Today 25 Sep 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মনমোহনী বৃক্ষ-শেষ অংশ

লিখেছেন: রাজিব সরকার | তারিখ: ১৮/১২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 253বার পড়া হয়েছে।

নিহাত ডাকল-মোহনী মোহনী?
মোহনী আসল।
নীলিন বলল-মোহনী আমি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে খোজ নিয়েছি।এ নামে কেউ নেই।আজিমপুরে বাসার যে ঠিকানা দিয়েছিলে সেটাও ভুল।সে নামে কোন বাসা নেই।সত্য কথা বল।হু আর ইউ?
মোহনী বলল-খালু আমি মিথ্যা কথা বলেছি।আমি সরি।
-তোমার যে বিয়ে ঠিক হয়েছিল,সেটাও কি বানানো?
-না খালু।আমার চাচা চাচী এক চরিত্রহীন ছেলের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছিল।
-তোমার বাড়ি কোথায়?
-টাংগাইল,আকুরটাকুর পাড়া।
-কি করতে?
-কম্পিউটার সায়েন্সে পড়তাম।মাওলানা ভাসানীতে।
-নিহাতের সাথে আগে পরিচয় ছিল?
-না খালু।
-তাহলে ওর সাথে এখানে আসলে কিভাবে?
-নিহাত আমার অসহাত্ব দেখে বাসায় নিয়ে এসেছিল।রমনা পার্কে আমাদের দেখা হয়েছিল।
-তার মানে বলতে চাইছ নিহাতের সাথে কোন রিলেশন তোমার ছিল না এখনও নেই।
-হু।
-নিহাতের জন্য একটা মেয়ে ঠিক করে ফেলেছি।ছবিটা দেখ।আর তোমার বিয়ের ঝামেলাটা যেহেতু শেষ হয়েছে।এলাকায় যেয়ে পড়াশুনা সম্পন্ন কর।চাচার বাসায় থাকতে হবে না।আমি তোমাকে হোস্টেলে তুলে দিব।মাস মাস টাকা পাঠাব।
-হু।
-যাও।
নিহাত আর মোহনী দুজনে একসাথে রুম হতে বের হল।নিহাতের হাতে বিয়ে ঠিক হওয়া মেয়েটার ছবি।নিহাতের ইচ্ছে করল ছিঁড়ে ফেলতে।এমন বিশ্রী একটা মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করেছে বাবা মা,রুচি বলে কি কিছু নেই?মোহনী হাত হতে ছবিটা নিয়ে বলল-বাহ তোর বউ দারুণ তো।দেখতে তো একদম ঝাক্কাস।
-ঝাক্কাস না ছাই।ও ডাইনিকে আমি বিয়ে করতে পারব না।
-দেখ কপালে টিপটা অনেক সুন্দর লাগছে।
নিহাত মোহনীর হাত ধরে বলল-কিছু একটা কর।
মোহনী নিহাতের দিকে তাকাল।ছেলেটার চোখ ছলছল করছে।হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে হেসে বলল-খুব সহজ উপায় আছে।
-কি?
-পালা।বিয়ের পর বাসায় চলে আসবি।
-ভাল একটা দে।
-ভাল না লাগলে নাই।তুমি নিজে খুঁজে বের কর।
এই বলে রুপার রুমে গেল।নিহাতের খুব খুব অস্থির লাগছে।ঘুরে ফিরে মোহনীর কথা মাথায় ঘুরে ফিরে আসে।মেয়েটাকে এত ভাল লাগে কেন বুঝতে পারে না।এই রকম অস্থিরতায় কয়েকদিন গেল।শনিবার বিকেলবেলা।মোহনী আর নিহাত ছাদে দাড়িয়ে আছে।নিহাত বলল- একটা কথা বলব।
-বল।
-আমার বিয়েটা হলে তুই খুশি হবি?
প্রথমে মোহনীর মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে যায়।এরপর হাসি টেনে এনে বলল-তোর বিয়ে আর আমি খুশি হব না,তাই কি হয়?
-নিজেকে এখন আটকে রাখার সময় এখন নয়।
-মানে কি?
-প্রথমে তোর মুখের অবস্থা কি হয়েছিল,তা কি এত সহজে লুকানো যায়?আমার যে তোকে দরকার।খুব দরকার।অন্য মেয়ে তোর মত আমাকে ভালবাসতে পারবে?
-এই সব কি বলছিস?
এবার মোহনীর হাত ধরে বলল-তুই কি আমাকে সত্যিই আমাকে ভালবাসিস না?
মোহনীর চোখ ছলছল করে উঠল।বুকের ভিতরটা কেমন যেন করতে লাগল।উড়না দিয়ে মুখ ঢাকল।নিহাত ছাদ হতে চলে গেল।এই বিয়েটা তাকে ঠেকাতেই হবে।দরকার হলে বাসা হতে পালাবে।যে মেয়েকে সে ভালবাসে না সে মেয়েকে বিয়ে করার কোন মানে হয় না।
বিয়ের দিন।সন্ধ্যাবেলা।ছেলেকে সকালবেলা হতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।সারা ঢাকা শহর তন্ন করে খুঁজা হয়েছে।কোথাও পাওয়া যায় নি।মেয়ে-পক্ষ ইতিমধ্যে জেনে গেছে।মেয়ের বাবা নীলিনকে বলেছে-দেখুন ছেলে একটি মেয়েকে ভালবাসে।দিয়ে দিন না সে মেয়ের সাথে বিয়ে। আমার মেয়ের সাথে বিয়ে হয়ে গেলে কি সর্বনাশ হয়ে যেত বলুন তো?নিজের ছেলের খোঁজখবর রাখেন না কেমন বাবা আপনি?
নীলিন একটা কথাও বলে নি।ছেলেটা এমন কাণ্ড করেছে,কথা শুনা তো তার প্রাপ্য।
চিত্রা এসে বলল-মোহনী,বলতো ছেলেটা কয় গেল?
-আমি কিভাবে বলব খালাম্মা?
রাত বেজে বারটা।চিত্রা কান্না শুরু করেছে ঘন্টাখানেক।নীলিনের মনটাও যেন কেমন করে উঠল।ছেলের অমতে বিয়ে ঠিক করা কিছুতেই ঠিক হয় নি।এমন সময় নীলিন একটা চিরকুট পেল।তাতে লেখা-দেখা হোক তবে মনমোহনীর নিচে।নিজের ছেলের লেখা,তাতে সন্দেহ নেই।এটা আবার কি কে জানে?গবেট ছেলেটা একটু ভাল করে লিখে গেলেই বের করা যেত।নীলিন ডাকল-মোহনী মোহনী।
মোহনী আসল।
-দেখতো এই চিরকুটটা।
মোহনী দেখে বলল-খালু তাড়াতাড়ি বের হন।এই জায়গাটা আমি চিনি।রমনা পার্কে।
মোহনী চিত্রা আর নীলিন রিকসায় উঠল।নীলিন বলল-মামা একটু জোরে।খুব জলদি।
রিকশাওয়ালা তাড়াতাড়ি পেটেল চালাতে লাগল।খালি রাস্তা।মিনিট পনেরের মধ্যে রমনা পার্কে এসে পড়ল।এরপর ভিতরে ঢুকল।
-কোন দিকে মা?
-এই দিকে খালু।
তারা তিনজন এগোতে থাকে।কিছুদূর এগোতেই দেখে একটি ছেলে মোমবাতি জ্বালিয়ে তার সামনে বসে আছে।ছেলেটেকে চিনতে কারও ভুল হল না।যদিও আবছা আলোয় মুখ তখনো দেখা যাচ্ছে না।চিত্রা ছেলেকে ধরেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।নীলিন বলল-গাধা ছেলে কোথাকার?এখানে বসে কি করছিস?
-বাবা বিয়ে করতে এসেছি।
-এখানে বিয়ে করবি মানে?মাথা ঠিক আছে তোর।
-বাবা আমি যাকে ভালবাসি প্রথম দেখা এই মনমোহনীর নিচেই হয়েছিল।
-এখানে বসে থাকলে মেয়েটা আসবে?
-এসেছে তো বাবা।
-কই?
-তোমরাই তো নিয়ে এলে।
নীলিন মোহনীর দিকে তাকাল।মোহনী লজ্জা পেল।নীলিন মোহনীর হাতটা তার ছেলে হাতে দিয়ে বলল-মা,আমার পাগল ছেলেটাকে তুমি দেখে রেখ।
এরপর দুজনে বাবা মাকে সালাম করল।নীলিন বলল-সুখী হও মা।সুখী হও।
চিত্রা বলল-এবার তাহলে চল।
নিহাত বলল-মা তোমরা যাও।আজকে আমি আর মোহনী মনমোহনীর নিচে কাটাই।সকাল হলেই এসে পড়ব।
নীলিন বলল-আচ্ছা থাক।সকাল হলেই আসিস।
এরপর চিত্রা ও নীলিন বাসায় চলে এলো।মোহনী মনমোহনীর নিচে একটা চাদর বিছাল।এরপর দুইজন পাশাপাশি শুইল।মোমবাতিটা নিভিয়ে দিল।মোহনী বলল-দেখ,কি সুন্দর জোনাকির আলো?
জোনাকির আলোয় মনমোহনী বৃক্ষকে লাগছে মায়াবী।এলোমেলো বাতাস বইছে।নিহাত মোহনীর দিকে তাকিয়ে বলল-সবচেয়ে সুন্দর লাগছে কি বলতে পারবে?
-কি?
-তোমাকে।তোমার চিরচেনা অপরূপ মুখ।
তাই শুনে মোহনী হেসে উঠে।নিহাত মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে।মনে মনে ভাবে,এভাবে যদি অনন্তকাল কেটে যেত,তবে বেশ হত!

২৪০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ১৭১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-৩০ ১৬:১৭:৫০ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    শেষটাও বেশ ভাল লাগল। ধন্যবাদ। এমন সুন্দর গল্প আরো চাই।

  2. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রথম পাতায় দুটি পোস্ট , নীতিমালা সমর্থন করে না।

  3. রাজিব সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    সহিদুল ভাই,আপনার সাথে একমত…এটা আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল…আমি দুঃখিত…ধন্যবাদ সবাইকে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top