Today 23 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

শীতের শীতল হাওয়া মনে দোলা দিয়ে যায়

লিখেছেন: মুহাম্মদ দিদারুল আলম | তারিখ: ০৫/১২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 726বার পড়া হয়েছে।

ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এই দেশ। আবহাওয়া ও জলবায়ু অনুসারে এ দেশকে ছয়টি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে। তবে সকল ঋতুর প্রভাব ও প্রাধান্য এক রকম নয়। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত এ তিনটি ঋতুই এ দেশের প্রকৃতি ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। আমাদের দেশে ঋতু চক্রে শীত ঋতুর বৈশিষ্ট্য অন্য পাঁচটি ঋতু থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কনকনে হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে আসে শীতের আগমনী বার্তা। হেমন্তের পরে ও বসন্ত ঋতুর আগে শীত ঋতুর অবস্থান। পৌষ ও মাঘ এ দু’মাস শীতকাল হলেও এর শুরু কিছুটা আগেই এবং সমাপ্তিও ঘটে আরো কিছুটা পরে। অর্থাৎ শীতের আগে হেমন্তের শেষ দিকটায় কিছুটা শীত অনুভূত হয় আর শীতের পরে বসন্তের শুরুতেও কিছুটা শীত থাকে। হেমন্তের ফসল ওঠে যাওয়ার পরে প্রকৃতিতে যে শূন্যতা, তার মাঝেই শীতের অবস্থান। হেমন্ত ঋতুর পর ঠান্ডা আমেজ মাখা উত্তরে হাওয়া শীতকালের আগমনী বার্তা ঘোষণা করে। শুষ্ক শীতল চেহারা নিয়ে আসে শীতঋতু। কুজ্ঝটিকার হিমেল আবরণ টেনে উপস্থিত হয় শীত তার চরম শুষ্কতার রূপ নিয়ে। নির্মম রুক্ষতা, পরিপূর্ণ রিক্ততা ও বিষাদের প্রতিমূর্তি হলো শীতঋতু। শাল, সেগুন, আমলকী, জামরুল, কৃষ্ণচূড়া শিরীষের বনে লাগে হিমেল হাওয়ার ছোঁয়া। বাতাসে বাতাসে রিক্ততার সুর বেজে ওঠে। ভোরের প্রকৃতি তখন ঘন কুয়াশার ধবল চাদরে ঢাকা থাকে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় হাড়ে কাঁপন লাগিয়ে শীত এসে জেঁকে বসে। সমগ্র প্রকৃতি তখন শীতের দাপটে নির্জীব হয়ে যায়। শীতের শুষ্কতায় অধিকাংশ বৃক্ষলতা পত্র-পল্লবহীন হয়ে পড়ে। সবুজ প্রকৃতি রুক্ষমূর্তি ধারণ করে। এসময় পাতাহীন গাছের ডালগুলো কেঁদে ওঠে বুক ফাটা হাহাকারে। একটা উদাস সুর বাজে প্রকৃতিতে। মনে হয় প্রকৃতি যেন মৃত্যুশয্যায়। শীতের দীর্ঘ রজনীতে মানুষ কাঁথা, কম্বল মুড়ি দিয়ে জড়াজড়ি করে কাটায়। কিশোরী বধূর মন হাহাকার করে প্রিয়তমকে কাছে পাওয়ার জন্য। পাখিরা সূর্য ওঠার আগে তেমন ডাকে না। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে কৃষক লাঙ্গল-জোয়াল কাঁধে নিয়ে মাঠে চলে যায়। কেউ জমি চাষ করে। কেউ ক্ষেতে নিড়ানি দেয়। কিষাণ বধূরা শয্যা ত্যাগ করে গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে হাত দেয়।
আসে শৈত্য প্রবাহ। এ সময় তাপমাত্রা আশঙ্কাজনক হারে নেমে যায়। শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষ প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালায়। যার যেটুকু সাধারণ ও গরম কাপড় আছে তাই গায়ে জড়িয়ে শীতের মোকাবেলা করে। দরিদ্র মানুষ বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের এ সময় কষ্টের সীমা থাকে না। গরম কাপড়ের অভাবে এ সময় বহু মানুষ কষ্ট পায়, অনেকেরই মৃত্যু ঘটে।
শীতে পাকা ফসল ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত হয় গ্রামবাসী। এসব দৃশ্য থেকে চোখ ফেরানো যায় না। হীমশীর্ণ পৌষে বাংলার নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয়গুলো শুকিয়ে যায়। তখন আমাদের দেশে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। ফলে রবিশস্যের চাষাবাদের জন্য প্রকৃতি হয় অনুকূল। শীতের শুকনো মাঠও রবিশস্যের প্রাচুর্যে পূর্ণ হয়ে ওঠে। শীতকালীন টাটকা শাক সবজিতে ভরে যায় বাংলার মাঠ ঘাট প্রান্তর। শীতকালীন শাকসবজি আমাদের খাবারকে আকর্ষণীয় করে। সরিষা ফুলের শোভা বাংলাদেশের প্রকৃতিকে শুষ্কতার মাঝেও এক অপরূপ সাজে সজ্জিত করে।
শীতকালে রং বেরঙের বাহারি গোলাপ, সূর্যমুখী, ডালিয়া, গাঁদা, রজনীগন্ধ্যা, অতসী, চামেলী, জুঁই, বেলী, বকুল প্রভৃতি ফুল প্রকৃতিকে সুরভিত করে। শীতের ফল কমলালেবু। পল্লী এলাকায় শীতের সকালের দৃশ্য বড় চমৎকার। ছেলেমেয়েরা অপেক্ষায় থাকে কখন সূর্য উঠবে। শীতের সকালের সবচেয়ে কাঙ্খিত জিনিস তীর্যক রোদ। সকাল বেলার মিষ্টি রোদে বসে বয়স্ক ও অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা রোদ পোহায়। এ সময় ছেলেমেয়েদের কোঁচড়ে থাকে চিড়া, নাড়ু, মুড়ি ও খেজুরের পাটালি গুড়। চাদর গায়ে দিয়ে রোদে বসে গুড়, মুড়ি, খিচুড়ি ও ভাপাপিঠা খেতে খুব ভাল লাগে। শীতের রোদ্দুর বাঙালির কাছে যথার্থই তৃপ্তিকর। শীতের সকালে ও রাতে ভাসমান ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করে। কাগজ, খড়, পাটকাঠি, পাতা, ধানের চিটায় (তুষ) আগুন দেয়া হয়। আগুনের চারপাশে জড়ো হয় লোকজন। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা আগুনের চারপাশে ভিড় জমায়। একই সঙ্গে চলে গল্পগুজব। শীতের সকালে পাওয়া যায় খেজুরের রস। গাছিরা কলসি ভরে মিষ্টি খেজুর রস নামায়। সেই রস থেকে তৈরি হয় গুড়। শীতের সকালে খেজুর রস আর গুড়ের মিষ্টি গন্ধ দুই-ই মন কাড়ে। খেজুর রসের পায়েস খেতে দারুণ লাগে। খেজুরের মিষ্টি রস, টাটকা শাকসবজি ও রকমারি পিঠায় গ্রামীণ জীবন হয় উপভোগ্য।
অতিথি পাখি শীতের অন্যতম আকর্ষণ। শীতকালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পাখি আমাদের দেশে আসে। এ সময় বিদেশি পর্যটকদের আগমন বেড়ে যায়। শীতের অনুকূল আবহাওয়া দেশি-বিদেশি ভ্রমণবিলাসীদের কাছে আরামদায়ক। শীতকালে দেশের পিকনিক স্পটগুলো ভোজনরসিক ও ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর হয়।
শীতকালে বাংলাদেশের সর্বত্র নানা রকমের পিঠাপুলি তৈরি হয়। গ্রামে গ্রামে চলে রঙ-বেরঙের পিঠা, পায়েস, ফিরনি খাওয়ার আয়োজন। শীতের নরম রোদের আঁচে খোলা আকাশের নিচে মাছের সুরুয়া দিয়ে পিঠা খেতে ভারি মজার। পিঠার জন্য আতপ চাল গুঁড়ো করতে হয়। কোনো পিঠা ভাপে হয়, কোনো পিঠা তেলে ভাজতে হয়। আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই পিঠা খাওয়ার প্রচলন আছে। তবে শীতকালে বিশেষ করে ভাপাপিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাপাপিঠা দেখে জিভে পানি এসে যায়। আতপ চালের গুঁড়ো, গুড় ও নারকেল সহযোগে তৈরি করা হয় ভাপাপিঠা। রসের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে বানানো হয় রসের পিঠা। এছাড়া চিতই, দুধচিতই, বড়াপিঠা, পাটিসাপটা, দুধপুলি, ক্ষীরপুলি, চন্দ্রপুলি প্রভৃতি পিঠার বেশ প্রচলন রয়েছে। ছেলেবুড়ো সবাই এসব পিঠা খেতে ভালোবাসে।
শুধু কি গ্রামীণ পরিবেশ না শহুরে পরিবেশ ও শীতের আগমনীতে শীত ঋতুতে নতুন সাজ নিয়ে সাজে। তাই আমাদের দেশের বেশীর ভাগ মানুষের প্রিয় ঋতু শীত।

৭০৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৮ ১১:৫৮:৪৮ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    শুধু কি গ্রামীণ পরিবেশ না শহুরে পরিবেশ ও শীতের আগমনীতে শীত ঋতুতে নতুন সাজ নিয়ে সাজে। তাই আমাদের দেশের বেশীর ভাগ মানুষের প্রিয় ঋতু শীত।

    আমারও প্রিয় শিত ঋতু, ধন্যবাদ ভাল থাকুন।

  2. Crown. মন্তব্যে বলেছেন:

    পিঠা খেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু সে সাধ কি আর মিটে !
    বানাতে পারি না তাই খাওয়াও হয় না !

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভাল লাগল ।
    ধন্যবাদ

  4. সেতারা ইয়াসমিন হ্যাপি মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার…শীতের বর্ণনা…ভালো লাগলো…!

  5. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল লেখা

  6. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়ে বেশ ভালো লাগলো
    শুভ সকাল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top