Today 21 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মনমোহনী বৃক্ষ-অংশ ২৪

লিখেছেন: রাজিব সরকার | তারিখ: ২৬/১১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 545বার পড়া হয়েছে।

নীলিন মাথা নিচু করে রইল।ছেলেমেয়েরা এমন সব কথা বলতে পারে,ভাবতেই পারে নি।সারাজীবন তো সবকিছু ছেলেমেয়েদের জন্যই করলেন।
-কনস্টবল,একে কি মামলায় ফাঁসানো যায়?
-স্যার অনেক।শিশু নির্যাতন,নারী নির্যাতন,পরিবার নির্যাতন।অপরাধ তো খুব গুরুতর।একটি পরিবার হচ্ছে সমাজের মূল ভিত্তি।সেই মূল ভিত্তিকেই ভালভাবে বাড়তে দিচ্ছে না।
-আচ্ছা একে হ্যান্ড-কাফ পড়াও।
একজন পুলিশ হ্যান্ড-কাফ পড়াল।স্যার বলল-চল।
এমন সময় চিত্রা বলল-স্যার একে নিয়ে গেলে আমরা বাচব কিভাবে?
-চিন্তা করবেন না চাল ডাল সব পাঠিয়ে দিব।
নীলিত কেঁদে বলল-প্লীজ বাবাকে ছেড়ে দাও।
-বাবা কান্না করে না।তোমার বাবা আবার ফিরে আসবে।তবে তাকে শাস্তি পেতে হবে।সমাজে অপরাধীরা শাস্তি না পেলে তা আমাদের সুন্দর সমাজের জন্য হেতুকর নয়।এখন তুমি বল,আমি কি করব?রেখে যাব না নিয়ে যাব।
নীলিত হাউমাউ করে কেঁদে বলল-নিয়ে যান।
-ধন্যবাদ বাবা।ইউ আর দি ট্রু সান অব দা কান্টি।
পুলিশ নীলিনকে নিয়ে বের হল।সবাই কাঁদতে লাগল।শুধু মোহনী ছাড়া।তারও কান্না করতে ইচ্ছে করছে।কিন্তু চোখ দিয়ে পানি কিছুতেই বের হচ্ছে না।
পরের দিন সকাবেলা।চিত্রা প্রতিদিন সকালে উঠে রান্না করে।কিন্তু সকাল আটটা পেরিয়ে গেল চিত্রা তবু ঘুম থেকে উঠল না।নীলিতের স্কুল আটটায়,রুপার সাড়ে আটটায় আর আর নিহাতের ক্লাস আজ নয়টায়।মোহনী রান্না রুমে গেল।কিছু একটা রান্না তো করতেই হবে।না হলে যে সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে।ভাবল খিচুড়ি রান্না করবে।চাল ডাল একসাথে দিয়ে দিলেও হল।নীলিতের স্কুলে যাওয়ার কোন ইচ্ছে দেখা যাচ্ছে না।সকালে ঘুম থেকে উঠেই ছাদে চলে গেছে।ইচ্ছেমত আকাশ দেখছে,কেউ কিছু বলছে না।রুপা এখনও ঘুম হতে উঠেনি।মনে হচ্ছে না দশটার আগে ঘুম থেকে উঠবে।মেয়েটার ঘুম একটু মনে হয় বেশিই।কালকে বিকেলেও অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছে।এমনিতে তো এত দেরি করে উঠতে পারে না,বাবার ধমুক খেয়ে সকালে উঠেছে।তাই আজ বোধহয় ঘুমিয়ে নিচ্ছে।নিহাত সকালেই উঠছে।সকালে উঠে কম্পিউটারে গেমস খেলছে।মাঝে মাঝে গান শুনছে।তাদের মধ্যে বিরাজ করছে স্বাধীনতার এক ধরণের আনন্দ আবার বাবা জেলে যাওয়ার ব্যথা।মিশ্র সুখ দুঃখ।নিহাত মাঝে মাঝে মোহনীর দিকে তাকাচ্ছে।মেয়েটার দিকে যতবার তাকায় ততবারি খুব ভাল লাগে।নিহাত রান্না রুমে গেল।
-কি দেবী,আপনি রান্না রুমে?
-দেবতারা না খেয়ে,রান্না তো করতেই হবে।
-কি রান্না করছ?
-আমার মাথা।
নিহাত মোহনীর মাথার দিকে ভাল করে তাকাল।
-কি আমার দিকে এমন হা করে তাকিয়ে আছ কেন?
-তোমার কি মাথা দুইটা?
-কেন?
-মাথা তোমার ঠিকঠাকই আছে।তবে মাথা রান্না করছ কিভাবে?
মোহনী হেসে দিল।তা দেখে নিহাতও হেসে দিল।মোহনী বলল-যাওতো।

৫৩৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ১৭১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-৩০ ১৬:১৭:৫০ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার নিকট, আপনার মনমোহনী বৃক্ষ দিন দিন ভালো লাগছে।

  2. রাজিব সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ দাদা…

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আহারে বাবারে জেলে নিয়ে গেল :-(

    গল্প ভাল লাগছে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top