Today 19 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

শিশুর বিকাশে চাই মত প্রকাশের স্বাধীনতা

লিখেছেন: সাঈদুল আরেফীন | তারিখ: ১১/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 525বার পড়া হয়েছে।

শিশুর সঠিক উন্নয়ন ও বিকাশে জাতিসংঘ গুরুত্ব সহকারে শিশু অধিকার সনদের প্রচার প্রসার বাস্তবায়নে কাজ করে আসছে। জাতিসংঘের অনুস্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রপক্ষগুলো এ ব্যাপারে সোচ্চার । এক্ষেত্রে আমাদের দেশ ও ব্যতিক্রম নয়। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ৫৪ ধারার আলোকে শিশুর বেড়ে ওঠা , শিশুর শেখার ক্ষেত্র হিসেবে শৈশব কাল একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এজন্যে শিশু অধিকার সনদের প্রস্তাবনাতে বলা হয়েছে, “শিশুর শারীরিক ও মানসিক অপরিপক্কতার কারণে তার জন্মের আগে ও পরে উপযুক্ত আইনগত সুরক্ষা, বিশেষ করে রক্ষাকবচ ও যত্ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আজ যে শিশু পৃথিবীর আলোয় এসেছে তার তরে একটি সাজানো বাগান চাই। প্রতিটি শিশু মানুষ হোক শিশুর আনন্দমেলায়। অর্থাৎ শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। জাতির এই ভবিষ্যৎ নাগরিকরা যাতে সুন্দর ভাবে শৈশব কাল থেকেই তার ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ এবং সুষম বিকাশের পথে অগ্রসর হতে পারে সেদিকটাতে আমাদের নজর দিতে হবে। আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু শিশুর ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ সুষম বিকাশ নিশ্চিতে কথা বলার অধিকার বা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের প্রয়োজনীয়তাকে উপলব্ধি করতে হবে। শিশুদের খেলাধুলা লেখাপড়া চলাফেরা ও বেড়ে ওঠার মধ্যে দৈনন্দিন জীবনে শিশুদের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে অনেক বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে। সচরাচর আমরা প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় দেখে থাকি, শিশুদের মতের প্রতি সম্মান না জানিয়ে যে কোন ক্ষেত্রে তাদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা বিদ্যমান রয়েছে। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, স্কুলে পারিবারিক পর্যায়ে সবখানে শিশুদের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শিশুর বেড়ে ওঠার সময়কালে স্বাধীনভাবে শিশুরা মত প্রকাশ করতে না পারলে বিরূপ প্রভাব পড়ে। জাতিসংঘ ঘোষিত প্রেক্ষিত বিবেচনায় শিশু অধিকার সনদের ৪টি প্রধান গুচ্ছের অন্যতম বিকাশের অধিকারকে আমাদের প্রধান উপজীব্য হিসেবে ভাবতে হবে। সিআরসির ৫৪টি ধারার মধ্যে বিকাশের অধিকার বা মানসিক বিকাশ হলো শিশুর জীবনগতির অন্যতম চালিকা শক্তি। মানসিক বিকাশের জন্য সনদে শিশুর মতামতকে যথেষ্ট প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ২০১০ ইংরেজী তারিখে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় শিশুনীতিতে ঘোষণা করেছে ১০ থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের বাংলাদেশের সংবিধান ও শিশু অধিকার সনদ নিশ্চিতকরণ,শিশু দারিদ্র্য বিমোচন,শিশুর প্রতি সব ধরণের নির্যাতন ও বৈষম্য দূর করা, শিশু অধিকার বাস্তবায়নে জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা , শিশুদের জন্য গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগে তাদের অংশগ্রহণ ও মতামত নিশ্চিত করতে জোর দেয়া হয়েছে। সরকারের অনুসৃত এই নীতির পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে সর্বস্তরে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ,পারিবারিক বলয়, শিশু সংগঠন,সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন পরিবেশে শিশুদের অবহেলা করা যাবেনা। শিশুদের মতামতের মাধ্যমেই নিশ্চিত হতে পারে একজন শিশুর পরিপূর্ণ সুষম বিকাশের ধারা। সচরাচর দেখা যায়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশুদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে শিশুদের জন্য করণীয় বিষয় নির্ধারণ না করে না করে যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর এরকম বিষয়কে চাপিয়ে দেয়া হয়। ফলে শিশুর মংগলের চাইতে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় । ফলে আলোচ্য বিষয়ের প্রতি সকল স্তরে সজাগ থাকতে হবে। কারণ শিশুর জন্য করণীয় বিষয়ে শিশুর সঠিক ও স্বাধীন মতামত প্রতিফলনই হতে পারে শিশুর বেড়ে ওঠা বিকাশের সুষম ধারা। তাই ,আমাদের আজকের সমাজ পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক স্তরে সবাইকে একযোগে স্বাধীনভাবে মতামত প্রতিফলনের মাধ্যমে শিশুর আগামী দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই ঘরে ঘরে শিশু অধিকার সুরক্ষায় সঠিক পদক্ষেপ ।

৫১১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সাঈদুল আরেফীন ১৯৬৮ সালের ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর কোরবানীগঞ্জে জন্ম গ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস বাঁশখালি উপজেলার জলদি গ্রামের নেয়াজর পাড়ায়। পিতার নাম মুহাম্মদ ফৌজুল কবীর এবং মায়ের নাম মরহুমা মোসলেমা খাতুন। আশির দশকের মধ্যভাগ থেকেই সরকারি মহসিন কলেজে পড়াকালীন সময় সাঈদুল আরেফীন সাহিত্য চর্চায় নিবেদিত হন। সেই থেকে কবিতা ,গল্প,প্রবন্ধ,নিয়ে নিরন্তর কলম চালান তিনি। আশির দশকের শেষভাগে সংবাদপত্রে যোগ দেন। চট্টগ্রাম প্রতিবেদক হিসেবে সাপ্তাহিক চিত্রালী,সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর,সন্দীপ সহ বিভিন্ন সময়ে অধুনালুপ্ত সমতা অপরূপ বাংলার প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। মূলত সংবাদপত্রে হাতে খড়ি হয় দৈনিক পূর্বতারাতে ক্ষুদে রিপোর্টার হিসেবে সরকারি মুসলিম হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে। বর্তমানে তিনি রাজনীতি,শিক্ষা,সাহিত্য, সংস্কৃতি,শিশু অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রবন্ধ কলাম এবং লিখে চলেছেন নিয়মিতভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও লিটলম্যাগ গুলোতে। চট্টগ্রাম বেতারে নিয়মিত আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও গবেষণামূলক স্বরচিত প্রবন্ধ ও কথিকা পাঠ ছাড়াও মাঝে মাঝে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে থাকেন। সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন ছোটবেলা থেকেই। তারই ধারাবাহিকতায় দশ বছরের পরিক্রমায় অনুপম নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত থেকে মানবসেবা শিক্ষা , সাহিত্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার একটি উজ্জ্বল সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আশির দশকেই। এখন যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামক একটি বেসরকারি উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনারারী ম্যানেজমেন্ট এডভাইজার হিসেবে কর্মরত থেকে প্রশিক্ষণ,উন্নয়ন নানা গবেষণাধর্মী কাজে জড়িত আছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সদস্য হিসেবে জড়িত থেকে শিক্ষার প্রসারেও কাজ করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর লামাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এছাড়া সাহিত্য ও সংস্কতি বিষয়ক পত্রিকা ঐতিহ্যের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি স্ত্রী ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। “মনে পড়ে জলকদর” তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ। এ গ্রন্থের মধ্য দিয়েই তিনি আমাদের জানান দিয়েছেন লেখালেখির মাঝখানে বিরতি দিলেও তিনি হারিয়ে যাননি। ইদানিং পত্র পত্রিকায় আবারো সক্রিয় হয়েছেন। এতে বেছে নেয়া তাঁর কবিতাগুলোর অধিকাংশই দৈনিক পূর্বকোণ,আজাদী ,মঞ্চ,সুপ্রভাত বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন লিটল ম্যাগে প্রকাশিত কবিতার সংকলন। আমাদের কাব্যভুবনে তাঁর আগমনকে স্বাগত জানাই। তাঁর কবিতা আশাকরি পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে। অচিরেই তাঁর শিশুতোষ প্রবন্ধ ও উন্নয়ন গবেষণামূলক দুটি প্রবন্ধের বই বেরোবে।
সর্বমোট পোস্ট: ২৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৫৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৬-১২ ১৩:৫৫:৪১ মিনিটে
banner

১ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    এখনকার শিশুরা যে বদের হাড্ডি এদের মতামতে চললে এরা উচ্ছন্নে যাবে। তবু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এদের মতামতের গুরুত্ব দিতেই হবে। লেখা ভাল লাগল।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top