Today 16 Dec 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

`মেঘের’ কোলে রোদ …

লিখেছেন: আহমেদ রুহুল আমিন | তারিখ: ০৯/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 398বার পড়া হয়েছে।

(পুর্ব প্রকাশের পর..)( কিছু কথা : বাংলাদেশে মিডিয়া জগতে এরকম হৃদয় বিদারক, অমানবিক কিম্বা বলা চলে অব্যবস্থাপনা-অকর্মন্য ‘জাতীয় ব্যর্থতা’ ইতিপূর্বে কখনো ঘটেছে কিনা ? তা হলো ‘ সাগর-রুণি’ হত্যাকান্ড এবং এর রহস্য উদঘাটন । এই রহস্য উদঘাটনে সরকারের পাশাপাশি মিডিয়া জগতের ব্যর্থতা একাকার হয়ে আমরা এখন আশাহত ‘সাগর-রুণির’ হত্যারহস্য কোন দিন বাংলার জমিনে প্রকাশ হবে কিনা ! যে মিডিয়া জগৎ কেঁচোর সন্ধানে সাপ বের করে ফেলে সেই মিডিয়াও নিরুপায় । সবচেয়ে খারাপ লাগে তখন , যখন সাগর-রুণির একমাত্র শিশুসন্তান ‘মেঘ’ যে চোখের সামনে খুনিদের রঞ্জিত হাত-মূখ চর্মচোখে প্রত্যক্ষ করেছে , তার মানসিক অবস্থা আমরা কল্পনাও করতে পারবনা ! মেঘ এখন কিছুটা বড় হয়েছে বা কিছুটা বুঝতে শিখেছে । দোয়া করি, মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখেন ! গল্পটি তার নামে উৎসর্গ করলাম । ‘গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ‘। একটু কৈফিয়ত : একবার মনে হলো `মেঘ’ এর নানুবাড়ি এই এলাকায় হওয়ায় গল্পের নাম রাখি `মেঘ’ এর নানুবাড়ি । কিন্তু তার নানুবাড়ি বা ফ্যামিলীগত কোন গল্প থাকবেনা এখানে । তাই গল্পের নাম দিলাম `মেঘের কোলে রোদ ‘ – যে নামটি কবিগুরুর বহুল প্রচারিত একটি ছড়া থেকে ধার নেয়া ।) …. একি ! জ্যান্ত হিরা, মুক্তো, মনি- জহরত ! এ’তো দিঘী নয় এতো মনি মানিক্যের জ্যান্ত খনি ! হাত ডুবালেই সাতরাজার গচ্ছিত গুপ্ত ধন , তাও আবার পুকুরে নিমজ্জিত ! কাবুলিওয়ালা সদস্যটি চার- পাঁচ বার হাত ডুবিয়েই একবারও ব্যর্থ না হয়েও পুকুরের গভির জলে যেতে সাহস পায়না । কেননা, সে’তো সাতারের ‘স’ও জানেনা । তাই আশ পাশ তাকিয়ে দেখে কেউ বিষয়টি দেখে ফেললো কি না । না , এত ভোর বেলা এই অলস কিম্বা তাদের চোখে ভিরু বঙ্গাল দেশের মানূষ তো দুরের কথা, কাক – পক্ষীও টের পায়নি । সুতরাং যে গুলো হাতে পেয়েছে তা তার পায়জামার ফিতের ঘরে ভরে ভালভাবে কোমরে ফিতে বেঁেধ এক দৌড় দিয়ে চলে যায় কাচারী ঘড়ে । দেখে তখনও তার বন্ধুরা জেগে উঠেনি – ফোসঁ ফোঁস করে ঘুমুচ্ছে । বঙ্গাল দেশে এসে আলসের জাত বঙ্গাল হয়ে গেছো তোমরাও ! এদের মধ্যে যে বন্ধুটি তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত তাকে আস্তে করে ডেকে তোলে আড়ালে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি জানায় । তার বন্ধুটি শুনে চোখ কপালে তোলে । সে চিন্তা করে এ যা বলছে তা কি ঠিক না স্বপ্ন ? তাই তাকে নিয়ে আবারো পুকুরে যায় । এবার হাত দিতেই আবারও মনি মুক্তা ! কিন্তু পরিমাণে মাত্র একটিই । কিন্তু গভীর জলে যাওয়ার সাহস পায়না । দু’ জনে পুকুর থেকে উঠে এসে চিন্তা করতে থাকে – কি করা যায় ! এই বাঙ্গালকা বাচ্চাদের বিষয়টা জানালে তাদের কোন লাভ হবেনা । তাই তারা ঠিক করে , প্রথমে বিষয়টি একেবারে গোপণ রাখা । এই দু’জন ছাড়া কাক-পক্ষীও যেন না জানে । আজই তারা রওয়ানা দেবে ইরান মুল্লুকে । দু’ জনেই কাচারী ঘড়ের দিকে রওয়ানা দেয় আর চিন্তা করতে থাকে কি করা যায় ? ততক্ষনে ভোরের আভা কেটে গিয়ে সকাল হওয়া শুরু করেছে । সোজা উত্তরে তাকাতেই দুরে দেখা যায় সবে মাত্র কাঞ্চন জঙ্ঘার চুড়ায় রোদ লাগতে শুরু করেছে । এই ক্াঞ্চন জঙ্ঘার ধার দিয়েইতো তাদের ঘোড়া নিয়ে দৌড়াতে হবে আপন দেশে পাড়ি দিতে । না হলেতো দিকভাল ঠিক থাকবেনা ।
একটা শেওড়া গাছের নিচে ঝোপের আড়ালে দু’জনে শলাপরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয় – প্রথমত , তাদের তিন বন্ধুকে বলতে হবে এই স্থান আজই দ্রুত ত্যাগ করার জন্য । এজন্য তাদের বলতে হবে যে ,- ভোর বেলা দুইজন প্রাকৃতিক কর্ম সারতে গিয়ে দেখে এক বঙ্গালকা বেটি প্রাকৃতিক কর্ম সারছে । এটা দেখার অপরাধে সে চিৎকার দিয়ে বাড়ীর দিকে দৌড় মেরেছে । বঙ্গালরাতো বহুত শয়তান আছে । তারা আগ-পিছ না ভেবেই লাঠি নিয়ে আমাদের উপর চড়াও হবে- এটা নিশ্চিৎ । এর আগেই বুদ্ধির কাজ হবে এখান থেকে কেটে পড়া । দ্বিতীয়ত: , আমাদের মির্জা গোত্রের যারা এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করার মানসিকতা থাকবে শুধুমাত্র তাদের পরিজন নিয়েই আগামী মাসেই এখানে আসার পরিকল্পনা করবে । হাটতে হাটতে চলে আসে কাচারী ঘরে । এসেই ডেকে তোলে বাকি তিন বন্ধুকে এবং তাগাদা দেয় । কারণ দেখিয়ে তাড়া তাড়ি এই এলাকা ত্যাগ করার । তাদের বলে – যে তারা বাড়ির মালিককে বলার জন্য কিছুক্ষণ থেকে এই এলাকা ত্যাগ করবে । তিন বন্ধু উঠেই তাদের ঘোড়া নিয়ে দৌড় দেয় । না হলে বাঙ্গালীর লাঠির ঘা পিঠে পড়ার অভিজ্ঞতা তাদের কম নেই । এই বঙ্গালকা বাচ্চারা এমনিতে খুব সহজ সরল । কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ এধরনের ঘটনায় তারা কেউ রেহাই পায়নি । তখন একটাই পথ – এদের মোড়লদের কাছে হাতপা ধরে ক্ষমা চাওয়া । ক্ষমা পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু লাঠির ঘা’টা থাকে ফাও । যেটার মাফ নেই । তাই যতো তাড়াতাড়ি এই এলাকা থেকে কেটে পড়া ভালো ।

৩৮৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
#কায়েতপাড়া, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড় । #চল্লিশ দশকে অকাল প্রয়াত ছোট মামার কলকাতার সংগ্রহকৃত কিশোর ক্লাসিক " শুকতারা " ম্যাগাজিনে প্রকাশিত রবীন্দ্র সম-সাময়িক ( যেখানে তাঁর লেখা ছবিসহ সরাসরি প্রকাশ হতো) বিভিন্ন ছড়া/কবিতা সত্তর আশির দশকে পাঠে শিশু মনে কল্পনার দোল খেত । সেই থেকে শুরু । লেখা-লিখি টুকটাক । ভাল লাগে কবিগুরু , বিদ্রোহী,সুকান্ত -জীবনানন্দ, সত্তর-আশির দশকের আবুলহাসান, দাউদ হায়দার,খোন্দকার আশরাফসহ অনেক কবির লেখা । সমরেশ মুজুমদার,সব্যসাচি সৈয়দ হক,আনিসুল হক, সদ্যপ্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ,ইমদাদুল হক মিলন প্রিয় গল্পকার/লেখকের তালিকায় । # প্রিয় ব্যাক্তিত্ত্ব : হযরত মোহাম্মদ (সা.) । # প্রিয় ব্যক্তি : মা-বাবা । # যা আশ্চয্য করে : পবিত্র কোরআন, বিশ্ব- প্রকৃতি, কম্পিউটার-তথ্য প্রযুক্তি । #দু'সন্তানের জনক ।
সর্বমোট পোস্ট: ৭৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৬২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-১১-১৫ ১৭:১৮:৩৫ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার লেখায় শুভেচ্ছা ভাললাগা জানিয়ে গেলাম। আপনি এখন রেস্ট করুন। আপনার কয়টা বাজে ?

    • আহমেদ রুহুল আমিন মন্তব্যে বলেছেন:

      আমার ছোট বোনও ঠিক একই কথা বলে বার বার সাবধান করেছে ! কাকতালীয়ভাবে একই কথা বলে তুমিও সাবধান করলে আপু ! চোখে জল এসে গেছে ……! ভাল থাকবেন আপু । উপদেশ মেনে চলব ১০০% । শুভকামনা মন্তব্যের জন্য ।

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পের মর্মার্থ বুঝতে পারলাম না । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

    • আহমেদ রুহুল আমিন মন্তব্যে বলেছেন:

      আমাদের এ্ই জনপদ তথা গ্রাম- গঞ্জের অতিত ইতিহাস আমরা কতটুকু জানি ? হোকনা সেটি লোক মুখে বানানো একটা কথার গল্প ।
      এই ‘সতিপুরা দিঘী’ একদিন ‘সত্যপীরের দিঘী’তে রুপান্তরিত হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই ! লোক মুখে শোনা বা কাল্পনিক অলিক গল্পের মাঝেও থাকে এক ধরনের এডভ্যাঞ্চার যা শিশু-কিশোরদের কাছে খুবই প্রিয় ! ( আমরাও তো একদিন শিশু-কিশোর ছিলাম ) ।
      যে এলাকার গল্প সেটা ‘মেঘ’ এর নানুবাড়ি এলাকা । ‘মেঘ’ ও ‘মেঘ’- এর বয়সী শিশুরা এটি পড়লে তাদের ভালো লাগতে পারে বিবেচনায় এই গল্প লেখার তাগাদা । এর বিষয়বস্তু শুধুই কাহিনীবই অন্য কিছু নয় । মন্তব্যের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই । ভাল থাকবেন ।

  3. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগল। সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top