Today 31 Mar 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

‘ মেঘের কোলে রোদ ’ । ( পর্ব -২) ।। কালাচান ফকির ।।

লিখেছেন: আহমেদ রুহুল আমিন | তারিখ: ৩০/১০/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 813বার পড়া হয়েছে।

—আহমেদ রুহুল আমিন ।

পুর্ব পাকিস্তানের যমুনার পশ্চিম পারের রেলওয়ের যে পশ্চিমাঞ্চল যার মিটার গেজ লাইনটি গাইবান্ধ্যা মহকুমার ফুলছড়ি ঘাট থেকে বোনারপাড়া হয়ে রংপুরের কাউনিয়া জংশন হয়ে পশ্চিমে পার্বতীপুর -দিনাজপুর হয়ে ঠাকুরগাও মহকুমার রুহিয়া পর্যন্ত ঠেকেছে । এর পরে উত্তরাংশে আর কোন রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই । ফকির কালাচান যে ট্রেনে চেপেছিল তার লাস্ট স্টপেজ ছিল পার্বতীপুর জংশন । এখানে এসে ভোরবেলা ট্রেন চেঞ্জ করে বিকেল বেলা রুহিয়া স্টেশনে এসে নামল । রুহিয়া বাজারটি ছোটখাট হলেও এখানে ব্যবসা -বানিজ্যের একটা বড় ছাপ পাওয়া যায় । কিছু কিছু মাড়োয়ারীর গোডাউন/আড়ৎ জানান দিচ্ছে এর অস্তিত্ব । একসময় এখান থেকে উত্তরে বিহারের পুর্ণিয়া জেলার ইসলামপুর ও দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি এবং উত্তর-পুর্বাঞ্চলে জলপাইগুড়ি -কুচবিহার জেলার বিভিন্ন বন্দরে ভোগ্যপণ্য আনানেয়া হতো গরু মহিষের গাড়িতে করে । তবে, মাড়োয়ারীরা এখন নেই , যে যার মতো শিলিগুড়ি বা কোলকাতা চলে গেছে অনেক আগেই । তবে, কিছু কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে রেখেছে বিত্তশালী কিছু মুসলমান ব্যবসায়ী । রুহিয়া রেলস্টেশনে নেমে মুন্সি আক্কেল আলীর পরিবারের সদস্য হয়েই কালাচান ফকিরের গন্তব্য রানিগঞ্জ গ্রামে । স্টেশনে পাওয়া যায় একটি মহিষের গাড়ি । এতো বিশাল আকারের মহিষ সে বাপ জন্মেও দেখেনি । গাড়িঅলা জয়নালকে জিজ্ঞেস করতেই প্রথমেই সংকটে পড়ে ভাষাগত সমস্যায় । তবে, হাববাবে যা বুঝতে পারে তা হচ্ছে – এই মহিষ জোড়া এখানে বিখ্যাত মেলা যার নাম আলোয়াখোয়া সেখানে গেল বছর অগ্রাহায়ন মাসে বদলে কিনেছে । বদলে কেনা হলো পুরোনো মহিষ বিক্রি করে নুতন মহিষ কেনা । ইন্ডিয়া – পাকিস্তান বোর্ডারের বর্তমানে ইন্ডিয়ার অংশে পড়েছে এই বিখ্যাত মেলা আলোয়াখোয়া । বিহার রাজ্যের পুর্ণিয়া জেলা থেকে এইসব মহিষের চালান আসে মেলায় । শুধু মহিষ নয়, হাতি, ঘোড়া এমনকি উট পর্যন্ত উঠে এই মেলায় । যদিও ইন্ডিয়া – পাকিস্তান পৃথক হয়েছে তথাপি মেলার সময় দুই ধারের মানূষ অবাধে কেনা বেচা করে এই মেলায় । জয়নাল বলে – “ বুঝিচেন ভাইজান , সেই ব্রিটিশ আমল থেকে হামরা এই মেলায় গরু মহিষ কেনা -বেচা করি । সেই কাত্তিক মাসের সম রাসপুর্ণিমা থেকে মেলা শুরু হয়ে পাক্কা তিনমাস ধরে চলে । মেলাত তখন কত্ত রকম রঙ্গ- তামাশা ছে… । একপাশ্বতে সার্কাস ,পুতুল নাচ, যাদুরখেল আর সারা রাইরোত যাত্রা গান , রাজস্থানী আর নেপালী বাঈজীর নাচন দেখে সারা রাইত কোনদে পার হয়ে যায় তা টের পাওয়া যায়না । কি কহিম আর ভাইজান কানে কানে তোমাক কহচু- সেলা মোর ঢেনাকাল । তো .. গেইচু মেলাত মুই আর হামার গেরামের কালুয়া… মোর দোস্ত । সারাদিন সার্কাস আর রাইতত যাত্রা দেখে শরীর খুব কাহিল অবস্থা । দুপুর রাইতত কালুয়া শালা মোক নিয়ে গেল মাঘিবাড়িত । মেলার পার্শ্বত মাঘিবাড়ি । কি সুন্দর সুন্দর এক একটা মাঘি । খেপ একবার মাত্র দুই সিকি বা আধুলি । বিহান বেলা নাগাত এক টাকা । একবার যায়য়া তো মোক নেশা ধরে গেল । এক একদিন একএকটা । কি নেপালী , কি বিহারী , সাতালনীও পাওয়া যায় । একবার হোইল্ কি । মেলার ঠিক কাছাকাছি ‘বাচ্চাবাবু’ জমিদারের বাড়ি । বেটা জমিদার হলে হবে কি ? ওয় ছিল এলাকার জাদরাইল মাঘি খোর । তিন কুড়ি বয়সের পরেও প্রতিদিন মাঘি ছাড়া বেটার নিন্ (ঘুম) হয়না । তে হইছে কি । এক সাতালনী মাঘি তার গাওয়ের রং তেলচা কাল আর পেটাইল শরীল । বিশ-বাইশ বছর হবে বয়স । হের উপর নজর লাগিল হামার জমিদার বাবুর । মেলার পুরাটা সময় তাক্ রাখিল ওর বাড়িত্ । সেলা (তখন) থেকে সাতালনী মাঘি আর অর বাড়িত থেকে বাইর না হয় । জমিদার বাবু করিল্ কি .. এক রাইতত্ নদীর পাড়ত নিয়া যায়া গুলি করে মারে টাঙ্গন নদীত ভাসায় দিল্ । খুব কঠোর ছিল এই বাচ্চা জমিদার বাবু । মাইনষে কহে – ‘বাচ্চা বাবু’ জমিদার বাািড়র ইট-সুড়কী গুলা এলাও রাইতোত কান্দে । আশ পাশের লোক এলাও বাড়িত থেকে ওই কান্দন শোনে । জমিদার বাড়ি যেলা বানায় প্রায় চারকুড়ি মিস্ত্রি-যোগালীঘরক আস্ত কচিপাঠার রোস্ট খাওয়ায়য়া রাইতোতে অন্দরমহলে মারে পুতে রাখিছিল্ । মেলা থেকে শুরু করে বাড়ির এলাকার প্রায় দশহাজার ধুল জমিন অর একেলায় । বাড়ির চৌহদ্দিতে অর এলাকায় পাচ-ছয়টা পথ ছে … । নুতন বিহাবাড়ির নুতন কৈনা নিয়া ওই পথ দিয়া গেলেই অর বাড়িত তিন দিন তিন রাইত মেহমান খাবা হবে জোরবরাতে বর কৈনাক । নুতন কৈনার ‘বহিনী’ কইরবে জমিদার বাবু । তারপর বর-কৈনার অনেক উপহার দিবে জমিদার বাবুর তরফ থেকে । এই গুলা ছিল্ আগিলা যুগের কাথা । এলা ওই বাচ্চা জমিদার বাবুর ভিটাত্ ঘুঘু নাচেছে ।” বাস্তবে পঞ্চাশ দশকের ওই সময়ে জমিদারী প্রথা বিলীণ হওয়ার পর কিংবা বলা চলে দেশ ভাগের পর ‘ বাচ্চা বাবু’ জমিদার তৎকালীণ পুর্ব পাকিস্তান ছেড়ে কোলকাতায় পাড়ি জমায় । তবে, তার প্রভাব প্রতিপত্তির জন্মস্থান পিতৃভুমিতে রেখে যায় অত্যাচারী ভুস্বামীর সব কলংকময় অধ্যায়ের অনেক অজানা তথ্য উপাত্ত যা এলাকার সহজ সরল গ্রাম্য মানূষের মুখে জোরাতালি হয়ে রটে গিয়ে সত্যমিথ্যের মিশেল ঘানি অতিউৎসাহের খোরাক যোগায় ।
রাস্তার দুধারে ঝোপ-ঝাড় জংগল , মাঝে মাঝে শুধু জোনাকী পোকার মিট মিট আলোয় ক্যাঁ ক্যাঁ শব্দে এক অদ্ভুদ আওয়াজ তুলে সামনে এগিয়ে চলে জয়নালের মহিষের গাড়ি । এক অজানা আতংক বিরাজ করে কালাচান ফকিরের মনে । ( চলবে)

৭৮১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
#কায়েতপাড়া, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড় । #চল্লিশ দশকে অকাল প্রয়াত ছোট মামার কলকাতার সংগ্রহকৃত কিশোর ক্লাসিক " শুকতারা " ম্যাগাজিনে প্রকাশিত রবীন্দ্র সম-সাময়িক ( যেখানে তাঁর লেখা ছবিসহ সরাসরি প্রকাশ হতো) বিভিন্ন ছড়া/কবিতা সত্তর আশির দশকে পাঠে শিশু মনে কল্পনার দোল খেত । সেই থেকে শুরু । লেখা-লিখি টুকটাক । ভাল লাগে কবিগুরু , বিদ্রোহী,সুকান্ত -জীবনানন্দ, সত্তর-আশির দশকের আবুলহাসান, দাউদ হায়দার,খোন্দকার আশরাফসহ অনেক কবির লেখা । সমরেশ মুজুমদার,সব্যসাচি সৈয়দ হক,আনিসুল হক, সদ্যপ্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ,ইমদাদুল হক মিলন প্রিয় গল্পকার/লেখকের তালিকায় । # প্রিয় ব্যাক্তিত্ত্ব : হযরত মোহাম্মদ (সা.) । # প্রিয় ব্যক্তি : মা-বাবা । # যা আশ্চয্য করে : পবিত্র কোরআন, বিশ্ব- প্রকৃতি, কম্পিউটার-তথ্য প্রযুক্তি । #দু'সন্তানের জনক ।
সর্বমোট পোস্ট: ৭৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৬২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-১১-১৫ ১৭:১৮:৩৫ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো
    শুভ কামনায়

  2. আহমেদ রুহুল আমিন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ দাদা । আপনি মন্তব্য করেছেন বলে । ভালো থাকবেন ।

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    চলুক। সাথেই আছি। ভাল লাগল গল্প

  4. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্প লেখার হাত ভাল তবে, পুরো লেখাটি এক অবিচ্ছেদ্য প্যারায় না লিখে কয়েক প্যারায় ভাগ করে লিখলে যেমন সুন্দর হতো তেমনি পড়তে আরাম লাগতো। ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top