Today 21 Jul 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মিরসরাইয়ে শীতল পাটি বিক্রি করে সংসার চলে অনেকের

লিখেছেন: মুহাম্মদ দিদারুল আলম | তারিখ: ১৭/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 551বার পড়া হয়েছে।

শীতল পাটি বুনে সংসার চালান উপজেলার প্রায় ২০ হাজার নারী। এদের অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ও বৌ। এখানকার মেয়েদের বেড়ে ওঠার সাথে সাথে পাটি বুনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক মা, দাদি বা সংসারের অন্য কোনো নারী।
পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ৪০০ পরিবারের বসবাস। এদের মধ্যে পাটি বুনার সাথে জড়িত ১৫০ পরিবারের নারী সদস্য। কথা হয় আলেয়া বেগমের সাথে।
তিনি জানান, দুই ধারি (দুই রঙ) একটি শীতল পাটি বুনতে ১৫ দিন সময় লাগে। কাঁচামালসহ খরচ পড়ে সাড়ে ৪০০ টাকা। বিক্রি হয় ১১০০। ১৫ দিনের শ্রম দিয়ে প্রতি পাটিতে থাকে সাড়ে ৬০০ টাকা। প্রতিমাসে তিনি দুটি পাটি বুনে বাজারে বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান। তিনি মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা না পেলে এ শিল্প টিকে থাকতে পারবে না।
চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাটির বাজার মিরসরাইয়ের মিঠাছড়া। সপ্তাহের রবি ও বৃহস্পতিবার মসজিদে মুয়াজ্জিনের ফজরের আজান ঘুমন্ত মানুষের কানে যাবার আগেই এ বাজারে শুরু হয় শোরগোল। পড়ে যায় শীতল পাটি বেচাকেনার মহাধুম। দূর-দূরান্ত থেকে বেপারিরা আসে নানারকম নকশা আর কারুকার্য শোভিত শীতল পাটি সংগ্রহ করতে। অপূর্ব নির্মাণ শৈলী আর রঙ-বেরঙের পাটি নিয়ে পুবের আকাশে লাল আভা নিয়ে সূর্য উঁকি দেওয়ার আগে আলেয়া, হাসনা আর আনোয়ারা বেগমের মতো অনেকে হাজির হন। যে পাটির নির্মাণ ও নকশা শৈলী যত সুন্দর সে পাটির দামও তত বেশি। সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা ধরে চলে বেচাকেনা। শত শত মহিলা-পুরুষ আসেন পাটি বিক্রি করতে।
বাজার ইজারাদারের তথ্যমতে, প্রতি সপ্তাহে এখানে লেনদেন হয় প্রায় ৭ লাখ টাকা। সরকার প্রতি বছর এ বাজার থেকে রাজস্ব আদায় করে ৩ লাখ টাকা। সিলেট, দিনাজপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, টেকনাফ ও রামগড় থেকে আসা প্রায় ১৫ জন এবং স্থানীয় ৫০ ব্যবসায়ী প্রতি বাজারে ৩-৪ লাখ টাকার শীতল পাটি সংগ্রহ করেন। এখানে অনেকে আছেন যারা ৫০ বছর ধরে পাটি ব্যবসা করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা পাটি ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, ‘ মিরসরাইয়ের শীতল পাটির চাহিদা একটু বেশি। কারণ, এখানকার পাটির আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণশৈলী অনেক টেকসই।’
মিঠাছড়া শীতল পাটি বাজারের সাব ইজারাদার সোহেল মাসুক লিটন জানান, বর্ষা মৌসুমে ক্রেতা ও বিক্রেতারা বেশ ভোগান্তিতে পড়েন। সরকার এ বাজার থেকে বছর বছর রাজস্ব নিচ্ছে। কিন্তু ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দীর্ঘদিনের দাবি পাটি বাজারের জন্য একটি শেড নির্মাণ করছে না।’
শীতল পাটির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় পাটিপাতা। বেত জাতীয় সবুজ রঙের এই উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম ‘মারেন্টা ডিকোটোমা’। উপজেলার বামনসুন্দর দারোগারহাটে পাটিপাতার বাজারও বসে। গ্রাম থেকে মহিলারা এসে এখান থেকে পাটিপাতা সংগ্রহ করেন। পানিতে ভিজিয়ে, আবরণ ছাড়িয়ে তোলা হয় দুই রকমের বেত। এরপর রঙ দিয়ে তা রাঙানো হয়। শুরু হয় পাটি বুনা। মিরসরাইয়ের শিল্পীরা বেশ কয়েক প্রকারের পাটি বুনেন। এর মধ্যে রয়েছে নক্শা, দু’ধারা, এক রঙা, ফুল পাটি, দাঁড়ি পাটি।

৬১৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৮ ১১:৫৮:৪৮ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল আপনার পোষ্টটি ।

  2. খাদিজাতুল কোবরা লুবনা মন্তব্যে বলেছেন:

    শুধু মিরসরাইয়ে নয় আমাদের দেশের গ্রাম-গঞ্জের অনেকেরই সংসার চলে শীতল পাটি বিক্রি করে

  3. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    গ্রামীন কর্ম সংস্তানের একটি বড় মাধ্যম।
    বিশেষ করে সিলেটের শীতল পাটী এক সময়
    সারা দেশে নাম ডাক ছিল।

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    শীতল পাটি একসময় আমিও বানাতাম।

  5. মুহাম্মদ দিদারুল আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    মন্তব্য এবং উৎসাহিত করার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।

  6. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    শীতলপাটি এখন কম ব্যবহার হয়। শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top