Today 19 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

যত দোষ মেয়ে ঘোষ

লিখেছেন: রুবাইয়া নাসরীন মিলি | তারিখ: ২৯/০৩/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1060বার পড়া হয়েছে।

আমি তখন অনেক ছোট । আব্বুর পোস্টিং ছিল ঢাকার বাইরে ।যথারীতি আমি থাকতাম নানুর বাড়ি । ছুটি ছাটায় বেড়াতে জেতাম বাবামায়ের কাছে । দিনগুলো কাটত আমার স্কুল ,খেলা আর গল্পের বই পড়ে । তখন আমার বেলা কাটত রাশিয়ান রুপকথা সিভকা বুরকা , বাহাদুর পিঁপড়ে , ঠাকুরমার ঝুলি ইত্যাদি পড়ে । আর এই বই গুলা পড়তে পড়তে আমিও হারিয়ে যেতাম রুপকথার রাজ্যে ।

 আমি তখন টু কি থ্রি তে পড়ি দ্বিতীয় সাময়িকী পরীক্ষার পর খালা মামাদের সাথে বেড়াতে গেলাম আব্বু আম্মুর কাছে । আব্বুর পোস্টিং তখন ধামরাই । ওখানকার একটা স্মৃতি আমাকে এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় । তখন পেয়েছিলাম সাংঘাতিক ভয় আর এখন যখন বুঝতে শিখেছি তখন অদ্ভুত এক কষ্ট ,মন কেমন করা অনুভুতি কাজ করে ।

এক দুপুরে হঠাত আমাদের কোয়ার্টার এর পাশের বাসায় খুব হইচই আর কান্না শুনে সবার সাথে আমিও গেলাম দেখতে । ওই বাসার এক আঙ্কেল মারা গেছেন । উনি নাকি অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন । বেচারা মাত্র সাত মাস আগে বিয়ে করেছিলেন । সেখানে গিয়ে আমি এমন ভয় পেইয়েছিলাম যা কখনই ভুলতে পারব না কারন ওখানে গিয়েই আমি দেখেছিলাম ডাইনি ,এক্কেবারে সত্যিকারের ডাইনি ।

 আমি তো আগেই ঠাকুরমার ঝুলিতে  লাল কমল আর নীল কমলের গল্পে পরেছি ডাইনি আর রাক্ষুসিরা সুন্দরী মেয়ের বেশে বনের মাঝে বসে থাকে আর রাজা যখন শিকারে যায় তখন সেই রাক্ষুসিরে বিয়ে করে নিয়ে আসে । আর তারপর সেই রাক্ষুসি এক এক করে রাজ্যের সব হাতি ঘোড়া আর মানুষকে খেয়ে ফেলে ।

তো সেই আঙ্কেলের মা যখন বিলাপ করে কাঁদছিলেন আর সুন্দরি এক আন্টিকে দেখিয়ে বলছিলেন এই কুলক্ষনি ডাইনি আমার ছেলেকে খেয়ে ফেলল রে ,আমি ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম । আম্মুর আচল ধরে ভয়ে থর থর করে কাঁপছিলাম আর ভাবছিলাম এক্ষুনি যদি এই রাক্ষুসিটা ভয়ংকর মূর্তি ধরে আমাদের সবাইকে খেয়ে ফেলে ,কি হবে তখন ?

এরপর পার হয়েছে অনেক সময় এখন আমি বুঝি সুস্থতার আশায় তার রুগ্ন ছেলেকে বিয়ে দিয়ে কি ভয়ংকর অন্যায় টাই উনি করেছেলিনে সেই ডাইনির সাথে । আমাদের সমাজে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই যে কোন কারনেই হোক মেয়েকে দোষারোপ করতে ভালবাসে । নিজের ব্যার্থ তার   দায়ভার অন্যের বিশেষ করে মেয়েদের উপর চাপানোর প্রবনতা এই উপমহাদেশে ব্যাপক । পোড়ামুখির  জন্মের পর পর বাপের বাবসায় ধস নামল কি মাকে খেল ইত্যাদি ইত্যাদি ।

একটা মেয়ে সমাজের যে শ্রেনিরই প্রতিনিধিত্ব করুক না কেন  তার দিকে আঙ্গুল তুলতে কেউ দ্বিধা বোধ করে না। হঠাত করেই এই পুরান কথাটা মনে পড়ল বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ভারতের পরাজয়ের পর । ভারত হেরে গেছে , কাউকে না কাউকে তো হারতেই হবে । কিন্তু এতে খেলোয়াড় দের কোন দোষ  নেই । যত দোষ ভিরাট কোহলীর বান্ধবির । একজন খেলোয়াড় যত ভাল আর বড় মাপের ই হোক না কেন সে তো সব দিন সমান ভাবে পারফর্মেন্স করতে পারে না ,আর এই খেলাটাও তো একজনের খেলা না ।কিন্তু তাতে কি এই উপমহাদেশের সেই চিরন্তন পুরুষ তান্ত্রিক  মানসিকতা  থেকে তারা বের হবে ক্যামনে ? তাই যত দোষ আনুশকা ঘোষ (শর্মা ) । আমি শতভাগ নিশ্চিত যদি আনুশকা খেলা দেখতে না যেত আর ভিরাট কোহলী এক রানে আউট হত তাহলেই দোষটা আনুশকার ই হত । তখন বলত ও যায়নি তাই  ভিরাট এর মন উচাটন ছিল ভাল খেলতে পারল না । তাই নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যত দোষ মেয়ে ঘোষ ।     

১,০৫৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি মিলি ,ভাল লাগে বই পড়তে,ঘুরে বেড়াতে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ।
সর্বমোট পোস্ট: ৩৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৯৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৯-০৩ ১৫:৫৪:৫০ মিনিটে
banner

১৬ টি মন্তব্য

  1. জসিম উদ্দিন জয় মন্তব্যে বলেছেন:

    apnar likhata valo laglo. congratulation.

  2. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    রাশিয়ান সাইন্স ফিকশন আমারও খুব প্রিয় ছিল, আচ্ছা তুমি কি গ্রহান্তরের আগন্তক, ম্যাক্সওয়েলের, হৈটি তৈটি গল্পগুলো পড়েছ ?

    • মিলি মন্তব্যে বলেছেন:

      এত্ত এত্ত রাশিয়ান বই পড়েছি যার সবগুলোর নাম আমার মনে নেই , সাইন্স ফিকশন এর জন্য আইজ্যাক আসিমভ আমার অনেক প্রিয় আর ছোটবেলায় পড়তাম রূপকথা আর উপ কথা । ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য আর মন দিয়ে পড়ার জন্য ।

  3. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার ভাবনা প্রকাশ দেখলাম
    সুন্দর ভাবনা
    বেশ সুন্দর তো
    শুভ কামনা

  4. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    কিছু ক্ষেত্রে তাই হয়

  5. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আসলেই আপি একদম সত্য কথা বলছ

    ছেলে সমাজ মেয়েদের দোষ ধরতে ওস্তাদ

  6. সুমন সাহা মন্তব্যে বলেছেন:

    //যত দোষ ভিরাট কোহলীর বান্ধবির । একজন খেলোয়াড় যত ভাল আর বড় মাপের ই হোক না কেন সে তো সব দিন সমান ভাবে পারফর্মেন্স করতে পারে না ,আর এই খেলাটাও তো একজনের খেলা না ।কিন্তু তাতে কি এই উপমহাদেশের সেই চিরন্তন পুরুষ তান্ত্রিক মানসিকতা থেকে তারা বের হবে ক্যামনে ? তাই যত দোষ আনুশকা ঘোষ (শর্মা ) । আমি শতভাগ নিশ্চিত যদি আনুশকা খেলা দেখতে না যেত আর ভিরাট কোহলী এক রানে আউট হত তাহলেই দোষটা আনুশকার ই হত । তখন বলত ও যায়নি তাই ভিরাট এর মন উচাটন ছিল ভাল খেলতে পারল না । তাই নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যত দোষ মেয়ে ঘোষ ।//

    সহমত প্রকাশ করলাম। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই দারুণ।
    “যত দোষ নন্দ ঘোষ”। কথাটিতে “নন্দ” কিন্তু একজন সাহেব। দোষ-গুন বিচার বিশ্লেষনে নাইবা গেলাম। আমার ব্যক্তিগত বোধের জায়গাটি এমন যে, দুনিয়ার সকল মানুষ প্রকৃতপক্ষে ভালো। সে তখনই খারাপ হয়ে ওঠে বা দোষে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন সে বা তারা আমার মত অনুযায়ী চলে না, যখন আমার মতের সাথে মেলে না। ঠিক তখনই দোষ বা তখনই খারাপ। এখানে জেন্ডার বিশ্লেষন গুরুত্বপূর্ণ নয়। খারাপ বা দোষী যে কেউ তখন হতে পারে।

    তা কেমন আছে আপি’টি। সবকিছু কুশলে আছে তো?

    শুভেচ্ছা জানবেন।

  7. মিলি মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ ভাই ,আছি ভালই । একথা ঠিক যে মতের মিল না হলে একজন আরেকজনের কাছে মন্দ হয়ে যায় তবে আমাদের এই উপমহাদেশে লিঙ্গ বৈষম্যটা বড় প্রকট ।

  8. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার ভাবনার বহিঃপ্রকাশ !
    কিন্তু সবসময় সবক্ষেত্রে একইরকম হয় এমনটা কিন্তু নয় আপু ।
    বৈষম্য আগের চেয়ে অনেক কমেছে কিন্তু ।
    ভালো থাকুন আপু ।

  9. সেতারা ইয়াসমিন হ্যাপি মন্তব্যে বলেছেন:

    ঠিক বলেছেন… আসলে একশ্রেনীর মানুষ তো মেয়েদের মানুষ ভাবতেই নারাজ… মেয়েরা যতই প্রতিষ্ঠিত হোকনা কেন সে যে মেয়ে মানুষই…!

    খুব খারাপ লাগে যখন দোষী না হয়েও একটা মেয়ে আজীবন সমস্ত দোষের বোঝা বয়ে বেড়ায়…!

    খুব সুন্দর লিখেছেন আপু…শুভকামনা…!

  10. মিলি মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ ,আসলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আমরা নিজেরাই নিজেদের সম্মান করি না । নিজেকে বদলে বদলে দিতে হবে সমাজটাকে । ভাল থাকুন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top