Today 25 May 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মর্নিং স্টার – হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড (কাহিনী সংক্ষেপ)

লিখেছেন: মরুভূমির জলদস্যু | তারিখ: ৩০/১১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 486বার পড়া হয়েছে।

কদিন আগে পড়ে ছিলাম হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের “মর্নিং স্টার”বইটির নিয়াজ মোরশেদের বাংলা অনুবাদ। হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের অন্য বইগুলির মত এই বইটিও চমৎকার লাগলো।

কাহিনী সংক্ষেপঃ

মিশরের নিঃসন্তান ফারাও থিবিতে থেকে মিশর পরিচালনা করেন। তার রানী আহুরা কিংবা অন্যান্য উপপত্নিরা কেউই কোনো সন্তান জন্ম দিতে পারেনি।

ফারাও এর সৎ ভাই মেস্ফিস নগরীর প্রশাসক “কুমার আবি”। কালো ও বিশালদেহী আবি, ফারাওকে কোনো রকম সংবাদ না দিয়েই তার জাহাজ নিয়ে থিবিতে এসে হাজির হয়। জাহাজের পাটাতনে বসে জাদুকর জ্যোতিষী কাকু আবিকে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানায়। এ সময় আবির সেনাপতি ফারাওয়ের সাথে দেখা করে ফিরে এসে আবিকে জানায় ফারাও তার সাথে দেখা করার অনুমতি দিয়েছে। আবি তার সেনাপতি ও কাকুকে নিয়ে আলোচনা করে রাতের আঁধারে ফারাও এর প্রাসাদে আক্রমন করে ফারাওকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করার। কিন্তু জাদুকর জ্যোতিষী কাকু তার বিচক্ষনতার সাহায্যে আবিকে বিরত রাখে আক্রমণ থেকে। কিন্তু আবির এক দাসী মেরিত্রা, লুকিয়ে শুনে ফেলে এই সব কথা। আর রাতের আঁধারে জাহাজ থেকে পালিয়ে ফারাওএর কাছে গিয়ে সমস্ত কথা জানিয়ে দেয়।

সমস্ত কথা জানার পরেও ফারাও আবিকে ক্ষমা করে দেন। এবং কথা দেন যদি তিনি নিঃসন্তান থাকেন তাহলে আবি ও তার ছেলেদের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষনা করবেন। কিন্তু যদি ফারাও এর ছেলে বা মেয়ে হয় তাহলে আবিকে তাদের আনুগত্ত মেনে নিতে হবে।

রানী আহুরা ও ফারাও দেবতা আমেনের মন্দিরে একটি সন্তানের জন্য প্রার্থনা করে। রাতে রাণী স্বপ্নে জানতে পারেন তিনি একটি কন্যা সন্তান লাভ করবেন, মেয়েটির নাম রাখতে হবে নেতের-তুয়া বা ভোরের তারা। দেবতা আমেন বলে যে, শিশুটি তারই সন্তান, তিনিই শিশুটির পিতা। তাই স্বর্গের দেব-দেবীরা শিশুটিকে দেখে রাখবে বিপদে আপদে। আর শিশুটির সাথে দিয়ে দেয়া হবে শিশুটির দ্বিতীয় স্বত্যাকে বা “কা”কে। এই “কা” সর্বদাই শিশুটিকে রক্ষা করবে সমস্ত বিপদ থেকে। নিদৃষ্ট সময়ে রাণী আহুরা নেতের তুয়ার জন্ম দেন, এবং মেয়ের জন্মের পর থেকে তার শরীর খারাপ হতে থাকে। ১৪ দিন পরে মারা যান রাণী আহুরা।

এদিকে নেতের-তুয়া যেদিন জন্ম নেয়, সেই একই দিনে আমেনের মন্দিরের প্রধান রক্ষক মার্মিসের স্ত্রী আসতির কোলে জন্ম হয় একটি ছেলে শিশুর। মার্মিস ছিলো মিশরের আদি এক ফারাও বংশের শেষ বংশধর। এই বংশের নতুন এই শিশুটির নাম রাখা হয় রামেস।

রাণী আহুরা মারা যাবার পর রাজকুমারী তুয়ার লালন পালনের ভার দেয়া হয় রামেসের মা আসতির কাছে। তার কাছেই এক সাথে বড় হতে থাকে রামেস ও তুয়া। তারা যখন কৈশরে পা দেয় তখন একটি কুমিরের হাত থেকে রামেস তুয়াকে বাঁচায়। তারপর তারা আরো একটু বড় হলে রামেস চলে গেল অস্ত্র চালনা শিখতে, সৈনিক হতে। আর রাজকুমারী তুয়া শিখলো রাষ্ট্র পরিচালনার কলা কৌশল। তুয়া যৌবনে পদার্পণ করলে ফারাও এক বিশাষ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেয়েকে রাণী হিসেবে ঘোষণা করলেন।

এবার বিভিন্ন রাজপুত্র ও অভিজাত জমিদাররা তুয়ার পাণীপ্রার্থী নিমন্ত্রিত হয়ে এলেন ফারাও এর প্রাসাধে। কিন্তু তুয়ার কাওকেই স্বামী হিসেবে পছন্দ হয় না, কালন সেই ছোট্ট বেলাতেই তার খেলার সাথী রামেসকে ভালোবেসে ফেলে সে। ইতমধ্যে রামেসও দক্ষ্য সৈনিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু ফারাও চাইছিলেন তুয়া যেন কেশ রাজ্যের যুবরাজকে স্বমী হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। এদিকে আবার রামেসকে নিয়গ করা হয় কেশ যুবরাজের রক্ষি প্রধান হিসেবে।

এরপর একটি অনুষ্ঠানে সকলের সামনেই কেশ যুবরাজর অপমান করে মারেসকে, এবং একপর্যায়ে লড়াই বেধে যায় দুজনের। লড়ায়ে নিহতো হয় কেশ যুবরাজ ও তার দেহরক্ষিরা। এদিকে এই লড়াই দেখে অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পরেন ফারাও। পিতা ফারাও অজ্ঞান হয়ে পরায় বিচারের দায়িত্ব এসে পরে তুয়ার উপর। তুয়া বুদ্ধি করে রামেসের সাথে বাছাই করা সেরা দুই হাজার সৈন্য দিয়ে কিছু বিশেষ উপহার আর শোক বার্তা পাঠা কেশ রাজার কাছে। শোকবার্তায় বলা হয়, লড়ায়ে কেশ যুবরাজ মারা গিয়েছে, এবং যে সৈনিক কেশ যুবরাজকে মেরেছে তার বিচার করার জন্যই তাকে দিয়ে এই বার্তা পাঠানো হলো। রাজা যা বিচার করে রায় দিবেন সেই মোতাবেকই রামেস কে শাস্তি দেয়া হবে। রামেসের সাথেই কেশ যুবরাজের মমি করা মৃতদেহও পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু রামেসের সাথে গোপনে আলাপ করে তুয়া জানিয়ে দেয়। নাপাতার কেশ রাজ্যের বৃদ্ধ রাজাকে যুদ্ধে হারিয়ে রাজ্য দখল করার জন্য বাছাই করা দুই হাজার সৈন্যই যথেস্ট, তাছাড়া আরো কিছু সৈন্য রামেসের সাথে যোগ দেবে পথিমধ্যে। রামেসও তুয়াকে কথা দেয় সে তার স্বধ্য মত চেষ্ঠা করবে নাপাতার কেশ রাজ্য দখল করে নিতে। তখনই তারা দুজন তুয়া ও রামেস পরস্পরকে ভালোবাসার কথা জানায়, এবং প্রতিজ্ঞা করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবার।

পরে ফারাও জ্ঞান ফিরে পেলেও অবদ শিশুর মত আচরন করতে থাকে। আর এই সুযোগে তুয় লড়াইয়ের পরদিনই রামেস কে পাঠিয়ে দেয় কেশ রাজ্যে। বেশ কিছুদিন পরে ফারাও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। সুস্থ হয়েউ তিনি জানতে চান সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে। সব কিছু শুনে তিনি মেয়ে তুয়ার বুদ্ধিতে অভিবুত হয়ে যান। এবং আবারো মেয়ের জন্য জামাই খুঁজতে শুরু করেন। কোনো লোককেই যখন তুয়া স্বামী হিসেবে পছন্দ করছে না তাই ফারাও ঠিক করেন তুয়াকে নিয়ে একটি রাজকিও সফরে বের হবেন। এর ফলে হয়তো কাওকে সে স্বামী হিসেবে পছন্দ করতে পারে। নির্ধারিত দিনে অল্প কিছু সৈন্য সাথে নিয়ে ফারাও, তুয়া, তুয়ার দাইমা আসতি আর তার স্বামী মার্মিস বেড়িয়ে পরেন সফরে। অনেক নগর ঘুরতে ঘুরতে এক সময় তাদের কাফেলা এসে উপস্থিত হয় ফারাও এর সত ভাই আবির প্রাচীর ঘেরা নগরী মেস্ফিসতে। ফারাও এর সাথে ছিলো মাত্র পাঁচশত সৈন্য, তাই আসতি ও মার্মিস নিষেধ করেন নগরে প্রবেশ করতে। কিন্তু ফারাও তাদের কথা না শুনে তার আর একদাসী মেরিত্রার কথা মত নগরীতে প্রবেশ করেন। কুমার আবি ফারাও ও তার লোকদের স্বাদরে অভ্যাত্থনা জানায় তার প্রাসাদে, কিন্তু রাজকুমারি তুয়া নীল নদের পারে ছোট্ট একটি প্রাসাধ পছন্দ করে থাকার জন্য। ফারাও তার অল্প কিছু দেহ রক্ষি নিয়ে প্রাসাদে অবস্থান করেন আর বাকি সৈন্যদের থাকার ব্যবস্থা হয় অনেকটা দুরে।

এদিকে একটি অনুষ্ঠান শেষে আবি ফারাওয়ের কাছে প্রস্তাব করে রাণী তুয়াকে বিয়ে করার। এই প্রস্তাবে ফারাও রেগে গিয়ে আবিকে আটক করার নির্দেশ দেন। আবিকে আটক করার পরেই মার্মিস ও আসতি আবারো ফারাওকে পরামর্শদেন সেই রাতেই নগরী ছেড়ে রওনা হয়ে যাবার, কিন্তু ফারাও কিছুতেই রাজি হয় না। এর মধ্যেই দাসী মেরিত্রা ও জাদুকর জ্যোতিষী কাকু চক্রান্ত করে আবিকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। সেই সাথে কাকু ফারাও এর একটি মোমের ছোট্ট মূর্তি তৈরি করে তাকে জাদু করে মেরিত্রার সাহায্য নিয়ে। সেই মোমের মূর্তির পা আগুনে গলিয়ে ফারাওকে পঙ্গু করে ফেলে, এবং শেষ পর্যন্ত ফারাও মারা যান।

রানী তুয়া, আসতি ও মার্মিস তাদের সাথে অল্প যে কজন সৈনিক ছিল তাদের নিয়েই ফারাওএর মৃতদেহ সাথে করে নগরী ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চেষ্ঠা করে। কিন্তু আবি ও তার সৈন্যারা বাধা দেয়। ধিরে ধিরে মার্মিস কোণঠাসা হয়ে পরে, মারা যেতে থাকে তার সৈন্যরা, আর সেই সাথে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয় তারা। শেষ পর্যন্ত পিছাতে পিছাতে তারা যখন প্রাসাদের একটি চুড়ায় আশ্রয় নেয় তখন দেখা যায় তুয়া আর আসতির সাথে জীবিত একমাত্র সৈনিক মার্মিসই আছে। মার্মিস তাদের কাছ থেকে শেষ বিদায় নিয়ে ঝাপিয়ে পরে শত্রুর উপরে এবং বীরের মত যুদ্ধ করতে করতে মারা যায়। তুয়াও ছিলো যুদ্ধ স্বাজে সজ্জিত। তাই তার যুদ্ধ মুর্তি দেখে আবির সৈন্যরা ভয় পেয়ে যায়, করণ তখন তুয়াকে একটি অপার্থিব আলো ঘিরে রেখেছিলো। আবি তুয়া আর আসতিকে প্রাসাদের চূড়ায়ই আটকে রাখে আর বলে যত দিন না তুয়া আবিকে বিয়ে করতে রাজি হবে ততো দিন পর্যন্ত এই খানেই আটকে থাকতে হবে কোনো খাদ্য বা পানিয় ছাড়াই।

আসতি আর তুয়া সেখানেই ছয় দিন আটকে থাকে। ছয় দিনের আসতি একটি মন্ত্র উচ্চারণ করে, যা আসতিকে শিখিয়ে দিয়েছিলো রানী তুয়ারই মা “আহুরার” আত্মা। এই মন্ত্র উচ্চারণের সাথে সাথেই রানী তুয়ার সাথে দেবতা আমেনের দিয়ে দেয়া তুয়ার “কা” জেগে ওঠে। “কা” দেখতে হুবহু তুয়ারই মতো । “কা”এর কথা মত তুয়া আর আসতি নদীতে ঝাঁপ দেয়। “কা” থেকে যায় রানী তুয়ার যায়গায় আবিকে বিয়ে করতে।

রাত্রিতে যখন আসতি তুয়ার “কা” কে জাগিয়ে তোলে তখন আবি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে ফারাও এর আত্ম তাকে এসে বলছে- রানী তুয়া তাকে বিয়ে করবে। কিন্তু একদিন মার্মিসের পুত্র রামেস ফিরে আসবে, তার সাথে থাকবে একজন ফকির। যেদিন আবির সাথে তাদের দেখা হবে সেদিনই হবে আবির জীবনের শেষ দিন। এই স্বপ্ন দেকে আবি ছুটে আসে কাকুর কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শুনতে। কাকু বলে আবির স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন নয় বরং ভালোস্বপ্ন। কাকু আবিকে পরামর্শ দেয় সকাল হলেই যেন আবার রানী তুয়ার কাছে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার। কারণ ফারাও স্বপ্নে বলেছেন তুয়া আবিকে বিয়ে করতে রাজী হবে।

পরদিন মন্দিরের পুরোহিতগনের সামনেই তাদের বিয়ে হয়। এর পর থেকেই শুরু হয় আবির জীবনের শান্তির অবসান। আবি সখনই রানী তুয়াকে কাছে পেতে চায় তখনই দেখতে পায় সেখানে রানী নয় তার সামনে আছে ফারাও এর মমী করা মৃত দেহ। আবির নাওয়া-খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এক সময় আবি জানতে পারে সে বিয়ে করেছে নেতের-তুয়ার দ্বিতীয় স্বত্তা “কা”কে। “কা” আবিকে দিয়ে প্রচুর কাজ করাতে থাকে। সারাটা দিনই তার কেটে যেতে থাকে রাজ্যের বিভিন্ন কাজে আর যুদ্ধে। রাতেও শান্তি নেই, ফারাও এর আত্মাকে দেখতে পায় তার বিয়ে কারা স্ত্রীর মাঝে। অল্প দিনেই তার শরীর ভেঙ্গে যায়, বুড়িয়ে যেতে থাকে দ্রুত। সময়ের সাথে সাথে কাকু আর মেরিত্রাও জানতে পারে রানী তুয়া নয়, তাদের সাথে আছে তুয়ার “কা”। তার জীবনের শান্তিও হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে থাকে। আর কাকুর স্ত্রী, একসময়ের ফারাও এর দাসী মেরিত্রাকে রানী তার নিজের খাস দাসী হিসেবে নিয়গ দেয়। ফলে সারাটা দিন মেরিত্রাকে রানির সেবা করতে হয়। রাতেও সে ঘুমাতে পারেনা ফারাও এর আত্মার জ্বালায়। এভাবেই যারা যারা অপরাধী সকলকেই শাস্তি দিতে থাকে “কা”।

অপরদিকে রানী তুয়ার আর আসতি নদীতে ঝাঁপ দেয়ার পর যখন তাদের জ্ঞান পিরে এলো তারা নিজেদের একটি সুন্দর জাহাজে আবিস্কার করলো। জাহাজ চলতে চলতে একসময়একটি বনের কাছে নদীর ধারে এসে থামে। দুজন মুখোসধারী তুয়া আর আসতিকে নিয়ে নিচে নেমে আসে। আসতিকে একটি খাবার আর প্রচুর মুক্তা ভরা থলে এবং তুয়াকে একটি স্বর্ণের বীণা দিয়ে দুই মুখসধারী জাহাজে ফিরে যায়। জাহাজ যখন চলতে শুরু করে তখন খনিকের জন্য দুই মুখসধারীকে মুখস বিহীন অবস্থায় দেখতে পায় তুয়া আর আসতি। তারা দেখতে পায় দুই মুখসধারী আর কেউ নয় মৃত ফারাও আর মার্মিসের আত্মা।

কিছুক্ষণ পরে যখন বনে রাত নেমে এলো তখন আসতি আর তুয়া একটি আগুণের ধারে বসে কিছু খাবার খেয়ে শুয়ে পরল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই বন থেকে হিংস্র সব প্রাণীর চিৎকার ভেসে আসতে রাগলো। তুয়া আসতির পরামর্শে তার সোনার বীণা বাজীয়ে গান শুরু করে। গান যথন শেষ হয় তখন সব প্রাণিই একে একে চলে যায়। পরদিন সকালেই তারা হাঁটে শুরু করলো বনের ভিতর দিয়ে। ঘন্টার পর ঘন্টা তারা বনের ভিতরে হাঁটতে হাঁটতে একসময় বনের শেষ প্রান্তের একটি মরুভুমীতে এসে উপস্থিত হয়। আরো কিছু দূর মরুভুমির ভিতরে হেঁটে তারা একটি মরূদ্যান পেলো। সেখানে তারা পানি আর খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরে। একসময় একটা ডাক শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায়। দেখে তার সামনে কাঁটাময় একটি লাঠিতে ভরদিয়ে দাঁড়িয়ে আছে লম্বা সাদা চুল-দাড়ি ওয়ালা এক শীর্ণদেহী অতি বৃদ্ধ। বৃদ্ধ জানায় তার নাম কেফার সে মরুভূমিতেই থাকে, ফকির মানুষ খুধা লেগেছে তার, একটু খাবার চায়। এই কেফার আসলে একজন দেবতাদের দূত, যাকে পাটানো হয় সাহায্যের জন্য। তুয়া আসতিকে বলে খাবার দিতে। দেখতে দেখতে কেফার আসতির কাছে থাকা সবটুকু খাবারই খেয়ে ফেলে। কেফার খাওয়া শেষ কেফার তাদেরকে নিকটেরই একটি নগরীতে আপাতত আশ্রয় নিতে বলে। কেফারের সাহায্যেই তার একটি ঘর ভাড়া নেয় শহরে। কেফার চলে যাবার আগে বলে যায় যেকোনো বিপদে জানলার পাশে দাঁড়িয়ে তুয়া যদি বীণায় তিনবার শব্দ করে কেফার বলে ডাকে তাহলে সে এসে হাজির হবে। আর তুয়াকে সাবধান করে দেয় সে যেন কখনোই কারো সামনে তার মুখ না দেখায়।

কেফারের কথা অনুযায়ী আসতির মুক্তার ব্যবসা আর তুয়ার গান ভালোই চলছিলো। তুয়া একটি পর্দার আড়ালে থেকে গান গাইতো। একদিন নগরীর রাজা ছদ্মবেসে আসে তুয়ার গান শুনতে। গান শুনে সে ধিরে ধিরে পর্দার দিকে এগুতে থাকে আর পর্দাটি তার সাথে ধাক্কা রেগে পরে যায়। রাজা তুয়ার রূপ দেখে পাগল হয়ে যায়। সেদিন রাতেই রাজার লোক এসে তুয়া আর আসতিকে রাজার প্রাসাদে নিয়ে যায়। রাজা তিন দিনের সময় দেয় তুয়াকে বিয়েতে রাজী হওয়ার। শেষ পর্যন্ত তুয়া কেফারকে ঢাকে। কেফার আর তার সাথে থাকা মরূসৈনিকরা সমস্ত নগরী লন্ডভন্ড করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। রাজাকে হত্যা করে আসতি আর তুয়াকে মুক্ত করে নিয়ে আসে। তারপর কেফার মরূভূমির সর্দারদের হাতে তাদের সপে দেয়। সর্দারদের নির্দেশ দেয় তাদেরকে নাপাতায় পৌছেদিতে। এরপর সর্দাররা তাদের বিশাল বাহিনী নিয়ে তুয়া আর আসতিকে সাথে করে দিনের পর দিন মরূভূমি দিয়ে চলতে থাকে। অনেক দিন চলার পরে একদিন এসে হাজির হয় নাপাতা নগরীর সামনে। এখানে সর্দাররা বিদায় চায় তুয়ার কাছে। তুয়া তাদের প্রচুর মুক্তা আর অন্যান্য উপহার দিয়ে বিদায় দেয়।

পরদিন ভোরে তুয়া আর আসতি নাপাতায় প্রবেশ করে। সেখানে রামেস তখন বৃদ্ধকেশ রাজাকে যুদ্ধে হারিয়ে নাপাতার ক্ষমতা দকখল কেরে নিয়েছে। রামেসের সাথে আসতি আর রানী নেতের-তুয়া দেখা করে আর তাকে তাদের সমস্ত কাহিনী খুলে। ওদিকে নেতের-তুয়ার “কা” আবিকে বাধ্যকরে রামেসের সাথে যুদ্ধকরার জন্য রওনা হতে। যুদ্ধের ময়দানের কাছে যখন রামেস আর আবির বাহিনী অবস্থান করে তখনই আসতি নেতের-তুয়ার “কা”কে নেতের তুয়ার ভিতরে ফিরে যেতে বলে। একইসাথে কেফার উপস্থিত হয় আবির সৈন্যদের মাঝে। আবি বুঝতে পারে এই সেই ফকির যার কথা ফারাও তাকে স্বপ্নে বলেছেন। কেফার দেবতা আমেনের পক্ষ থেকে সমস্ত সৈন্যদের আদেশ দেয় কেউ যেন রামেসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে। আর বলে মেরিত্রা, কাকু ও আবিকে বন্দীকের নিয়ে যেতে আমেনের মন্দিরে। পুরহিত আর সৈন্যরা ভয় পেয়ে যায়। তারা মেরিত্রা, কাকু ও আবিকে বন্দীকের পরদিনই নিয়ে যায় আমেনর মন্দিরে রামেস আর রানী নেতের-তুয়ার কাছে। এখানেই সকলের সামনে রানী নেতের-তুয়া জানায় যে, তাকে নয় বরং তার “কা”কে বিয়ে করেছিলো আবি।

আমেনের মন্দিরের একটি নিভৃত কক্ষ থেকে হঠাত করেই বের হয়ে আসে কেফার, আর মেরিত্রা, কাকু ও আবিকে সেই নিভৃত কক্ষে দেবতাদের বিশাল মূর্তির সামনে ঠেলে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিতে বলে। কেফারের কথা মতই পাপীদের ঠেলে দেয়া হয় অন্ধকার কক্ষে। আর বাহিরে পুরহিতরা রানী নেতের-তুয়া আর আবির বিয়ের ব্যবস্থা করে।

পরদিন ভোরে আসতি যখন নিভৃত কক্ষের দরজা খোলে তখন দেখতে পায় মেরিত্রা, কাকু ও আবির খত-বিখত মৃতদেহ পরে আছে দেবতাদের বিশাল মূর্তির পদতলে।

 

৪৮২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের মরুভূমির জলদস্যুর নিমন্ত্রণ।
সর্বমোট পোস্ট: ৯৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৯৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৪-৩০ ১৫:৫৮:৫৮ মিনিটে
Visit মরুভূমির জলদস্যু Website.
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    কিছুক্ষণ পরে যখন বনে রাত নেমে এলো তখন আসতি আর তুয়া একটি আগুণের ধারে বসে কিছু খাবার খেয়ে শুয়ে পরল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই বন থেকে হিংস্র সব প্রাণীর চিৎকার ভেসে আসতে রাগলো। তুয়া আসতির পরামর্শে তার সোনার বীণা বাজীয়ে গান শুরু করে। গান যথন শেষ হয় তখন সব প্রাণিই একে একে চলে যায়।

    খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন, ধন্যবাদ।

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    বাহ
    বেশ সুন্দর তো ।
    উপস্থাপনা সুন্দর

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পটা ভালই
    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top