Today 20 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্পাইডারম্যান আমার বাবাকে এনে দিতে পার

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ২৩/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 897বার পড়া হয়েছে।

Picture

–>

১ম অধ্যায়:
ছোট আরাফ আজ খুব ব্যস্ত। সকালে ঘুম থেকে উঠে তার ছোটাছুটি শুরু হয়েছে। এই জুন এ তার বয়স হয়েছে সাত। আজকে মাদার্স ডে। মাকে সে আজ সারপ্রাইজ দিবে । কালকে টিচার বলেছে মাকে কোন গিফট দিয়ে খুশি করে দিতে। কি দিলে মা অবাক হয়ে যাবে তার শিশু মনে ভেবে পেলনা কিছুক্ষণ। কাবার্ড খুলে আকার যত সরঞ্জাম সব বের করে বসলো। বড় স্কেচ পেপার যেটা নিল তা পুর্ন্য দৈর্ঘ্যের মানুষের চেয়ে বড় আকৃতির। গভীর মনোযোগে ধ্যানের সাথে সে ছবি আঁকা শুরু করলো। মা একবার উঁকি দিয়ে দেখে গিয়েছে।
কি করছ বাবা আমার ?
মা দেখে হেসে চলে যায় অন্য রুমে। আজকে আরাফের স্কুল বন্ধ। এদিন তার অনেক পছন্দ। যদিও সে তার সব বন্ধুদের মিস করবে তবু আজকের দিনটার জন্য সে সপ্তাহে উম্মুখ হয়ে বসেও থাকে। আজকে বিকালে মা তাকে বাহিরে নিয়ে যাবে। অনেক অনেক আদর করবে। নানা রকমের খেলনা কিনে দিবে।
অবশেষে অনেক চেষ্টার পর সে পেইন্ট শেষ করলো। নিজের পেইন্টে সে বেশ সন্তুষ্ট হোল। অনেকক্ষণ ধরে স্পাইডার ম্যানের ছবি আঁকল। লাল নীল রং করে প্রথমে তার পোশাক তৈরী করে শেষে জুড়ে দিল চোখ মাথা। তার ভিডিও গেমে আবার দেখে নিল স্পাইডার ম্যান কে। নিজের আঁকা ছবি দেখে খুশিতে হাত তালি দিয়ে উঠলো।
ভিতরের রুম থেকে মা ডাকছে
আরাফ নাস্তা খেতে আস বাবা। সে ভীষণ উত্তেজিত এখন। এই মুহুর্তে তাঁর খেতে ও ইচ্ছে করছেনা। তারপর ও মাকে খুশি করার জন্য আসা। ছবিটা লুকিয়ে নাস্তা খেতে আসল। অমলেট খেয়ে এক নিশ্বাসে দুধ টুকু খেয়ে এসে বসল তার রুমে। ছবিটা আবার দেখে সন্তুষ্ট হয়ে রেখে দিল।

২য় অধ্যায়:
বিকাল এ মায়ের সাথে শপিং মলে আসল।
কি কি খেলনা চায় জিজ্ঞাসা করাতে দেখিয়ে দিল গ্যাপের ( ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর ) দোকানে পুরুষ ডামি টা।
মা বিস্মিত। এ ডামি চাও বাবা ? এটা তো তোমার জন্য বিগ হবে বাবা। তাছড়া ডামি গুলি কিন্তু বিক্রির জন্য নয়, ওগুলি ড্রেসের ফিটিং দেখার জন্য।
আমি বাবাকে চাই মা। মা একটু উদাস হয়ে রইল। আরাফের বাবা কাজের জন্য দেশের বাহিরে থাকে। আরাফ চায় বাবাকে তাঁর কাছে নিয়ে আসতে। বাবার সাথে ফোন এ কথা বলার সময় সে কাঁদতে থাকে। মা সান্তনা দেয়। খুব শিগ্রী বাবা চলে আসবে।বাবাকে সে দেখেছে ছবিতে। তার বাবা প্রতি বছর ই দেশে আসবে আসবে করে আসতে পারে না। তাদের কে ও নিতে পারছেনা বৈধ কাগজ পত্র না থাকার কারণে। যদিও তিনি বিশাল অঙ্কের টাকা পাঠাচ্ছেন প্রতি মাসে আরাফ এর জন্য। মা গোপনে চোখের পানি ফেলে। সে এসে মায়ের চোখ মুছে দেয়।
আজকে সে ভাবছে যে করে হোক বাবাকে এখানে আনবে। তার কাল্পনিক শিশু মনে সে ভাবছে স্পাইডার ম্যান কে অনুরোধ করবে বাবাকে এনে দিতে। রাতে ঘুমিয়ে আছে সে। ঘড়িতে বাজে টিক টিক করে ঘোষনা দিল রাত তিনটা। তার ঘুম ভেঙ্গে গেল হঠাৎ কিসের শব্দে। তাকিয়ে দেখে দেয়ালে কিসের যেন ছায়া। ভয় পেয়ে মাকে ডাকতে যাবে
ছায়া টি বলে উঠে
হুশ আরাফ আমি স্পাইডার ম্যান। শব্দ করো না এখন। মা ঘুম থেকে জেগে যাবে। তুমি কেমন আছ?
আনন্দে উত্তেজনায় আরাফ প্রায় চিত্কার দিয়ে উঠতে চাইল। তুমি এসেছ স্পাইডার ম্যান।
স্পাইডার ম্যান আমার বাবাকে এনে দিতে পার তুমি?
এস তুমি আমার কাঁধে বস। আমি তোমাকে বাবার কাছে নিয়ে যাব। স্পাইডার ম্যান বলে উঠে ।
খুশিতে লাপ দিয়ে স্পাইডার ম্যান এর কাঁধে চড়ে গলা আকড়ে ধরল। প্রকৃতিতে এখন নিঝুম নিস্তব্ধতা। সবাই ঘুমের রাজ্যে। স্পাইডার ম্যান তার নেটের মাধ্যমে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা করে খুব দ্রুত চলে আসলো ইউ এস ডালাস এ যেখানে তার বাবা থাকে। ইউ এস এ এখন দিন। অনেক খোঁজা খোঁজি করে কোথাও বাবাকে পাওয়া গেলনা।
এক পর্যায়ে সে কাঁদতে শুরু করলো।
বাবা বাবা তুমি কোথায় ? ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে বড় অভিমান ভরে কাঁদতে থাকলো।
থাম আরাফ ,তোমার বাবা অন্য কোথাও কাজে গিয়েছে বাবা। এখন ই চলে আসবে। শান্ত হও। কোন কিছু ই তাকে শান্ত করানো যাচ্ছেনা।
একপর্যায়ে তাকে আইস ক্রিম আর পিজা কিনে দেওয়া হলো। তবু ও সে কেঁদেই যাচ্ছে।
আসো আরাফ আমাদের এখন মায়ের কাছে ফিরে যেতে হবে। সকাল হয়ে গিয়েছে।
৩য় অধ্যায়:
সকাল সাত টা বাজে।
আরাফ উঠ ঘুম থেকে। মা বারবার ডেকে যাচ্ছে। ঘুম ভেঙ্গে উঠলো ছোট আরাফ।
ঘুম ভেঙ্গে সে কাঁদতে শুরু করলো।
মা বাবা কে আনতে গিয়েছিলাম। মা জড়িয়ে ধরে। আরাফ এর জন্য বিশাল চমক অপেক্ষা করছিল কিছুক্ষণ পরে। তার বাবা দীর্ঘ ছয় বছর পরে আজ দরজায় নক করে বসলো। মা দরজা খুলে চিৎকার করে উঠলো আনন্দে।
এ কি ? তুমি কিভাবে ?
তোমাদের সারপ্রাইজ দিতে বলিনি আরাফ এর মা। আমার সব কাগজ পত্র হয়ে গেছে। তোমাদের নিতে এসেছি। আনন্দে আবেগে ,চোখের পানিতে ছেলে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন তিনি।
আহা আমার বাবা টা তো বিগ ম্যান হয়ে গেছে। ছেলেকে আদরে চুমুতে ভাসিয়ে দেন তিনি।
বাবার কোলে ফোঁফাতে ফোঁফাতে কাদতে কাদতে বলে আরাফ বাবা এইজন্য তোমাকে কাল খুঁজে পাইনি আমি আর স্পাইডার ম্যান। তুমি তখন প্লেন এ ছিলে তাই না বাবা?
বাবা মা মুখ চাওয়া চাওয়ি করে হাসে। হ্যা বাবা বলে বাবা মাথার চুল নেড়ে দেয় আরাফ এর।
পরিশিষ্ট : পরের মাসে আরাফ আর তার মা বাবা ইউ এস এ চলে আসে। সঙ্গে নিয়ে নেয় তার হাতে আঁকা স্পাইডার ম্যান। ঘুমের সময়ে জড়িয়ে ধরে ছবি টাকে সে।
বলে ধন্যবাদ স্পাইডার ম্যান তুমি আমার বাবাকে এনে দিয়েছ। এ সে তার মনের আনন্দের জন্য বলে। সে এখন আস্তে আস্তে বুঝতে শিখেছে। সে জানে স্পাইডার ম্যান না আল্লাহ এনে দিয়েছে তার বাবাকে তার কষ্ট দেখে। সে তো সপ্ন দেখছিল।

৮৮৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১৯ টি মন্তব্য

  1. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভালো লাগলো আপু। আধুনিকতা মানুষকে এই দুষ্টক্ষতটা উপহার দিয়েছে। পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। এমন ফাঁদ পেতেছে পুঁজিবাদ, বেঁচে থাকতে হলে এ ফাঁদে পা দিতেই হবে।

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Khub Sundar golpo
    khub bhalo laglo

  3. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    হুশ আরাফ আমি স্পাইডার ম্যান। শব্দ করো না এখন। মা ঘুম থেকে জেগে যাবে। তুমি কেমন আছ?
    আনন্দে উত্তেজনায় আরাফ প্রায় চিত্কার দিয়ে উঠতে চাইল। তুমি এসেছ স্পাইডার ম্যান।
    স্পাইডার ম্যান আমার বাবাকে এনে দিতে পার তুমি?
    এস তুমি আমার কাঁধে বস। আমি তোমাকে বাবার কাছে নিয়ে যাব। স্পাইডার ম্যান বলে উঠে ।

    আধুনিক ভাবনা।

  4. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    বাবার কোলে ফোঁফাতে ফোঁফাতে কাদতে কাদতে বলে আরাফ বাবা এইজন্য তোমাকে কাল খুঁজে পাইনি আমি আর স্পাইডার ম্যান। তুমি তখন প্লেন এ ছিলে তাই না বাবা?

    ছলে ও বাবার কথোপকথন ভালো লাগলো।ধন্যবাদ।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      ……………ছলে ও বাবার কথোপকথন ভালো লাগলো।ধন্যবাদ..

      কেমন..আছেন..ছাইফুল..ভাই..খুশি..হলাম.কমেন্টসে।

      • ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

        এই ব্লগে যেটার অভাব আমি অনুভব করছিলাম মন্তব্য করলে লেখকের দেখা পাওয়া মুসকিল।আজ পেলাম। ব্লগ হোক আরও গতিশীল। শুভ ব্লগিং আরজু মূন জারিন।

  5. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    পরিশিষ্ট : পরের মাসে আরাফ আর তার মা বাবা ইউ এস এ চলে আসে। সঙ্গে নিয়ে নেয় তার হাতে আঁকা স্পাইডার ম্যান। ঘুমের সময়ে জড়িয়ে ধরে ছবি টাকে সে।
    দূর্ভাগা দেশের এইটাই ভাগ্য মেধাগুলো সব ইউএস এতে চলে যায়।
    গল্পেও যা বাস্তবে ও তা।

  6. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    খু-উ-ব ভাল লাগল গল্পটি । শুভ কামনা ।

  7. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    খু-উ-ব ভাল লাগল কমেন্টসেটি রহমান.ভাই.
    শুভ কামনা ।

  8. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার লিখেছেন আপু।।

  9. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    অসম্ভব ভাল লেগেছে আপি

  10. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

  11. হোসাইন আহমদ মন্তব্যে বলেছেন:

    অসাধারন লেখা। শিক্ষামুলক,বাস্তববাদিতা। বাবাকে দেখার ছেলের এ আকুতি দেখে কে? দেখার আছে কে? আল্লাহ ছাড়া।

  12. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগল। সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top