Today 22 Jul 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মনমোহনী বৃক্ষ-অংশ ২৮

লিখেছেন: রাজিব সরকার | তারিখ: ১৫/১২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 323বার পড়া হয়েছে।

নীলিন বাকি সবার মুখের দিকে তাকাল।সবার চোখ মুখ শুকনা।তার নিজের পেটও যে খা খা করছে।
-তোরা সবাই বাসায় চলে যা।যেখানে আমার নিজের খাবারই নেই সেখানে তোদের খাওয়াব কি করে?
সবাই ফুটপাতের উপর বসে পড়ে।মোহনী বলল-আমার কাছে একশ টাকা আছে।এ দিয়ে কোন হোটেলে শুধু ডালভাত হয়তো খাওয়া যাবে।
একটি হোটেলে ঢুকল।হোটেলের নাম হোটেল ডাল ভাত।হোটেলে গিয়ে বসল।ডালভাত মনে হল অমৃত।খাবার খেয়ে বেড়াল।হাটতে হাটতে এক পার্কে ঢুকল।পার্কের মাঝখানে একটি পুকুর।পুকুরের সামনে গিয়ে বসল।বেশ বাতাস হচ্ছে।বাতাসে শরীরটা একেবারে জুড়িয়ে গেল।সারাদিন খা খা রোদে ঘুরে খুব ক্লান্ত লাগছে।সামনে একটা নৌকা।সবাই নৌকাই উঠল।নীলিন বলল-আমরা ছোটবেলায় জার্নি বাই বোট পড়েছি।আজ তা হয়ে যাক।কি বল সবাই?
চিত্রা কিছু বলল না।তার বরের মাথাটা একেবারে গেছে কিনা কে জানে?ভেবেছিল,কিছুক্ষণ হাটলেই বুঝি বাসায় ফিরে যাবে।এখন তো দেখা যাচ্ছে বাসায় ফেরার কোন নাম গন্ধই পাওয়া যাচ্ছে না।কোনদিন যাবে বলে তো মনে হচ্ছে না।
নীলিন বৈঠা দিয়ে নৌকা চালাতে লাগল।বলল-নীলিত তুমি জার্নি বাই বোট পড়েছ।
-হু বাবা।ক্লাস ফোরে ছিল।কেমন লাগছে?
-ভাল লাগছে বাবা।পরিবেশটাও খুব সুন্দর।
এভাবে সন্ধ্যা নেমে এলো।রাত্রি আটটার দিকে হোটেলে খেয়ে নিল।এরপর ফুটপাতে বসে রইল।
নীলিত বলল-বাবা আমার খুব ঘুম ধরেছে।
-তাহলে শুয়ে পড় বাবা।
-কোথায় ঘুমাব বাবা?
-আশেপাশের লোকজন কই ঘুমাচ্ছে?
-রাস্তার উপর।পলিথিন বিছিয়ে।
নীলিন কিছুটা রাস্তা পলিথিন বিছিয়ে দিল।এরপর শুয়ে পড়ল।রুপা বলল-বাবা ইট মাথায় লাগে।এছাড়া গাড়ির প্রচণ্ড শব্দ।ঘুম আসছে না।
-আশেপাশের সবাই তো এভাবেই ঘুমাচ্ছে।
এমন সময় একটা লোক রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মুখভরা কাশ নীলিনের ঠিক মাথার কাছে ফেলল।লোকটার আক্কেল বলে কি কিছু নেই?তারা ঘুমাচ্ছে,মাথার সামনে কাশ ফেলে চলে গেল।একটা থাপ্পড় মারতে পারলে ভাল হত।চোখটা মেলে আকাশে তাকাল।আকাশে পূর্ণ ছাদ।চাদের আলোয় ঝিকমিক করছে আকাশ।চোখটা বন্ধ করল।মনে হল,জীবনটা খারাপ না।বেশ ঘুম ধরছে।সারাদিন তো আর খাটনি কম হয় নি।
-এই উঠ,শালারা উঠ।শালার নতুন আমদানি।শালারা শুবি শো আমাদের জায়গায় এসে শুতে হবে কেন?
নীলিন চোখ মেলে তাকাল।ছেলেমেয়ে সহ চার পাঁচজন লোক।
-এখানে আমরা ঘুমাই ভাবেই।জায়গা ছাড়েন।
নীলিন বলল-ভাই এখানে কারও নাম লেখা ছিল না।তাই আমরা জায়গা ছাড়ব না।
-শালা মেরে তক্তা বানিয়ে দিব।মুখে মুখে কথা।
নীলিন কিছু বলতে যাবে চিত্রা থামাল।বলল-আমরা ছেড়ে দিচ্ছি।
এই বলে তারা একটু দূরে গিয়ে পলিথিন পাতল।কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়ল।ঘুম ভাঙ্গল প্রচণ্ড বৃষ্টিতে।নিহাতের মনে হচ্ছিল,কে যে পানি ঢেলে দিচ্ছে।চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে অঝোর ধারায় বর্ষণ হচ্ছে।সবাই বসে আছে।শরীরে কাঁপন শুরু হয়েছে।কিছু দিয়ে মুছবে সে জো নেই।কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি থামল।নীলিত বলল-বাবা ভোরের সূর্য,দেখ কি সুন্দর?চারদিকে আলোক রাশি ছড়িয়ে পড়ছে।

৩১৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ১৭১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-৩০ ১৬:১৭:৫০ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. আব্দুল হাকিম চাকলাদার মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালই গল্পটা।

  2. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাই আপনার
    মনমোহনী বৃক্ষ
    নিয়মিত পড়ে যাচ্ছি , ভালই লাগছে, ধন্যবাদ।

  3. রাজিব সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ…

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল ভাইয়া আরো লিখুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top