Today 18 Oct 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মাটির পুতুল

লিখেছেন: দ্বীপ সরকার | তারিখ: ২৮/০৩/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 378বার পড়া হয়েছে।

জব্বার সাহেব মেলায় যাবার প্রস্ততি নিচ্ছিলেন।  জব্বার সাহেবের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলেটা ছোট, নিতু। বয়স ৪ বৎসর।  আর মেয়ে জিতু নিতুর চেয়ে তিন বৎসরের বড়। সাত বৎসর বয়স । দুই জনই বাবার সাথে  মেলায় যাবার বায়না ধরলো।  জব্বার সাহেব আদর করে দুজনকে দুই কাঁধে নিলেন । নিতুকে ডান কাঁধে আর জিতুকে বাম কাঁধে। মাটির রাস্তা। বাড়ি থেকে মেলা খুব বেশি দূরে নয়। তাই জব্বার সাহেব হেঁটেই মেলায় চললেন। চার পাশে ইরি ধানের সবুজ শ্যামল মন মাতানো রং। নিতু আনন্দে আত্নহারা। এমনিতে শিশুরা বাবা, দাদা,নানা,র কাঁধ পেলে তো নাওয়া খাওয়া ভুলে যায়। তার ওপর মেলা বলে কথা। সব মিলিয়ে নিতু জিতু খুশিতে আনন্দে বাবার কাঁধে লাফাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা মেলায় পৌঁছলো। জব্বার সাহেব কাঁধ থেকে দুজনকেই নামিয়ে ভীড়ের মধ্যো হাঁটা শুরু করলেন।  এটা সেটা কেনা শুরু করলেন । সামনে  নানান রঙের মাটির পুতুল দেখতে পেলো নিতু। নিতুর তো মাথা খারাপ। পুতুল দেখলে নিতুর আর কিছু চাইনা। বাবার হাত টেনে ওদিকেই নিয়ে যাবার চেষ্টা করলো। জিতু একটু বড় তাই নিতুর বায়নার সাথে জিতুও বল্লোঃ আব্বু পুতুল নিয়ে দাও। নিতু দেখো পুতুল নেয়ার জন্য হাত টানছে। জব্বার সাহেব সুন্দর ও মন কাড়া কারুকাজ দেখে দুজনকে দুটি পুতুল কিনে দিলেন। নিতুকে একটি লুঙ্গির কারুকাজ মন্ডিত ছেলে পুতুল আর জিতুকে একটি শাড়ীর কারুকাজ মন্ডিত মেয়ে পুতুল কিনে দিলেন ।  দুই ভাই বোন ছেলে আর মেয়ে পুতুল দিয়ে খেলবে। এর পর জব্বার সাহেব আরো কিছু কিনলেন । মাছ -মাংস, চিড়া -মুড়কি, মিঠাই – মন্ডাই, বেলুণ,ঘুড়ি আরো প্রয়োজনীয় কি কি সব।  আকাশে মেঘের গুড় গুড় শব্দ শুনে বেশি সময়ক্ষেপণ না করে নিতু,জিতুকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলেন। এবার হেঁটে নয় ঘোড়ার গাড়ীতে চড়ে বাড়ি ফিরলেন। নিতু যতটা শান্ত ততটাই দুষ্ট। বাড়ীতে ফিরতে না ফিরতেই পুতুল নিয়ে উধাও। সাথেকার  আর আর খেলার সাথীদের সাথে কখন এভাবে হারিয়ে যায় কেউ টের পায়না। অনেক খুঁজে ফের নিতুকে পায়। নিতু কেবলি ক,খ শিখছে। কথা এখনো খুব স্পষ্ট হয়নি। জিতু ক্লাস ফোরে পড়াশোনা করে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে। জিতুই স্কুল থেকে এসে নিতুকে সামলায়। মা জোলেখা একটু রাগীত প্রকৃতির। তাই নিতুকে মাঝে মধ্যে ইঁচড়ে পাকা বলে আচ্ছামত থাপড়ায়। নিতু জিতু ফুরসুত পেলেই দুই ভাই বোন পুতুল দিয়ে বিয়ে বিয়ে খেলে। নিতু পুতুলের মুখে মধ্যে মিশেলে পানি ও ভাত গুঁজে দেয়। খাও সোনা, খাও। পুতুলের গায়ে কাপড়ের টুকরো দিয়ে লুঙ্গি পড়িয়ে একা একাই আহলাদে হাসে। পুতুল খেলা নিয়ে থেকে থেকে দুই ভাই বোনের মধ্যে মারামারিও জমে বেশ। মা এসে দুজনকেই চর মেরে মারামারি থামিয়ে দেয়।  জিতুকে হাতের কাজ করার জন্য একটু বেশি শাসন করে।

মেলার তিন দিন পর। বসন্ত কালের দুপুর। ঠাঁ ঠাঁ রোদ। নিতু কখন পুতুল নিয়ে বেরিয়েছে কেউ দেখেনি। বাবা জব্বার সাহেব ছোটো মোটো চাকুরি নিয়ে ব্যস্ত। সকালে যায় বিকেলে আসে। মা গৃহিণী সংসারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। জিতু স্কুলে যায়।  এই সুযোগে নিতু পুতুল নিয়ে উধাও। ইদানিং মেলার পুতুল পেয়ে ক,খ শিখেছিলো সেটাও ভুলে গেছে। পড়ার কথা বললে নাক কানে তুলে হিক হিক করে হাসে।
মা জোলেখা বেগম অনেকক্ষণ ধরে খুঁজে খুঁজে সেই বটতলার ভয়ঙ্কর জায়গা থেকে ধরে নিয়ে আসলেন।
আনার সময় রাস্তার মধ্যেই খানিকটা পিট চাপড়ালো নিতুর। নিতু কাঁদতে কাঁদতে আসলো। জোলেখা বেগম বুঝে নিলো এই পুতুলই এদেক সর্বনাশ করবে। পুতুলগুলো পুসকুনিতে ফেলে দেবে বলে মনে মনে ভাবছে আর স্বামীর জব্বার সাহেবকেও খুব বকছে। ‘ এই মদ্দাটা ছাওয়াল গুলোকে নষ্ট করবে তাই এই সব পুতুল টুতুল কিনে দেছে, আর পারি না বাপু।  ” এর মধ্যে জিতুও স্কুল থেকে আসলো। বৃহস্পতিবার দুইটা বাজতে বাজতেই আসে। জব্বার সাহেবও লাঞ্চ করার জন্য বাড়ি আসলো। জোলেখা বেগম স্বামীকে দেখে আরো চটে উঠলো। ‘ মদ্দা মেলায় পুতুল ছাড়া আর কিছু আছলো না ” এ্যখন পড়া শোনা ঘুঁটে খা ” । জব্বার সাহেব এমনি তে বৌকে ভয় পায়। জিতুও মাকে ভয় পায়। এমন সময় জোলেখা বেগম জিতুর চুলের ঝুঁটি ধরে বলে, ‘ এই তোরকেরে পুতুলটা কই নিয়ে আয়তো আজি এ্যার কেল্লা ফতে করমো ‘ জিতু কাঁদতে কাঁদতে নিতুরটা এবং ওর নিজেরটা সহ দুই পুতুলই খাটের নিচ থেকে নিয়ে এসে মা,র হাতে তুলে দিলো। জিতুর পুতুল আনা দেখে নিতু ওর বোনের চোখ মুখ খামচাতে লাগলো। আর অস্পষ্ট ভাষায় পুতুল দাও পুতুল দাও বলতে লাগলো। এর মধ্য জোলেখা বেগম দুই পুতুল বাড়ির পাশের পুসকুনিতে এক ঝটকায় দূরে নিক্ষেপ করে ফেলে দিয়ে আসলো।
নিতুটা ওর মায়ের পা ছাড়ছিলোনা। শক্ত করে ধরেছে যেনো পুতুল ফেলে দিতে না পারে। তারপরেও শিশুদের মনের চাহিদা আর চোখের কান্নার দিকে না তাকিয়ে পুতুল দুইটা ফেলে দিয়ে আসলেন। জব্বার সাহেব রাগে গদ গদ করলেও মুখে কিছু বলার সাহস করলোনা। জিতু আর নিতু পুসকুনির পাশেই দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ওদের চোখে মুখে নিদারুন অবোধ শিশুর প্রলাপ।

লেখাঃ ১০/৩/১৫ইং

৩৬২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
জন্মঃ প্রকৃত নাম সরকার শহিদুর রহমান। ছদ্ম নাম দ্বীপ সরকার। জন্ম ১৯৮১ইং, ১লা মার্চ। মুসলিম পরিবারে। বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন গয়নাকুড়ি গ্রামে। পিতা,মৃত হাবিবুর রহমান। দশ/বারো বৎসরে পিতাকে হারাই।  মাতা মোছাঃ আছিয়া বেওয়া। চার ভাই। পাঁচ বোন। ভাইদের মধ্যে ৩য়। শিক্ষাঃ গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শিক্ষায় হাতে খড়ি। তারপর ওখান থেকে একই এলাকার দাড়িগাছা দারুসসালাম দাখিল মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়া হয় । এখানেই শিক্ষার মুল ধারা শুরু।  ৪র্থ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বরাবরই ক্লাস ফার্স্ট এবং গোটা স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নাম্বার অর্জন করি। দিন রাত সমান করে পড়ার টান ছিলো। পড়া থেকে উঠিনি কোন সময়।স্কুল থেকে এসেই বই হাতে।শতবার ডেকে ডেকে ভাত খাওয়ানো। সেজন্য অনেকের বকা খেয়েছি। মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত একটানা রাত জেগে পড়েছি। এরকম কত রাত কাটিয়েছি বইয়ের ওপরে  তার গননা করা মুশকিল। তকে খেলাধুলার প্রতি কোন আকর্ষন ছিলোনা এখনো নেই। স্কুলের সকল ছাত্র ছাত্রী,শিক্ষক,এলাকার সকলেই মেধাবি ছাত্র ভাবতো, এবং সম্মান করতো। একবার ৯৯% ভোট পেয়ে এজিএস নির্বাচিত  হয়েছিলাম। এদিকে গান গজল হামদ নাত গাইতাম, কবিতা লিখতাম বলে সকলে শিল্পী এবং কবি বলে ডাকতো। গান গেয়ে মন জয় করতাম সকলের । বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে দিয়ে গান,হামদ নাত গেয়ে নিতো স্যারেরা। ৬ষ্ট/ ৭ম শ্রেণী থেকে কবিতা, গান, গজল রচনা করে অনুষ্ঠানে বলতাম। এখান থেকেই ১৯৯৫ ইং সালে ১ম বিভাগে দাখিল ( মেট্রিক) পাশ করি। আশানুরুপ রেজাল্ট হয়নি বলে স্কুলের শিক্ষকগন মন ভিজাতে পারেনি। আরো বড় স্বপ্ন ছিলো তাদের। প্রতি বৎসরে আমাকে চারটি করে পুরস্কার দিতো। ক্লাসের প্রথম,সমগ্র স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর, গান গাওয়া, রেগুলার স্কুলের জন্য। এর পর নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৯৮৭ইং সালে জেনারেল সেকশনে ৩য় বিভাগে এইচ এস সি পাশ করি। কিন্ত কাঙ্খিত ফলাফল না হওয়ায় চলমান স্বপ্নের ছন্দপতন ঘটলো। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে গেলো। তারপর সংসারে কিছুটা অর্থের দ্বৈন্যতা দেখা দিলো সংসারের ঝামেলা মাথা নিয়ে গাইবান্ধা জেলার কামদিয়া নুরুল হক ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হই এবং ১৯৯৯ইং সালে এখান থেকে ২য় বিভাগে গ্রাজুয়েশন সম্পুন্ন করি। এর পর আর পড়াশোনার দিকে যেতে পারিনি। অদম্য সাহস এবং মেধা থাকার পরেও অর্থ দ্বৈন্যতা আর সামনের দিকে এগুতে দেয়নি। তার পর ২০০১ ইং সালে একই গ্রামের তহমিনা খাতুনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই । বর্তমানে এক মেয়ে এক ছেলে। মেয়ে,শান্তা মারিয়া শানু এবং ছেলে, মেশকাত। সাহিত্যে আগমনঃ ছোটবেলা থেকে একটু একটু করে লিখলেও তা বড়সড়ো করে রুপ নেয় বগুড়া লেখক চক্রের সাথে যোগ দিয়ে। মুলত এখানেই অনেকের সঙ্গে পরিচয় ঘটে এবং স্থানীয় পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লেখা বের হতে থাকে। এসময় " কুয়াশা" নামে এক লিটিল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছিলাম। কবিতার ফোল্ডারও বের করেছিলাম দুটি। এর পর ধীরে ধীরে ব্লগ ফেসবুক,অনলাইন অনেক সাইটে পদচারনা। অভিজ্ঞতাঃ গ্রাজুয়েশন শেষ করে ২০০৫ ইং সালে একটি বেসরকারী সংস্থায় মনিটরিং এবং অডিট অফিসার পদে চাকুরিতে যোগদান করি। এখানে প্রায় আট বৎসর চাকুরি করার পর শারিরিক অসুস্থতার কারনে আর চাকুরিতে যেতে পারিনি। এই দীর্ঘ আট বৎসর চাকুরির চাপে সাহিত্য থেকে দুরে ছিলাম। কিন্ত সয়নে স্বপনে জাগরনে তিলে তিলে কবিতাকে ভালবেসেছি এবং মাথা থেকে তাড়িয়ে দিতে পারিনি একেবারে। প্রকট ইচ্ছা শক্তি আমাকে দীর্ঘ আট বৎসর পর হলেও কবিতার কাছে নিয়ে এসেছে। চাকুরির সুবাদে দেশের প্রায় ৬০টি জেলাসহ অনেক থানা,গ্রাম,ঐতিহাসিক স্থান,পর্যটন এলাকা ভ্রমন করার সুযোগ হয়েছে।
সর্বমোট পোস্ট: ১৪৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৭১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৯-৩০ ১৫:১৩:৩৮ মিনিটে
Visit দ্বীপ সরকার Website.
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    মাটিএ পতুল চমৎকার একটি লিখা
    বেশ ভাল ভাব ভাবনা
    শুভ কামনা রইল

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল ভাবনার লেখা

  3. জসিম উদ্দিন জয় মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার গল্পটা ভালো লিখেছেন । আসলে বাচ্চাদের সাথে এই রুপ আচরন করাটা ঠিক হয়নি । গল্পে বাচ্চা দুটির মায়ের আচরন ছিলো ভয়ানক । আপনি খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন ।

  4. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    নিজের ভাবনাগুলো চমৎকারভাবে গল্পে উপস্থাপন করেছেন । সাথে শিশুদের প্রতি সামাজিক আচরণ করাটা যে জরুরি সে ব্যাপারেও সচেতনতার বিষয়টি উঠে এসেছে । ভালো লেগেছে গল্প ।

  5. দ্বীপ সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    শুভেচ্ছা সতত।

  6. দ্বীপ সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সকলকে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top