Today 08 Apr 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

!!সময় এসেছে নতুন করে ভাবার!!

লিখেছেন: মেহেদী হাছান | তারিখ: ০৬/১১/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 494বার পড়া হয়েছে।

সাধারণ জনতা যা কিছু করে তা নিজেদের ও দেশের উন্নয়নের জন্য করে। আর এই উন্নয়নের জন্য প্রতিনিয়ত অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। ছাত্র হলে জীবনের সকল আনন্দ উল্লাস বাদ দিয়ে কঠোর মনোনিবেশের মাধ্যমে লেখাপড়া করতে হয়। আর চাকুরীজীবি হলে দিনের প্রধান সময়ে বন্দীর মত নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে কাজ করতে হয়। কিন্তু এতকিছুর মাঝে তাদের এখন প্রধান বাধা হল রাজনৈতিক অস্থিরতা, কারণ রাজেনৈতিক স্থিতিশীলতাই সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রাখতে পারে তাদের এই চলমান উন্নয়নে। তবে বাস্তবতা এখন এমন যে সাধারণ জনতাকে আজ তাদের কাজ নিয়ে যতটুকু না ভাবতে হচ্ছে তার চেয়ে বেশী ভাবতে হচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে কেন না উন্নয়নের প্রধান শর্ত স্থিতিশীলতা। ফলে এক সাথে তাদের বড় দুই ধরণের কাজ করতে হচ্ছে, এক হল বেঁচে থাকার জন্য জীবিকার কাজ আর দুই হল পঁচা রাজনীতি চর্চা। কিন্তু এই জনতাই প্রতি নির্বাচনে ভোট প্রদানের মাধ্যমে একটা গভর্নিং বডি তৈরি করে গণতান্ত্রিকভাবে দেশের মানুষের সমঅধিকার ও সমান আইন নিশ্চিত করণের জন্য।
নিয়ম অনুযায়ী সরকার সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে যাতে করে জনগণ নিজের ও দেশের উন্নয়ন করতে পারে এবং সমঅধিকারের ভিত্তিতে সহাবস্থান করতে পারে।
তবে বাস্তবতা হলো বর্তমান পলিটিশিয়ানরা গনতন্ত্রের মুখোশ পরে দেশ পরিচালনার সংবিধানকে নিজেদের সুবিধামত পরিবর্তন করে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে জনস্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। যেখানে তাদের উচিত হল জনগনের উন্নয়নে, দেশের উন্নয়নে বেশী গুরুত্ব দেয়া সেখানে তারা গুরুত্ব দেয় জনগণকে বোকা বানিয়ে কিভাবে আরো কয়েক মেয়াদ ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়। ক্ষমতায় বসালে তারা তাদের কাছে রাখা জনগণের আমানত স্বরূপ সকল সম্পত্তি নিজেদের সম্পদ বলে মনে করে আর প্রত্যেক সরকার এই সম্পত্তি লাভের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় ফলে প্রতি পিরিয়ডে বিরোধীদল হয়ে ওঠে ক্ষূধার্ত শেয়ালের মতো ফলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তৈরি হয় ক্ষমতার পালা বদলের লড়াই । এরই ফলশ্রুতিতে তৈরি হয় দেশের মধ্যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি যাকে আমরা বলি রাজনৈতিক অস্থিরতা। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা নয়! জনগন যাকে ভালো মনে করবে তাকেই ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নিযুক্ত করবে এ দেশ পরিচালনার জন্য এটাই সত্য, স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে সেই জনপ্রতিনিধি যদি তার কর্মদোষে জনগনের পছন্দ না হয় তবে পরে আবার ভোট দিয়ে এই জনগনই পছন্দ মত অন্যকে নির্বাচিত করবে আর এটাইতো গনতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার। গনতন্ত্র হল একটা চলমান প্রক্রিয়া যেখানে জনগণই তার নিয়ন্ত্রক। তাই, যদি ক্ষমতা কুক্ষীগত করার ইচ্ছা থাকে তাহলে একেবারে সৌদি স্টাইলে বা আমিরাতের মত বাদশা-শেখদের মত করলেই তো হয় ,কারণ সেখানে অন্তত এই রাজনৈতিক অস্থিরতাটুকু নেই ।সেখানে মানুষ দিন আনে দিন খায় ,অন্তত নিজেদের নিয়ে ভাবতে পারে, কিন্তু এখন আমাদের দেশে অবস্থা এমন যে ছাত্র ও পেশাজীবি সকলেই সর্বত্র এই রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়েই বেশি আলোচনা করে, কারণ দেশের সর্বত্রই এই উৎকন্ঠা আজ চরমে যে উৎকণ্ঠা আমরা দেখি সেই প্রথম সরকার ক্ষমতা গ্রহণ থেকে শুরু করে তার পালা বদলের আগ পর্যন্ত ।সরকারের প্রতিটা বছরে বিরামহীনভাবে চলতে থাকে এই উৎকন্ঠা। প্রতি বছরেই বিক্ষোভ, অবরোধ, ভাংচুর, জ্বালাই-পোড়াও মিছিল-সমাবেশ,হরতাল চলতেই থাকে।ফলে বাধ্য হয়ে সকলেই কাজের পরিবর্তে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।তবে বর্তমান রাজনীতি এখন এমন যে, সরকার ও বিরোধী দলগুলো সর্বদাই কোন না কোন ভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরিতে বুদ্ধি আঁটে যেন তাদের কাজ হল স্থিরতা নয় বরং অস্থিরতাই লাগিয়ে রাখা।আসলে এ এমন একটি চর্চা যেখানে একজন প্রতিনিধি তার একমাএ পেশা হলো রাজনীতি তার আর কোন কাজ থাকবে না, থাকলেও সেটা গৌণ বরং তার বড় পেশা হল সে একজন রাজনীতিবিদ।ফলে যে আগে ছিল একজন ডাক্তার,শিক্ষক অথবা আইনজীবি, রাজনীতি করার ফলে তিনি এখন একজন রাজনীতিবিদ আর জন প্রতিনিধি হওয়ার পর সে হবে একজন সাংসদ ।ফলে পূর্বের সকল পেশা ছেড়ে তার একমাত্র পেশা এই রাজনীতিকেই জীবন-জীবিকার উৎস বানিয়ে নেয়, এখন তার সকল স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি এই পেশার উপরে নির্ভরশীল; আর এটাই একমাত্র পেশা যেখানে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই !কারণ হল, এটা জনগণের টাকা; এখানে নিজের আয় করা টাকা হতে তো আর কিছু করা লাগে না, ফলে শেয়ার বাজারের মত ধস কোন মাথা ব্যথার কারণ হয় না ,সোনালি ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি কোন দুর্নীতিই মনে হয় না, পদ্মাসেতুর টাকার ভাগ বাটোয়ারা সেতু তৈরির আগেই শুরু হওয়া কোন ব্যাপার নয় বরং এটা একটা ষড়যন্ত্র ইত্যাদি সবকিছুই তখন পেশার মধ্যে পড়ে যায় । আমরা জনগণ টাকার এপিঠ আর ওপিঠের মত দু’দলকেই এক পিরিয়ড পর পর ক্ষমতায় আনতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি “খারাপের ভালো” এই ভিত্তিতে!
আজ এই যে উৎকন্ঠা এটার জন্য প্রধানত দায়ী তো আমরাই ।কারণ, ক্ষমতায় টিকে থাকতে বা ফায়দা হাসিলে জন্য তাদের প্রধান কাজ হলো দেশের মধ্যে এই উৎকন্ঠা জিইয়ে রাখা, ফলে জনগণ শুধু শান্তির জন্য উভয় দলের উপর সরাসরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যেখানে কেবল স্থিতিশীলতার জন্য জনগণ যে কোন দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে অন্য দলকে দমনের মাধ্যমে দেশের অস্থিরতা কে সাময়িকভাবে কোণঠাসা করার জন্য। যা প্রতিবছর যখনই সুযোগ পায় অমনি তা ডেকে আনে আন্দোলন, মিছিল, হরতাল, অবরোধ, খুন, জখম, গুম ইত্যাদি ।আমরা যদি সত্যিই ভোটার হই তাহলে কেন আমরা এই দুই দলের উপর নিভরশীল হব , কেন আমরা অন্য কাউকে সুযোগ দিচ্ছি না তার সততা প্রমাণের? যদি অন্যরাও সুযোগ পেত তবে এই দু’দল বুঝতো যে রাজনৈতিক অস্থিরতা করলে আমাদের আগামীতে আর কখনো ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে না । কারণ প্রতিযোগী আরও আছে ফলে এখন ক্ষমতায় আসার মানদন্ড হল ভালো কাজ ! কিন্থু যেখানে আমরা এই দুই দলের মাঝে সীমাবদ্ধ সেখানে কয়েন টেস্টের মত হেড আর টেইল-এর মত অবস্থায় চিরকাল পড়ে থাকতে হবে কারণ, যে কোনটার সম্ভবনা ৫০- ৫০ কিন্তু না পড়ার সম্ভাবনা বা তৃতীয় কোন কিছু হওয়ার সুযোগ নেই ।আজ দেখা যায় পলিটিশিয়ানদের বিভিন্ন রাজনৈতিক রূপরেখা দেয় ছাত্র ও বিভিন্ন পেশাজীবি ব্যক্তিরা, তাহলে তাদের কাজটা কি? অবশ্য যে রূপরেখা য়ো হয় সেটা দিতে হয় যেচে , জনগণের কাছ থেকে ভোটের মাধ্যমে শুধুমাত্র সরকার বদল করা হয় কারণ, এরা জনগণ না, এরা হল ভোটার! কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশেষ করে সংবিধানের মত একটা পবিত্র জিনিসের সংশোধনীতে কোন মতামত নেয়া হয় না মনে হয় ”সংবিধানের জন্যেই মানুষ, মানুষের জন্যে নয়”।
মেহেদী হাছান
জা.বি
ফার্মেসী বিভাগ।

৫৪৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসী বিভাগ
সর্বমোট পোস্ট: ১৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-১১-০২ ১৫:৪৯:৪৯ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ”সংবিধানের জন্যেই মানুষ, মানুষের জন্যে নয়”।
    —————————
    আপনার কথার বিপক্ষে আমাকে বলতে হচ্ছে- মানুষের কল্যাণে সংবিধান তৈরি হয়, সংবিধানের জন্য ‍মানুষ নই। যে সংবিধান মানুষের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না সেটা কোন সংবিধান নয়। আমাদের দেশের নেতা নেত্রীরা যখন ক্ষমতায় থাকে তখন সংবিধানের দোহাই দেয়। আর যখন ক্ষমতার বাইরে চলে যায় তখন আর সংবিধানের প্রয়োজন হয় না।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    যেই ক্ষমতায় যায় সেই সে তার মত করে সংবিধান সংশোধন করে নেয়
    এরা স্বার্থবাদী দেশের মানুষের কথা নয় নিজেদের কথা ভাবে

  3. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল লেখাটি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top