Today 19 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

শতবর্ষে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

লিখেছেন: মোস্তাক চৌধুরী | তারিখ: ২৬/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 747বার পড়া হয়েছে।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ উদ্বোধন, ঈশ্বরদী (১৯১৫)।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ উদ্বোধন, ঈশ্বরদী (১৯১৫)।

যেন লোহার সুড়ঙ্গ পথ। হর্ন বাজিয়ে ট্রেনটি ছুটে চলে সে পথে। পাকশী রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে দৃশ্যটি দেখলে এমনই মনে হবে। দুই বছর পরেই স্টেশনটির বয়স হবে ১০০ বছর। স্টেশনটি আর দশটির মতো নয়। ব্রিটিশ আমলের ইট-সুরকির লাল দালান। চারপাশে সবুজ বৃক্ষরাজি। টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুমসহ অন্যান্য কক্ষ সমতলে। আর ট্রেনে উঠতে হয় স্টেশন থেকে প্রায় ৩০ ফুট উপরে গিয়ে। অনেকটাই দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি স্টেশনের মতো। আঁকাবাঁকা সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হয়। ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশেই রয়েছে নতুন লালন সেতুটিও। চোখের সামনে দুটি সেতু। একটিতে শুধু রেল চলে অন্যটিতে যান। দুটিই পদ্মার ওপর দিয়ে মিশে গেছে লোকালয়ে। ইতিহাসের সাক্ষী ঈশ্বরদীর পাকশীতে পদ্মা নদীবক্ষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের বয়স শতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার প্রান্তে। একশ’ বছর আগে পরাধীন উপমহাদেশে পূর্ব বাংলার সাঙ্গে কলকাতা এবং অন্যান্য স্থানের যোগাযোগের মূল লক্ষ্যই ছিল বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি।

পদ্মার কোলে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে আছে ঈশ্বরদীর পাকশী। রূপসী পদ্মার ঢেউয়ের কলধ্বনি, চারদিকে সবুজের বেষ্টনী ও উত্তাল হাওয়ার পরশে যেমন হƒদয় ভরিয়ে দেয়। এখানে আরো রয়েছে ইতিহাস ও প্রাচীন কীর্তিসহ বিংশ শতাব্দীর প্রথম ও দেশের বৃহত্তম রেল সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লালন শাহ সেতু।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রেল যোগোযোগের অনেক পরিবর্তন এনেছে।

এপারে ঈশ্বরদী সাঁড়াঘাট এবং ওপারে ভেড়ামারার দামুকদিয়া-রাইটা ঘাটের মাঝে সেতুবন্ধনের সৃষ্টি করেছে এই হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। আর নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে প্রমত্তা পদ্মা নদী। একসময় এ ব্রিজটি ‘সাড়া’ ব্রিজ নামে পরিচিত ছিল। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ প্রবীণদের কাছে ‘সাড়াপুল’। তাদের কাছে ‘সাড়াপুল’ ছিল এক স্বপ্ন। ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ ভাইসরয় লর্ড ব্যারন হার্ডিঞ্জ যখন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিজটি উদ্বোধন করেন। তখন তার নামানুসারে এ ব্রিজটির নামকরণ করা হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ।

সেই সময় ব্রিটিশ সরকার ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটক তথা  অবিভক্ত ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা, আসাম, নাগাল্যান্ড ও উত্তরবঙ্গের সাথে কলকাতা ও দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে ১৮৮৯ সালে ব্রিজের পরিকল্পনা প্রনয়নের প্রস্তাব করা হয়। ২০ বছর ধরে পরিকল্পনা চলার পর ১৯০৮ সালে ব্রিজ নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়। ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার রবার্ট উইলিয়াম গেইলস হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রধান প্রকৌশলী রবার্ট শুধু ব্রিজের নকশা প্রণয়ন করেন। ব্রিজের প্রথম প্রকল্প প্রণয়ন করেন স্যার এস এম রেলডলস। সেতুটি নির্মাণের ঠিকাদার ছিলেন ব্রেইথ ওয়ালটি এন্ড ক্রিক। এই ব্রিজে রয়েছে ১৫টি মূল স্প্যান। সে সময় পদ্মা ছিল প্রমত্তা ও ভয়াল। ব্রিজ নির্মাণের চেয়েও বড় সমস্যা ছিল নদীর গতি নিয়ন্ত্রণ করে স্থায়িভাবে নিচ দিয়ে যাওয়া। ব্রিজ নির্মাণের শত বছর  পরও বিশ্বের প্রকৌশলীদের কাছে তা আজো বিস্ময়। ১৯১২ সালে ব্রিজের গাইড ব্যাংক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। একশ বছর আগেই হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণে মোট ব্যয় হয় ৩ কোটি ৫১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৪ টাকা। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের বিশেষত্ব হলো ভিত্তির গভীরতা। ১৯১৫ সালে ব্রিজের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। ১৯১৫ সালের ১ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি মালবাহী বগি নিয়ে একটি ইঞ্জিন সেতু অতিক্রম করে খুলনায় যায়। সোনা মিয়া নামে এক চালক প্রথম ইঞ্জিন নিয়ে পাড়ি দেন সেতু। এরপর ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ তৎকালীন ভাইস লর্ড হার্ডিঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে সে সময়ের বৃহত্তম রেল সেতুটির উদ্বোধন করেন। সেই থেকে প্রথম ডবল লাইনের এই রেল ব্রিজের নাম হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকবাহিনী যখন খুলনা ও যশোরে পরাজয়ের পর পিছু হটে  ঈশ্বরদীতে সমাবেত হওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ট্রেনে আসছিল। ১৩ ডিসেম্বর পাকবাহিনীকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে মিত্র বাহিনী বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করলে ১২ নম্বর স্প্যানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীন্তার পর যথারীতি ব্রিজটিকে মেরামত করে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৯৭২ সালে ১২ অক্টোবর ব্রিজটি পুণরায় চালু করা সম্ভব হয়।

প্রমত্তা পদ্মার তীব্র স্রোতকে বশ করে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। তখনকার প্রক্রিয়ায় ৫/৬ কিলোমিটার উজান থেকে গাইড বাঁধ বেধে আসা হয়। বৃটিশ সিডিউল অনুযায়ী প্রতিবছর ব্রীজের ৩টি করে স্প্যানে রং করার কথা এবং তাতেও পাঁচ বছর লেগে যাওয়ার কথা সম্পূর্ণ ব্রিজ রং করতে।

৮১৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করতে ভালবাসি। মাঝে মাঝে পত্রপত্রিকাতে কিছু লেখার চেষ্টা করি। আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন দেখার ভরসা পাই না। আমার বন্ধুও কম। কিন্তু যারা আছে তাদের জন্য সবকিছু করার মানসিকতা আমার আছে।
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-১৯ ১২:৫৮:৫৪ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    শত বৎসরের ব্রীজ
    এখনও ঠিকে আছে
    ভাবতে ই ভাল লাগে।

  2. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    চমত্‍কার লিখেছেন তো !
    ভাল লাগা জানিয়ে দিলাম ।

  3. তুষার আহসান মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক অজানা কথা জানা গেল।

    ভাল লাগা +++++++++++++

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    অবাক হওয়ার কিছু নেই।++++++++++++

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top