Today 20 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মুখে মুখে রূপকথা ,লোককথা – ২ ( উতিশ/উত্তিশ কুমার আর গুরাস কন্যার প্রেম গাঁথা )

লিখেছেন: রুবাইয়া নাসরীন মিলি | তারিখ: ২২/০২/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1281বার পড়া হয়েছে।

ভুমিকা  –   আজ বলব হিমালয়ের কোলে লেপচা জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রচলিত এক গল্প।  এই গল্পটি নেপাল ,সিকিম আর ভুটানে বেশ জনপ্রিয় লোককথা । অঞ্চল ভেদে একটু তারতম্য লক্ষ্য করা যায় । আমি এই গল্প শুনি আমার এক বন্ধু করন শাক্য এর কাছে । নেপালের নেওয়ার জনগোষ্ঠীর সদস্য সফটওয়্যার প্রকৌশলী এই বন্ধুটি অনেক গল্পের আধার । এই গল্প বসন্তের গল্প ,এই গল্প ভালবাসার গল্প ,এই গল্প  ব্যার্থ  প্রেমের কষ্ট কাব্য ……

                              উতিশ/উত্তিশ কুমার আর গুরাস কন্যার প্রেম গাঁথা (নেপালি বন্ধুর কাছে শোনা ) 

 

সে অনেক অনেক কাল আগের কথা , তখন গাছেদের  মাঝে বিয়ের প্রচলন ছিল ।   হিমালয়ের উঁচুতে বসবাসরত এক লালি  গুরাস ( লাল রডোডেনড্রন ) কন্যা মধ্য শীতে বেড়ে উঠল ,এক্কেবারে বিয়ের যুগ্যি কন্যা হিসাবে । মনে তার রঙ লেগেছে ।ঘরে তার একদম মন টেকে না । একবার সে এই হাড় কাঁপানো শীতে বেড়িয়ে পড়ল পাড়া বেড়াতে ।  এখানে সেখানে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ সে এসে পড়ল এক উতিশ গাছের কাছে । পাহাড়ের মাথায় দাঁড়ানো উতিশ /উত্তিশ কুমারকে ( হিমালয়ান আল্ডার ) দেখে প্রথম নজরেই তার প্রেমে পড়ে গেল গুরাস কন্যা ।   কাউকে কিছু না বলে চুপিসারে সে চলে এল সেখান থেকে ।

লালি গুরাস

লালি গুরাস

কিন্তু দিন দিন তার নাকাল অবস্থা প্রেমে পরে । ভালবাসা কেমন করে আসে তা কি কেউ বলতে পারে? কথায় বলে প্রেমে পড়লে আর পারদ খেলে তা লুকানো যায় না । তার  মনের উথাল পাথাল অবস্থা দেখে পাড়া পড়শিরা সব হেসেই খুন ।  সবাই কানাকানি  শুরু করল ,হায়রে এই মেয়ে যে প্রেমে পাগল হয়ে গেছে !!  সারাদিন গুরাস কন্যা  শুধু উতিশ/উত্তিশ কুমারের চিন্তায় বিভোর থাকে ।

 তার এই অবস্থা দেখে একদিন এক বুড়ো পিপল গাছ  (অশ্বত্থ / অশথ) তাকে পরামর্শ দিল , শোন লালি গুরাস এভাবে একা একা মনে মনে ভালবেসে কি লাভ? তুমি বরং তোমার মনের কথা মনের সখাকে জানাও ।

বুড়ো পিপল

বুড়ো পিপল

কথাটা লালি গুরাসের খুব মনে  ধরল । একদিন সে দুরু দুরু বুকে এসে দাঁড়াল উতিশ/উত্তিশ কুমারের সামনে । তারপর সব লাজ লজ্জা  ভেঙ্গে তাকে জানাল মনের কথা। লালি গুরাস সরাসরি উতিশ/উত্তিশ কুমারকে বিয়ের প্রস্তাব দিল ।

উতিশ/উত্তিশ কুমার এক পলক গুরাস কন্যাকে দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নিল । তারপর অত্যন্ত বিরক্তি নিয়ে অহংকারের সাথে বলল ,নিজেকে দেখেছ কখনও  ? ওই কুজ ওয়ালা কোঁচকানো  শরীর নিয়ে বিয়ে করতে চাও আমার মত সুদর্শন কে ?

উতিশ কুমার

উতিশ কুমার

কথাগুলো তীরের ফলার মত বিঁধল গুরাস কন্যার বুকে । তারপরও সে মিনতি জানাল ,দয়া করে একবার আমার কথা ভাব কুমার । আমি যে তোমার প্রেমে পাগল হয়ে গেছি। অবজ্ঞা ভরে উতিশ /উত্তিশ  কুমার উত্তর দিল , তা যা বলেছ কিন্তু আমি তো আর পাগল হইনি ।

হতাশ প্রেমিকা প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে যন্ত্রণায় নীল হয়ে গেল । তার বুক চিরে বেরিয়ে এল দীর্ঘ শ্বাস । দুঃখী মনে সে শূন্য হৃদয়ে পথ চলতে লাগল । পথ চলতে চলতে সে মনে মনে ভাবল আজ বুঝলাম দুঃখ কাকে বলে । কে জানে এই বিশাল পৃথিবীতে আরও কত দুঃখী আছে । কথাটি ভাবতেই পৃথিবীর সব কিছুর উপর তার এক অদ্ভুত মায়া জন্মাল । সে মনে মনে ঠিক করল এখন থেকে তার একমাত্র কাজ হবে অন্যকে সুখী রাখা ।

কুঞ্জে ফিরেই সে  কাজ শুরু করে দিল । তার এই পরিবর্তনে সবাই খুশি । কেউ আর তার প্রেমের কথা তোলে না ।  কাঠবেড়ালি তার পাতায় চুমু খায় , পাখিরা তার ডালে ডালে বসে গান শোনায় । ভালবেসে সবাই তার নাম দিল মিষ্টি কুমারী ।

তারপর ধীরে ধীরে গলতে শুরু করল বরফ । হিমালয়ে শীত শেষে হল বসন্তের আগমন । আর গুরাস কুঞ্জের সব বাসিন্দারাও সেজে উঠল আর সেই সাথে সাজিয়ে তুলল লালি গুরাসকেও ।

হাওয়া এসে ঝেড়ে দিল তার পাতার ধূলা আর মেঘেরা শিশির পাঠাল পাতাগুলো চকচকে করে তুলতে । সবার ভালবাসায় লালি গুরাসের শরীরে ধরল কুঁড়ি এরপর ফুল ।ওইদিকে উত্তিশ/উতিশ কুমারে সৌন্দর্য যেন সময়ের সাথে সাথে বেড়ে চলল । কিন্তু আজ সে খুঁজে পেল না মনের মত কাউকে । হঠাৎ  একদিন এক ছোট্ট পাখি তার কাছে ধরল মিষ্টি সুরে গান । মুগ্ধ উত্তিশ/উতিশ কুমার শুধায় পাখিরে ,তুমি কোথা শিখলে এমন মধুর গান । পাখি বলে ওমা তুমি জান না আমি তো মিষ্টি কুমারীর কাছ থেকে শিখেছি ।

উত্তিশ/উতিশ কুমার ভাবল একবার ঘুরে আসবে সে মিষ্টি কুমারীর কুঞ্জ থেকে । তারপর একদিন বিকেলে সে চলল পাহাড়ের উঁচুতে  মিষ্টি কুমারীর কুঞ্জে। চলতে চলতে সে এসে পৌঁছাল এক্কেবারে লালি গুরাসের সামনে । লালি গুরাসের মোহনীয়  রূপ দেখে কুমারের মন পাগল পাড়া । তখন এক দুষ্ট প্রজাপতি কুমারের কানে কানে বলল চিনতে পার কি উত্তিশ/উতিশ কুমার এই সেই কুজ ওয়ালা কোঁচকানো  শরীর এর লালি গুরাস । এই কথা শুনে লজ্জায় কুমার মুখ নিচু করে বার বার ক্ষমা চাইল আর অনুরোধ করল তাকে বিয়ে করার ।

 কিন্তু আত্মসম্মানী  লালি গুরাস তাতে রাজী হল না । সে খুব মিষ্টি করে কুমারকে বলল , তা আর হয় না । তার কথা শুনে উতিশ/উত্তিশ কুমার খুব হতাশ হল । অহংকারে সে যে ভুল করেছিল তা বুঝতে পারল । হাঁটতে  হাঁটতে  পাহাড়ের ঢালে এসে হঠাৎ  ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল উত্তিশ/উতিশ কুমার ।

 সেই থেকে পাহাড়ের অনেক উঁচুতে জন্মায় গুরাস  আর ঢালে জন্মায় উত্তিশ/উতিশ গাছ ।যাতে তাকে কখনও লালি গুরাসের মুখোমুখি হতে না হয় ।পাহাড়ের মানুষ কোনদিনও ভুলবে না এই প্রেম গাঁথা । আজও যখন পাহাড়ে ধ্বস নামে তখন ঢালে জন্মানো কিছু তরুন উত্তিশ/উতিশ গাছ প্রাণ হারায় ।

গাছ পরিচিতিঃ

১। লালি গুরাস বা লাল রডোডেনড্রন

azalea-rhododendron-simsii-Planch-red-flowers-fruit-is-edible-to-eat                      red-rhododendron-flowers-floral-art-prints-baslee-baslee-troutman-fine-art-prints

২। উতিশ/উত্তিশ গাছ বা হিমালয়ান আল্ডার

uttish

৩। হিমালয়ের কোলে গুরাস কুঞ্জ

guras 1

১,২৪৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি মিলি ,ভাল লাগে বই পড়তে,ঘুরে বেড়াতে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ।
সর্বমোট পোস্ট: ৩৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৯৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৯-০৩ ১৫:৫৪:৫০ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো গাছেদের নিয়ে রূপকথা

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো
    গাছেদের রূপকথা

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল গাছ কল্প কথন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top