Today 29 Oct 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

রেপিস্ট!!!…….

লিখেছেন: সঞ্জয় দত্ত | তারিখ: ১৩/১০/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1531বার পড়া হয়েছে।

আমি এখন শিক্ষক, ঠিক তাই ,তবে!!!!!! ,

সালটা ২০০২ এর শেষ এর দিকে, আমি সবে মাত্র একটা সরকারি ট্রেনিং কলেজ থেকে প্রাইমারিটিচারট্রনিং শেষ করেছি, বাবা অনেক টাকা খরচ করেছেন , আর তার দ্বারা আর আমার পড়াশুনার জন্য ব্যয়ভার বহনকরা সম্ভব নয় জানিয়েদিলেন। সবাই বলে আমার নাকি চাকরি হবেই।সাল ২০০৩ এখন আমি ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি।সুতরাং আমার খরচা আমাকেই বহন করতে হবে, আমি প্রাইভেট টিউশনি করি ।মোটামুটি ভাবে চলে যাচ্ছিল আমার পড়শুনা।দুটো  বাড়িতে আর একটা ব্যাচ পড়াতে যেতাম,মাসে মোট ৫৫০ টাকা আয় হত।ইতিমধ্যে আমার ছোড়দির বিয়ে হয়ে গেছে।জামাই এর বাসনের দোকান ।বাবার অনেক প্রচেষ্টা আর যুদ্ধের ফষল এই জামাই ।তিনি(জামাই) নাকি এলাকাই একটা মেয়ের ফাঁদে পা দি্যে জড়িয়ে পড়েছিলেন, কেউ কেউ বলেন,তার সঙ্গে নাকি মেয়েটার নাজায়েজ সম্পর্ক ছিলো,কেঊ কেউ বলে মেয়েটার ফ্যামিলি ভালো না,ওরা নাকি টাকার জন্যই বড় ঘরের ছেলেদের জালে জড়ায় ।আমার বন্ধু পাঠক রা আশা করি আমার বক্তব্য এর বিষয় টা কি বুঝতে পেরেছন।তো যাই হোক আর্থিক ভাবে জামাই বেশ সচ্ছল।সুতরাং তিনি বাহুবল এবং টাকার ব’লের দ্বারা স্ব-অবস্থানে রইয়ে গেলেন।কিন্তু মেয়েটার বাড়ির লোকজন এবং তার সমাজের পরিচিত মহল সাময়িক ভাবে চুপ থাকলেও বুড়ো সাপের মত গরল তার ফনাতে ধারন করেই রইল।ওই লেজে আর কেউ ওই পরিবারের যদি পা দেয় তাহলেই ফঁ——–সসসসসস,একেবারে মরন কামড় দেবে,এরই অপেক্ষায় শুধু দিন গোনা,এটাই ওদের একমাত্র স্বান্তনা।আর বিশেষ রঙের পতাকার তলায় দাড়ানো,রাজনৈতিক দাদারা,যারা মেয়েটির পাশে ছিলো,_ শুধু হাত কামরাতে থাকলো,” যা! শালা!এ যাত্রায় বেচে গেলি! পরে দেখেনেবো!”।

জানিনা,ঠিক বলছি না ভুল,তবে আমার মনে হয়েছে,এই সমাজে ন্যায়-অন্যায় বিবেচনাহীন হয়ে বেশির ভাগ পুরুষ মানুষ মহিলাদের প্রতি বাড়তি সহানুভুতির হাত বাড়িয়ে দেয়,আর সেই ভুলের জন্য মাশুলও অনেক দিতে হয় পুরুষদের,এর অনেক উদাহরণ আছে!

বাবা, মা,আরআমি এই আমাদের সংসার।দাদা বাবার সঙ্গে লোকহাসানো অশান্তি করে অন্যত্র বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকে, এতে অবশ্য দাদার একটু সুবিধায় হয়েছিলো, বাবাকে আর্থিক সাহায্য করতে হতো না।আর ভাইয়ের শিক্ষার ভার তো দুরেরকথা।দাদার চিরকালিন আবেদন বাবার কাছে” ওকে ব্যবসায় ঢুকিয়ে দাও ,পড়িয়ে কোনো লাভ নেই,”,–বাবার চিন্তন জগতে একথাটা আগে থেকেই প্রজ্বলিত ছিলো দাদা শুধু্ মাঝে মাঝে একটু ঘি ঢেলে দিত, ব্যস আবার ১৫-২০ দিনের জন্য আমার পড়াশুনা ভার্সেস বাবার আন্টিপড়াশুনার একটা লড়াই শুরু হয়ে গেলো,আর আমি শুধু নির্বিকারভাবে অপেক্ষা করতাম কবে এই কালো মেঘ কাটবে, বর্ষাকাল না থাকলেও এই মেঘ থেকেই গেলো, তবে কখনো ভারি মেঘ , কখনো বা হালকা মেঘের বর্ষন চলতই, আমি শুধু বজ্রবিদ্যুতের ভয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখতাম,আর সংযতভাবে চলার চেষ্টা করতাম।

আমার বড়ো দিদি থাকে তারকেশ্বরে, আর মেজদিদি কৃষ্ণনগর, ছোটো দিদি আমার গ্রাম ……………।

দাদার পড়াশুনার(আমার) প্রতি নিরুৎসাহ ,বাবার আর্থিক অসহযোগিতা  আমাকে ক্রমশঃ দুর্বল করে তুলতে থাকত, (ক্লাস সেভেন থেকে ক্লাস টেনএর প্রিটেস্ট, টেস্ট-সহ প্রায় ৮টা পরীক্ষাতে একটানা ফার্স্ট হয়েছিলাম আমি,মাধ্যমিকে স্কুলে র্ফার্স্ট,ফার্স্ট ডিভিশন উইথস্টার মার্ক্স), টেস্ট পরীক্ষার মাস খানেক আগে পড়াশুনা ছেড়েদিলাম,আর কিছছু ভাল লাগতো না, কি আর হবে,যাক গে, বাবার ব্যবসাতেই না হয় মন দেওয়া যাক, এতে অন্ততঃ মানসিক চাপটাতো কিছুটা কমবে!

তাও রেহাই নেই,ব্যবসায়ি ঘরের ছেলে বেশ বাবার সহযোগি হয়ে উঠছি্‌ এমন সময় আমার টিচার স্যার পরিমলমিত্র বাবাকে ডেকে পাঠালেন, আর আমাকে পড়তে যেতে বলে পাঠালেন। প্রয়োজনে উনি নাকি মাসিক মাইনেটা নেবেন না, তবু আমি যেন ওনার কাছে যথারীতি পড়তেযাই, সুতরাং আবার  সেই যাত্রা শুরু, আবার পড়াশুনা।মাধ্যমিকে ফার্স্ট ডিভিশন উইথ ষ্টার মার্ক্স পেয়ে স্কুলে ফার্স্ট হলাম।উচ্চমাধ্যমিকে সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হলাম,হায়রে ! কেমিস্ট্রি,ফিজিক্স,ম্যাথ,ইংরেজী,বাংলা, তে টিচার আবার বায়োলোজিতেও নাকি একটা টিচার নিতে হবে্‌ এতো টাকা কোথায় পাবো? অগত্যা আমি টিউশনি পড়ানো শুরু করলাম। বেশ ভালোই স্টুডেন্ট পেলাম, বাবার কাছে মাসে  শ-দুয়েক পেলেই মোটামুটি চলে যাচ্ছিলো।কিন্তু পেরে উঠলাম না প্রতিদিন দুই-তিন বার পড়াতে  যাওয়া ,আর ৫ টা টিচার এর কাছে অল্টারনেটিভ ভাবে পড়তে যাওয়া বড়োই কস্টকর হয়ে উঠলো।পারলাম না ,বন্ধুরা পারলাম নাআমি আমার আশানুরুপ রেজাল্ট করতে পারলাম না —-I GOT JUST SECOND DIVISION MARKS IN H.S EXAM.

কিন্তু আমার টীঊশণি পড়ানোটা চলতেই থাকলো।নইতো আমার কলেজ যাওয়ার কথা আমার ব্রেনের মেমরি কার্ড  থেকে বাদ দিতে হবে,সুতরাং আবার সেই অগত্যা………।।

মাছ ধরতে বঁড়শিতে একটা টোপ দিতে হয়্‌, ঈশ্বর বা পরমেশ্বরনামক অদৃশ্য এই দাতা বা গ্রহিতা আমার জীবনে একটা টোপ (টোপ কেন বলছি পাঠকরা অচিরেই জানতে পারবেন)দিলেন যেটার নাম প্রাইমারিটীচারট্রেনিং, আর সেটা আমি প্রথমশ্রেণি মার্ক্স নিয়ে ভালভাবে পাশ করলাম।এবারেও কিন্তু আমার টীউশনি বন্ধ হয়নি, কারনটা সূচনাতেই বলেছি।১টা পাতা আমার লিখতে লিখতে শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু একবারও যার নাম উল্লেখ করিনি এমন একটা আমার বেস্টফ্রেন্ড, একপাতে খাওয়া ১২ বছরের একটানা বন্ধু   বাবিন(কল্পিত)।।,যে আমার জীবনের একটা অধ্যায় জুড়ে ছিলো।আমার দাবা ,ক্যুইজ, এর একমাত্র পাটনার, ভাবতেও অবাক লাগে এও কোথায় যেন হারিয়ে গেল ক্রমশঃ।।

যাইহোক ,ট্রেনিং শেষ, করে বাড়ি ফিরলাম, টীউশনি আর কলেজের পড়াশুনা,বাড়ীর কাজ, বাবার ব্যবসা,্তৎসহ সংসারে আর্থিক সহযোগিতা করার নিরবিচ্ছিন্ন চাপ, এই নিয়েই চলে যাচ্ছিল দিনগুলো…।মাসগুলো,…। বছরগুলো্‌,…।।।আমি হইতো আমার মনের ভাব পুরটা ব্যাখ্যা করতে ব্যার্থ, কারন  আমি লেখক নয়,আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড   বিদিশা দি বা সৌ্মিত্রদার মতো  লিখতে পারিনা, যেটা  লিখতে চলেছি,সেটা লিখতেও আমি ভয় পাচ্ছি,জানিনা আবার নতুন করে কোন ঝড়ের সম্মুখীন হবো কিনা! ,।তবু্‌……‌,

আমার একজন ছাত্রী  মিতা মন্ডল, ক্লাস নাইনের স্টুডেন্ট, আর তার ভাই অমিত ক্লাস সিক্সের ছাত্র ,বাড়ীতে যেতাম পড়াতে, (কল্পিত নাম),পড়াশুনাতে খুব ভালো ছিলোনা,—- দুজনেই মাঝারি মানের স্টুডেন্ট ছিলো।বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ভাইকে এখানে ওখানে পাঠাত, শুধুমাত্র আমাকে একাকি পাওয়ার জন্য,সে সুযোগ মিলেও গেলো তার,আমার হাতে ধরিয়েদিলোএকটা ভাজ করা কাগজ,আর জানালো আমি যেন, ওটা বাড়ী গিয়ে দেখি,।আমার সেই মুহুরতেই বুঝতে অসুবিধা হয়নি ওতে কি লেখা থাকতে পারে,আমি্‌,……আমি…।বিভ্রান্ত,শঙ্কিত, কি বলবো?, কাকে বলবো?ওদের বাবা মা,কাজের তাগিদে রাজ্যের বাইরে অন্যত্র (দিল্লী)থাকতো, কি করি আমি? কে কিভাবে নেবে ব্যাপার টাকে? আমার টিউশনিটা বন্ধ হয়ে যাবেনা তো? কিন্তু আমার যে টাকার দরকার! বাড়িতে বাবাকে বলব? অসম্ভব !  কপালে মারধর, বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যেতে হবে,     মাকে? সে তো একই ব্যাপার,    দাদা? সে ওতো ……।।তাহলে কি টিউশনিটা ছেড়ে দেব? আমাদের ওখানে টিউশনির বাজারটা বেশ গরম, টিউশনি টীচাররা ডিক্লেয়ার দেই ১ম দুই মাস মাইনে ছাড়, একজন স্টুডেন্ট আনতে পারলে আরোও ১মাস …।এখন এই টিউশনিটা ছেড়ে দিলে আর কি স্টুডেন্ট পাবো? আমার অর্থের  ভাঁড়ার ঘরে টান পরবে, আমি আমার পড়াশুনা চালাবো কি করে? একটা রাস্তা অনেক ভেবে বার করলাম্‌…।ওর মামি, যে ওই গ্রামেই থাকে, তাকে জানাবো, তার আগে অন্ততঃ আমি নিজে একবার বিষয়টা আভয়েড করে দেখি,।যথারীতি আমি পরের দিন টিউশনিতে গেলাম,পড়ানো শুরু করবো, বাঙলা বইটা হাতে নিয়েছি, বইয়ের পরিস্কার বাঁশপাতার মলাটের উপর ইংরেজি ইনিশিয়ালে বড়ো বড়ো অক্ষর এ  লেখা দুটো নাম একটা আমার আর একটা তার নিজের। আমি রূঢ় ভাষায় কিছু বললে ,বাবা মা এর আদরের কন্যাটি দু;খ পাবে, আমাকে না জানি কি বলবে? কি করবে? আমাকে জানতে চাইলো আমি “কাগজটা” খুলে পড়েছিলাম কিনা? ,উত্তর দিলাম, “আরে আর বোলো না কাল রাত্রে বাড়ি ফেরার পথে একবার ক্লাবে গেলাম, ওই খানে থেকে বাড়ি ফেরার পরআর মনেও নেই, পরে যাওবা মনে পড়েছিল তখন আর ওটা খুজেই পেলেম না।কি ছিল কী ওরমধ্যে ?ভাইয়ের বিরুদ্ধে আবার  অভিযোগ নাকি?আচ্ছা ঠিক আছে আসুক দেখছি।“ এই বলে প্রসংগটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম।সেদিনটার মতো পড়ানো শেষ করলাম ,কিন্তু আমার দুঃশ্চিন্তা শেষ হলোনা্‌,আমি খানিকটা কিংকতব্যবিমুড় হয়ে পড়লাম,এক দিন পর আবার সেই পড়াতে যাওয়া, …।গেলাম…।মেয়েটি র মধ্যে কখনো খুশি কখনো বিষণ্ণতা লক্ষ্য করলাম আমি।ওরা্ যে বাড়িতে থাকতো ওদের  local guardian বলতে ছিলো একমাসি , হ্যা নিজেরই মাসি,তিনি খুব রাগী,জেদি,এবংকলহপ্রিয় বলে পরিবারে একটা নামডাক অর্জন করেছেন।তিনি আবার আমার সাঙ্গেই প্রাইমারী স্কুলে পড়েছিলেন, আমি তাকে ভালভাবেই জানতাম, তাই ওর কাছে কিছু বলবো সেচিন্তা একবারের জন্যেও মাথায় আসতে দিইনি। যাইহোক্ মেয়েটির আজকের প্রশ্ন “আপনি কাউকে ভালবাসেন? ”, উত্তর দিলাম “না কেন?তুমি বোধহয় কিছু একটা ভুল করছো,” এই কথাটা শুনেদেখলাম ওর মুখ লাল হয়ে গেলো, ভয়ে না লজ্জায় বুঝতে পারলাম না, পড়ানো শেষ , বাড়ি ফিরলাম ,আগামি কাল ছুটী আবার পরশু পড়াতে যাওয়া,।

মংগলবার, বেলা ১১টা৩৫ নাগাদ বাড়ির টেলিফোনে একটা কল এলো ,

”অজয়(কল্পিত)?”

“হ্যা,বলছি!কে পিন্টু নাকি?”,

“হ্যা, বলছি,মিতার(কল্পিত) খুব জ্বর এসেছে,ওর ভাই স্কুলে, তোমাকে একবার যেতে বললো,”

“কেন, ওর মাসি? “

“কি যেন সেই মনসাবাড়ির পূজো দিতে গেছে”

“আছছা,  ঠিক আছে!”

আমি ওদের বাড়ী গেলাম,খোলা উঠোনের টিনের ঝাপটা খুলে ভেতরে গেলাম ,নিঃস্তব্ধ বাড়ি, পিন্টুকেও দেখলাম না,একেবারে ঘরে ঢুকলাম্‌  বিছানাতে, শুয়ে আছে মিতা,জিজ্ঞাসা করলাম, “কি হয়েছে?” উত্তর দিল, “জ্বর এসেছে,”, “মাসি, কোথায়?”,

বললো“ পুজো দিতে গেছে”

“পিন্টু এসেছিল?”

“হ্যা”

বিচিত্র সব ভাঙ্গিমা তে এইসব উত্তরগুলো সে দিলো।

“ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলে?”

“না,মাসি আসুক যাবো”

“আমি,তাহলে যাই ,তোমার মাসিকেই ডেকে দিই,”

হঠাৎ রেগে গিয়ে,আমাকে, বললো,

” কোথায়,????, কেন,? দরকার নেই,”

আবার রাগটা সামলে নিয়ে পরক্ষণে উত্তর দিলো,”থাক,এখূনি,চলে আসবে”

“আচ্ছা,আমি এখন আসছি”

পাঠকদের জানিয়ে রাখি, লাস্ট ৩ টি কথাতে আমার সন্দেহ, হল,”আদৌকি ওর জ্বর এসেছে? নাকি???????”

সাইকেলটা নেবো বাড়ির দরজা পার করবো, এমন সময় সে আমাকে বললো,”আপনাকে মামি একবার ওদের বাড়ি যেতে বলেছেন” , আমি বললাম ঠিক আছে, রাস্তায় বেড়িয়ে পথে সাইকেল চালাচ্ছিলাম, আর ভাবছিলাম, ভালই  হলো আমিও তো যাবোই ভাবছিলাম, তার  আগে উনিই ডেকেপাঠিয়েছেন।

সময়টা কম হলেও ২০০১ থেকে  ২০০৩ সাল টা  ছিলো আমার জীবনের ভয়ানক একটা অধ্যায়,এইসময় আমার  one and only friend ছিলো পিন্টু সর্দার(কল্পিত), গরীব কৃষক পরিবারে ছেলে।সে আমার সমস্ত ঘটনা জানতো।ওর সঙ্গে মাঝে মাঝে মেয়েটি দেখাও করতো,এই নিয়ে অনেকে অনেক বিতর্কিত মন্তব্য আছে, কেউ কেউ ওদের বাড়ির পিছনের আম বাগানে কথা বলতে দেখেছে, মন থেকে বলছি এবিষয়ে আমার পিন্টুর প্রতি কোনো সন্দেহ ছিলোনা আজও নেই।

সে  রাত্রে আমি তাকে আবার ব্যাপারটা বললাম, সে আমাকে মেয়েটির মামির বাড়ি যাওয়ার পরামর্শই দিলো।

তখন আমি ভাবতাম,নিছক জানার জন্যই,বোধহয় আমাকে মেয়েটি আমাকে আমার পরিবার, আমার বাড়ি, আমার মা, আমার বাবা, আমার জামাইবাবু, দিদি ইত্যাদি সংক্রান্ত হাজারো প্রশ্ন করতো,কিন্তু না, সেইচিঠি যাতে লেখা ছিলো”আই লাভ ইউ”, বইয়ের মলাটে লেখা দুটো নাম,আমাকে করা হাজারো প্রশ্ন ,আমাকে অসুস্থতার বাহানা করে যৌণ আবেদন সৃষ্টিকারি পোষাক পরিহিতা একা বাড়িতে ডেকে পাঠানো, বাবা মা ভালবাসেন না এসব বলে সহানূভূতি পাওয়ার চেস্টা, ………।।এ সবেরই একটাই উত্তর, সে আমাকে ভালবাসে, হ্যা, সে আমাকে ভালবাসে।শুধু একটাই প্রশ্নেরউত্তর মেলাতে পারিনি,সেটা হলো মামি কেনো আমাকে ডেকে পাঠাল?………।।ঠিক আছে দেখা যাক, যাইতো।

সেই দিন বিকেল বেলা গেলাম মামার বাড়ি মামির সঙ্গে দেখা করতে, আমাকে বসতে বলল, বসলাম, চা এল, দুটো রসগোল্লা-সহ কিছুটা চানাচুরও এল,খেতে থাক্লাম,অবশেষে একগ্লাস জল,আর তারপর মামির মূল্যবান বক্তব্য, উনি জানতে চাইলেন মিতা কেমন পড়াশুনা করছে?,মিতার ভাই কেমন পড়াশুনা করছে জানতে চাইলেন না,আমি ওদের দুজনেরই পড়াশুনা সংক্রান্ত খবর পরিবেশন করলাম।আমার মাথাতে ঘুরপাক খাচ্ছে, মিতার ইদানিং ব্যবহারের কথাটা, কিন্তু কি করে কথাটা তুলি বুঝতে না বুঝতেই,উনি আমাকে জানতে চাইলেন,

”মিতা কিছু বলেছে?”

“কি বলুনতো?কি ব্যাপারে?”

“ও আপনাকে ভালবাসে,বড্ড লাজুক, আপনাকে বলতে পারছেনা, আমার কাছে আনুরোধ করছে আপনাকে বলে দেওয়ার জন্য,আর আপনিও শুনলাম ওকে…”

আমি স্তম্ভিত,অবাক,!!!!!যাকে আমি বিষয়টার নালিশ করব,একটা সমাধান চাইব, সেই……।ভাগ্নির প্রেমের অনুঘটক সেজে,প্রস্তাবক্!!!!আমি আমতা আমতা করে বলা শুরু করলাম,

“হ্যা, আর আমি আপনাকে এই ব্যাপারেই কথা বলবো ভাবছিলাম’

’ “ওকে একটু বোঝান! আমার পক্ষেএসব সম্ভব নয়,এভাবে চললে আমি পড়াতে যাওয়া বন্ধ(অনিচ্ছাকৃতভাবে বললাম) করে দিতে হবে।”

“ওর বাবা জানতে পারলে ওকে মেরেফেলবে,ঠিক আছে আপনি পড়াতে যাবেন, আমি ওকে দেখছি,হ্যা আর শুনুন, কথাটা ওর মামারা যেন কেও জানতে না পারে,”

“ঠিক আছে!”

আমি এতেই খুব খুশি, ভাবলাম আর কোন সমস্যা হবে না, আমি পড়িয়ে যাবো আর মাসে ২০০/-টাকাটাও বহাল থাকবে।এরপর সপ্তাহ তিনেক কেটে গেলো।একদিন মাত্র পড়াতে যেতে পারিনি,তাই সপ্তাহান্তে একটা রবিবারে পড়াতে যাওয়ার ডেট করে পড়াতে গেলাম,বাড়িতে ঢুকে ওর মাসির বকাবকি আর চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেলাম, ঘরে ঢুকে দেখলাম,মিতা মুখে একটা গামছা দিয়ে চেপে রেখেছে, জানতে চাইলাম,”কি হয়েছে?”

মিতার উত্তর,”কলের হাতলের ধাক্কায় একটা দাতের কিছুটা অংশ ভেঙ্গে গেছে”

ডাক্তার দেখানো হয়েছে, তিনরকম ওষুধ দিয়েছে, যন্ত্রণাটা এখন একটু কম পড়েছে।

এসব জেনে সেদিন আর না পড়িয়ে বাড়ি ফিরে এলাম,তবু কোথায় যেন একটু সন্দেহজনক বিষয় লক্ষ্য করলাম,কিন্তু কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না ,কি এমন হলো, যার জন্য এত চোখ লাল করা,চিতকার,অশান্তি?এক্সিডেন্টলি দাত ভেঙ্গে গেছে বলে এরকম অশান্তির ভয়াল পরিবেশ কেন হতে যাবে?

আমি পিন্টুকে ঘটনাটা বললাম,ও এব্যাপারে সব কিছুই জানতো,ওর মুখেই শুনলাম ওর সাথে নাকি মিতার মাসির ভাল একটা সম্পর্ক তৈরী হয়েছে,আড্ডা মেরে দু-একটা রসিকতাও করতো,সে কথা আর পাঠককে বলছি না।

ওই বাড়ির পরিবেশ ক্রমশ গুরু গম্ভির হয়ে উঠছে,তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম অন্যত্র কোথাও যদি পড়ানর জায়গা করব,আমার কয়েকটা স্টুডেন্টস দের নিয়ে আর ওই দুই ভাই-বোনকে নিয়ে একত্রে একতা ব্যাচ করবো, আর জায়গাটা হবে ওই গ্রামেরই ঠাকুরবাড়ির দালান,করলামও তাই।সুতরাং ওই বাড়িটাতে যাওয়া বন্ধ করে ফেললাম ।

নতুন জায়গাতে পড়ানো শুরু করার কয়েকদিন পর হঠাত পিন্টু সকালে,আমার এখানে হাজির, এই অসময়ে এখানে ও!! কি ব্যাপার?

পিণ্টু আমাকে একটু পাশে ডেকে নিয়ে গেল, আমি জানতে চাইলাম, “এখন!” “সিগারেট আছে?”

“না ,বিরি আছে,’

”দাও ,তাই দাও”

“ব্যাপারটা কি বলতো”?”

পিন্টু বলল,”আমি মিতার বাড়ি গিয়েছিলাম,দেখলাম খুব কান্নাকাটি করছে’’

আমি বললাম,”কেন?,কি হয়েছে?”

“এমন ভান করছো যেন কিছুই জানোনা,”বেশ রাগের সঙ্গেই আমাকে এই প্রতিক্রিয়া করলো সে। “ওর মাসি, দেখলাম বাড়িতে নেই, আমার কাছে কাঁদছে আর বলছে তুমি নাকি ওর সাথে বিট্রে করেছ! অজয় ,মিতা কিন্তু তোমাকে খুব ভালবাসে,জানিনা কেন জানি ওর এই মাসের ঐ টা হয়নি,তুমি কিসব করেছ,”

আমি অবাক ,গ্জ্ঞানশূণ্য হয়ে গেলাম,,ভীষন ভয় পেয়েগেলাম,’কি বলছে সে! ভালোবাসায় প্রত্যাখ্যাত হয়ে কি পাগলি হয়ে গেল নাকি?

আর কেনই বা আমাকে আমার ইচ্ছার বিরূদ্ধে গিয়ে ওকে ভালোবাসতে হবে?’  আমার চারিদিক,শুধু ভয়াল ভয়ংকর কিছু আতংক আমাকে যেন তারা করে বেড়াতে থাকল,আমি কি করব?সমাজের মানুষ,আমার বন্ধু,আমার আত্মীয়-স্বজন,পাড়া-প্রতিবেশী, এরা কি বলবে? বিপরীত দিকে মিতাও নাকি এই কথা বলেছে পিন্টুকে, কিন্তু,……… আমি জানতে চাইলাম,

”কি করেছি আমি? ও কি বলছে?”

পিণ্টূ বললো ,”তুমি একবার ওখানে চলো”

আমি পড়ানো বাদ দিয়ে ছুটে গেলাম, শুধু একটাই উদ্দেশ্য ,যেন এই রকম উল্টোপাল্টা কথা না বলে,না ভাবে,কেন এত বড়ো একটা অপবাদ ও দিচ্ছে আমায়!

ওদের বাড়িতে ঢোকার পর সোজাসূজি সওয়াল করলাম,চুপ করে থাকলো,আমি বললাম,লোকে শুনলে কি বলবে? ওর ঊত্তর”শুনুক,আমার সব শেষ”

“কি শেষ? কি এমন হল?”

“আমি আপনাকে ভালোবাসি,”

আমি এখানে এসে এই রকম পরিস্থিতির সামনে পরবো ,বুঝতে পারিনি,খানিকটা পেটে, খানিকটা মুখে কথা রেখে, খানিকটা কোথায় যেন একটা চাপা ভয়ে কোনরকমে উত্তর করলাম,

“কিন্তু আমার পক্ষে এসব সম্ভব নয়,তোমার,মামি তোমায় কিছু বলেননি?”

“আমি কারো কোনো কথা শুনতে চাই না,”

বুঝতে পারলাম,এর জেদ একটা পাহাড়ের বড়ো টিলার মতো একটা জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে,সুতরাং আমাকে এই বাড়ি থেকে শুধু সরে গেলেই চলবে না ,এদের কাছে থেকেও সরতে হবে।

পিন্টু আমাকে একটু পাশে ডেকে নিয়ে গেলো,আমাকে হটাৎ ওর ইউরিন টা টেস্ট করার প্রস্তাব দিলো।

আমি ক্রমশ উত্তেজিত হচ্ছি ,রাগের পারদ চড়চড় করে বাড়তে থাকলো আর সঙ্গে সঙ্গে আমার গলার আওয়াজের পারদ ক্রমশ একই হারে কমতে থাকল,পাছে কেউ এইসব নোংরা কথা কেউ শুনে না ফেলে!আমার পরিচিত মহলে কেউ যেন শুনে না ফেলে,-ঘটনা মিথ্যা বা সত্যি পরের কথা, প্রাথমিকভাবে আমি তাদের কাছে ভীষন ভাবে ছোট হয়ে যাবো,রাস্তা,বাজারে,চায়ের দোকানে “রঞ্জনা’-কে অতিরঞ্জন” করে রসবাক্যবিনিময় চলবে, এসব চিন্তা আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল,আমি রাগ সম্বরন করে,জানতে চাইলাম ,

“কেন রে ,এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারন?”

“না……ও ত বলছে তোমার সাথে কি সব যেন……।।সহবাস টহবাস করেছো, এই মাসে মান্থলি পেরিওড হয়নি”।

“পিন্টু,বিশ্বাস করো আমার সাথে এমন কিচ্ছু হয়নি,ও পাগল হয়ে মিথ্যা কথা বলছে!!!এসব করার কোন মানে হয়না,আমার পক্ষে’এসব সম্ভব নয়,আর তাছারা ওটা তো অন্য কারনেও বন্ধ হতে পারে,কিছুদিন আগেই তো ও কতোসব মেডিসিন খেলো,তার জন্যেও তো……।।”

“তাহলে তুমি ওকে এসব বোঝাওগে, ছাড়ো!, চলো,বাদ দাও!,”

বেশ একটা রাগসহ গা ঝারা দেওয়ার মতো করে কথা কটা বললো আমাকে।আমরা ওখান থেকে বিদায় নিলাম,।

রাস্তাতে দুজনে সাইকেল চালাচ্ছি,মনের মধ্যে চলছে আন্দোলন,কি হবে?কি করবে? কাকে বলে বসবে এই সব কথাগুলো! আচ্ছা ও কি ভালোবাশায় অন্ধ হয়েগেলো? তাই কি এমন পাগলের প্রলাপ বকছে? আচ্ছা তাই যদি হয়,উল্টোপাল্টা! মানে সুইসাইড? এই পরযন্ত ভেবেই আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম,যেন ফাঁকা মাঠের মাঝখানে  আমি এক দাঁড়িয়ে আছি, আরগোটা পৃথিবীটা মাতাল হয়ে উত্থাল পাথাল করছে, আমি এবার বাজারের চায়ের দোকানের  রসপ্রিয় রসিক ব্যক্তিদের বক্তব্য হয়েগেলাম,আমি বাড়ি ছাড়া হয়েগেলাম, আত্মিয়রা আমাকে কি নজরে দেখবে কে জানে!আমার বাবার আদরের ছোট জামাইয়ের শত্রুরা যে ফনা তুলে বসে আছে,তারা শুনলে কি করবে?টিউশনির বাজারের যা কম্পিটিশন ,সেই টিউটর শুনলে কি করবে? এইসব হাজারো হাজারো চিন্তা আমার মাথায় ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ল,।এমন সময় আচমকা…।। ,

পিন্টু বললো,”আচ্ছা,অজয় ওর মাথাতে তো কিছূ নেই,আমি বিশ্বাস করি তোমার সঙ্গে কোন শারীরিক সম্পর্ক হয়নি, কিন্তু তাহলে ও মান্থলি পিরিওডের ব্যাপারে ভয় পাচ্ছে কেন? আর এই কথা গুলো যদি ও কাউকে ব’লে তাহলে কি হবে বুঝতে পারছো? শোনো ,ওর বয়স ১৫,ক্লাস নাইনে পড়ে,তুমি এখনি ওকে পড়ানো বন্ধ কোরোনা, ওর ওখানে পড়াতেও যাও,আর আস্তে আস্তে ব্যাপারটাকে এড়িয়ে যাও,ও এখন দু;শ্চিন্তায় পড়েছে,মান্থলি পিড়িওড টা নিয়ে, আমার মতে,ইউরিন টা টেস্ট করিয়ে দেখাইযাক না, তুমি তো বলছো তুমি কিছু করোনি,তাহলে ভয়ের কি আছে?রেজাল্টে কিছূ না পেলে তো মিতারও টেনশনটা কেটে যাবে!”

“হ্যা,সেটা ঠিক, কিন্তু আমি তো কিছুই করিনি, আমি কেন এসব টেস্ট ফেস্ট করতে যাবো?বাবার কানে খবরটা গেলে কি হবে জানো আমার?,”

পিন্টু কথাটা এড়িয়ে গিয়ে বললো,” দেখো,যেটা ভালো বুঝবা করো!”

আমি ওর কথাটা ফেলতেও পারছি না,আবার প্রস্তাবিত কাজটা করার জন্য এগিয়ে যেতেও পারছি না ,সামনের ভয়াল ভয়ংকর ভাবি ঘটনাগুলো আমার মাথায় পাক খেতে থাকল,আমি বললাম

, “পিন্টু, ঠিক আছে,তাই হোক, কিন্তু আমি শুধু তোমার সাথে থাকবো,যা করার তুমিই করবে,” “আচ্ছা ঠিক আছে তাই হবে, আমি তাহলে ওকে বলছি,কাল ইউরিনটা আমি ওর বাড়ি থেকে নিয়ে আসব,তুমি রেডি থেকো,”

“আমার কাল সকালে পড়ানো আছে,”

“ক’টা অবধি?’”

“ন’টা’”

“একটু আগে ছেড়ে দিও,”

“কখন?”

“সাড়ে আটটা”

আমি বললাম,”ঠিক আছে”।

পরেরদিন সকাল সাতটা দশ নাগাদ পিন্টু একটা ইউরিন ভত্তি শিশি নিয়ে এসে হাজির,আমি আবার একটু ভয় পেয়ে গেলাম,আমি কি করছি? ঠিক করছি তো কাজটা? আমি বললাম,”তুমি যাও আমি একটু পরেই যাচ্ছি” পিন্টু যেতে নারাজ,  অগত্যা আজকের মতো ছুটি দিয়েদিলাম আমার কাছে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদের,।

কৃষ্ণনগর, হ্যা এটা আমাদের জেলা সদর,এখানেই একটা প্যাথলজিতে পিন্টু ওটা টেস্ট করতে দিল,খানিক পরে একজন ম্যডাম একটা খামে ভরে একটা কাগজ দিলেন,পিন্টু জিজ্ঞাসা করলো,”ম্যডাম,রেজাল্ট কি?” উনি উত্তর দিলেন”নেগেটিভ, কার এটা ?”

ও বললো”আমার পাড়ার একজনের, নেগেটিভ ,মানে প্রেগন্যান্সি নেই তাইতো?’”

ম্যডাম বললেন”এই দেখুন রিপর্টটা দিন,এই দেখুন,প্রেগ্ন্যান্সি নেগেটিভ,”

পিন্টু বললো,’যাক অজয় তোমার ঝামেলা মিটলো,মিতা এবার একটু ঠান্ডা হবে”

ঝামেলা,হ্যা ঝামেলাই বটে,আশা করাযায় মিটলো ।

পিন্টু সেইদিনই বিকেলে ওদের বাড়ি গিয়ে সব বুঝিয়ে রিপর্ট দেখিয়ে এসেছিলো, আমিও সন্ধ্যায় পড়াতে গেলাম, সুযোগ বুঝে অনেক কথা বোঝালাম,মাসের মাইনে টা নিলাম্‌।

এরপর পড়াতে যেতাম সাপ্তাহে একদিন,কখনো বা দুইদিন,তাও এক ঘন্টা মতো,নেগ্লিজেন্সি দেখাতাম,যাতে আমাকে ওরা টিউশনী থেকে ছাড়িয়েদেয়।

তা যখন হলো না তখন আমি নিজেই একদিন ছেড়ে চলে আসলাম।ভাবলাম সব মিটে গেল, আর কোন সমস্যা থাকল না। প্রকট গরমের পর বর্ষার চলমান,আকাশে শুধু ঘন কালো মেঘের ভারাক্রান্ত মুখ,মাঝে মাঝেই,ঝামঝমিয়ে বৃষ্টি নেমে আসে।

সালটা ২০০০, তখন আমাদের গ্রামের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা বিমল ভট্টাচায্য,তার সঙ্গে আমার কাকা(বাবার খুড়তোত ভাই) কমল দত্ত রাজনীতি করতেন, আমার আর এক দূর সম্পর্কের কাকা সমির দত্ত,এদের বিরোধী দল বা রুলিং পার্টী করতেন,।

বিমল ভট্টাচায্য, হ্যা,এই লোকটির অনেক টাকা, জমিদার বংশের ছেলে, ওনার কাছে কোন আর্জি নিয়ে গেলে কাউকেই ফেরাতেন না,ওনার সমাজ সেবার মানসিকতার জন্য আমি আমার কাকা কমল দত্তের হাত ধরে ওনার দলের আর একজন কর্মি হয়েগেলাম,২০০০ সালের বন্যার সময় অনেক চাল, ডাল,টাকা, পোষাক বন্টন করেছিলাম, বেশ ভালই কাজ করছিলাম, একদিন রাত্রি,১;৩০ নাগাদ কাদের কাদের বন্যা ত্রানের কর্কেট টিন দেওয়া হবে তার লিস্ট করতে ব্যস্ত এমন সময় বাবা আমাকে বকাবকি করেন,লিস্ট ছিড়েদেন,আমাকে রাজনীতি করতে কঠোর ভাবে নিষেধ করেদিলেন,সুতরাং আমার রাজনীতি করা ওখানেই থামিয়ে দিতেহয়েছিল।কিন্তু কাউকে কিছু জানালাম না কেনো আমি বন্ধ করলাম,আমার ধারনা,এই ব্যাপারটা বিমল বাবু ভালো চোখে নিতে পারেননি,।রাজনৈতিক নেতারা এসব ব্যাপার গুলোকে এতটা সহজভাবে নেন না,তার কারন বিশ্লেষণ,ইত্যাদির মতো জটিল প্রক্রিয়া প্রয়োগ করবেন, তারপর সিদ্ধান্ত নেন।অন্যদিকে সমির কাকার ভয়ঙ্কররোষানলে পড়েগেলাম তার আন্টি-পার্টী করার জন্য।আমার দাদা আবার আর একটা আলাদা রাজনৈতিক দল করতো, বাবা কিন্তু ফ্লোটিং ভোটার ছিলেন,।এটাই ছিল আমার পৃথিবীর রাজনৈতিক স্ট্যাটাস,—-পাঠকদের জানিয়ে রাখলাম,পরবর্তী ঘটনাবহুল পরিস্থিতির চুলচেরা বিশ্লেষন  করতে সুবিধা হবে।

সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি,একটা বিকেল,আমি তৈরী হচ্ছিলাম,একটু মাঠের দিকে যাবো,ওখানে আমি ,পিন্টু,আরও অনেকে একসাথে বসে আড্ডা মারতাম,হঠাৎ বাড়ির টেলিফোনটা বেজে উঠলো্‌…।

“হ্যালো!কে বলছেন?”

ওপার থেকে উত্তর ভেসে এলো”আমি দিল্লী থেকে মিতার মা বলছি।“

“হ্যা,বলুন!”  ,

“তুমি কাজটা ঠিক করোনি,আমি তোমাকে ছাড়বোনা!আমাকে মিতা সব বলেছে,তুমি ওর সব শেষ করেদিয়েছো!,ওর বাবা আর আমি ,আমরা দু’জনেই আসছি”

“কি ফালতু বলছেন আপনি?মিতা কি বলেছে?’

“কোন কথা এখন হবে না ,ঠিক আছে?,আমরা আসছি!”

আমি কথা না বাড়িয়ে বললাম“আচ্ছা,ঠিক আছে!”

ভারাক্রান্ত দু;শ্চিন্তামগ্ন মন নিয়ে মাঠে গেলাম,পিন্টুকে সব বললাম,পিন্টু অনেকক্ষন ধরে কি যেন একটা ভাবছিলো,তারপর হঠাত জিজ্ঞাসা করে উঠলো,”মিতা মনে হয় সব ওর মাকে বলেছে, কিন্তু অজয়,ও শুধু ওর মাকেই নয় মামি,মাসিদেরও বলেছে,ওর মামা আবার অনেককেই বলেছে,আমাকে কয়েকজন জানতে চাইছিলো ব্যাপারটা কি!,শুনলাম তোমাদের ওখান কার নেতা বিমল ভট্টাচায্যকেও নাকি জানিয়েছে,তুমি একটা জিনিস জানো কি!যে ওর মামার বাড়ির সব রুলিং পার্টীর বড়ো বড়ো নেতা,আচ্ছা, তুমি কি ওখানে পড়াতে যাওয়া একেবারে বন্ধ করেদিয়েছো?”,আমি বললাম,”হ্যা।“

তার দু-একদিন পরে একসন্ধ্যায়,কমলকাকু,আর বাবা যেন কি একটা গুরুত্বপূণ আলোচনাতে ব্যস্ত, আমাকে দেখে বাবা কি একটা যেন ভাবলো,পরক্ষণেই দেখি,বাবা বসার চৌকিটার নিচে থেকে একটা সাইকেলের চেন বার করে এগিয়ে আসছে আমার দিকে,সঙ্গে সঙ্গে কমলকাকু, বাবাকে কি যেন একটা চাপাস্বরে বল্লো,আর তারপরই দেখি আমার বাড়ির সামনে পরপর খান ছ’য়েক মোটর বাইক এসে দাড়ালো,তার সঙ্গে খান ক’য়েক সাইকেল,দেখলাম বিমল বাবু,মিতার মামা,আর একজন মহিলা,আরোও কয়েকজন, তাদের সকলকে কাকু ওপরে দোতলার বারান্দাতে নিয়েগেলেন,আর আমাকে বললেন আজয় একটু ওপরে আয়।(পাঠকগণ,অবিশ্বাশ্য মনে হলেও এটাই সত্যি,আমি যা লিখেছি এর বেশী আমার আর কিছু জানা নেই,।)মা তো টেনশণে কেমন একটা হয়ে গেছে,কিছুই যে বুঝে উঠতে পারছেন না।

আমি কিছুটা,কম্পিত,কিছুটা শঙ্কিত,কিছুটা লজ্জিত ও বটে, কারন আমাকে  বাড়ির সকলের সামনে কিছু লজ্জাজনক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে,…আমি মনে মনে ভাবলাম যা বলবে বলুক,আমি যা যা জানি সব বলবো,কিন্তু???????, কি করে আমি ওই টেস্টের কথাটা বলবো??ছি! ছি!”   তবুও কি করেছি আমি যে  ভয় পাবো?,ঠিক আছে দেখাই যাক,কি বলে ওরা,কিন্তু বিমল বাবু এখানে কেন? এতটাই কি সিরিয়াস ব্যাপার?—–এইসব নানান চিন্তা আমার মাথায় ভীড় করে ফেললো,ধূড়!!!! কাতোদিন ধরে আর এই এক জিনিস ভাববো,আমার আমিকে বললাম,চলতো দেখি,কি বলছে ওরা!

আমি বেশ সাহসের সঙ্গেই ওপরে উঠেগেলাম, স্বাভাবিকভাব আনার জন্য খুব সহজভাবে দুয়েক জনের সাথে দু-একটা বাক্যালাপ করলাম, একটা জায়গা নিয়ে বসেগেলাম।

সালিশি শুরু করলেন, বিমলবাবু,” অজয়,এনারা মিতা,যাকে তুমি পড়াতে যাও,তার মা-বাবা, এনারা আমার কাছে তোমার বিরূদ্ধে একটা নালিশ এনেছেন,যে, তুমি নাকি,এনার মেয়ে কে ভালবাস্তে,তার সঙ্গে তোমার দীর্ঘদিন ধরে একটা শারীরিক ও  মানসিক সম্পর্ক ছিলো,কিন্তু এখন তুমি সেটাকে অস্বীকার করছো, এটা কেন করছো?”

আমি কিছু বলতে যাব,এমন সময়,পাশ থেকে একজন সুরা পান করেই এসেছিলেন, বলে উঠলো,”ও আবার কি বলবে! ওকে মেয়েটাকে বিয়ে করতে হবে,পান্তা ভেতের আমোনি খাইলো গো……..ইত্যাদি….(এই ছন্দযুক্ত,ছন্নছাড়া প্রবচনটা কি বললো ঠিক বূঝতে পারলাম না) তা কবে বিইয়েটা হব্বে তাই ফয়ছালটা সেরে ফেলান্”, এর সঙ্গে আসা বন্ধুবরেরা স্বমস্বরে সায় দিয়ে উঠল।আমি এদেরকে ভালোভাবেই চিনি,এরা হলেন স্থানীয় সমাজসেবী,হ্যাঁ,এনারা অর্থের্ (কখনো মদের) বিনিময়ে যে কোন অনর্থ ঘটাতে পারেন।বিমলবাবু ধমকের সুরে এদের থামতে বললেন,।

পাশেই আর একজন ভদ্রলোক বেশ সুন্দরভাবে,গুছিয়ে ধীরে ধীরে আমাকে বোঝানোর সুরে বললেন,বিয়েটা করলে নাকি আমার আখেরে লাভই হবে,মেয়ের বাবা নাকি প্রচুর টাকা-পয়সা দেবে,তার সঙ্গে মোটর বাইক!বুঝলাম ভদ্রলোক ঠান্ডা মাথায় আমার মাথায় ডান্ডা বসালেন,।আমার জামাইবাবুর একজন বন্ধু,চাপাস্বরে,বিমলবাবুকে জানতে চাইলেন,”কাকা,মেয়ে বলে তার কথায় সবাই শুনছেন কিন্তু অজয়কেউ তো ওর কথা বলতে দেওয়া দরকার!” কাউকে কিছু বলতে না দিয়ে মিতার মা সবিস্তারে তার মেয়ের কান্নার কথা তুলে ধরলেন,মিতার বাবা তার মেয়েকে কিভাবে মানুষ করার জন্য পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করেন তার বর্নণা করে ফেললেন,মামারায় বা বাদ যায় কেন?,তারাও বাবা-মাএর অনুপস্থিতিতে কি কি দ্বায়িত্ব পালন করে যত্ন নিতেন তা ব্যাখ্যা করেনিলেন, আমি শুধুই শ্রোতা।

কমল কাকু,বিমলবাবুর উদ্দেশ্যে বললেন,”আচ্ছা ঠিক আছে এবার অজয় কে…।“ অবশেষে আমাকে বলার সুযোগ দেওয়া হল,।আমি লজ্জায় মাথা নত করে বসেছিলাম,’লজ্জা!’ হ্যাঁ ‘লজ্জা’, লজ্জা আমার বাবা মায়ের সামনে এইসব কথা শুনতে হচ্ছে বলে,’লজ্জা;’ আমার পৃ্থিবী দিকে তাকিয়ে হাসছে বলে আর ‘রাগ?’ ‘রাগ’ও তখন আমার দিকে তকিয়ে বলছে,”ছিঃ”।আমি কিছু বলবো বলে মাথাটা তুলতেই, দেখলাম, কয়েকজনের উজ্জ্বল চোখে চাপা হাসি,আমার দিকে তাকিয়ে আছে,এরা আর কেউ নয়, একজন আমার টিউশনি জীবিকার কম্পীটিটর, আর বাকিরা হল আমার লেখার সূচনাতে উল্লেখিত সেই কাল কেউটে সাপ গুলো,যারা শুধু সুযোগের অপেক্ষায় দিন গুনছিলো।বুঝলাম লড়াইটা বেশ কঠিনই হবে।কেন জানিনা হঠাৎ আমার নিজেকে ভেড়ির বিছানো বিশাল জালের মধ্যে একটা ছোট্ট কই মাছের মতো মনে হল।আমি প্রথমেই মিতার মা-বাবা কে জানতে চাইলাম,তারা যা যা এখানে বললেন,সেগুলো কি মিতার কথা কিনা।তাদের প্রত্যুত্তর “ তা নইতো কি !”।আমি সবিস্তারে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম,আরো বললাম দরকার হলে আপনারা পিন্টুকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।সকলে আমার কথা শুনলো,কিন্তু…।।কিন্তু পিন্টু? সে কোথায়? বিমল বাবু সকলের সামনে ঘোষনা দেওয়ার মতো বললেন,’পিন্টু নাকি মেয়েটার পক্ষে কথা বলছে’।আমি স্তম্ভিত!!,কি ! পিন্টু !!!

আমাকে হঠাৎ প্রশ্ন করা হল, আমি যদি কিছু নাই করে থাকি তাহলে,আমি মেয়েটির ইউরিন টেস্ট করাতে গিয়েছিলাম কেন? এই প্রশ্নটা আমাকে কঠিন ভাবে বজ্রাঘাত করল!,আমি  কি বলবো? এর সদুত্তর আমি ওদের দিতে পারলাম না,শুধু এই টুকুই আমতা আমতা করে জানালাম, “ সেতো পিন্টু!!!…” আমার কথা আটকে গেলো, “কিন্তু রিপোর্ট তো নেগেটিভ,কোন প্রবলেম নেই…”।এইবার ক্ষুদার্ত ,হিংস্র বাঘের মতো সেই কালসাপ,মদ্যপ সমাজসেবী,মামা,বাবা, রুলিং পার্টির দাদারা,টিউশনি জীবিকার কম্পীটিটর, রসপ্রিয় রসিক ব্যক্তিগন সকলে আমাকে তাদের সাজেশন শোনালেন, আমাকে নাকি মেয়েটিকে বিয়ে করতে হবে,তারা নাকি কোন কথা শুনবে না, নইতো তারা থানায় যাবে, আইনের আশ্রয় নেবে, আমাকে হুমকি দেওয়া হল, আমার কেরিয়ার ‘ড্যামাজ’ করে দেবে, আর চাকরীও যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা করবে।আমার বাবা,মা ভয় পেয়ে গেল, আমার হিতাকাঙ্খী পাড়ার কিছু বন্ধুরা আমাকে বিয়ের প্রস্তাব মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিল।আমি কিঞ্চিৎ ভেঙ্গে পরলাম,আর ভাবতে থাকলাম, একি হচ্ছে আমার সঙ্গে! আমি যদি কোন গরীব ঘরের ছেলে হতাম!,যদি আমার চাকরী হবে এমন আশা না থাকতো! তাহলে কি এই বড়োলোক বাবা-মা রা আমার সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জেদ ধরতেন? যেখানে ওনারা ভালো করেই জানেন আমার সাথে যে সম্পর্কসূত্র ধরে মেয়েটির সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেটা সত্য নয়! …।নাকি মিতা ওর বাবা মা কেউ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অন্ধকারে রেখেছে? ওর বাবা-মা কি মেয়ের প্রতি অন্ধ ভালোবাসায় অন্ধ? কিছুই বুঝেওঠার আগেই আমি যেন ‘লজ্জা’ কে হারিয়ে ফেললাম কোথায়!।আমি ‘জেদ’ বা ‘রাগ’ এর বশবর্তী হয়ে ওদের জানিয়ে দিলাম, “যান আপনারা থানায় যান,আমার যা হবার হবে! যান!”, বিমলবাবু এলাকায় বিশেষভাবে পরিচিত তার একতা অন্যতম কারন, ওনার সঙ্গে থানার অফিসারদের একটা সুসম্পর্ক আছে।উনি আমার কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনেছিলেন,কেন জানিনা আমার উপর রেগে আমাকে খুব ধমকাতে লাগলেন,।বাড়ির বাইরে আমার অন্যতম দূর সম্পর্কের কাকা সমির রুলিং পার্টির নেতা, বাবার উপর বরাবরই তার রাগ,একদল ছেলেদের নিয়ে  আমার বিরূদ্ধে দল গুছাতে শুরু করেফেললেন,পলিটিক্যাল ফিগার,এটাই ত সুযোগ নিজেকে ন্যায়ের, সত্যের কান্ডারি বলে উপস্থাপনা করার সময়! যাই হোক,উনি তো, চিৎকার করে বললেন, “আমি কাল থাকবো না ! একটা কাজে বাইরে যাবো, আপনারা বিয়েটা দিয়ে দিয়েন!”।ওদের কেউ বললো,”থানায় যাবো”,কেউ বললো “দেখে নেবো,” কেউ বললো, “কালকেই আসবো বিয়ে দিতে,”।রাত্রি অনেক হয়ে গেলো,সবাই রাগে গজগজ্ করতে করতে আমাদের বাড়ি ছেড়ে বিদায় নিলো।শুধু বিমল বাবু ,কমল কাকু তখনো আমাদের বাড়িতেই ছিলেন, আমাকে একাকি ডাকলেন, সমস্ত কথা পুনরায় শুনতে চাইলেন,আমি আবার সব কথা বললাম, এমন কি পিন্টুর ভুমিকার কথাও বললাম,।এসব বলতে বলতে কেন জানি না আমি ক্ষনিকের জন্য কেঁদেফেললাম , আমি কাতর স্বরে বিমল বাবুর কাছে প্রার্থনা জানালাম,আমি কোন অন্যায় করিনি,মেয়েটার জেদ,মেয়ের প্রতি বাবা মায়ের অন্ধ ভালোবাসা, মিতার মিথ্যা স্বীকারোক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার ভান করে কিছু লোকের  পূর্বের রাগ আমার উপর মেটানোর চেস্টা চলছে,আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে, সবই বললাম ওনাকে ।বাবা নির্বিকার নির্বাক ।

এরপর থম্থমে পরিবেশ! বেশ কিছুদিন কাটলো !ওরা আর আসেনি,সে রাত্রের গর্জন কেন জানিনা বর্ষনে রূপ নিতে পারেনি।সুতরাং আমি আমার মতোই ।কিন্তু রাস্তা, বাজার,মুদির দোকান,সর্বত্রই যেখানে যাই আমার দিকে একটা তাচ্ছিল্য,কখনো ঘৃ্না,কখনো কৌতুক রস মিশ্রিত কত গুলো চোখ যেন তাকিয়ে থাকে ।বাড়ির মা বাবা,পাড়ার বন্ধুরা কোথা থেকে কি শুনেছে জানিনা ,ওরা সবাই আমাকে পিন্টুর সঙ্গে মিশতে নিষেধ করলো।কিন্তু আমাকে যে জানতেই হবে কেন ও আমার সঙ্গে এমন টা করলো? একদিন জানতে চাইলামও, খুব সাদামাটা ভাবে উত্তর দিলো, “আমার কিছু করার ছিলো না!”।স্থানীয় কোন নেতা নাকি ওর বাবাকে বলেছে, পিন্টুকে এ ব্যাপারে জড়াতে যেন না দেই।ওর বাবা নাকি ওকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবে বলে ভয় দেখিয়েছিলো,তাই পিন্টু নাকি  আমার সমর্থনে কোন কথা বলতে পারেনি।

আমি জানতে চাইলাম “ঠিক আছে, কিন্তু মেয়েটার পক্ষ নিয়ে আমাকে আসামী বানানোর কথাও কি ওই নেতাই শিখিয়ে দিয়ে ছিলো?”

“না, অজয় বিশ্বাস করো, মিতা আমার হাত পা ধরে কান্নাকাটী করছিল,ও তোমাকে খুব ভালোবাসে! মিতার বাবা, মা আমাদের বাড়ি এসেছিল,ব্যাপার টা জানতে, আমি তখন কিছুই বলতে পারিনি।“

“কিন্তু এখন? এখন বলতে পারবে তো?”

“না ! এখন ও বলতে পারবো না,তুমি বোধ হয় জানো না ,অনেক লোক আমাকে সন্দেহ করছে, ভাবছে আমার সাথে মিতার কোন সম্পর্ক আছে,আমি এখন বুঝিয়ে সুঝিয়ে ওকে তোমার ঘাড়ে ঠেলতে চাইছি! আমরা আম বাগানে দেখা করতাম ,মিতাই আমাকে ডাকতো,সেটা অনেকে দেখেছে, ও কি ভেবে আমাকে ডাকতো জানিনা, ওই তোমার কথায় দু-একদিন হয়েছে,তাই নিয়ে লোকে তোলপাড় করছে,আমাকেউ সন্দেহ করছে,আমি এই নিয়ে আর কোন কথা বলবো না,বলতে পারবো না”।

অদৃষ্টের দোহাই দেওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প রাস্তা নেই আমার।আমার পাড়ার বন্ধু গুলো খুব বেশী স্কুলের পড়াশুনা করেনি, তাই ওদের মাথাতে এতো জটিলতা নেই।একদিন সন্ধ্যায় একসঙ্গে বসে তাস খেলছি,আমার প্রসঙ্গ আবার উঠলো ,নানান কথা এই নিয়ে হচ্ছিল,তার মধ্যে একজন সকলকে উদ্দেশ্য করে বলল, “ শোন! অজয় ট্রেনিং করে বসে আচে, সবাই জানে ও চাকরি পাবে ঠিক আছে!,সেই জন্য মেয়েটার মা-বাবা আরো সু্যোগ বুঝে বিয়ে টা  দিতে চাইছে, বুঝলি!”, কথাটা একদম ফেলে দিতে পারলাম না ,।আমার উপর অনাকাঙ্খিত আসা ঝড়ের কারন খুজতে ,আমাকে অনেক কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়েছে, তখন আমার মনে না হলেও এখন আমি আমার পাড়ার এই বন্ধুটির যুক্তি টা যখন সত্যি বলে ভাবি তখনই আমার মনে হয় ঈশ্বর আমাকে এই ‘টোপ’ টা না দিলেই পারতেন।তাহলে  হয়তো এই কালরাত্রি আমার আসত না।

এরপর প্রায় দু-মাস পরে, শুনলাম মেয়েটার বিয়ে হচ্ছে,পাশের দু-একটা গ্রামের পরের গ্রামেই ।ইতিমধ্যে আমার অনেক চেনা বন্ধু অচেনা, আবার অনেক অচেনা বন্ধু চেনাও হয়ে গেল।এখন আমার একটা আলাদা ডিগনিটি আছে, সেটা হলো “চরিত্রাহীন”।এই উপাধিটা আমাকে সরাসরি কেউ সামনে না বললেও, তাদের চোখ ,তাদের কথা বলার ভঙ্গিমা বলে দেই ‘আমি চরিত্রহীন’।এটা আমার বুঝতে কষ্ট হয় না মোটেও।সুতরাং এখন শুধূ আমার সঙ্গে আমার আর অর্থাৎঅন্তরের , আমার সঙ্গে সমাজের অর্থাৎ বাইরের -এই দ্বিমুখী দ্বন্দ্ব চলতেই থাকলো অনাদি কাল পর্যন্ত —এর শেষ কবে হবে আমি জানিনা।

এর পর অনেক ঘাত-প্রতিঘাত,লড়াই, ইত্যাদির মধ্যে প্রায় ১০ বছর কাটিয়ে দিলাম, কিন্তু এই ১০ বছরের মধ্যে ১০ সেকেন্ডের জন্যেও আমার দ্বিমুখী দ্বন্দ্ব থেমে থাকেনি।আমি এখন শিক্ষকতা করি, আমার একটা ছেলে,আর আমার মিসেস, এই আমাদের সঙ্সার।আমি এখন অন্যত্র বাড়ি করেছি,আর এখানকার মানুষের সঙ্গে প্রায় ৬ বছর বসবাস করছি।এখানে আমার সহমর্মী  অনেক বন্ধু,প্রতিবেশী।এদের সঙ্গে আমার খানিক০টা যোগাযোগ,একটু আলাপ, একটু ক্লাবে গিয়ে বন্ধুদের ন্সাথে তাস খেলা,আবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কর্মব্যস্ততা , এই ভাবেই কেটে যাচ্ছিল।মা গ্রামের বাড়িতেই থাকেন, পুর্বপুরুষের ভিটে ছেড়ে আমাদের কাছে এসে থাকতে চাননা।বাবা মারা গেছেন বছর চারেক হলো।

আমার ক্লাবের সব ছেলেরাই প্রতিষ্ঠিত, এরা কর্মঠ।এদের মধ্যে দু জন আমার পূর্বের গ্রামে ব্যবসায়িক সুত্রে যাতায়াত করে।এরা অনেক আগেই আমার অতীত ঘটনার বর্ননা শুনেছে, কিন্তু আমাকে কোনদিন কিছু বলেনি।কিন্তু আমাকে না বললেও আমার বুঝতে অসুবিধা হয়নি ওরা কি জানে বা কি শুনেছে।মানুষের ষড়রিপু , আমার এই বন্ধুদের মধ্যে দু-একজন বন্ধু  কোন কোন রিপুর বশীভূত হয়ে পড়ল,।এবার শুধূ সুযোগের অপেক্ষা…ব্যস।সু্যোগ না পেলেও –তৈরী করে নিতেও পিছপা হবে কেনো? সব কিছু জেনে কি আর চুপ করে বসে থাকা যায়? যথারীতি একদিন সন্ধ্যায় ক্লাবে বসে তাস খেলছি,এমন সময় কতোগুলো অযৌক্তিক কারনে একজন আমাকে ঊচ্চস্বরে আঙ্গুলি নির্দেশ  করে বললো,

“বাজে ছেলে! নোংরা! RAPIST!”

আমি , লিখতে জানিনা ,কাব্য আমার কলমে নেই,ছন্দ আমার ছন্নছাড়া, পাঠকগন, আমাকে ক্ষমা করবেন আপনাদের অমূল্য সময় আমি খরচ করিয়ে দিয়েছি।

আজ আমি আবার আরো একটা উপাধি পেলাম “RAPIST!”।আমি আজ বাকহারা ।আমি বিচলিত।আমি হতাশ।যে মুহুর্তে আমি আমি এটা লিখছি, আমি যেন ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না ।কারন আমার মানসিক যন্ত্রনা, আমার সঙ্গে আমার অর্থাৎ অন্তরের লড়াই, আমার সঙ্গে সমাজের অর্থাৎ বাইরের লড়াই—যে লড়াইয়ের মাঝে মাঝে একটা অট্টহাসি, ভয়ঙ্কর চিৎকার ভেসে আসে- “RAPIST!” –আমার কানের পরদা ভেদ করে দেই, হ্রৃৎপিন্ডকে ক্ষনিকের জন্য স্তব্ধ করে ফেলে,ফুসফুসকে করে দেই অলস, আর মস্তিষ্কে সৃষ্টি করে চলেছে তীব্র যন্ত্রনা।জানি না এর শেষ কোথায়?

১,৪৮৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-১০-১২ ১৫:২৮:৩৬ মিনিটে
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মন্তব্যে বলেছেন:

    চলন্তিকা ব্লগে আপনাকে স্বাগত।

  2. সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    চলন্তিকায় স্বাগতম । অনেক বড় লেখা । একবারে পড়তে পারলাম না । আবার আসবো ।

  3. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    দুনিয়া বড়ই বিচিত্র, তবে ধৈর্য হারালে চলবে না।

  4. মিলন বনিক মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ দীর্ঘ…লেখকের যদিও ব্যাক্তিগত কাহিনী…তার পরও পাঠকের ধর্যে্র ব্যাপারটা মাথায় রেখে পর্ব করে দিলে আরও ভালো হতো…তবে রেখাটা ভালো লেগেছে….গল্পের ছলে লেখা…

  5. সঞ্জয় দত্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    এটা ব্যাক্তিগত কাহিনী না বলে ছোট গল্প বললে খুশি হবো।

  6. কল্পদেহী সুমন মন্তব্যে বলেছেন:

    পকৃত রেপিস্টদের রেপিস্ট বলতে সবাই ভয় পায়, অজয় যেহেতু মিথ্যা অপবাদের স্বীকার তাই হয়তো তাকে রেপিস্ট বলে কিছু মূর্খ লোক ছাড় পেয়ে যাচ্ছে।

  7. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    খুবই চমৎকার হয়েছে গল্প।

  8. সঞ্জয় দত্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখাটী পড়া হয়ে্ছে ৪৩৮ বার কিন্তু মন্তব্য আরও আশা করেছিলাম।

  9. সঞ্জয় দত্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সকল পাঠকদের আমার অন্ত্র থেকে প্রনাম।

  10. সঞ্জয় দত্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    অন্তর(সংশোধন)

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top