Today 21 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

রিকশা পেইন্টিংয়ের কারিগর

লিখেছেন: নাজমুল হক ইমন | তারিখ: ২৬/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1280বার পড়া হয়েছে।

4

চলাচলের যানবাহনের মধ্য রিকশা অন্যতম। যদিও জাপান থেকে রিকশার উৎপত্তি তার পরও রিকশা আমাদের দেশে যানবাহন হিসেবে প্রথম থেকেই বেশ জনপ্রিয়।

 

রিকশাকে উপলক্ষ করে আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ ক’টি শ্রমজীবী শ্রেণীর উদ্ভব ঘটেছে। এর মধ্যে প্রথম হচ্ছে রিকশা মেকার, রিকশার বডি মেকার ও রিকশা অলংকরণ করার একটি এমেচার শ্রেণী। রিকশা অলংকরণ করা এ শ্রেণী কোনো প্রতিষ্ঠান আসা নয়। কিন্তু এদের শিল্পবোধকে খাটো করে দেখা বিষয় নেই। এনামেল পেইন্ট দিয়ে এরা এঁকে যায় প্রকৃতি মানুষ সিনেমার, পোস্টার বিভিন্ন কিছুর ছবি। রং ব্যবহারে এদের কোনো সীমাবদ্ধতা বা পরিমিতি বোধ গড়ে ওঠেনি। কিন্তু এই না ওঠাটাই একটা ভিন্ন ধারা শিল্পমাত্রার জš§ দিয়েছে। যেমন চোখের রং সাদা এবং কালোর বৈপরীত্বে ভরা। আবার চুলের রং কালো, শরীরের রং পিংগল কিন্তু এদের অংকন কাঠামোতে চুলের রং হয়তো লাল হলো চোখের রং নীল হলো আর গায়ের রং সাদা হলো। মানে রং বিষয়ক কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতার বা নিয়মের ধার এ ধারে না। রিকশা পেইন্টিং এর এটাই মূল বিষয়।

2

রিকশাগুলোর গায়ে যেসব ছবি বা চিত্র আঁকা হয় তা রিক্সার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। মাঝে মধ্যে মজার সব ছবিও আঁকা হয় রিক্সার পিছন দিকে। আর সবচেয়ে বেশি যেটি চোখে পড়ে সেটি সিনেমার কোনো বিশেষ দৃশ্যের ছবি। নায়ক নায়িকাদের ছবিও চোখে পড়ে। আবার কোনো কোনো রিকশার পেছনে বাঘ-হরিণের ছবিও দেখতে পাওয়া যায়।

যারা রিকশায় এসব ছবি বা রিকশায় আঁকানোর কাজ করে তাদের আমরা পেন্টার বলি। তাদের নিখুঁত হাতের পেন্টিং দেখতে যেমন বেশ, তেমন জীবন্তও। তাছাড়া রিকশা পেন্টিং পেশার ওপর নির্ভর করে দেশে অনেক মানুষ জীবনজীবিকা চলে। এই ধরনের কয়েক রিকশা পেইন্টারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়। আমরা জানতে পারি তাদের কাছ থেকে এই পেশায় নিজেকে জড়ানো কারণ। এই পেশার ভবিষ্যৎ কী? আরো নানা ধরনের কথা জানা যায় তাদের কাছ থেকে। পেন্টার বেলাল হোসেন। বাড়ি রাজশাহী জেলার বিনোদপুরে। ছোটবেলায় ঢাকায় চলে আসেন। এক সময় সিনেমা পোস্টার পেন্টিংয়ের দোকানে কাজ করত। তারপর নিজেই একদিন হাতে রং-তুলি তুলে নেন। এখন তার পেন্টিংয়ের দোকান মোহাম্মদপুরে। আগে সিনেমার পোস্টার আঁকলেও এখন আর সেই পেশায় নেই তিনি। কারণ কিছুদিন আগেও সিনেমার জন্য বড় বড় যে পোস্টার তুলি দিয়ে আঁকা হতো এখন সেভাবে হয় না। কম্পিউটারের যুগে সব ডিজিটাল ভাবেই করা হয়। রেক্সিনে গ্রাফিক্স করে সিনেমার পোস্টারের কাজ করা হয়। তাই রিকশা পেন্টিংয়ের পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।

3

সারা দিনে নানা ধরনের ছবি আঁকতে হয়। আর এই সব রিকশার পেছনের বডিতে বসানো হয়। এছাড়া র রিকশার গায়ের টিন বা লোহাতেও আঁকা হয় নানা ধরনের দৃশ্য। নানা ধরনের রঙের ব্যবহার তুলি দিয়ে সারিয়ে নিতে হয় কাজগুলো। হারুন শেখ আরেকজন রিকশা পেন্টার। তিনি বকশীবাজারের এক রিকশা পেন্টিংয়ের দোকানে কাজ শিখেছে সেখান থেকে প্রতিদিন একটু একটু কাজ শিখে এখন নিজেই রিকশা পেইন্টার। তারপর কিছুদিন তাদের সঙ্গে কাজ করেন। এক সময় নিজেই দোকান খুলে বসেন বকশীবাজারে। তার দোকানে এখন কয়েকজন পেইন্টারও কাজ করেন। নানা ধরনের চুক্তির ভিত্তিতে তারা রিকশা পেন্টিং করে। রাজধানীর বকশীবাজারের জগীনগর, বেড়িবাঁধে সংলগ্ন জায়গা, মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তানসহ আরো কয়েকটি জায়গা আছে যেখানে ব্যাপকভাবে রিকশা পেইন্টিং করা হয়।

রিকশার গায়ে যে পেইন্টিং লাগানো হয় সেগুলো রেডিমেটও পাওয়া যায় সেখানে। নানা দামের এই পেইন্টিংগুলো রিকশার মহাজনরা কিনে নিয়ে যান তাদের রিকশার গায়ে লাগাতে।

আবার পুরনো রিকশা ঘষে মেজে তাতে নতুন করে আঁকা হয় নানা ধরনের ডিজাইন। পুরনো রিকশা হলেও পেইন্টিংয়ের কারণে সেগুলোকে নতুনের মতো দেখায়। প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে এই রিকশায় আঁকানোর কাজ। দিনের পর দিন কাজ করার কারণে দেখা গেছে রিকশার অনেক মিস্ত্রি নিজেই হয়ে উঠেছেন পেইন্টার। শিখে ফেলেছেন পেইন্টিংয়ের কাজ। তারা ভাঙা ভাঙা হাতের নানা ধরনের ডিজাইন আঁকিয়ে ফেলেন।

মজার ব্যাপার, রিকশার পেন্টিং মাঝে মধ্যে যেমন আর্কষণীয় করে রিকশাকে আবার হাস্যকর মজার কিছুও ঘটে রিকশার গায়ে অনেক কিছু লেখা দেখে। ‘আমাকে মারবেন না, খাইছি তোরে, টাইম নাই, ধাক্কা লাগলে খবর আছে, জš§ থেকেই চলছি’ এই ধরনের হাজারো মজার লেখা। আবার শাবানা, রাজ্জাক, আলমগীরের মতো দেশখ্যাত অভিনেতাদের আজব আজব পোস্টার মার্কা ছবিগুলো চোখে পড়ে। সব মিলিয়ে পেইন্টাররা তাদের পেইন্টিংয়ের

1

মাধ্যমে রিকশাকে বেশ মানানসই করে তোলেন। কেননা কথায় আছে ‘আগে দর্শন ধারী তারপর গুণবিচারি’। আর মূলত একটি কথা ঝকঝকে চকচকে সব রিকশায় সবাই পছন্দ করে। কারণ একটি ভাঙা রিকশাতে যত না যাত্রী ওঠে তার চেয়ে নতুন রং করা রিকশাতে যাত্রী বেশি ওঠে। আবার কয়েকটি কারণে রিকশাতে রং করতে দেখা যায়।

এই পেশায় যদি কেউ নামতে চান তাহলে আগে মনোস্থির করতে হবে। রংগুলো সম্পর্কে চেনা জানা থাকতে হবে। আয় খুব একটা কম নয়। পুরনো রিকশা পেইন্টিং করে আবারো নতুন করার দায়িত্ব পেইন্টারদের। সেক্ষেত্রে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পড়ে যাবে। আর যদি বডিতে নানা ধরনের পেইন্টিংয়ের ছবি লাগানো প্রয়োজনে সেগুলো কিনে হয় তাহলে সেগুলো দামাদামি করে নিতে হবে। নিজস্ব সংগঠন তাদের না থাকলেও তাদের রিকশার কারিগরদের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য এ ব্যাপারে কথা হয় নূর সালাম নামের এক পেইন্টারের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘আমরা যারা রিকশা পেইন্টিংয়ের কাজ করি তাদের সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকা জরুরি। কেননা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হলে, সংগঠনে জড়িত থাকলে সমস্যার সমাধান সহজেই পাওয়া যায়।

১,৩৪৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ২২ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ০ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-১৭ ০৮:০২:১০ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভিন্ন বিষয়
    কিন্তু চমৎকার

    অনেক ভাল লাগা।

  2. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    চমত্‍কার লিখেছেন তো !
    ভাল লাগা জানিয়ে দিলাম ।

  3. মিলন বনিক মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর এবং বাস্তব জীবন চিত্র তুলে ধরেছেন…একটা প্রজেক্ট থিসিস হতে পারে…অনেক কিছু তুলে এনেছেন…ধন্যবাদ…

  4. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো আমাদের কাছের সেসব মানুষদের কথা তুলে ধরার জন্য যাদের চিত্রকর্ম আমরা প্রতিনিয়ত দেখি অথচ যাদের কথা একবারও মনে হয় না।

  5. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    নতুন এক ভাবনা ধারা নিয়ে লেখা চিত্র সহ তুলে ধরা প্রাঞ্জল আলেখ।বেশ ভাল লেগেছে।

  6. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    অন্যরকম একটি পোস্ট পড়লাম। ভাল লাগল।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top