Today 22 Sep 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

সেন্ট মার্টিন সমুদ্র সৈকত – যে সৌন্দর্য পিপাসার তৃষ্ণা মেটে না

লিখেছেন: মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক খান | তারিখ: ১৫/০৬/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1328বার পড়া হয়েছে।

st-martin1

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনে বঙ্গপসাগরের মাঝে অসংখ্য প্রবাল রাশি মিলে মিশে একাকার হয়ে তৈরি করেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। সাগরের সুনীল জলরাশি আর নারিকেল গাছের সারি এই দ্বীপকে দিয়েছে অপার সৌন্দর্য। প্রকৃতি দু হাত মেলে সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে এখানে। বালুকাময় সৈকত, প্রবালের প্রাচীর আর কেয়া গাছের সারি এই দ্বীপকে দিয়েছে আলাদা এক বৈশিষ্ট যা আর কোথাও নেই। উত্তাল সাগরের নোনা জল যখন আছড়ে পরে কেয়া গাছের ফাকে, ঝিরি ঝিরি বাতাসে তৈরি হয় সফেদ ফেনা, সে এক মাতাল করা দৃশ্য। রাতের জোৎসনা এসে যখন লুটোপুটি খায় চিকচিকে বালুর বুকে, নীল আকাশ তখন আরও নীলাভ হয়। ছুনছান নিরব রাতে চারিদিকে শুধু সাগরের হুংকার আর ঢেউ এর আছড়ে পড়ার গর্জন। অপূর্ব, অসাধারণ, অদ্ভুত সুন্দর, অসহ্য সুন্দর। হাজারো জোৎসনা রাতের চেয়েও সুন্দর সেন্ট মার্টিনের একটি নির্ঘুম চাঁদনী রাত, এখানে সময়ের কাটা এগিয়ে চলে কিন্তু সৌন্দর্য পিপাসার তৃষ্ণা মেটে না।

st-martin16

অসংখ্য নারিকেল গাছ, কেয়া গুল্ম আর সবুজ বনানী এই দ্বীপকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। পুরো দ্বীপ ঘুরলে মনে হবে নারিকেল বাগান এটি। আপনি চাইলে অর্থের বিনিময়ে তৃষ্ণা মেটাতে পারেন নারিকেল জলে। এখানে হাজার তিনেক স্থানীয় লোকজন বসবাস করে। সিংহভাগই মুসলমান। খুবই ধার্মিক ও সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ এরা। তাই কোন প্রকার চুরি ছিনতাই এর সম্ভাবনা নেই এখানে। গভীর রাত পর্যন্ত আপনি জোৎসনা স্নান করতে পারেন নির্বিঘ্নে।

st-martin5

এটি সত্যিই একটি ভিন্ন প্রকৃতির দ্বীপ। এর একদিকে যেমন প্রবাল প্রাচীর ঘিরে রেখেছে, অন্যে দিকে বালুকাময় সৈকত প্রহর গুনছে আপনার অপেক্ষায়। সমুদ্রজলে অনায়েসেই আপনি করে নিতে পারেন স্নান কাজটি। এই সৈকতের লাল কাকড়া আর নুরি পাথর আপনাকে নিঃসন্দেহে আকৃষ্টে করবে। অবচেতন মনেই আপনি কুড়িয়ে নিবেন বিভিন্ন রং এর আর ঢং এর নুরি পাথর সাথে ঝিনুক খন্ড।

st-martin19

টেকনাফ হতে সেন্ট মার্টিন যাত্রাপথটি মন্দ নয়। গাংচিল আর ডলফিন দেখতে দেখতে এই ২ ঘন্টার ভ্রমনটি আপনি মুহুর্তেই কেটে যাবে। আর দুর সাগরের নীলাভ অথৈ পানির মাঝে যখন সবুজে ঢাকা দ্বীপটি আপনার দৃষ্টিগোচর হবে সারা রাতের দীর্ঘ ভ্রমনের ক্লান্তি দুর হয়ে যাবে নিমিষেই। দ্বীপটি যতই কাছে আসতে থাকে আপনার ব্যকুলতা ততই বাড়তে থাকবে। ইচ্ছে করবে যেন সাগরে ঝাপ দিয়েই চলে চাই সৈকতে। দ্বীপে পা দিয়েই বুঝতে পারবেন এটিকে নিয়ে মানুষ কেন এত মাতামাতি করে, কেনইবা একে বলা হয় সুন্দরের লীলাভূমি।

st-martin2

বাংলাদেশে যতগুলো দৃষ্টনন্দন পর্যটন এলাকা রয়েছে সেন্ট মার্টন তার ভীতর অন্যতম ও নান্দনিক। দ্বীপটি দৈর্ঘে প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থে কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার। সেন্ট মার্টিন্সের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার প্রবাল প্রাচীর। দ্বীপের শেষ মাথায় সরু লেজের মত আর একটি অবিচ্ছিন্ন দ্বীপ রয়েছে যার নাম ছেঁড়াদ্বীপ। জোয়ারের সময় পানি এসে এটিকে মূলদ্বীপ হতে বিচ্ছিন্ন করে বলেই এর নামকরন করা হয়েছে ছেঁড়াদ্বীপ। ভাটার সময় পানি নেমে গেলে এটি আবার মূলদ্বীপের সাতে সংযুক্ত হয়ে যায়। তখন পায়ে হেটেই চলে যাওয়া যায় সেখানে। এখানে কোন লোক বসতি নেই। এই অংশটি একেবারেই প্রবালময়। এখানে স্বচ্ছ জলের নীচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজারো ধরনের প্রবাল। নানান রংয়ের মাছেরা খেলা করে প্রবালের ফাকে। সত্যিই সে এক দেখার মত দৃশ্য।

st-martin-island

এখানে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি হোটেল মোটেল ও কটেজ রয়েছে। ব্লুমেরিন, অবকাশ পর্যটন সহ বেশ কয়েকটি উন্নতমানের হোটেল রয়েছে। কটেজগুলোও চমৎকার। কটেজের বারান্দায় বসে চা খেতে খেতেই উপভোগ করতে পারবেন সাগরের মায়াবীরূপ। এখানে বিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা নেই। জেনারেটর ও সৌর বিদ্যুতই একমাত্র ভরসা। এখানে একটি মাত্র বাজার রয়েছে জাহাজ ঘাটে। রয়েছে অনেকগুলো খাবার হোটেল। এখানকার তাজা রুপচাঁদা মাছের ফ্রাই আপনার জ্বীভে জল আনবেই। আপনি চাইলে জেলেদের কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে এনে হোটেলে ভেজে নিতে পারেন। আর একটি বিখ্যাত জিনিস এখানে পাবেন, সেটা হলো শুটকী। নানান প্রজাতী মাছের হরেক রকম শুটকী এখানে পাওয়া যায়। খুব সহজে ও সুলভ মূল্যে এখান হতে শুটকী সংগ্রহ করতে পারেন।

St_Martin_Island_2

এখানে দুই ধরনের পর্যটক বেড়াতে আসে। কেউ কেউ সেন্ট মার্টিন এসে ঐদিনই ফিরে যায়। আবার কেউ কেউ রাত্রি যাপন করে। যারা দিনাদিনই চলে যায় তাদের দেখার সুযোগ খুব কম। কিন্তু যারা রাত্রিযাপন করেন তাদের জন্য রয়েছে অপার সুযোগ।

 

 

ইতিহাস

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ স্থানীয় ভাবে জাজিরা বলে পরিচিত। এক সময় এই দ্বীপটি ছিল একটি বিশ্রামাগারের মত। বিভিন্ন দেশের বনিক রা বিশেষ করে আরব বনিকরা পন্য নিয়ে যখন সওদা করতে যেতো তখন তারা এই দ্বীপে বিশ্রাম নিত। তখন থেকেই এই দ্বীপের নাম হয় জাজিরা। তবে পরবর্তীতে এটি নারিকেল জিনজিরাও বলে পরিচিতি লাভ করে। অসংখ্য নারিকেল গাছের সমারোহ থাকায় এই দ্বীপকে এই নামে ডাকা হয়ে থাকে। সর্বশেষে ইংরেজরা এই দ্বীপটির নাম করন করে সেন্ট মার্টিন এবং দেশ বিদেশের মানুষের কাছে এখন পর্যন্ত এই নামেই পরিচিত। তবে সাহিত্যের ভাষায় দারুচিনির দ্বীপ নামটিও বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয়।

 

যেভাবে যেতে হবে

অনেক ভাবেই পৌছানো যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এখানে যেতে হলে প্রথমেই যেতে হবে টেকনাফ জাহাজ ঘাটে। ঢাকা, চট্ট্গ্রাম এবং কক্সবাজার থেকে বাস বা মাইক্রোবাসে করে যাওয়া যাবে ৯ কিমি.। টেকনাফের জাহাজ ঘাটে গিয়ে আপনাকে সীট্রাকের টিকেট কাটতে হবে। টেকনাফ হতে সেন্টমার্টিনের দুরত্ব। উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যেতে হয় এখানে। শীত মৌসুমে সাগর শান্ত থাকে তাই এই সময় এখানে যাওয়া অনেক বেশী নিরাপদ। এই পর্যটন মৌসুমে এখানে টেকনাফ হতে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত কেয়ারী সিন্দবাদ সহ বেশ কয়েকটি সী-ট্রাক চলাচল করে। সকাল ১০ টায় এই নৌযানটি সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং বিকাল ৩ টায় ফিরে আসে। তবে এছাড়াও ট্রলার ও স্পীড বোটে করে যাওয়া যায় সেন্ট মার্টন। সী ট্রাক গুলো এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলাচল করে। এর পর বৈরি আবহাওয়ার কারনে প্রশাসন একে চলতে দেয়না। তবে যারা বৈরি মৌসুমে এডভেঞ্চার হিসেবে যেতে চান সেন্টমার্টিন তারা ট্রলার ভাড়া করে যেতে পারেন। তবে এই যাত্রাটি খুব একটা নিরাপদ নয়। সাধারণত দুর্ঘটনা ঘটে না, তবে ঘটে যেতে পারে। তাই সাবধান। কিন্তু উত্তাল সাগরের প্রকৃত রূপ দেখা কিংবা নির্জন দ্বীপে বসে বৃষ্টিস্নান করার লোভ যারা সামলাতে না পারেন তাদের জন্য ট্রলার ছাড়া বিকল্প কোন ব্যবস্থা আর নেই।

১,৪৮৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমার জন্ম পিরোজপুরে নানা বাড়িতে। দাদা বাড়িও পিরোজপুরে। পিরোজপুর শহরের সার্কিট হাউজ – ফায়ার সার্ভিস এর মাঝখানে আমাদের বাড়ি। পিরোজপুর আমার কাছে স্বপ্নের শহর। যদিও ক্লাস থ্রী থেকে আমি ঢাকাতে মানুষ। এসএসসি ১৯৯৬ সালে। পড়াশুনা করেছি ফার্মেসিতে, পরে এমবিএ করেছি আন্তর্জাতিক বিপননে। জুলাই ১৫, ২০১১ থেকে সব ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা থেকে অবসর নিয়েছি। বিশেষ ব্যক্তিত্বঃ নবিজী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যে ব্যক্তিত্ব আমাকে টানেঃ ডঃ মুহম্মদ ইউনুস প্রিয় লেখকঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল, হুমায়ুন আহমেদ, হেনরি রাইডার, জুল ভান প্রিয় টিভি সিরিয়ালঃ Spellbinder, Spellbinder 2: Land of the Dragon Lord, The girl from tomorrow, Tomorrows end, Time Trax, MacGyver, Alice in Wonderland, The Chronicles of Narnia প্রিয় টিভি নাটকঃ কোথাও কেউ নেই, অয়োময়, রুপনগর, বহুব্রিহী, বার রকম মানুষ প্রিয় টিভি শোঃ ইত্যাদি, সিসিমপুর, Pumpkin Patch Show লেখালেখি আমার শুধু শখই না, মনে হয় যেন রক্তের টান। বিশেষ করে বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি। বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি আমার কাছে রঙ্গিন ঘুড়ির মত। কল্পনার সীমানা পেরিয়ে যে ছুটে চলে মহাজগতিক পরিমণ্ডলে। এ যেন সময়টাকে স্থির করে দিয়ে এর আদি-অন্ত দেখার মত। তারপরও এ ঘুড়ি যেমন ইচ্ছে তেমন উড়তে পারে না, সুতোয়ে টান পড়ে বলে। এ টান যুক্তির টান। যৌক্তিক কল্পনা বললে ভুল হয় না। তারপরও নিজ ইচ্ছেয়ে সুতোটাকে ছিঁড়ে দিতে ভাল লাগে মাঝে মাঝে। আমি যেমন নিজে স্বপ্ন দেখি তেমনি সবাইকে স্বপ্ন দেখাতে চাই। অঞ্জন দত্তের ভাষায় বলতে হয়, ‘মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যখন-তখন কান্না পায়, তবু স্বপ্ন দেখার এই প্রবল ইচ্ছাটা কিছুতেই মরবার নয়।’ কনফুসিয়াসের এই লাইন টা আমাকে খুব টানে … journey of a thousand miles begins with a single step। আমার প্রথম লেখা প্রকাশ হয় ১৯৯৬ সালে আধুনালুপ্ত বিজ্ঞান সাপ্তাহিক আহরহ তে। আমার নিজের একটা ব্লগ আছে, mahkbd.blogspot.com। আমার ইমেইল mahkbd@gmail.com।
সর্বমোট পোস্ট: ৯৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৫৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-১১ ০৩:১৪:৫৫ মিনিটে
banner

৮ টি মন্তব্য

  1. আজিম হোসেন আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    বরাবরের মতই ভাললাগা।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    সেন্টমার্টিন গিয়েছিলাম ২০০৫ সালে। ‘স্বপ্নের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন’ শিরোনামে আমার একটি ভ্রমণ কাহিনী আছে। সময় মতো প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করছি।

  3. বদরুল হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    রাতে সেখানে দেখার কী কী আছে জানালে ভাল হত। তবুও অনেক কিছু জানতে পারলাম। আপনাকে ধন্যবাদ।

  4. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে জানতে আমার খুব ভাল লাগে। ছবিটিও খুব সুন্দর।

  5. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার এখনো যাওয়া হয় নি চেষ্টা করব যাওয়ার জন্য।

  6. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লিখেছেন তো !
    অসংখ্য অসংখ্য ভাল লাগা জানিয়ে দিলাম ।

  7. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি শুধু ছবি দেখে ই তৃষ্ণা মিটাই।আমি জার্নিতে কেন জানি টায়ার্ড হয়ে পড়ি।সেইজন্য আমি কোথাও ভ্রমনে যেতে পছন্দ করিনা।একদুই ঘন্টার জার্নি লাইক করি।কিন্তু লং টাইম পারিনা।তবে লেক বীচ সমুদ্র আর সবার মত আমার ও খুব পছন্দ।অসম্ভব সুন্দর কিছু ছবি সহ পোষ্ট টা খুবই ভাল লেগেছে দেখতে। যদিও সম্ভবত আমি কখনই যাবনা হয়ত দেখতে। খুব সুন্দর কিছু দেখলে আমার অনেক মন খারাপ হয় আনন্দের বদলে।

    আপনাকে ধন্যবাদ এই চমৎকার পোষ্ট টির জন্য।ভাল থাকবেন কেমন।

  8. সাঈদুল আরেফীন মন্তব্যে বলেছেন:

    সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। সে হিসেব চমৎকার পোষ্ট ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য । শুভেচ্ছা লেখককে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top