Today 16 Jul 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মৌ এর নিকট শেষ চিঠি

লিখেছেন: দ্বীপ সরকার | তারিখ: ১৯/০২/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 630বার পড়া হয়েছে।

প্রিয় মৌ!
জানিনা কেমন আছো বন্ধু।
অনেক দিন ধরেই মনের কোষে কোষে প্রশ্ন বিঁধছে,
তোমার ভালো থাকার শরীরে কতোটা
সুখ জমেছে অামিহীন।
আমার চোখ বলে
তোমার ডাহুক চোখে নদী ভাঙ্গে প্রতিনিয়ত,
আমার মন বলে
তোমার গতিহীন মনেও ঢেউয়ের মিছিল চলে।
জানো, আমিও ইদানিং তেমনটি নেই।
আমার শরীর বলে ভালো আছি
কিন্ত শুকে যাওয়া মাংশপেশী বলে উল্টো,
আমার চোখ বলে ভালো আছি
কিন্ত চোখের নিচে কালো দাগ বলে উল্টো,
তবু ভালো থাকার এক ঝাঁক কান্না
আছড়ে পড়ে চোখের কোণে,
ভালো থাকার অঢেল সুখ-
অসুখে বিলিন হতে হতে নিঃশেষ হতে থাকি।
এ আমার শেষ চিঠি বলতে পারো,
এ আমার অবশিষ্ট থাকার শেষ গল্পো বলতে পারো।
যখন তেপান্তরের ধাঁনসিঁড়ি গুলো
ফুরাবে ধূসর রং মিছিল
যখন একলা পথিক ভুল পথে এসে
ফিরাবে গতিপথ সমুখের
অথবা মুঠি মুঠি তারায় পৃথিবী হারিয়ে ফেলবে গতিপথ
আমিও কোন এক সময় ভুলে গিয়েও
আমার নিতান্ত প্রহর ফিরে নেবে আমাকে
তোমার ভুল চাহনীর দিকে ;
যেখানে এক কূপ জিজ্ঞাসা আটকে থাকেই সব সময়।

মৌ! আমার সামান্য মৌ!
অথচ অনেক মৌ পাখির এক।
চিঠি লিখতে লিখতে ভুলে গেছি
তোমার চুলের ঘ্রাণ,মিহিন চোখ,
আলগা ঠোঁট,নিস্তব্ধ বেণীর প্যাঁচ সেই কখন
টের পাইনি।
জানি আমার এ বিশেষণে এতটুকুন পোড়াবেনা
তোমার ও ধর্মতলার মন,
কোন এক পাঁজরের অভিব্যক্তি।

আবার যখন শেষ বেলার চিল
মাথা কুটে ডাকবে একটা লাশ খাবে বলে,
আবার যখন হাওয়ায় নীল শকুনেরা
খুঁজে ফিরবে মৃত মানুষের নাক সিটকানো গন্ধ,
দেখবে আমিও বেরিয়ে পড়বো
আনাচে কানাচে শবযাত্রা হয়ে,
চারজন মানুষের কাঁধবরাবর নিস্তব্ধ এক প্রাণ যেমন;
এ আমার স্মৃতি মুখর চিঠি বলতে পারো;
যেখানে পাওয়া না পাওয়া লিখছি
চাওয়া পাওয়া লিখছি
কষ্ট ঘেঁসা স্বপ্ন লিখছি।
মৌ  জানো কি?
এই খানে এদেশে আর প্রেম নেই
সবখানে ওঁৎ পেতে থাকা নষ্টালজি
নামে বেনামে অপ্রেম, ভ্রান্ত প্রেম;
শুধু সম্পর্ক নেই বলে -তোমায়  আমায়।

লেখাঃ১১/২/১৫ইং

৬২২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
জন্মঃ প্রকৃত নাম সরকার শহিদুর রহমান। ছদ্ম নাম দ্বীপ সরকার। জন্ম ১৯৮১ইং, ১লা মার্চ। মুসলিম পরিবারে। বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন গয়নাকুড়ি গ্রামে। পিতা,মৃত হাবিবুর রহমান। দশ/বারো বৎসরে পিতাকে হারাই।  মাতা মোছাঃ আছিয়া বেওয়া। চার ভাই। পাঁচ বোন। ভাইদের মধ্যে ৩য়। শিক্ষাঃ গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শিক্ষায় হাতে খড়ি। তারপর ওখান থেকে একই এলাকার দাড়িগাছা দারুসসালাম দাখিল মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়া হয় । এখানেই শিক্ষার মুল ধারা শুরু।  ৪র্থ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বরাবরই ক্লাস ফার্স্ট এবং গোটা স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নাম্বার অর্জন করি। দিন রাত সমান করে পড়ার টান ছিলো। পড়া থেকে উঠিনি কোন সময়।স্কুল থেকে এসেই বই হাতে।শতবার ডেকে ডেকে ভাত খাওয়ানো। সেজন্য অনেকের বকা খেয়েছি। মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত একটানা রাত জেগে পড়েছি। এরকম কত রাত কাটিয়েছি বইয়ের ওপরে  তার গননা করা মুশকিল। তকে খেলাধুলার প্রতি কোন আকর্ষন ছিলোনা এখনো নেই। স্কুলের সকল ছাত্র ছাত্রী,শিক্ষক,এলাকার সকলেই মেধাবি ছাত্র ভাবতো, এবং সম্মান করতো। একবার ৯৯% ভোট পেয়ে এজিএস নির্বাচিত  হয়েছিলাম। এদিকে গান গজল হামদ নাত গাইতাম, কবিতা লিখতাম বলে সকলে শিল্পী এবং কবি বলে ডাকতো। গান গেয়ে মন জয় করতাম সকলের । বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে দিয়ে গান,হামদ নাত গেয়ে নিতো স্যারেরা। ৬ষ্ট/ ৭ম শ্রেণী থেকে কবিতা, গান, গজল রচনা করে অনুষ্ঠানে বলতাম। এখান থেকেই ১৯৯৫ ইং সালে ১ম বিভাগে দাখিল ( মেট্রিক) পাশ করি। আশানুরুপ রেজাল্ট হয়নি বলে স্কুলের শিক্ষকগন মন ভিজাতে পারেনি। আরো বড় স্বপ্ন ছিলো তাদের। প্রতি বৎসরে আমাকে চারটি করে পুরস্কার দিতো। ক্লাসের প্রথম,সমগ্র স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর, গান গাওয়া, রেগুলার স্কুলের জন্য। এর পর নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৯৮৭ইং সালে জেনারেল সেকশনে ৩য় বিভাগে এইচ এস সি পাশ করি। কিন্ত কাঙ্খিত ফলাফল না হওয়ায় চলমান স্বপ্নের ছন্দপতন ঘটলো। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে গেলো। তারপর সংসারে কিছুটা অর্থের দ্বৈন্যতা দেখা দিলো সংসারের ঝামেলা মাথা নিয়ে গাইবান্ধা জেলার কামদিয়া নুরুল হক ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হই এবং ১৯৯৯ইং সালে এখান থেকে ২য় বিভাগে গ্রাজুয়েশন সম্পুন্ন করি। এর পর আর পড়াশোনার দিকে যেতে পারিনি। অদম্য সাহস এবং মেধা থাকার পরেও অর্থ দ্বৈন্যতা আর সামনের দিকে এগুতে দেয়নি। তার পর ২০০১ ইং সালে একই গ্রামের তহমিনা খাতুনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই । বর্তমানে এক মেয়ে এক ছেলে। মেয়ে,শান্তা মারিয়া শানু এবং ছেলে, মেশকাত। সাহিত্যে আগমনঃ ছোটবেলা থেকে একটু একটু করে লিখলেও তা বড়সড়ো করে রুপ নেয় বগুড়া লেখক চক্রের সাথে যোগ দিয়ে। মুলত এখানেই অনেকের সঙ্গে পরিচয় ঘটে এবং স্থানীয় পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লেখা বের হতে থাকে। এসময় " কুয়াশা" নামে এক লিটিল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছিলাম। কবিতার ফোল্ডারও বের করেছিলাম দুটি। এর পর ধীরে ধীরে ব্লগ ফেসবুক,অনলাইন অনেক সাইটে পদচারনা। অভিজ্ঞতাঃ গ্রাজুয়েশন শেষ করে ২০০৫ ইং সালে একটি বেসরকারী সংস্থায় মনিটরিং এবং অডিট অফিসার পদে চাকুরিতে যোগদান করি। এখানে প্রায় আট বৎসর চাকুরি করার পর শারিরিক অসুস্থতার কারনে আর চাকুরিতে যেতে পারিনি। এই দীর্ঘ আট বৎসর চাকুরির চাপে সাহিত্য থেকে দুরে ছিলাম। কিন্ত সয়নে স্বপনে জাগরনে তিলে তিলে কবিতাকে ভালবেসেছি এবং মাথা থেকে তাড়িয়ে দিতে পারিনি একেবারে। প্রকট ইচ্ছা শক্তি আমাকে দীর্ঘ আট বৎসর পর হলেও কবিতার কাছে নিয়ে এসেছে। চাকুরির সুবাদে দেশের প্রায় ৬০টি জেলাসহ অনেক থানা,গ্রাম,ঐতিহাসিক স্থান,পর্যটন এলাকা ভ্রমন করার সুযোগ হয়েছে।
সর্বমোট পোস্ট: ১৪৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৭১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৯-৩০ ১৫:১৩:৩৮ মিনিটে
Visit দ্বীপ সরকার Website.
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    মন জুড়ানো চিঠি পড়ে ভাল লাগল

  2. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো অভিমানী লেখা …

  3. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    কবিতার মত পৃথিবীর সব মৌ ভাল থাকুক, কামনা রইল।

  4. দ্বীপ সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সকলকে…

  5. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ ভালো

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top