Today 18 Dec 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণ আর বিষ খেতে চায় না।

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ২২/০৪/২০১৬

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 255বার পড়া হয়েছে।

 

দেশে এক ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। রাজনীতি না হয় বাদই দিলাম।রাজনীতির কথা বলতে গেলেই কারো না কারো চক্ষুশূল হতেই হয়।যেন পক্ষ বিপক্ষের কুরুক্ষেত্র।আবার রাজনীতি নিয়ে সত্য ভাষণ দিতে গেলেও খড়গ নেমে আসে। এটা এক মহা বিরক্তিকর অনুসঙ্গ। আমি শিশু কিংবা পাগল কোনটাই নই। বয়স বিবেচনায় শিশু বলার সুযোগ আর নেই। তবু সব জেনে শুনে রাজনীতি পরিহার করে দেশের বিরাজমান ভীতিকর এক প্রসঙ্গ নিয়েই লিখছি। আর এই লেখাতেও  রাজনীতির গন্ধ পেলে গুম কিংবা খুনের হুমকির প্রয়োজন নেই।স্বেচ্ছায় কারাবরণে প্রস্তুত আছি।

বলছিলাম ভীতিকর অবস্থার কথা।এইগুলো কী হচ্ছে? যদিও নতুন কিছু নয়।খাদ্য-দ্রব্যে  ভেজাল আদিকাল থেকেই চলে আসছে। যুগের পরিবর্তনে শুধু কৌশলটা পাল্টে গেছে। বলছি ঢাকা শহর সহ গোটা দেশের কথা। এখন তাজা সবজিতে বিষ। ফলমূলে বিষ। চাউলে ভেজাল।সুস্বাদু মিষ্টিতে বিষ।মাছে বিষ। মাংশে ভেজাল।  শিশু খাদ্যে বিষ।পানিতে ভেজাল। সর্বোপরি জীবন রক্ষাকারী ওষুধেও ভেজাল ! এই সবই সংবাদপত্রের নিত্যদিনের খবরাখবর।কোনটাই বিরোধীদলের বক্তব্য নয়। এই নিয়ে ওদের মাথা ব্যথাও নেই। কারণ নিজেরাই বলে বেড়ায় ওরা এখন গৃহপালিত !

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, খোদ ঢাকা শহরেও  এই ভেজাল আর বিষ প্রয়োগ এখন দুষিত  রাজনীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।রাজনীতির বিষ প্রয়োগে না হয় সহিংসতা বাড়ায়। পক্ষ বিপক্ষ মারামারি করে। কাটাকাটি করে। হরতাল ডাকে। গাড়ি ভাংচুর হয়। আগুনে মানুষ পোড়ে। গাড়ি পোড়ে। ইদানিং বৃক্ষও কর্তন হয়। আর গুম-হত্যা সে তো সব আমলেই দেখেছি।আবার দিন শেষে দুই পক্ষ মিলে-মিশে ছেলে মেয়ের বিয়েও দেয়।তখন আর ডান-বাম কিংবা রাজাকার কোনটাই মনে থাকে না।

কিন্তু খাদ্যে বিষ প্রয়োগে? আমরা কীটনাশক খাই। ফরমালিন খাই। এতে ক্যান্সার হয়। কিডনি লিভার নষ্ট হয়। শ্বাসকষ্ট, এজমা, ব্রোঙ্কাইটিস হয়। নিউমোনিয়া, স্কিন ডারমিটাইটিস, আমাশয় ও  রক্তামাশয় সহ আরো জটিল রোগ দেখা দেয়। এইভাবে  চলতে থাকলে কী হবে? একদিন  হয়তো শুরু হবে গণমৃত্যু। না হয় গণ পঙ্গুত্ব। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে এই দেশ ও  জাতি। একদিন এ জাতি হবে পঙ্গু জাতি। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশিত সোনার বাংলা হবে পঙ্গু বাংলা।

মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী আপনি হয়তো থাকবেন না। কিন্তু আপনার কোনো উত্তরসুরী  রাজনীতি করার জন্যে একটি মেধাবী কর্মীও  খুঁজে পাবে না।কারণ এর প্রধান শিকার আমাদের শিশুরা।

আইন শৃঙ্খলার অবনতি, রাস্তায় যানজট  নিয়ে মানুষের জীবন এমনিতেই নাভিশ্বাস! গত কয়েক দিনের খবর পড়ে আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে আবেগ থামিয়ে রাখতে পারছি না। এই যেন ‘মরার উপর খারার ঘা’ ! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও তেমনই ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস দিয়ে এই অসহনীয় যন্ত্রণার কথা জানাচ্ছেন নগরবাসী।

পেয়ারা কিংবা তরমুজ খেয়ে ভয়ানকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন অনেকেই প্রতিদিন। প্রতিদিন ভিডিও সহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে এইসব ভেজাল খাদ্য উত্পাদন ও সংরক্ষণের।  আঁখের রসের পরিবর্তে ময়দা ও কেমিক্যাল রং মিশিয়ে কী ভাবে পাটালি গুড় উত্পাদন করা হয় তা প্রকাশিত হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। এই গুলোই খেয়ে যাচ্ছে প্রতিটি সাধারণ মানুষ ! রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে বানাচ্ছে গরুর দুধ!

এ কেমন অবস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! ভাবতেও গা শিউরে ওঠে! কত অসহায় দেশের মানুষ! কোথায় যাবে মানুষগুলো? কে করবে এর প্রতিকার? এ ধরণের সামাজিক অপরাধ আর কতদিন গ্রহণযোগ্য হবে? এটা অসহ্য!  অসহনীয় যন্ত্রণা।  একে নিন্দা জানাবার ভাষাও  জানা নেই!

তাই আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ এসব বন্ধে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিন।জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে রেখে কোনো রাজনীতিই রাজনীতি নয়। রাজনীতি মানুষের জন্যে। নিয়ন্ত্রণহীন খাদ্যবাজারকে দ্রুততার সঙ্গে কঠোর নজরদারির আওতায় নিয়ে আসুন।তা না হলে সামনে ভয়ংকর বিপদ।

আমি বলছিনা  সরকার কোনো পদক্ষেপ  নিচ্ছে না।অপ্রিয় হলেও  সত্য টাকার জোরে, পেশীশক্তির কারণে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অসাধু সদস্যদের দাপটে এবং রাজনীতির দোহাই দিয়ে খালাস পেয়ে যাচ্ছে ওই দুষ্কৃতিকারীরা। তাই এরা পুনরায় অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। এদের শক্ত গাঁথুনি এখনই ভেঙ্গে দিন।

বিশ্বের অনেক দেশেই খাদ্যে ভেজালকে কঠোর হস্তে  দমন করা সম্ভব হয়েছে।আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে ভেজাল রোধে কেন্দ্রীয়ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান।ইংল্যান্ডে রয়েছে ফুড সেফটি কমিটি।আমাদের  বিএসটিআই কী করে?

আইন আছে, আইনের কঠোর ও  সঠিক প্রয়োগ চাই।  আপনিও পারবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনার দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আপনার সামনেই বলেছিলেন  ‘বাঘে ধরলেও ছাড়ে, কিন্তু শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়েন না’। মাননীয় জননেত্রী, জনগনের বৃহত্তর স্বার্থে আপনি একবার ধরেই দেখুন। জনগণও আপনার পাশেই থাকবে।

২৫৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top