Today 18 Jan 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভুলে ভরা ভালবাসাঃ গল্প-১

লিখেছেন: রিচার্ড রাসেল | তারিখ: ১৯/১০/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 512বার পড়া হয়েছে।

ভুলে ভরা ভালবাসা

আমি একটা কাজ অনেক দিন ধরেই করে আসছি। সেটা হল বিভিন্ন মানুষের ভালবাসার সম্পর্ক নিয়ে কাহিনি শোনা। প্রথমে এটা আমি শুরু করি আমার ফিল্ম এর চিত্রনাট্য বানানোর জন্য। কিন্তু মানুষের কাহিনি যেন সিনেমার কাহিনি কেও হার মানায়। আমি এখনও কাজটা করে আসছি। আমি কিছু কাহিনি শেয়ার করব। স্থান, পাত্র, নাম কাল্পনিক। কিন্তু কাহিনী গুলো সত্যি।

 

ভুলে ভরা ভালবাসাঃ গল্প-১

আকাশ আর রিনা ছোট বেলার বন্ধু। এক সাথেই স্কুল, প্রাইভেট পড়ে। ওরা যখন এসএসসি  পাশ করে আলাদা কলেজে ভর্তি হয়, তখন একটা দুরুত্ব সৃষ্টি হয়। তখন তারা একে অপরের প্রতি টান অনুভব করে এবং এর পর শুরু হয় তাদের ভালবাসা। আকাশ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসই তে ভর্তি হয় আর রিনা বরিশাল মেডিকেল কলেজে। মোবাইল এ ওদের কথা চলতে থাকে। ঈদ, সামার ভেকাশন এ ওদের দেখা হয়। চুটিয়ে প্রেম করে তখন ওরা। আকাশ যখন পাশ করে জবে ঢুকে তখন রিনার ইন্টারশিপ চলে। আকাশ ফোন দিলেও রিনা ফোন ধরে না। মাসে ১-২ বার ২-৩ মিনিটের জন্য কথা হয়। আকাশ একাকিত্ব অনুভব করে। তখন ওর কলিগ সামিরার সাথে পরিচয় হয়। সামিরা NSU থেকে BBA করে নতুন জয়েন করেছে। ওরা ভাল সময় কাটাতে থাকে। প্রায় ৭-৮ মাস পর রিনা এর ইন্টারশিপ এ কাজের চাপ কিছুটা কমে। রিনা মাঝে মাঝে ফোন দেয়, আকাশ বলে যে সে এখন মীটিং এ, নয়ত কাজে ব্যস্ত। এদিকে আকাশও আর রিনাকে ফোন দেয় না। আকাশ সামিরাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করে। এর ৩-৪ মাস পর রিনা পাশ করে আর ওর বাবা-মা ওকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। সে আকাশ কে ফোন দিয়ে বলে যে বাব-মা তার জন্য বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। আকাশ বলে যে বাবা-মার পছন্দে বিয়ে করে নিতে। সামিরার সাথে আকাশের প্রেমের সম্পর্ক হয়। রিনাও বাবা-মার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি হয়। আকাশ সামিরাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরায়, এক সাথে সিনেমা দেখতে যায় কিন্তু মাঝে মাঝে ও রিনার জন্য কেমন যেন একটা টান অনুভব করে।

 

রিনার বিয়ের আর তখন মাত্র সাত দিন বাকি। তখন আকাশ আর স্থির থাকতে পারে না। রিনাকে সে ফোন করে দেখা করতে বলে। রিনা ফোন কেটে দেয়। আকাশ রিনাকে আবার তার জিবনে ফেরত চায় টা জানিয়ে SMS করে। রিনা কোন reply দেয় না। আকাশ বুঝতে পারে যে সে রিনা কে সারা থাকতে পারবে না। সে সামিরাকে জানিয়ে দেয় যে সে রিনাকেই চায়। সামিরাও আধুনিক মেয়ে, ৩ দিনের মধ্যে নতুন আরেকটা বয়ফ্রেন্ড বানিয়ে ফেলে। বিয়ের আর মাত্র ৩ দিন বাকি আকাশ রিনার বাসায় যায় ওকে বুঝাতে যে সে জীবনের সবচেয়ে বর একটা ভুল করে ফেলেছে। একবার ক্ষমা চায়। রিনা ওর সাথে দেখা করে না। বরং ওর ভাইকে দিয়ে বলে যে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে, নইলে পুলিশ এ খবর দিবে। আকাশ রিনার বাসা থেকে চলে আসে। বিয়ের আগের দিন সে রিনাকে SMS করে – “আমি মানুষ। মানুষ ভুল করবেই। আমাকে একটা মাত্র সুযোগ দাও। আমি জীবনেও আর তোমাকে কষ্ট দিব না। ফিরে আসো please.”। রিনা ফিরে আসে না। রিনার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর দিন আকাশ রিনাকে অন্য নম্বর দিয়ে ফোন দেয়, রিনা দিয়ে ফোন দেয়। রিনা আকাশকে বলে আর জীবনেও তাকে ফোন না দিতে। আকাশ ও আর কোনদিন ফোন দেয় নি। আকাশ অনেকটা পাগলের মত হয়ে যায়। চাকুরী ছেড়ে দেয়। সে রিনার বাসার সামনে দিনের পর দিন দাড়িয়ে থাকে। রিনা কোনদিনও ওর সাথে কথা বলে না। এখন ৩ বছর পার হয়ে গেছে। আজও আকাশ প্রতিদিন রিনার বাসার সামনে দাড়িয়ে থাকে। সে শুধু চায় যে রিনা একবার হলেও এসে তার সাথে কথা বলবে। রিনা কি সত্যি ওর সাথে কোন দিন কথা বলবে? রিনার কি ওর জন্য বিন্দু মাত্র মায়া হয় না? এখানে দোষ কার আকাশের না রিনার? আকাশ কি পারবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে?

৪৮৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ২ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ০ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-১০-১৪ ০৭:৩৮:৫৭ মিনিটে
Visit রিচার্ড রাসেল Website.
banner

২ টি মন্তব্য

  1. কল্পদেহী সুমন মন্তব্যে বলেছেন:

    আসলেই কিছু কিছু মেয়েরা এতোটাই জেদি যে তখন ভালোবাসতে ভুলে যায় আর ক্ষমা সে তো অনেক দূরের কথা। ভুল দুজনই করেছে তবে রিনার উচিৎ ছিল ফিরে আসার।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    কষ্ট লাগল পড়ে। লিখেছেন ভাল। আরো লিখুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top