Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মল্লিকা – আমার প্রথম প্রেম

লিখেছেন: tum | তারিখ: ০২/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 723বার পড়া হয়েছে।

আমি এর আগে ভেবেছি আমার জীবনের ঘটে যাওয়া রোমান্টিক ঘটনা নিয়ে কিছু লিখবো । কিন্তু দ্বিধা দন্দে তা আর হয়ে ওঠেনি । হতে পারে আমার সাবকন্সাস মাইন্ড এটা মেনে নিতে পারেনি । তবে ইচ্ছেটা বরাবরই ছিল । সেই ইচ্ছে থেকেই এই লেখা । এই ঘটনা আমার জীবনের প্রথম রোমান্স সম্পর্কিত। অবশ্য একে প্রেম বলা যায় কি না তা পরে বিবেচ্য । তখন আমি সবে মাত্র লেখার জগতে প্রবেশ করছি। পাঁচটা লেখি পাঠক কলামে একটা আসে। ভয়ংকর অবস্থা। পত্রিকা স্টলে গিয়ে উল্টে পাল্টে দেখি লেখা আসলো কি না। পত্রিকাওয়ালা আমার দিকে রাগ চোখে তাকিয়ে থাকে। পড়াশুনা করি আর এক আধটা টিইশনি । তখন আজকের কাগজ নামে একটি পত্রিকা বের হতো । ভালই চলতো বাজারে। সেই পত্রিকার মঙ্গলবারে প্রেম একটি লাল গোলাপ বিভাগ নামে একটা বিভাগ চালু ছিল। সেখানে অনেকেই নিজের মনে কথা কাব্যিক ভাষায় লিখে পাঠাতো । আমিও চিন্তা করলাম লিখবো সেখানে। আমার স্বপ্নিল নামের শুরু সেখানেই। প্রথম লেখা দিলাম প্রিয় সপ্তর্ষি শিরোনামে । এটা ছিল একজন প্রেমিকের লেখা একটা চিঠির মতন। ছাপা হলো। আমি যে মেসে থাকতাম সেই মেসের ঠিকানা দেয়া থাকতো । পরের লেখাটাতে নাম পরিবর্তন করে তন্দ্রা দিলাম এবং ঠিক করলাম এই নামেই এখানে লিখবো। পনেরোটার মতো লেখা এখানে আছে। যাই হোক দ্বিতীয় লেখা ছাপা হবার পরের সপ্তাহ। একটা অচেনা মেয়ের চিঠি পেলাম। চিঠির প্রেরকের স্থানে লেখা মল্লিকা হাতীবান্ধা লাল মনিরহাট । ভেতরে খুলে সুন্দর হাতের একটা চিঠি পেলাম। সেখানে বন্ধুত্তের আহ্বান। সাড়া না দিয়ে পারি বলেন! তখন মোবাইলের এত চল ছিল না। বলতে গেলে মেসের কারোই মোবাইল ছিল না। ফলে প্রতি সপ্তাহে চিঠি লিখতাম আমরা দুজন। আমি বৃহস্পতিবার হলেই গেটের কাছে থাকতাম। কখন পিয়ন আসবে। কারণ ওর চিঠি সাধারণত এদিনই আসতো । আর এলে যেন আমার হাতেই পরে তার জন্য এগিয়ে থাকতাম। অন্য বন্ধুর হাতে পরলে নানা ঝামেলাতে পরতে হতো । কি সুন্দর সেই চিঠি লেখার দিনগুলি ছিল । মনের আবেগকে এত সুন্দরভাবে সাজাতে শিখেছিলাম মল্লিকার কাছ থেকেই। আমি ওর নাম দিয়েছিলাম গ্রাম্য বালিকা। তাই ও প্রতিটি চিঠির নিচে লিখত ইতি তোমার গ্রাম্য বালিকা। ওর সাথে আমার চিঠি দেয়া নেয়া প্রায় দেড় বছর চলেছিল । এর মধ্য আরও কয়েকজনের সাথে পরিচয় হয় তবে সে কথা অন্য লেখায় বলবো। এখন মনে হয় ও আমাকে ভালোবাসতো । তিন বছরের মাথায় ওর বিয়ে হয়ে যায় । আমাকে সরাসরি কিছু বলেনি। তবে সুযোগ দিয়েছিলো অনেক। আমি সাহস পাইনি । বেকার জীবনে বিয়ে করার অনেক জ্বালা । আর তাছাড়া আমি হিন্দু আর ও মুসলিম পরিবারের মেয়ে। ফলে নিখাদ বন্ধুত্বটাকেই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত পারিনি। ছেলে আর মেয়েতে বন্ধুত্ব হয় না। যা হয় তা মোহ । এটা একসময় কেটে যায়। আর তারপর বেরিয়ে আসে ভালোবাসা । বিয়ের অনেকদিন পর্যন্ত ও ফোন দিত । আমি আগ্রহভরে জিগ্যেস করতাম । ওর স্বামীর কথা নতুন সংসারের কথা। ও সব বলতো আমাকে। একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। এক ভালোবাসা দিবসে আমি ওকে এক বাক্স লাল গোলাপ আর গাঁদা ফুল পাঠিয়েছিলাম । আমাদের দেয়া নেয়া বলতে এটুকুই । তবে বড় ভালো মেয়ে ছিল । ওর একটা ছবি ছিল আমার কাছে। অনেক বছর পরে ওটা ছিঁড়ে ফেলেছি। আরেকজনের কথায়। আমার বিশ্বাস মল্লিকাও আমার ছবিটা ছিঁড়ে ফেলেছে। আর না ছিঁড়লেও ক্ষতি নেই । ছবি তো গেলো কিন্তু ভেতরের ছবিটা ছিঁড়বে কে?

 

 

 

 

 

 

৭৯০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৭৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-২৭ ১৬:০২:৫৮ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    অসম প্রেমের করুন পরিণতি
    হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ
    তাই চিন্তা ভাবনা করে আগানো উচিৎ
    অনেক ভাল লাগা।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রেসের গল্প ভাল লাগল।

  3. বিএম বরকতউল্লাহ্ মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।

  4. আঃ হাকিম খান মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখাটি চমৎকার হয়েছে। মনে হচ্ছিল যেন আমি অনুভব করতে পারছি। শুভেচ্ছা আপনাকে।

  5. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    লিখা টি চমৎকার
    বেশ ভালো লাগলো পড়ে

    শুভ কামনা রইল
    শুভ সন্ধ্যা আপনাকে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top