Today 17 Dec 2017
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

যৌতুক দাম্পত্য শান্তির অন্তরায়

লিখেছেন: সাঈদুল আরেফীন | তারিখ: ২২/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 288বার পড়া হয়েছে।

যৌতুক আমাদের সমাজ জীবনের অভিশাপ। যৌতুকের বিভিন্ন ঘটনা জাতির জাতির বিবেককে দংশন করে। সমাজকে কলুষিত করে । যৌতুক সামাজিক ব্যাধি রূপে ছড়িয়ে দাম্পত্য জীবনের পদে পদে অশান্তির করাল থাবা মারতে থাকে। ধনী -গরীব সক্ষম – অক্ষম এমন কোন শ্রেনীই নেই যেখানে যৌতুকের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে না সমাজ। যৌতুকের বিরুদ্ধে আইন আছে। আইনে যৌতুককে নিষিদ্ধ ও শাস্তি যোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে । তবুও আমাদের সমাজ থেকে যৌতুক কী কমেছে ?

বিয়ে নারী পুরুষের জন্য পবিত্র সামাজিক বন্ধন । প্রত্যেক ধর্মই বিয়ের সামাজিক রীতিকে সমর্থন দিয়ে পবিত্র ভালবাসাময় জগৎ সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছে । সেক্ষেত্রে যৌতুক নামক বিষবাস্প সমাজে এমন ভাবে আঘাত হানছে যা থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি জনসচেতনতার বিকল্প নেই । আমরা সচরাচর দেখে থাকি ,কন্যার ভবিষ্যতের সুখের আশায় পরিবার থেকে সাধ্যাতীত যৌতুক প্রদান করা হয়ে থাকে। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা – মাতা যেমন তাদের মেয়েকে পাত্রস্থ করতে পারে না। তেমনি একাধিক সন্তান যাদের আছে তাদের জন্য যৌতুকের টাকা যোগাড় করে সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও পিছপা হতে হয়। সমাজে এমন ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। ভিটেমাটি বিক্রি করে যৌতুক দিতে গিয়ে সর্বস্ব হারায় বাবা মা।

শুধু যৌতুক দেয়া বা নেয়াই নয় , সামাজিক পরিস্থিতির মাত্রা এমন রূপ পরিগ্রহ করেছে যে, নারী নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে চলেছে চরমভাবে । এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ,নারী নির্যাতনের মাত্রা বেশী বেড়েছে কেবল যৌতুকের কারণেই। বাংলাদেশের এমন অঞ্চল পাওয়া কঠিন যেখানে যৌতুকের ছোবল আঘাত হানেনি।

স্বামী ,শাশুড়ী ,দেবর ,ননদ,এরকম প্রতিটি সদস্য কর্তৃক নির্যাতনের বহু ঘটনা কালের সাক্ষী হয়ে আছে । একজন নারী অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে সংসার নামক জীবনচক্রের আষ্টেপৃষ্টে জড়াতে চায়। সুখ আর ভালবাসা কিম্বা স্বাচ্ছন্দ্যময় দাম্পত্য জীবন গড়ার মানসিকতায় বাবা মা ভাইবোনের সাহচর্য ত্যাগ করে ছুটে আসে নারী । সে সুখ আলোর মুখ দেখে না। চিরস্থায়ী হয় না । নারী নিজেকে সমর্পিত করেও স্বামীর ভালবাসা দূরে থাক ন্যায্য অধিকারটুকু ও পায় না । ক্ষেত্র বিশেষে নারী হয়ে ওঠে পণ্যের মতো । এ প্রথা আমাদের ভাঙতে হবে । দাম্পত্য শান্তির অন্বেষায় সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার। যুগে যুগে নারীদের প্রতি যে অবজ্ঞার ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে তা থেকে পুরুষের অনেক বেশী দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত । আমরা এও জানি, আর্থিক অসংগতি হেতু অনেক পাত্রই যৌতুক দাবী করে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালায় । স্বল্প আয় সম্পন্ন অভিভাবকদের সহযোগিতায় পাত্র সামাজিক মান বাড়ানোর জন্য স্ত্রীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে নানামূখী শারীরিক ,মানসিক নির্যাতন চালায় ।

যৌতুক প্রথা নিমূলের মাধ্যমে দাম্পত্য সুখ ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে চাই আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও কার্যকর সহযোগিতা । তদুপরি,সরকার অনুসৃত নীতি অনুসারে বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে আত্ম কর্মসংস্থান বাড়ানো যেতে পারে । সর্বোপরি সমাজের সর্বস্তরে পাড়ায়, মহল্লায় নয়, পাঠ্যপুস্তকে যৌতুক বিরোধী লেখা অন্তর্ভুক্তকরণ এবং সেমিনার ,পথ নাটক ও গণসমাবেশের মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে যৌতুক প্রথা বিরোধ অভিযান । তবেই হয়তো আমরা ব্যাপক গণসচেতনতার মাধ্যমে দূর করতে পারি দাম্পত্য শান্তির অন্তরায় ।

২৭৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সাঈদুল আরেফীন ১৯৬৮ সালের ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর কোরবানীগঞ্জে জন্ম গ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস বাঁশখালি উপজেলার জলদি গ্রামের নেয়াজর পাড়ায়। পিতার নাম মুহাম্মদ ফৌজুল কবীর এবং মায়ের নাম মরহুমা মোসলেমা খাতুন। আশির দশকের মধ্যভাগ থেকেই সরকারি মহসিন কলেজে পড়াকালীন সময় সাঈদুল আরেফীন সাহিত্য চর্চায় নিবেদিত হন। সেই থেকে কবিতা ,গল্প,প্রবন্ধ,নিয়ে নিরন্তর কলম চালান তিনি। আশির দশকের শেষভাগে সংবাদপত্রে যোগ দেন। চট্টগ্রাম প্রতিবেদক হিসেবে সাপ্তাহিক চিত্রালী,সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর,সন্দীপ সহ বিভিন্ন সময়ে অধুনালুপ্ত সমতা অপরূপ বাংলার প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। মূলত সংবাদপত্রে হাতে খড়ি হয় দৈনিক পূর্বতারাতে ক্ষুদে রিপোর্টার হিসেবে সরকারি মুসলিম হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে। বর্তমানে তিনি রাজনীতি,শিক্ষা,সাহিত্য, সংস্কৃতি,শিশু অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রবন্ধ কলাম এবং লিখে চলেছেন নিয়মিতভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও লিটলম্যাগ গুলোতে। চট্টগ্রাম বেতারে নিয়মিত আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও গবেষণামূলক স্বরচিত প্রবন্ধ ও কথিকা পাঠ ছাড়াও মাঝে মাঝে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে থাকেন। সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন ছোটবেলা থেকেই। তারই ধারাবাহিকতায় দশ বছরের পরিক্রমায় অনুপম নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত থেকে মানবসেবা শিক্ষা , সাহিত্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার একটি উজ্জ্বল সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আশির দশকেই। এখন যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামক একটি বেসরকারি উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনারারী ম্যানেজমেন্ট এডভাইজার হিসেবে কর্মরত থেকে প্রশিক্ষণ,উন্নয়ন নানা গবেষণাধর্মী কাজে জড়িত আছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সদস্য হিসেবে জড়িত থেকে শিক্ষার প্রসারেও কাজ করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর লামাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এছাড়া সাহিত্য ও সংস্কতি বিষয়ক পত্রিকা ঐতিহ্যের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি স্ত্রী ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। “মনে পড়ে জলকদর” তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ। এ গ্রন্থের মধ্য দিয়েই তিনি আমাদের জানান দিয়েছেন লেখালেখির মাঝখানে বিরতি দিলেও তিনি হারিয়ে যাননি। ইদানিং পত্র পত্রিকায় আবারো সক্রিয় হয়েছেন। এতে বেছে নেয়া তাঁর কবিতাগুলোর অধিকাংশই দৈনিক পূর্বকোণ,আজাদী ,মঞ্চ,সুপ্রভাত বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন লিটল ম্যাগে প্রকাশিত কবিতার সংকলন। আমাদের কাব্যভুবনে তাঁর আগমনকে স্বাগত জানাই। তাঁর কবিতা আশাকরি পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে। অচিরেই তাঁর শিশুতোষ প্রবন্ধ ও উন্নয়ন গবেষণামূলক দুটি প্রবন্ধের বই বেরোবে।
সর্বমোট পোস্ট: ২৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৫৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৬-১২ ১৩:৫৫:৪১ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    যৌতুক কেবল দাম্পত্ত জীবনে সমস্যা সৃষ্টি কৱেনা বৱং ব্যাক্তিগত, পাৱিবাৱিক ও সামাজিক শান্তিৱ অন্তৱায় ও বটে। খুব ভাল লিখেছেন

    • সাঈদুল আরেফীন মন্তব্যে বলেছেন:

      ঘাসফড়িং আপনি যৌতুক প্রথাকে সামাজিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমাদের ভাবতে হবে কীভাবে এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    এই ভাবনা অনেকটাই ব্যক্তিগত ।
    ভাল লাগল

  3. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    যৌতুকপ্রথা একটি জঘন্য প্রথা। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সীমিত, সেটা বর্তমানে যৌতুকপ্রথার মোটামুটি বড় একটা কারন। আর অভ্যাস অথবা অন্য যে কারনগুলি বিদ্যমান যৌতুকপ্রথা অব্যহত থাকার জন্য, সেগুলি কঠোর শাস্তির মাধ্যমে অপসারিত হবে বা অনেকটা কমবে।

    ভাল লিখেছেন আপনি। অনেক ধন্যবাদ।

  4. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    কিন্তু নিরবে সমাজের বিত্ত থেকে নিন্ম বিত্ত সবার মাঝে চলছে এই চাদা বাজি।

  5. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আগের চেয়ে যৌতুক লেনদেন কমেছে অনেকটা ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top