Today 18 Jul 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মাজার এর পাশে কবরস্থান টি (একটি কাল্পনিক কাহিনী )

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১৪/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 484বার পড়া হয়েছে।

পাপী তাপী হোসনা পাপী ওরে মন ভোলা
করুনার দ্বার যে তাহার সবসময় খোলা।
ওরে মিছে রে তোর্ টাকা কড়ি মিছে বাহুবল
দিন থাকিতে করে নে তুই যা কিছু সম্বলএকজন খুব মিঠা গলায় গানটা গাইছে মাজার এর বাহিরে।সে কান খাড়া করে শুনছে।

সিগারেট এর তেষ্টায় বুকটা কাঠ হয়ে আছে। তাই বাহিরে এসে দাড়িয়েছে সে ।

মাকে নিয়ে আজকে ইন্দিরা রোড এর এই মাজার এ এসেছে । এই মাজার এ আসা হুজুর এর তাবিজ নেওয়া পানি পড়া এগুলি তার খুব ই অপছন্দ। মায়ের জোরাজুরিতে এখানে আসা।

আমারে নেওয়ার মত কেউ নাই বাবা। আমারে দিয়া তুই চলে আসবি। দুই ঘন্টা পরে আবার নিয়ে আসবি। মার চালাকি যাওয়ার পর বলবে একটু বসনা রে বাবা কি সুন্দর মিলাদ হবে দেখিস। সিগারেট খেতে খেতে আশেপাশে কবরস্থান টা ঘুরে দেখছে। এখানে জায়গা টা বেশ আলো আধারী ধরনের। তাকিয়ে একটা কবরের দিকে দৃষ্টি চলে যায় তার। কবর এর উপরে সাইন বোর্ড এ লিখা একটা মেসেজ

“তোমার যেকোনো দুখ ব্যথা এখানে এসে বল মনটা কে হালকা কর।

সুন্দর হাতের লিখায় আয়াতুল কুরচি লিখা আছে নিচে।

বাহ অদ্ভূত ভারী। চিন্তা করছে কি বলা যায়।

মজা করে ই বলল বিরক্ত লাগছে মায়ের সাথে বুরজক মাজার এ বসে থাকতে। বাসায় গিয়ে খেলা দেখতে চাই। মজা করে হাসতে থাকে ফোন এ এক বন্ধু কে ফোন করে কথা বলা শুরু করলো।

একটা লোক এসে বলে “আপনার নাম কি ভাই। নাম বলাতে বলল আপনার আম্মা আপনাকে ভিতরে ডাকছে।

ভিতরে আসতে মা বললেন তুই এখন বাসায় চলে যা বাবা। আমাকে পরে রিয়াদ এর মা পৌছে দিবে।মায়ের আরেক তবলিগ সহযোগী।

একটু চমত্কৃত হয়ে বাহিরে এসে মাজার এর সামনে বসলো আবার একই কবর এর সামনে। তবে সে মায়ের কথায় রাজি হলনা। মায়ের শরীর ভালো না। যদি অসুস্থ হয়ে যায় সেজন্য মাকে নিয়ে ফিরতে চায় বাসায়।তার একবন্ধু র সাথে ফোন এ কথা বলতে থাকে। পাকিস্তান ইন্ডিয়া র ক্রিকেট খেলা। সে বার বার বলছে খেলা দেখবি না। তার বন্ধু সাপোর্ট করে পাকিস্তান আর সে ইন্ডিয়া। খেলা প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে দুজনের তুমুল তর্ক।

দুইজনে খুব প্রানের দোস্ত জানের দোস্ত। ক্রিকেট খেলা প্রসঙ্গ আসলে দুইজন সবসময় তুমুল ঝগড়া করে। একপর্যায়ে সে রেগে গিয়ে বলে

তোরে থাপ্পর দিয়ে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিব। ফাজিল কোথাকার বলে উত্তেজনায় ফোন কেটে দেয়।

দশ মিনিট পরে আবার সেই বন্ধুর। ফোন ধরতে কথা বলে উঠলো আন্টি। মাহবুব তার বন্ধু না।

আন্টি চিত্কার করছেন হাপিয়ে কথা বলছেন। বাবা আমি কাওকে পাচ্ছিনা কল করার জন্য এম্বুলেন্স ডাকলাম এখনো তো আসেনা বাবা উচ্ছসিত হয়ে কেদে উঠলেন।

কি হয়েছে আন্টি গলা কাপতে থাকে ওর।

বাবা ও ছাদ থেকে পড়ে গেছে একটু আগে। ও আমার মাহবুব। আমি নিচে ওরে নিয়ে এম্বুলেন্স এর জন্য ওয়েট করছি বাবা।

ওহ মাগো লাফ দিয়ে সে উঠে দাড়ায়।

মার শরীর যেই খারাপ।মা যে আর কয়দিন বাঁচে। টেনশন নিয়ে ভাবতে থাকে।

এই প্রথম প্রার্থনা করে মায়ের শরীর এর জন্য মাহবুব এর জন্য। এখনি এখান থেকে পালাই ভাবে । .

মায়ের পাশে বলে বন্ধুর বিপদের কথা এখনি যেতে হবে। মা ও তাড়াতাড়ি উঠে। যাওয়ার জন্য।

উঠতে ঘুরে পরে যায়। মাকে নিয়ে আসতে হলো হাসপাতাল এ বন্ধু কে দেখতে যাওয়ার আগে।

আল্লাহ আমার মাকে বাঁচিয়ে দাও এইবেলায়।মাকে লাইফ সেভের মাস্ক পরিয়ে রাখা হয়েছে দুইদিন হলো।

মনে অস্থিরতা চলে আসে। দৌড়ে আজ আবার আসে একই মাজারে সেই কবর এর সামনে।

চিত্কার করে বলে তোমার ক্ষমতা দেখতে চাই আবার। আমার মাকে বাঁচিয়ে তোলো।

হাতে মাথা রেখে কাদতে থাকে অসহায়ের মত।

এরপরে ও একসপ্তাহ পার হয়েছে। এখনো মনে মনে আশা করছে তার মা শিগ্রী সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে। দুর্বল সময়ে আমরা কাওকে বিশ্বাস করতে চাই .আমাদের বেদনা যন্ত্রণা গুলি আরেকজন এর কাধে দিতে চাই যাকে আমার চেয়ে সবল নির্ভরযোগ্য মনে করি কিন্তু আসলে মিরাকেল বা অলৌকিক কতুটুকু অলোকিক সেটা ভাবে।হয়তবা ঘটনা সম্পূর্ণ কাকতালীয় কিন্তু দুর্বল মুহুর্তে মানুষ তাই বিশ্বাস করে যা তাকে সাহায্য করবে বিপদ মোকাবিলা করতে। তার মনে বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে সত্যি এই মাজারে অলোকিক ব্যাপার আছে।

৪৬৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

২২ টি মন্তব্য

  1. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    অফিস যাচ্ছি — ফিরে এসে পড়ে নেব ।।

  2. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    sundor kahani

    shuvoccha.

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      কাশেম ভাই কি খবর ? অনেকদিন পর আপনার কমেন্টস দেখলাম। আপনার মত প্রানবন্ত কবি ,মানুষ এত নীরব হয়ে গেল কেন ? বেশী বেশী করে পোস্ট করুন। মিস করছি আপনার কবিতা।ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। শুভকামনা রইল।

  3. তৌহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া মন্তব্যে বলেছেন:

    এক নিমিষে পড়ে নিলাম। কাহিনীটা ভালো লেগেছে সাথে কথাগুলো।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      তৌহিদ ভাই আপনারা পুরান লেখক কোথায় থাকেন বলেন তো ? আপনাদের একশ ক্যান্ডেল দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়না। অনেক ভাল লাগছে এখন আপনাকে পেয়ে। ।ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। শুভকামনা রইল।

  4. মিলন বনিক মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর এবং সাবলীলভাবে মানুষের মনের অভিব্যাক্তিটুকু অবলীলায় ফুটে উঠেছে….চমৎকার…

  5. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    ঘটনা কিন্তু মাথার উপ্প্র দিয়ে গেল আপি। তবে বলার ভঙ্গি ভাল ছিল

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      আকাশ আমায় শিক্ষা দিল উদার হতে ভাইরে (কবিতার অংশটুকু সুকুমার রায় এর। আবার আমার লেখা কবিতা মনে করে ভাল হয়নি বলে যুদ্ধ শুরু করে দিবেন না মাওলা ভাই। )
      হক মাওলা।
      আমার লেখা উন্নত করতে হবে তাইরে
      নাহলে আর চলছেনা গোলাম মাওলা ভাইরে।

      যাক ভাইয়া নিশ্চিত হলাম বলার ভঙ্গিটা অন্তত ভাল লেগেছে। .কিন্তু এই লেখায় বলার ভঙ্গিটা আসলে ভাল হয়নি। .এ আমার মন্তব্য। তারপর ও খুশি হলাম মন্তব্যে। আজ কে থেকে দেখি ভালভাবে লিখতে চেষ্টা করব।

      অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। শুভকামনা রইল।

  6. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    তোমার গল্প গুলো একেবারে সাধারণ সাবলীল আর সুন্দর
    খুব ভাল লাগতেই হবে

  7. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    এ আমার প্রিয় রেবা দা কেমন আছে? আপনার প্রশংসায় মন ভরে যায়। বিষন্নতা দূর হয়ে যায়। অনেক খুশি হই আপনার কমেন্টসে। ধন্যবাদ রইল অসংখ্য। ভাল থাকবেন কেমন।

  8. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লিখেছেন #লেখক

  9. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    কিবেপাৱ আৱজু আপা যে সবাইকে বাত্তি দিয়া খুঁজতাছেন ?

  10. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগলো। শোভা কামনা ৱইলো

  11. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    অসুবিধা কি? মন্তব্য করলে। …প্রথম আলোতে দেখবেন এক একটা পোস্ট এ প্রচুর অনর্থক মন্তব্য থাকে। যখন দুই বন্ধু কথা বলে কিছু অপ্রাসঙ্গিক কথা বা মন্তব্য হতে পারে। যত বেশী মন্তব্য হবে ব্লগ তত প্রানবন্ত হয়। আপনি ও শুরু করুন। অন্তত সর্বোচ্চ মন্তব্যকারী তো হবেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাদের দুজনকে।

  12. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লিখেছ আপু। ভাল লাগল অনেক। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু কথায় আছে না।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top