Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

রাজার ভেলা

লিখেছেন: আলমগীর কবির | তারিখ: ২৭/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 452বার পড়া হয়েছে।

এক যে ছিল দেশ। সেই দেশ ছিল প্রাকৃতিক প্রাচুর্যে ভরপুর। সেই প্রাকৃতিক প্রাচুর্য সম বন্টনের জন্য দরকার ছিল অনেক গাড়ী। অনেক গাড়ী যেহেতু দরকার। সেই গাড়ী চালানোর জন্য প্রয়োজন ছিল অনেক চালক। গাড়ীতো আর যে সে চালাতে পারবে না। তার জন্য দরকার প্রশিক্ষণ। গাড়ী চালকদের জন্য যত মানুষের প্রশিক্ষণ দরকার, তাদের প্রশিক্ষণের জন্য দরকার প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হলেই তো আর চলবে না। তার জন্য দরকার মাস্টার প্রশিক্ষক। মাস্টার প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য যে প্রশিক্ষক হবে সেটা আবার এই দেশে পাওয়া যাবেনা। তাদের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠাতে হবে সাত সমুদ্র তের নদীর ঐ পারে। তার জন্য দরকার অনেক টাকা পয়সা। টাকা কোন রকম জুটলেও প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য চাই সেই রকম গুণি লোক। যে সে লোককে তো আর প্রশিক্ষণের জন্য সেই দূরদেশে পাঠানো যায় না। যারা দূরদেশে যাবে তাদের আবার ইংরেজী জানা চাই। এই সব নানা বিষয় নিয়ে দেশের রাজা ছিলেন চিন্তিত।
সৃষ্টি হলো আর এক সমস্যার। যাকে তাকে তো আর ইংরেজী শেখানো যায় না। ইংরেজী শেখাতে হলে চাই
শিক্ষিত লোক। ইংরেজী শেখার মত শিক্ষিত লোক হয়তো পাওয়া যাবে। কিন্তু ইংরেজী শেখাবো কে? কোথায় পাওয়া যাবে সেই রকম ব্যক্তি যিনি ইংরেজী শেখাতে পারবেন। সে হয়তো সারা দেশ খুঁজলে কিছু লোক পাওয়া যাবে। তাদেরকে দিয়ে ইংরেজী শেখানো যাবে। কিন্তু যেন তেনো ইংরেজী শিখলে তো আর হবে না। ভাল করে ইংরেজী শিখতে হবে, সেই দূরদেশের উচ্চারণ শিখতে হবে, বুঝতে হবে তাদের উচ্চারণ। তানা হলে ইংরেজী জানা ভদ্রলোকেরা যতটুকু শেখাবে যারা শিখতে যাবে তারা হয়তো ১০ ভাগের এক ভাগ শিখবে। শেখাতে গিয়ে যাদেরকে প্রশিক্ষণ দেবে তাদের হয়তো ১০ ভাগের আট ভাগ শেখাবে। এই ৮ ভাগ থেকে যে প্রশিক্ষকরা শিখবে তারা হয়তো চালকদের ৬ ভাগ শেখাবে। চালকরা মনে রাখতে পারবে ৫ ভাগ। ৫ ভাগ মেধা দিয়ে যতটুকু গাড়ী চালানো শেখাবে তাতে হয়তো এইটুকু শিখবে যে এ গাড়ী গরুতে টানে না, যন্ত্রে টানে।
যন্ত্রনা তো কম নয়। এই গাড়ী গরুতে টানেনা যন্ত্রে টানে তাতে তো তেমন কোন লাভ হবে না। গাড়ী যন্ত্রে চলে এই টুকু শিখতে লাগবে ৬+৩= নয় মাস। ততদিনে দেশেরর সব্য পণ্য পঁচে শেষ হয়ে যাবে। তাহলে কি করা যায়।
উপরোক্ত ভাবনা সমূহ ভাবতে ভাবতে দেশের রাজা সাহেব ঘুমিয়ে পড়লেন। কিন্তু বেশিক্ষণ খুম হলো না। রাজা সাহেব তো মহা চিন্তায়। এখন কি করবে? গাড়ী যদি না চলে দেশের এক অঞ্চলের মানুষ ধান পাবে সব্জি বা পোষাক পাবেনা। আর এক অঞ্চলের মানুষ সজ্বি পাবে ধান বা পোষাক পাবে না। এক অঞ্চলের মানুষ পোষাক পাবে ধান বা সব্জি পাবে না। শুধু ধান খেয়ে বা শুধু সব্জি খেয়ে বা শুধু পোষাক পরে তো দিন যাবেনা। আগে অন্য দেশের মানুষ এসে বিনিময় করে যেতো এখন তো তারা আর আসেনা। রাজা সাহেব এভাবে বেশ কিছু দিন চিন্তা করলেন। রাত্রে ভাল ঘুমাতে পারেন না। না ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চোখের কোণায় কালি পড়ে গেলো। ও দিকে রাণী সাহেবাও রাজা সাহেবের উদ্বিগ্নতা নিয়ে বেশ চিন্তিত। রাজা সাহেবের এই কষ্ট রাণী ও মেনে নিতে পারছেনা। দেশের জনগণও মেনে নিতে পারছেনা।
রাজা সাহেবের এই কষ্ট দেখে রাণী সাহেবা হাওয়া বদলের জন্য নদীর ধারে বাগান বাড়ীতে বেড়াতে নিয়ে গেলো। রাজা সাহেব তো রাণী সাহেবকেও এখন সহ্য করতে পারেনা। দেশের মানুষের কথা ভেবে রাজা সাহেব পেরেষান। দেশের মানুষও তাদের প্রতি রাজা সাহেবের ভালবাসা দেখে তো অবাক। তারা সবাই মসজিদে মসজিদে, মন্দিরে মন্দিরে, গির্জায় গির্জায় প্রত্যেকে নিজস্ব ধর্মালয়ে প্রার্থনা করতে লাগলো। সেই প্রার্থনাতে বোধ হয় আল্লাহ/ভগবান/ঈশ্বর রাজা সাহেবের প্রতি কৃপা করলেন। অবশেষে রাজা সাহেব এক বালকের কাছ থেকে সমস্যার সমাধান পেয়ে গেলেন।
রাজা সাহেব মহা আনন্দে নাচা-নাচি করছে। তাই দেখে দেশের রাণী ও দেশের সকল মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত। রাজা সাহেব বলছেন।
রাজা : রাণী আমি পেয়েছি, পেয়েছি।
রাণী : কি পেয়েছেন?
রাজা :সমাধান পেয়েছি।
রাণী : কিসের সমাধান?
রাজা : এত দিন যে সমাধান আমি খুঁজেছি।।
রাণী : কিভাবে সমাধান পেলেন?
রাজা : বলব, বলব, শুধু তোমাকে একা নয় দেশের সকল মানুষের সামনে বলব। সকলকে একসাথে নিয়ে বলব।
রাজা সাহেবের চাওয়া বলে কথা। সকলেই রাজা সাহেব কি ভাবে সমাধান পেলেন তা জানার জন্য দেশের সব শ্রেণীর মানুষ, সব পেশার মানুষ, সব বয়সের মানুষ আজ সমাগত। আজ রাজা সাহেব তার সেই সমাধান কি ভাবে পাওয়া তার গল্প শোনাবেন। রাজা সাহেব সবার সামনে সমাধান খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে শুরু করলেন –
রাজা : রাণী তুমি জান আমি পরশু একা একা নদীর ধারে বসে ছিলাম। বসে থাকতে থাকতে দেখি বাজার থেকে কিছু মানুষ বাড়ী ফিরছে নদী পার হয়ে। দু’টো বালক ছেলে তাদেরকে কলা গাছের ভেলায় করে নদী পার করে দিচ্ছে। দু’জন বালক দু’টি ভেলায় পৃথক করে দু’জন করে মানুষ নদী পার করছে। একজন বালক একটি ভেলায় একজন মানুষকে বসিয়ে ভেলা ধরে সাতার কেটে নদীর অপর প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। নিতে নিতে কখনও কখনও ভেলা উল্টে যাচ্ছে, আবার ভেলা যদি উল্টে নাও যায় তবে সেই ভেলায় চড়ে ভেলার যাত্রীর পোশাক পরিচ্ছদ ভিজে যাচ্ছে।
রাণী : উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এতে সমাধান কোথায় পেলে? এটা তো সমস্যা।
রাজা :একটু ধৈর্য্য ধর রানী। সকল সমস্যার মধ্যেই তো সমাধান নিহিত থাকে। তাহলে শোন, এই ভাবে যখন ভেলায় একজন যেতে গিয়ে ভিজে যাচ্ছে, তখন ছেলে দু’টি করল কি! দুইটি কলা গাছের ভেলা একসাথে বেঁধে দিলে এবং তখন দুই জন করে যাত্রী পার হচ্ছে কিন্তু আগের মত ভিজে যাচ্ছে না বা ভেলা উল্টেও যাচ্ছে না। এই সাফল্যে উৎসাহ পেয়ে ছেলে দু’টি আরও কয়েকটি কলা গাছ কেটে এক সাথে বেঁধে নিয়ে বড় আকারের ভেলা তৈরী করল এবং তখন অনেকেই এক সাথে নিরাপদে নদী পার হতে পারছে, কাপড় ও ভিজছে না বা ভেলাও উল্টাচ্ছে না। মানুষের সাথে মালপত্রও নিরাপদে পার করে নিয়ে যাচ্ছে। ঐ ভেলার মত সকলে মিলে আমরা যদি একসাথে চলতে পারি তাহলে আমাদেরও কোন সমস্যা হবে না। আমাদের জীবন চলার ভেলাটাও উল্টে যাবে না।
আলমগীর কবির
দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা।
7/26/2013 10:09:28 PM

৬০২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি আলমগীর কবির , জন্ম 1979 সালের 25 জানুয়ারী , গ্রাম-চাঁদপুর, ডাক-কন্যাদহ, হরিণাকুন্ডু, ঝিনাইদহ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হিসাব বিজ্ঞানে এমকম করার পর একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম-এ এমবিএ করি। বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি, প্রতিষ্ঠানের নাম ওয়েভ ফাউন্ডেশন। যখন কলেজে পড়তাম তখন থেকেই লেখালেখির খুব ইচ্ছা ছিল কিন্তু আত্ম বিশ্বাসের অভাবে হয়ে উঠেনি। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ছোট গল্প এবং হুমায়ুন আহম্মেদ, সুনীল গঙ্গোপধ্যায়, মানিক বন্দোপধ্যায় সহ বেশ কিছু লেখাকের উপন্যাস পড়তে খুব ভাল লাগে। আগে কবিতা পড়তে ভাল লাগত না তবে এখন ভাল লাগে।
সর্বমোট পোস্ট: ৬১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৪১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৭-২৭ ০৯:৩৯:৩৮ মিনিটে
banner

১৯ টি মন্তব্য

  1. আলামগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    এই গল্পটা মূলতঃ ছোটদের জন্য লেখা কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো ছোট্ট বন্ধুরাতো আর ব্লগ বা ফেসবুক থাকেনা| অতঃপরও লেখাটা ব্লগ বা ফেসবুকে পোস্ট করলাম। বড়দের পড়ার দরকার নেই। পারলে আপনার সন্তান বা ছোট্ট ভাই-বোনদের পড়াতে পারেন। আপনি সময় নষ্ট করে পড়ে আমাকে গালি দিবেন সেটা কিন্তু হবে না!

  2. আনোয়ার জাহান ঐরি মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার প্রথম লেখাটিই স্টিকি হয়ে গেল!!!!
    শুভেচ্ছা আপনাকে।

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    আলামগীর কবির ভাই আপনাকে আমাদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য স্বাগত জানাচ্ছি। আপনার ছোটদের নিয়ে লেখা গল্পটিপড়লাম। বেশ ভাল লাগল। আশা করি নিয়মিত লিখবেন।

  4. আলামগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    আমির হোসেবন ভাই গল্পটা সময় করে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। দোয়া করবেন যাতে লেখাট চালিয়ে যেতে পারি।

  5. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    দোয়া অবশ্যই করব।

  6. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    সাথে আছি। নিয়মিত লিখবেন।

  7. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    সাথে আছি। নিয়মিত লিখবেন…….

  8. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনাকে চলন্তিকায় স্বাগতম । গল্প ভালো লেগেছে, আশা করি নিয়মিত লেখবেন ।

  9. আলামগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ মিন্টু ভাই।

  10. গৌমূমোকৃঈ মন্তব্যে বলেছেন:

    আসলে আমাদের সকলের ঐক্য প্রয়োজন। শুভকামনা রইল।

  11. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    শুভ কামনা রইল।

  12. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    খারাপ লেখেননি ।

  13. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল ভাবনা
    বেশ ভালো
    খারাপ না বটে,,,,,,,,,,,,,,,,

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top