Today 19 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

রাজনীতি রম্য: গণতন্ত্র বনাম বারবিকিউ তন্ত্র

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ০৮/০২/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 501বার পড়া হয়েছে।

গণতন্ত্র লইয়া সবাই ব্যাকুল। ব্যাকুল সরকার। ব্যাকুল সরকার-বিরোধী বিশ (বিষ?) দলীয় জোট। বিষ তো নয় যেন পেট্রোলের স্ফুলিঙ্গ।গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁহারা শপথ করিয়াছেন যেই ভাবেই হউক ইহাকে বাঁচাইয়া রাখিতে হইবে। দেখিয়া-শুনিয়া মনে হইয়াছে কেউ কেউ জীবনও বাজি রাখিয়াছেন।গণতন্ত্র রক্ষা করিতে গিয়া হাঁটুর ব্যথায় কাতর আপোষহীন বঙ্গ-জননী ঘর হইতে বাহির হইয়া আর ঘরে ফিরিবার চেষ্টাও করেন নাই। কী মুছিবত স্বগৃহে ফিরিয়া গেলেই নাকি গণতন্ত্র হাতছাড়া হইয়া যাইবেক! সরকার তাঁহাকে স্বগৃহে ফিরাইয়া নেওয়ার জন্যে যত চেষ্টাই করিয়াছেন সবকিছুই বিফলে পর্যবসিত হইয়াছে।

অপর বঙ্গ-জননী গণতন্ত্র রক্ষা করতে গিয়া বাধ্য হইয়া বিকল্প হাল ধরিয়াছেন।তিনিও বেশ দুশ্চিন্তায় পড়িয়াছেন ! এই বুঝি গণতন্ত্র ধ্বংস হইয়া গেল।তিনিও ইট-বালুর ট্রাক,জল কামান আর পিপার স্প্রে দিয়া গণতন্ত্রকে কোনমতে বাঁচাইয়া রাখিবার প্রচেষ্টায় ব্যস্ত রহিয়াছেন।কখন আবার কোমায় চলিয়া যায় সেই দিকেও তীক্ষ্ণ নজর রাখিয়াছেন।

ঐদিকে দাদা সুশীলরাও আগাইয়া রহিয়াছেন এহনে কর্মে।আহা, দেশে গণতন্ত্র না থাকিলে যে জাত-বংশ দুইটাই গেল গো ! দাদাদের এই মায়াবী চিত্কারে কর্ণ-পর্দা ফাটিবার উপক্রম। জাত-বংশ বলে একটা কথা আছে না ! ‘জাতের মাইয়্যা কালো ভালো, নদীর জল ঘোলাও ভালো’। তাই দাদারাও জাতের মাইয়্যা জাতে উঠাইতে মহাব্যস্ত। দাদাদের সুবিধাটা তো ওখানেই। ঘোলা জলে মাছ শিকার করা। এই কর্ম সাধনে তাঁহারা জব্বর উস্তাদ। তাইতো জাতের মাইয়্যা সামলাইতে আদা-জল খাইয়া গণতন্ত্র রক্ষায় সংলাপ অনুষ্ঠানে তাগিদ করিতেছেন।কেউ কেউ মজা লুটিয়া থাকেন তাঁহারা নাকি টক-মারানির দল। এই দলে আবার দলছুট ন্যাতারাও ভাগ বসাইয়া থাকেন।

এইটা আবার কোন দল? লোকেরা কয় তাঁহারা জাতে ভদ্র। পাকায় শুধু কোন্দল।তাঁহারা দিনে লজ্জা পায়। গভীর রাতে জমায় ভালো। তাঁহাদের জবানে টক-ঝাল দুইটাই থাকে। সময় হইলেই পা চাঁটে। কেউ চাঁটে সরকারের, কেউ বা বিশ (বিষ) দলীয় জোটের।এমন বিষ ঢালিয়া দেয় বিষের জ্বালায় পাবলিকও জ্ঞান হারায়। পাড়ার মাস্তানদের মতন নিশিরাতে মারামারিও করিয়া থাকে। খালি চিল্লায়- হেন করেঙ্গা তেন করেঙ্গা।তাঁহাদের এই সকল চিল্লানি কচু পাতার পানির মতন নড়বরে । পড়ে আর ঝরে। তাতে লাভের লাভ(?) -চিল্লানি শেষে হাতে কিছু মাল জোটে। সাদা খামে কচকচে কাগুজে মাল। মালের ধান্ধায় তাঁহারা গণতন্ত্র চর্বণ করিয়া থাকে নেশা জাগানিয়া রাতে। আহা গণতন্ত্রের রক্ষক-টক মারানির দল !! সময় সুযোগে তাঁরাও ভক্ষক ! হুক্কাহুয়া মারতেই থাকে কখন উত্তর বাড়ির ডাক আসিবে সেই আশায়।

এই রক্ষক আর ভক্ষক দুই পক্ষই এখন গণতন্ত্রের জিম্মাদার। পাবলিক কিছুই না।গণতন্ত্রের ব্যবসা করিয়া তাঁহারা অনেক আগেই ধনতন্ত্র লাভ করিয়াছেন। আরে ভাই-ব্রাদার গণতন্ত্র কী আফনেগো চৌদ্দ গোষ্ঠীর পৈত্রিক সম্পত্তি? ভাগ বাটোয়ারা কইরা শুধু আফনেরাই গিলবেন। গণতন্ত্রের মালিক তো জনগণ। আফনেরা যাদেরকে কন পাবলিক।পাবলিকের জন্যে কিছুডা ছাড়েন। পাবলিক তো কানে তুলা দিয়া ছেঁদা বন্ধ করিয়া বসিয়া থাকিবে না। আফনাগো গণতন্ত্র ‘রক্ষা দিবস’ আর গণতন্ত্র ‘হত্যা দিবস’ এই সব ছাগলামি পাবলিক এখন সবই বুঝিয়া গিয়াছে। আবে, গণতন্ত্র আবার বাঁচিয়া আছিল কবে (?) যে তাঁহারে হত্যা করিতে হইবেক?

পাবলিক এখন ম্যালা সেয়ানা। সবই বুঝবার পারে।গণতন্ত্র আর ক্ষমতা এখন দুই সতীনের এক সংসার।এইড্যা যে বিষবাষ্প হইয়া উঠিয়াছে ইহার জ্ঞান পাবলিকের রহিয়াছে। নৈরাজ্য আর ক্ষমতার দাপটে গণতন্ত্র অবরুদ্ধ হইয়াছে। জনগণও অতিষ্ঠ হইয়া গিয়াছে।গণতন্ত্র রক্ষা করিতে গিয়া বিষ দল আন্ধা গুপ্তহত্যা করিয়া চলিয়াছে। আপোষহীন নেত্রীর সাঙ্গপাঙ্গরা যেইভাবে মানুষ ঝলসাইয়া তামাশা করিতেছে তাহা গণতন্ত্রের পরিবর্তে বার-বি-কিউ (barbecue) তন্ত্রে পরিনত হইয়াছে।অক্সফোর্ড ইংরাজি অভিধান এ শব্দটিকে ১৬৬১ সালে ক্রিয়াপদ হিসেবে প্রথম নথিভুক্ত করিয়াছিল।আর আফনারা এতদিন পরে মানুষ পোড়াইয়া এর প্রাক্টিক্যাল ব্যবহার শুরু করলেন বঙ্গ মাটিতে ! জনগনকে ভীতি প্রদর্শন করিয়া, আগুনে পোড়াইয়া ক্ষমতায় যাইবার কৌশল আবিষ্কার করিয়াছেন। নাকি বার-বি-কিউ স্টাইলে মানব দেহ পোড়ানো ইহাও আফনাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যেই রহিয়াছে !!

আন্দোলনকারী নেত্রী কহিতেছেন অন্য কথা।তিনি কহিতেছেন এই কর্ম করিতেছেন সরকার এবং সরকারী দলের ব্যক্তিবর্গ।তাহা হইলে ওই দুষ্কৃতিকারীদের দেখিবার মাত্র গুলি করিবার প্রস্তাবে বিরোধী নেত্রীর আপত্তি জাগিয়া উঠিল কেন? দুষ্কৃতিকারীদের প্রতি বিষ দলীয় নেত্রীর এত দরদ উথলাইয়া উঠিবার কারণ কি? কারণ যাহাই হউক জনগণ যাহা বুঝিবার তাহা বুঝিয়া লইয়াছে।

ওগো আপোষহীন বঙ্গ জননী আপনি স্বগৃহে ফিরিয়া গিয়া হাঁটুর ব্যথার যত্ন নিন। বৃদ্ধ বয়সে নিজ কার্যালয়ে নির্ঘুম রজনী না কাটাইয়া স্বগৃহে ফিরিয়া গিয়া আপনিও নির্ঘুম রজনী থেকে নিজেকে রেহাই দিন এবং আগামী রোববার থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি প্রত্যাহার করিয়া নিন। আপনাদের এই বার-বি-কিউ (barbecue) তন্ত্র হইতে সাধারণ মানুষকেও রেহাই দিন। আর না হয় পেট্রোল বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলেই পাবলিকের মৃত্যু নিশ্চিত করুন- দয়া করিয়া অর্ধেক পুড়িয়া বার্ন ইউনিটে পাঠাইবেন না। দোহাই লাগে আপনার।

 

৪৯০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    সরস লেখা, কষ্টে হাঁসি পেয়ে গেলো … শুভেচ্ছা নিরন্তর ।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    কার যে কতটুকু দোষ একমাত্র আল্লাহ ই জানেন

    দুই দলই জনগণের জন্য বিষফোঁড়া

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top