Today 29 Mar 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মনমোহনী বৃক্ষ-অংশ ২৭

লিখেছেন: রাজিব সরকার | তারিখ: ১৫/১২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 490বার পড়া হয়েছে।

নিহাত নীল রংয়ের টি শার্ট আর জিন্সের প্যান্ট পড়ল।মোহনী পড়ল লাল রংয়ের শাড়ি।দুজন বের হবে এমন সময় গেটটায় কে যেন নক করল।নিহাত গেট খুলে বিস্মিত হয়ে গেল।তার বাবা সামনে দাড়িয়ে।
-মা মা বাবা এসেছে।বাবা তুমি ভাল আছ তো?
চিত্রা নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।সংশয় হচ্ছে,ভুল শুনল নাতো।সাথে সাথে রুম হতে বের হল।নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না।নীলিন তার রুমে গেল।সাথে সাথে তার ছেলে মেয়ে ওয়াইফও গেল।চিত্রা রুপাকে বলল-যা এক গ্লাস শরবত বানিয়ে নিয়ে আয়।
রুপা শরবত বানাতে গেল।
-তুমি ঠিক আছ তো।
নীলিন কোন কথা বলল না।বারবার সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছে।
-কি হল কথা বলছ না কেন?
নীলিন বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।
-ওরা কি তোমাকে মেরেছে?খুব কষ্ট হয়েছে তোমার?
তবু নীলিন কিছু বলল।চোখটা বন্ধ করল।
-ছোট মরিচটাকে এবার শিক্ষা দিতে হবে।খুব বার বেড়েছে।
নীলিন বলল-না,নীলিতকে তুমি কিছু বলবে না।ও আমার চোখ খুলে দিয়েছে।আমি তোমাদের শাসন করি।কিন্তু মাত্রাটা বোধহয় বেশি হয়ে গেছে।আমি আর কাউকে কিছু বলব না।যে যার ইচ্ছা মত চলবে।তোমরা সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিও।
চিত্রা বরের মাথায় হাত রেখে বলল-এসব কি বলছ?তুমি ওদের বাবা,তুমি ওদের শাসন করবে না তো কে করবে?
-আমি ভাল বাবা হতে পারি নি।আমি শুধু শাসনই করেছি কিন্তু ওদের ভালবাসা দিতে পারি নি।কারণে অকারণে ওদের বকাঝকা করেছি।এটা ঠিক না।যে বাবা তার ছেলেমেয়েদের ভালবাসা দিতে পারে না,তার শাসন করার অধিকার নেই।
-তুমি শান্ত হও।সারা রাত কি জেলেই ছিলে?
-জেলে ঢুকালে জেলে থাকব।আমাকে বাইরে নিয়েই ছেড়ে দিয়েছে।আমার প্রতি যাদের ভালবাসা নেই,তাই তাদের কাছে ফিরে আসতে চাই নি।সারা রাত বাইরে এদিক ওদিক ঘুরেছি।ভাবলাম,তোমাদের সাথে শেষ দেখাটা করেই যাই।আর তোমাদের শাসন করতে আসব না।তোমরা এখন হতে পুরোপুরি স্বাধীন।
এই বলে নীলিন বিছানা হতে উঠল।চিত্রা বলল-কই যাচ্ছ?
-জানি না।
-ওদের দেখবে কে?
-ওরা এখন বড় হয়েছে।নিজেদের দেখাশুনা নিজেরাই করতে পারবে।
-তাহলে আমাকেও সাথে নিয়ে চল।আমিও এখানে থাকতে চাই না।
-আমি কোথায় যাব,তার তো কিছু ঠিক নেই।নিজেই কিভাবে চলব তার ঠিক নেই ,তোমাকে নিয়ে কিভাবে চলব?
-তোমার চললে আমারও চলে যাবে।
এমন সময় তিন ভাইবোন বাবার পায়ে পড়ল।হাউমাউ করে কান্না করল।নিহাত বলল-বাবা এবারের মত আমাদের ক্ষমা করে দাও।আমরা আর তোমার কথার অবাধ্য হব না।
-উঠ পাগলেরা উঠ।
তিন ভাইবোন উঠে দাঁড়াল।নীলিন বলল-তোরা ভাল থাকিস।আমি চললাম।
নীলিন হাটতে থাকে।পিছনে পিছনে আর বাকি সবাই আসতে থাকে।গেট খুলে বের হল।
-তোরা সবাই ভিতরে চলে যা।
নীলিত বলল-না বাবা,আমরাও যাব।তুমি ছাড়া আমরাও এ বাসায় থাকব না।
নীলিন হাটতে থাকে।পাশে তার ওয়াইফ।পিছনে ছেলেমেয়ে আর মোহনী।হাটতে হাটতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল।প্রচণ্ড খিদে লেগেছে সবার।
নীলিত বলল-বাবা খিদা লেগেছে।
নীলিন বাকি সবার মুখের দিকে তাকাল।সবার চোখ মুখ শুকনা।তার নিজের পেটও যে খা খা করছে।
-তোরা সবাই বাসায় চলে যা।যেখানে আমার নিজের খাবারই নেই সেখানে তোদের খাওয়াব কি করে?

৪৭৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ১৭১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-৩০ ১৬:১৭:৫০ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগছে , নিয়মিত পরে যাচ্ছি। লিখতে থাকুন , ধন্যবাদ।

  2. রাজিব সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সহিদ ভাই…

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আহা কি ভালবাসা মমতা একে অপরের প্রতি। অনেক ভাল লাগল। ভাল থাকুন লিখতেই থাকুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top