Today 10 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

শরৎ এসেছে…

লিখেছেন: মুহাম্মদ দিদারুল আলম | তারিখ: ১৩/১১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 481বার পড়া হয়েছে।

‘শরতে আজ কোন অতিথি এলো প্রাণের দ্বারে আনন্দ গান গা রে হৃদয় আনন্দ গান গা রে নীল আকাশের নীরব কথা শিশির ভেজা ব্যাকুলতা ভাসিয়ে দে সুর ভরা নদীর অমল জলধারে।’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিরায়ত বাংলায় শরৎ ঋতুকে এভাবে বরণ করেছেন। প্রাকৃতিক পরিবর্তন, সময়ের বিবর্তন সত্ত্বেও শরৎকাল এখনো এমনই একটি আমেজ নিয়ে আসে। শারদীয় সন্ধ্যা, নীল আকাশ এবং শারদীয় জোছনা এখনো ভাবুক চিত্তে দোলা জাগায়। বিশ্বের অনেক দেশেই ঋতু চারটি। কিন্তু ষড়ঋতুর বাংলায় এক্ষেত্রে বৈচিত্র্য সকল কালেই বিদেশিদের আলাদা দৃষ্টি কাড়ে। ছয়টি ঋতুতে বাংলার প্রকৃতি বছরে ছয়বার রূপ বদলায়। ইউরোপ আমেরিকার লোকজন বাংলাদেশের এই ঋতুবৈচিত্র্য খুব সহজে টের পায়। বাঙালির জীবন যুগ যুগ ধরে অভ্যস্ত বলে অনেক সময় ঋতু পরিক্রমা তাদের চোখে ধরা পড়ে না। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সকলের সুপরিচিত। কাউকে বলে দিতে হয় না। তবে অন্যান্য ঋতুও জানান দিয়েই আসে। ঋতু-পরিক্রমায় ভাদ্র-আশ্বিন মাস নিয়ে শরৎ ঋতুও এভাবে প্রতিবছর আসে। চারপাশে সামান্য দৃষ্টি ফেললেই বোঝা যায় শরৎ এসেছে। আষাঢ় শ্রাবণের ঝরঝর বৃষ্টি হঠাৎ করে উধাও। ভোরে দেখা গেল পূর্ব আকাশে সূর্য উঠছে। ধোয়ামোছা গাছগাছালি সোনালি রোদে চিকমিক করছে। শিউলি ফুল ঝরে জমে আছে গাছের তলায়। আবহাওয়া চমৎকার। ঘাম ঝরানো রোদ নেই। রোদের তেজ কমে এসেছে। না-শীত না-গরম। এদিকে নদীগুলোও জল টইটম্বুর। ভরা নদী। তাল পাকা গরম আছে কিন্তু কাঁঠাল পাকানো গরম নয়। এমনই পরিবেশ নিয়ে আসে শরৎকাল। প্রকৃতি প্রেমিক এবং কবি-সাহিত্যিক অনেকেই এই শরৎকে বলেছেন আবহমান বাংলার উত্তম ঋতু। অন্যান্য ঋতুর সৌন্দর্য আছে, ঐশ্বর্য আছে। গ্রীষ্মের ঘাম ঝরানো উত্তাপ পীড়া দেয় তবে ফল-ফসলের থাকে প্রাচুর্য। শীতের ফল আছে, রাস্তাঘাট শুকনো ছিমছাম। বিলঝিলের মাছ আছে, গোলার ধান চাষির ভাঁড়ারে। কিন্তু সেই সঙ্গে হিমশীতের দংশনও আছে। গরিব দুঃখী কষ্ট পায়। কিন্তু শরতে এমন কোনো উপসর্গ নেই। ফাল্গুন চৈত্র হচ্ছে বসন্তকাল। বসন্তকে বলা হয় ঋতুরাজ। কিন্তু এ দেশের প্রকৃতিতে শরৎকেই অনেকে বলেন মনোরম শ্রেষ্ঠ ঋতু। মানুষ প্রকৃতির একটি অঙ্গ। প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব মানুষের মন-মানসকে প্রভাবিত করে, আলোড়িত করে। বর্ষায় টানা বৃষ্টিতে একা ঘরে বসে থাকলে মনে কত ভাবের উদয় হয়। বসন্তের ফুল আর কোকিলের কুহুতান নরনারীর হৃদয়ে ভাবান্তর ঘটায়।এভাবে ঋতু পরিবর্তনও মানুষকে প্রভাবিত করে। কখনো তা সহজবোধ্য কখনো পরোক্ষ। বাংলার মানুষ কোমল ও কঠোরে শক্ত ও নরম স্বভাবের। প্রকৃতিই এখানকার মানুষকে করেছে ভাবুক, আবেগ প্রবণ এবং সংবেদনশীল। রুক্ষ শুষ্ক দেশের মানুষের সঙ্গে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে আছে। এভাবে ষড়ঋতুই এ অঞ্চলের মানুষের নিয়ামক। ঋতু-পরিক্রমায় আমরা পাই নিজের পরিচয়।

৪৭৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৮ ১১:৫৮:৪৮ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    না-শীত না-গরম। এদিকে নদীগুলোও জল টইটম্বুর। ভরা নদী। তাল পাকা গরম আছে কিন্তু কাঁঠাল পাকানো গরম নয়। এমনই পরিবেশ নিয়ে আসে শরৎকাল।

    ভাই ভালো লাগলো আপনার শরৎ বন্দনা।

  2. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    সহিদ ভাই র সাথে সহমত

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top