Today 17 Oct 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মা, আজ লিখছি তোমাকে মন প্রাণ উজাড় করে

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৮/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1649বার পড়া হয়েছে।

আজ খুব লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে মা তোমাকে মন প্রাণ উজাড় করে। তোমার অপারেশন থিয়েটার এর সামনে বসে লিখছি এই চিঠি মা। তাও আমার শরীর নয় ,যা এখানে উপস্থিত তা আমার মন। শুনেছি আজ তোমাকে নিয়ে আসা হয়েছে হাসপাতাল এ। তোমার অজান্তে দুইবার স্ট্রোক হয়েছে ডাক্তার এর বক্তব্য। সিডেটিভ এর প্রভাবে হয়ে আছ তুমি আছন্ন।মুখে মাস্ক এই অবস্থায় তোমাকে বড় অচেনা মনে হচ্ছে আমার মা।কোনদিন মাগো তোমাকে চিঠি লিখিনি। কোনদিন তোমার জন্য করা বলতে যা বুঝায় তা করতে পারিনি সিডেটিভ এর আচ্ছন্নতা সরিয়ে মনে হলো একবার তাকালে আমার দিকে । তুমি কি টের পেলে মা আমার মন আত্মা এখানে তোমার কাছে ই পড়ে আছে। তুমি ও মনে হলো আমাকে চেনার চেষ্টা করছ। অনেক স্মৃতি ভেসে উঠছে এখন মনের কোণে। তোমার কাছে থেকে শোনা অনেক মজার গল্প মনে পড়ে যাচ্ছে। কিভাবে তুমি বাবার স্ত্রী হলে সেই গল্প। বাবাকে একদিন জিজ্ঞাসা করলাম কেন মাকে বিয়ে করেছ বা কি দেখে। বাবা মজা করে বললেন তোর মা ইংলিশ পাস করে বি এ পাস করেছে। অর্থ বলল তোমাকে নাকি কঠিন ইংলিশ ট্রান্সলেশন জিজ্ঞাসা করেছিলেন বাবা বিরক্ত হয়ে। তুমি ছিলে গ্রামের মেয়ে। দাদুর পছন্দ এ বাবা তোমাকে দেখতে এসে নাকি বিরক্ত ছিল। গ্রামের কিশোরী পনর বয়স এর নাবালিকা মেয়েকে স্মার্ট ঢাকায় জব করা বাবা বিয়ে করবেনা। বাবার পছন্দ স্মার্ট মেয়ে। কিন্তু তোমার বুদ্ধিমত্বা কথা বার্তায় সর্বোপরী তোমার ইংলিশ এর দখল দেখে বাবা অভিভূত হয়ে গেছেন। বাবা কি তোমাকে তা বলেছেন ? তোমাকে এক কঠিন ট্রান্সলেশন জিজ্ঞাসা করেছিল বিব্রত করার জন্য যেটার উত্তর নাকি বাবার ও জানা ছিলনা। তুমি নাকি তাত্ক্ষনিকভাবে শুদ্ধ উত্তর করেছিলে। বাবা হাসতে হাসতে তা বলছিলেন। আমি খুব কৃতজ্ঞ মা তোমার কাছে আমাদের ভাই বোনের ভালো পড়ালেখা রেজাল্ট এর পিছনে তোমার অবদানের জন্য।তোমার মনে আছে মা ছোটবেলায় খুব অসুস্থ থাকতাম। খুব রোগা ভোগা একটা মেয়ে ছিলাম। সবাই আমাকে পাঠকাঠি বলে খেপাত। তুমি আমার চেয়ে বেশি উত্তেজিত হয়ে যেতে মানুষের কথায়। খেপে গিয়ে বলতে সবার চেয়ে তুই সুন্দর রে মা। এক বাজে ধরনের কাশিতে শৈশব কালে অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। এক এক সময় জ্বর হলে প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে যেতাম। তখন তুমি রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে আমার বিছানার পাশে জায়নামাজে বসে থাকতে। বার বার এসে দোয়া পড়ে ফু দিতে। কাদতে থাকতে অবিরত। তোমার ধারণা হত সম্ভবত আমি বাচবনা। আমি অসহায় ভাবে তোমার দুশ্চিন্তা গ্রস্থ মুখ দেখতে দেখতে সান্তনা দিতে চাইতাম। শারীরিক ভাবে দুর্বল ছিলাম বলে কিছু করতে পারতামনা। খুব ইচ্ছে করত উঠে তোমাকে জড়িয়ে চোখের পানি মুছিয়ে দিতে। আজ ও ইচ্ছে করে মা। যদি পারতাম তোমার যন্ত্রণা গুলো মুছে দিতে। কখনো পারিনি মা। আমার এই সীমাবদ্ধতা তুমি মাপ করে দিও মা। তুমি যেভাবে জ্বরের সময় গরম টাওয়েল মুছিয়ে কষ্ট প্রশমিত করতে চাইতে আমি ও চাই সেইভাবে তোমার সব কষ্ট যদি মুছে দিতে পারতাম।আনন্দ লোকে মঙ্গলা লোকে
বিরাজ ও সত্য সুন্দর ও
মহিমান্বিত উদ্ভাসিত
মহাগগন ও মাঝে।

ছোটবেলায় তোমার মাথা দুলিয়ে গান গাওয়া সহ এই চিত্র টি এখন ও চোখে ভাসে।

তুমি শিখিয়েছ সত্য ন্যায়ের পথ। গরীব দুঃখীদের ভালবাসতে। শৈশব থেকে কৈশোর ,কৈশোর থেকে যৌবন তোমার শিক্ষা স্নেহের দান নিয়ে বেড়ে উঠা। দোয়া কর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তোমার শিক্ষা নিয়ে বেচে থাকতে চাই।

তুমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠ মা। আল্লাহ এর কাছে আরো কিছু বছর তোমার হায়াত চাই মা। তুমি আর ও কিছু দিন বেচে থাক আমাদের মধ্যে। ভালো থাক মা।

তোমার আদরের মেয়ে
দূর প্রবাস থেকে।

১,৬১২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

২৪ টি মন্তব্য

  1. সাঈদুল আরেফীন মন্তব্যে বলেছেন:

    মায়ের কথা শুনলেই চোখে জল গড়িয়ে আসে। আরজু মুন তাঁর চমৎকার বর্ণনায় আমার মাকেও আবার স্মরণ করিয়ে দিলেন। সত্যিই মায়ের তুলণা হয় না। আমার ও মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। বুকটা খান খান হয়ে আসে মায়ের কথা মনে এলে।
    খুব সুন্দর এ লেখাটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আরজু মুন আপনাকে।

  2. খন্দকার মোঃ আকতার-উজ-জামান সুমন মন্তব্যে বলেছেন:

    অসাধারন ভাবে ফুটে উঠেছে মায়ের প্রতি ভালোবাসার কথা। আপনার মা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক এ কামনা করি।

  3. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    মনেৱ ক্লান্তি ভুলে স্নেহভৱা কোলে তবে মাগো বল কবে…. আৱজু আপা অনেক ভাল লাগলো

  4. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    মাকে নিয়ে আসলেই লিখা হয় না। ভাল লাগল।
    এ্কটা কবিতা ছিল না —-

    মা কথাটি ছোট্ট অতি

  5. আর এন মিলি মন্তব্যে বলেছেন:

    মাকে নিয়ে কোন লেখা সাধারণত আমি পড়ি না ।আমার খুব স্বার্থপর আর তাইতো আমাদের একা ফেলে চলে গেছে না ফেরার দেশে ।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      মাকে নিয়ে লেখা পড়বেন প্রেরণার জন্য । সবার মা/আমি/আপনি একদিন আমাদের একা ফেলে চলে যাবে না ফেরার দেশে । মন ভাল রাখবেন সবসময় ।।

  6. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    আজ পত্ৰ লিখতে বসেছি সন্ধাৱ সৱল ৱেখা মিলিয়ে যাওয়াৱ আগেই

    তোমাকে লিখতে বসেছি আজি প্ৰভাতেৱ কিৱন দেখাৱ আগেই
    ভাল লাগলো

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      আজ পত্ৰ লিখতে বসেছি সন্ধাৱ সৱল ৱেখা মিলিয়ে যাওয়াৱ আগেই

      তোমাকে লিখতে বসেছি আজি প্ৰভাতেৱ কিৱন দেখাৱ আগেই সত্যি অপূর্ব
      কমেন্টসে অনেক অনেক
      ভালবাসা জানিয়ে গেলাম
      ………………….

  7. সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    আরজু আপু কেমন আছেন আপনার মা এখন ? এটা কি আগে পড়েছিলাম নাকি এখনকার ? যাই হোক দোয়া রইলো । ভালো তাকুন সবসময় ।

  8. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রাণ ভরে দোয়া করি মহান আল্লাহর দরবারে তিনি যেন আন্টিকে দ্রুত সুস্থ করে দেন। আমীন —–।।

  9. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Ma ke niye lekha
    darun

  10. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    মাকে নিয়ে সকল লেখাই শ্ৰদ্ধনিয়

  11. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    মাকে নিয়ে লেখাই শ্রদ্ধার মা ব্যক্তি টি তাই শ্রদ্ধার/ পূজনীয়। অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য।

    শুভেচ্ছা রইল ।

  12. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    Onek ta abeg probon . . Onek vhalo laglo

  13. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    মায়ের জন্য মেয়ের দোয়া_ হে বিধি তুমি কবুল করিও। বিধি তুমি আমার আরজু মূন জারিন আপুর মাকে ভালো রেখো।

    সাথে আমার ম সহ পৃথিবীর সকল মাকে ভালো রেখো। কোন মায়ের চোখের পানি আমার সহ্য হয়না।

  14. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    হৃদয় নিংড়ানো চিঠি আবেগীয় চিঠি খুব ভাল লাগল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top