা ।

বিরক্তিতে আয়েশার মন টা ভরে গেল. এতদিন ছেলেটার জন্য তার যে আবেগ অনুভূতি জমেছিল, সেজন্য নিজেকে মনে মনে কষে একটা চড় লাগালো। বাবাকে মিথ্যে বলার এই শাস্তি, হনুমান এসে কপালে জুটছে।

বিরক্তি আর রাগে তার জবাব টা আসল খুব কর্কশ স্বরে, এসব নিয়ে কথা পরে হবে, আমার পরীক্ষা আজকে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে।

কি পরীক্ষা? হেসে জিজ্ঞাসা করে

প্রি টেস্ট , কোন কলেজ এ পড়?

বদরুন নেস্সা কলেজ..এখনো বেবি মাচিউর হয়নি ।

এবার সত্যিকার অনেক বেশি রেগে সামনে যে রিকশা পেল তাতে উঠে পড়ল আয়েশা ।

রিকশা য় টান দিয়ে ছেলেটি ও উঠে পাশে বসলো ।

রাগে আয়েশার মুখ লাল হয়ে গেছে ।

গুনগুন করে ছেলেটি গান গাচ্ছে

“তোমার রাগ দেখে মনে হয় ,হাজার বছর ধরে ছিল আমাদের পরিচয়

সরি অনেক অনেক সরি এইযে দেখো কান ধরলাম, নাক ধরলাম, তুমি বললে তোমার পা ধরব, তোমার হাত ধরব.

আমার এশা আমার এশা, আমি মজা করছি, তুমি মজা বুজনা বেবি, একেবারে কচি খুকি ।

আমার নামটাও জিজ্ঞাসা করলেনা এত রেগে গেছ ।
আমার নাম মাসুম. কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, buet 2nd yr এ পড়ি. (এখন তার গলার স্বর অনেক ভদ্র)

এখনো কি রেগে আছ? সরি আজকে তোমার পরীক্ষা , তোমাকে রাগিয়ে দেওয়া উচিত হয়নি . I apologise

আয়েশার এখন কান্না আসতে লাগলো ।

==========================================

কই তোমার হলো? আশফাক জোরে ডাকলো
নিলুফা তাড়াতাড়ি করে আশফাক এর ব্যাগ, হট পট. ঘড়ি এনে দিল ।

“আজকে একটু তাড়াতাড়ি আসতে পারবে? জিজ্ঞাসা করলো নিলুফা

কেন ?কোথাও যেতে চাও?

বড়ভাবী এর বোনের বিয়ে, তোমাকে তো কার্ড টা দেখানো হয়নি?

বাহ দারুন সুন্দর করে ডিসাইন করেছে তো ? কার করা ?

ভাইয়ার বলল একটু গর্বের স্বরে নিলুফা

তুমি কি কিছু ভুলে যাচ্ছ ?

ভুলে গেছি দাড়াও দাড়াও..পেন আছে, ফাইল আছে, খাওয়ার নিয়েছি, ওয়ালেট ও আছে পান্ট এর পকেট এ. নাহ !!! সব তো ঠিক আছে ।

হা তুমি সবই কর, সবাইকে ইম্পর্টেন্স দাও বউ ছাড়া ।

প্রতিবার তুমি ভুলে যাও,ইচ্ছে করে নিচ্চয় ভুলে যাও ।
সোমা আর বিউটি এর হাসবেন্ড কি সুন্দর করে আগের দিন সারপ্রাইজ দেয়

না দিয়ে উপায় আছে, তোমার ফ্রেন্ড সোমা তো ওর হাসবেন্ড কেমন পুরা একটা কোলাবেং, কোনো শেপ আছে, বউ পায়ে ধরা ছাড়া আর করবে কি?

ছি ছি চেহারা নিয়ে মানুষ এভাবে কথা বলে? চেহারা যাই হোক, ভদ্র লোক খুব ভালো মানুষ । আর খুব রুচিশীল. যে সুন্দর সুন্দর ড্রেস নিজে পছন্দ করে কিনে নিয়ে আসে সোমার জন্য. আর এত রোমান্টিক, নিজে কার্ড বানায়, সোমার ছবি তে প্রিন্ট, করে কবিতা লিখে তাকে আগের দিন রাতে সারপ্রাইজ দেয় ।

আহারে আমার বৌটার অনেক দুখ্খ, যাও আজকে তোমাকে সারপ্রাইস দেওয়ার ব্যবস্থা হবে …এখন থেকে সুরু..রেডি ১, ২, ৩

“তোমায় সাজাব যতনে
কুসুম ও রতনে,সাজাব হাত দিয়ে নিলুফার গলা আকড়ে আশফাক তার হেড়ে গলায় গান গাওয়ার চেষ্টা করলো ।

সত্যি আজকে তোমাকে এমন সাজানো সাজাব না..বিয়ের সময় সেজেছ বিউটি পার্লার, আজকে তোমাকে সাজাব আমি ফুলে ফুলে, তোমার সারা শরীর সাজিয়ে দিব ফুলের গয়না দিয়ে মাই ডিয়ার লাভলী ওয়াইফ ।

নিলুফা হেসে ফেলল, আল্লাহ আমারে বাচাও সুরেলা মিষ্টি কন্ঠের গায়ক আশফাক এর গান থেকে ।

ইশ ফুল এ আমার এলার্জি, তুমি কি প্রেমিক যে ফুলের মালা দিবে? হাসবেন্ড দিবে ডায়মন্ড এর নেকলেস. তাছাড়া আরিফা আর ভাবি জিজ্ঞাসা করবে তুমি আমাকে কি গিফট করছ ।

বলে দিও কালকে রাতে ডায়মন্ড এর নেকলেস গিফট করেছে ।

মিথ্যে বলব? ওরা দেখতে চাবেনা

আচ্ছা দেখা যাক, বিকাল চারটার মধ্যে আসতে চেষ্টা করব, যদি কোনো কারণে দেরী হয় তবে ফোন দিব ok ।

অফিস পৌছতে পৌছতে আজকে ও দেরী হয়ে গেল. না গাড়ি কিনতে হবে. প্রতিদিন বাস, রিকশা হয়রানি করে অনেক টাইম নষ্ট করে কাজে আসা ।

আসার সঙ্গে সঙ্গে শুনলো এরই মধ্যে বস তার খোজ করেছে দুইবার. টেনসন এ পড়ে গেল আশফাক ।

স্যার আসতে পারি বলে সঙ্গে সঙ্গে বসের রুম এ ঢুকে পড়ল, টেনসন আর উত্কন্ঠা চেপে রাখতে পারলনা ।

বসুন বসুন আশফাক সাহেব কেমন আছেন?

জি ভালো স্যার থতমত খেয়ে কোনরকমে আশফাক বলতে পারল ।

আপনার কাজ, পারফরমেন্স এ কোম্পানি অনেক খুশি. আপনার বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে, কোম্পানি এর নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে বারিধারা র একটা ফ্লাট দেওয়া হচ্ছে আর একটা আপনার ব্যবহার এর জন্য কার ।

এইযে আপনার বাড়ি আর গাড়ির চাবি বলে দুই গোছা চাবি তার দিকে বাড়িয়ে দিলেন তার বস ।

আপনার অফিস এখানে থেকে শিফট করে দেওয়া হচ্ছে বারিধারা য় আমাদের যে অফিস টা আছে সেখানে, ওখানে আপনার পজিসন জি এম ।

thank উ স্যার আনন্দ আর খুশিতে আশফাক তোতলাতে সুরু করলো ।

আজকে আপনাকে অফ দেওয়া হলো, বাসায় যান, নুতুন গাড়িতে করে স্ত্রীসহ কোথাও ঘুরতে চলে যান বলে বস একটু হাসলেন ।

হ্যাপি ম্যারেজ anniversary ।

আশফাক অবাক হয়ে বলল স্যার আপনি

এই অফিস এর সবার ইনফরমেশন আমার কম্পিউটার এ আছে .আপনার জন্মদিন, স্বরনীয় দিন এ আপনি লিখেছিলেন ম্যারেজ ডে এর দিন বলে আবার হাসলেন বস ।

ও কে আশফাক সাহেব এনজয় ইউর ডে ।

বেরিয়ে এসে প্রথম ফোন দিল নিলুফা কে

তাড়াতাড়ি একটা লাগেজে তোমার আর আমার কিছু কাপড় গুছিয়ে নাও, তৈরি হয়ে থাক.আমি আসছি, বলে নিলুফা কে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন কেটে দিল ।

নিলুফা কিছু বুজতে পারলনা ব্যপার কি , তারপর ও সে দ্রুত ব্যাগ গোছাতে লাগলো ।

নিচে এসে দেখে তার গাড়িতে ড্রাইভার বসে আছে, তাকে দেখে সালাম দিল.

তোমার নাম কি ড্রাইভার

আশফাক মিয়া স্যার ।

বল কি আমার নাম ও তো আশফাক রহমান

আচ্ছা গান আছে নাকি গান ছাড়

সখী বহে গেল বেলা ..সুধু হাসি খেলা…ক্যাসেট এ গান বাজছে
আশফাক গানের তালে তালে মাথা দোলাতে লাগলো, নিজেকে তার খুব সুখী একজন বাক্তি মনে হচ্ছে ।

আশফাক নিলুফা কে নিয়ে রওনা হলো কক্স বাজার এর দিকে. ফোন করে আগে একটা রুম বুকিং নিয়েছে. আশফাক নিলুফা এর একহাত ধরে আছে, নিলুফা তার মাথা আশফাক এর কাধে রেখে চোখ বন্ধ্য করে আছে. বিয়ের পর এই প্রথম সত্যিকার এর নিজেকে সুখী মনে হচ্ছে. আগে কোনদিন আশফাক এর ভালবাসা এভাবে সে উপলব্ধি করেনি. নিজেকে একজন ভাগ্যবতী নারী মনে হচ্ছে

স্যার দেখেন দেখেন এ বেকুব এর কান্ড দেখেন কি একটা জানালা দিয়ে আশফাক কে দেখালো ড্রাইভার. আশফাক হাসতে হাসতে গড়িয়ে পরছে । আশফাক কে কোনদিন এত টা হালকা ফুরফুরে মেজাজে কোনদিন নিলুফা দেখেনি । নিলুফার মনে যেমন আনন্দ আসল তেমনি স্বামীর প্রতি মমতা আর ভালবাসায় মনটা ভরে গেল । আজকে তার মনে বড় অনুশোচনা আসতে থাকলো । আগে স্বামীকে কত টাকা পয়সা নিয়ে খোটা দিয়েছে, বড় লোক ভাই এর সাথে তুলনা করে ছোট করার চেষ্টা করেছে, বন্ধুর ধনী হাসবেন্ড এর গল্প শুনিয়েছে, আজকে সেসব এর জন্য নিজেকে মনে মনে ধিক্কার দিল. আসলে মাজে মাজে সুখী হওয়ার জন্য অনুকুল পরিবেশ, ভাগ্য প্রাচুর্য এসবের দরকার হয় । আজকে যদি তার বস এভাবে তাকে অফ না দিত, তবে তার মনে ভালবাসা যত থাকত না কেন সে প্রকাশ করার হয়তবা কোনো স্কোপ পেতনা । সন্ধ্যে বেলায় ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরত. তখন নিলুফা না বুজে অভিমান করে ঝগড়া করত, যেমনটা আগে সে সবসময় করত ।

তবে আজকে সে মনে মনে প্রমিস করলো, আর সে কোনদিন তার স্বামীকে কোনো জিনিস এর জন্য প্রেসার দিবেনা, তাকে সবসময় সমানভাবে ভালবাসতে চেষ্টা করবে ।
গভীর আবেগে সেও হাসবেন্ড এর একটা হাত নিজের হাতে তুলে নিল ।

কি কেমন সারপ্রাইজ দিলাম..এখন খুশি তো ? এখন তো বুজতে পারছ তো আমি আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে অনেক ভালবাসি ।

কক্সবাজার এসে আশফাক বলল “চল আগে একটু বিচ টা ঘুরে আসি.
আমি আগে একটু ফ্রেশ হয়ে নেই, তুমি নিচে থেকে কিছু খাওয়ার নিয়ে আস, খেয়ে রেস্ট নিয়ে পরে বের হব ।

দুইটা ডাব কিনে এদিকে আসতে একটা সানগ্লাস পরা মেয়ের দিকে নজর চলে গেল

আফরোজা!!!..আফরোজা এখানে কি করছে ?

=====================================
জামাল মিয়া কে সুন্দর করে গোসল দিয়ে ভালো কাপড় পরিয়ে যখন সামনে আনা হলো আব্দুর রহিম এর বুক টা ভরে গেল ছেলেটা হালিমার গায়ের রং, চেহারা পাইছে. তার কোনো কিছু পায়নি, স্বভাব ও পাইছে.তার মায়ের .

আহারে হালিমা রে “আমাগো ছেলেরে কি সুন্ধর লাগের. এক্কেবারে তোর্ মত হইছিল রে বউ. হা একটা দীর্ঘ নিশ্বাস বেরিয়ে এলো তার বুকের ভিতর থেকে

রুবিনা ঘর থেকে বের হয়ে আসল ।

আপা টা এত সুন্দর, মন টা ও খুব ভালো আপা টার.

রহিম আমি জামাল কে স্কুল এ ভর্তি করতে নিয়ে যাচ্ছি আজকে ।

আপা আপনার দয়া , আমাদের মত ছোট মানুষ এর জন্য যা করলেন, আমার গায়ের সব রক্ত দিয়া দিলে ও টার শোধ হইবনা. আল্লাহ আপনাগো রে বাচাই রাখুক অনেকদিন ।

তোমাকেও যেতে হবে. চাচা র কাছে কাপড় নিয়ে পরে অস

নুতুন শার্ট পরে আয়নায় নিজেকে দেখে চিনতে পারলনা রহিম.
বাহিরে আসার পর জামাল চিত্কার দিল আনন্দে ।

“বাবা তোমারে এক্কেবারে সিনেমার হিরো গো মত লাগতেছে ।

দূর ও বেটা কি বলিস বলে লজ্জার হাসি হাসে রহিম

তোমাদের বাবা ছেলে দুজন কে অনেক সুন্দর লাগতেছে, অস তোমাদের একটা ছবি তুলে দেই ।

দুজনে কোমরে হাত দিয়ে পা বাকা করে পোজ দিল.

রুবিনা হেসে ক্যামেরা য় ক্লিক করলো

আপা আমারে একটা কপি দিয়েন এই ছবির

অবশ্যই তুমি দেখতে চাও কেমন হয়েছে ছবি ..বলে দেখালো রহিম কে

নিজের ছবি দেখে সে নিজে মুগ্ধ হয়ে গেল.

তারা উঠে বসলো গাড়িতে, গাড়ি চলতে সুরু করলো..

স্কুল এ ভর্তি হলো কে জি ১ ,জামাল এর চোখে মুখে অপার বিস্ময়, চারিদিকে কত সুন্দর সুন্দর পোলা মাইয়া. কি সুন্দর কইরা খেলতেছে ।

স্কুল থেকে তারা গেল বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স এ , জামাল আর রহিম এর জন্য কিছু শার্ট পান্ট কেনা হলো. এত এত সুন্দর কাপড় চোপড় রহিম বার বার আল্লাহ এর কাছে হাত তুলে এ অপাটার জন্য দোআ করলো

তাদের কে নিয়ে গেল শাহবাগ জাদুঘরে ..বাবা ছেলে যা ই দেখে তাতে ই বিস্ময় ।

আপা আপনি আমাদের মত ছোট মানুষদেরকে যে ভালবাসা দেখালেন .বলতে বলতে তার গলা ধরে এলো, রুবিনা চোখ ও সজল হয়ে গেল ।

মনে মনে বউ এর কথা মনে করে আবার ডুকরে কেদে উঠলো. যদি হালিমা আইজ বাইচা থাকত কত খুশি হইত. জামাল স্কুল এ ভর্তি হইছে যেটা হালিমার স্বপন ছিল, তার ও কাজ হইছে. এখন যদি বউ টা থাকত সুধু আদর যত্ন করত, কোনো কাজ করতে দিতনা. আমার সংসার আইসা বেচারী সুধু কাজ ই করলো, কোনো আদর ভালবাসা না পাইয়া মইরা ও গেল ।

হালিমা তুই কই আছস জানিনা, যেখানে থাকস বউ আমারে তুই মাফ কইরা দিস । আজকে তোর্ কাছে আমি এই কইতাছি যেটা আমি তোর্ জন্য করতাম পারিনাই, সেটা আমাগো ছেলের লাগি করমু, ওরে পড়ালিখা করাই য়া অনেক শিক্ষিত করামু ।

দুপুরে ঘরে ফিরল তারা, ঘরে ফিরে দেখে পরিবেশ গরম, পুলিশ এর গাড়ি
তারা সারা বাড়ি তোলপাড় করে ফেলছে কিসের খোজে l

কি ব্যাপার? কি হচ্ছে এখানে ? চড়া গলায় প্রশ্ন করে রুবিনা ।

বিশ্বস্ত সুত্রে আমরা খবর পেয়েছি আপনাদের বাসায় এক অপরাধী আশ্রয় নিয়েছে l

কি পাগলের মত বলছেন?

স্যার এই যে বেটারে পাইছি বলে এক থাপ্পরে রহিম কে টেনে হিচড়ে নিয়ে হ্যান্ড কাফ লাগিয়ে দিল l

আপাগো আপাগো আমারে বাচান, বিশ্বাস করেন আমি আমার বৌরে মারি নাই, আমি মারি নাই হালিমারে বলে পাগলের মত চিত্কার করতে থাকে ।

এই পুলিশ ছাড় কৈতেছি আমার বাপ রে ছাড় বলে ছোট্ট হাতে পুলিশ কে মারতে থাকে ।

সেন্ট্রি ওই ছেলে সর বলে হাত দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করাতে ছেলেটা উড়ে গিয়ে দুরে পড়ল ।

আপনার বিরুদ্ধে আমি কমপ্লেইন করব বলল রুবিনা কড়া গলায় ।

সরি দেখেন আপা আমি কি করব আমার হাতে মারতেছে দেখে আমি সরাইতে গিয়ে পড়ে গেছে ইচ্ছে করে তো ধাক্কা দেইনি আপা ।

আমাদের কিছু করার নাই, অর্ডার আছে অর্রেস্ট করে নেওয়ার. আপনি ল ইআর দিয়ে জামিন করার ব্যবস্থা করেন ।

এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হলো, পুলিশ এর রহিম কে নেওয়ার সময়. শিশু জামাল চিত্কার করে কাদছে ” কেন আমার বাবারে নিয়ে যাচ্ছে ও খালা খালাগো?

আপা আমার ছেলেটার কেউ নাই, আপনি দেইখেন ছেলেটারে . আল্লাহ তোমার কাছে সইপা দিয়া গেলাম আমার ছেলেটারে. হে আল্লাহ ।

রুবিনা পাগলে এর মত চেষ্টা করলো রহিম কে ওদের হাত থেকে ছাড়ানোর জন্য.

প্লিস এই বাচ্চা তার কথা একবার মানবিক ভাবে ভাবুন. সে মাত্র তার মাকে হারিয়েছে, আমি ১০০% শিউর সে কোনদিন তার ওয়ায়ইফ কে খুন করে নি. প্লিস আরেকবার ভেবে দেখুন

পুলিশ এর সার্জেন্ট ও অস্থির আর নরম হয়ে গেল এদের প্রতি মেয়ের সহানুভূতি দেখে.

আমার কিছু করার নাই আমি আমার ডিউটি করছি..একটা রাতের জন্য ধৈয্য ধরেন প্লিস, কালকে উকিল নিয়ে জামিনে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন l

বাবা এই সময় বাসায় নেই, বাবাকে তাড়াতাড়ি ফোন দিল. রুবিনা

বাবা তুমি খুব শিগ্রই উকিল চাচা কে নিয়ে বাসায় আস

কেন ? কি হয়েছে মা? ব্যস্ততা আর উত্কন্ঠার সাথে বললেন চৌধুরী সাহেব

ঠিক পরের দিন না ঠিক তিন দিন পরে জামিনে ছাড়িয়ে আনলো রুবিনা রহিম কে

জেলে গিয়ে সে খুব হই হল্লা করলো যখন দেখল তারা অনেক মারধর অত্যাচার করেছে রহিম কে
পুলিশ এর মার খেয়ে সে অনবরত রক্ত বমি করছে.

আপনাদেরকে বলেছি এ নির্দোষ, পশুর মত মারধর করেছেন, পুলিশ এর রোল অসহায় মানুষকে রক্ষা করা না পিটিয়ে মেরে ফেলা.যে সার্জেন্ট এরকম করেছে I swear তোমাকে আমি জেলে ঢুকিয়ে ই ছাড়ব.you must have to pay for it . you must , একটানে হাপাতে হাপাতে কথাগুলো বলে থানা ছাড়ল l

মারে এভাবে চেচামেচি করতে হয়না. কন্ট্রোল ইউরসেলফ , পুলিশ এর সাথে কেউ এরকম করে, কখনো তোর্ কি ক্ষতি করবে আল্লাহ ই জানে

এটা কি বল বাবা অসহায়, নিরীহ একটা লোক, বর্বর রা এভাবে মারধর করছে আমরা অমানবিক জিনিস দেখে ও কিছু বলবনা. বাবা আমার জীবনে পড়ালিখা র শিক্ষার সঙ্গে চেষ্টা করেছি আমার বিবেক,ও মানবতা সহ চলতে. ভয় করে কোনো অন্যায় কে প্রশ্রয় দিতে পারিনা l

পুলিশ এর কাছে এটা অন্যায় না. তারা সঠিক ইনফরমেশন এর জন্য এভাবে interrogate করে l

এটা যদি পুলিশ এর নিয়ম তাহলে এটার পরিবর্তন দরকার . তুমি চিন্তা কর বাবা, যে লোক নিরপরাধ তাকে এধরনের অত্যাচার করা টা কত টা অমানবিক l
গাড়িতে রহিম আচ্ছন্নের মত ঝিমাচ্ছে.তার চেতনা আছে কি নেই বুজা যাচ্ছেনা. রুবিনা কিছু টিসু বের করে যত্ন করে তার গালের রক্ত মুছে দেওয়ার চেষ্টা করলো

কিন্তু চেতনার মধ্যে তার অবচেতন মন সবসময় ক্রিয়াশীল ভাবে চিন্তা করছে তার ছেলে , আর এই বড়লোক ঘরের মেয়েটা আহা তার নিপুন হাতের সেবায় তার যন্ত্রণা একটু করে কমতে লাগলো..সে আস্তে আস্তে চলে গেল গভীর ঘুমের অতলে

( পরবর্তিতে )

৬৩৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সাথেই আছি ।
    ঈদ মোবারক ।

  2. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার লিখা দেখে তো আমি থ হয়ে আছি , এত লিখা ,কেমনে লিখেন, এত ধৈর্য আপনার , আমি তো রীতিমত অবাক,
    আমি পড়তে পারি কিন্তু অত লিখতে পারি না।
    তাই দু চার লাইনের কবিতাই আমার সম্বল।

  3. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    ঈদ মোবারক,
    ঈদ কেমন কাঠিয়েছেন?
    দেশে ঈদের অনেক আনন্দ, তাই না?
    সবাই মিলে মাংস কাঠা , রান্না, খাওয়া
    আর একটু খুনসুটি – কতই আনন্দ!

    ভাল থাকেন ।

    • আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

      ঈদ মোবারক
      ভাল আপনার কেমন কাটলো?
      আমি দেশের বাহিরে আছি টরনটো ২০০৪ থেকে।
      আপনার লিখা ভাল ছোট লিখায় কি সুনদর ভাব প্রকাশ।

      আমার এত বড় লিখা মনে হয়না কেউ পড়ে।
      ধন্যবাদ আপনার মত প্রকাশের জন্য।

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ভুতের গলির সেই ভূত কি ফিরে এলো ?????
    _________________________________
    শিরোনামে প্রশ্নবোধক চিহ্ন একটা দিলেই ভাল হয়।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top