Today 23 Apr 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্বর্নার একোরিয়াম এর মাছটি

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ২৯/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1308বার পড়া হয়েছে।

কালকে থেকে স্বর্ণা অনেক খুশি। বাবা তাকে একোরিয়াম এনে দিয়েছে। সাথে গোল্ডেন ফিস। সকাল থেকে সারাদিন সে একোরিয়াম এর সামনে দাড়িয়ে আছে । একোরিয়াম টির গায়ে টোকা দেয় সে মাঝে মাঝে। মাছটি সারা জার্ জুড়ে সাতার কাটতে থাকে। সে হাত তালি দিতে থাকে।

স্বর্ণা মা নাস্তা খেতে আস। মা কিচেন থেকে ডেকে বলে।

মা আমার মাছ এর ক্ষিদে পেয়েছে । ওর খাওয়ার আগে চাই।

ওকে খাওয়ার দেওয়া হয়েছে মা। বেশী দিতে হয়না। শোন নি তুমি দোকানি কি বলেছে বেশী খাওয়ার দিলে সে বাচবেনা।

তবু ও সে দাড়িয়ে আছে একোরিয়াম এর পাশে উত্তেজনায়। আবার সে খাওয়াতে চায় মাছটিকে।

স্বর্ণা এবার ক্লাস ওয়ান থেকে টু তে উঠেছে। সে হলিক্রস স্কুল এ পড়ে। এবার সে ক্লাস এ প্রথম হয়েছে। মা বলেছে প্রথম হলে তাকে পুরস্কার দিবে।

তখন তার মাথায় একোরিয়াম এর কেনার চিন্তা এসেছে। তাদের স্কুল এ প্রিন্সিপাল এর রুম এ ছোট একোরিয়াম আছে যা সে খুব ভালবাসে।

স্বর্নার সাথে মায়ের খুব শখ একোরিয়াম এর।

বাবা প্রথমে রাজি ছিলনা। এসব খুব যত্ন করতে হয়। ঝামেলা আছে। বারবার পানি বদলাতে হয়। ঘরের ছোট জারে শুনেছি মাছগুলি বাচেনা। বাবা বার বার নিরাশ করার চেষ্টা করছিল তাদের।

কিন্তু মায়ের ও জেদ। গোল্ডেন ফিস গুলি ঘরে সুখ সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। মায়ের যুক্তির কাছে বাবাকে হার মানতে হল।

অবশেষে দুটি একোরিয়াম আনা হল ছোট একটি স্বর্নার জন্য ছোট গোল্ডেন ফিস সহ যা স্বর্ণা তার পড়ার টেবিল এ রাখল আর যেটি বড় অনেক ফিস সহ ড্রয়িং রুম এর শোভা বর্ধন এর জন্য রাখা হল।

সেই থেকে কিছুক্ষণ পর পর একবার গিয়ে স্বর্ণা তার মাছের সাথে কথা বলে আবার পরক্ষণে ড্রয়িং রুম এর মাছের সঙ্গে আর ও কিছুক্ষণ।

মা হাসেন মনে মনে। একটি মেয়ে তার।

রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ এর পরে ঘুমাতে যাবে স্বর্ণা তার মাছটি সহ বিছানায় উঠে এল।

মা কি করছ মৃদু বকুনি দেয় মা। বিছানায় পড়ে পানিতে ভেসে যাবে। যাও আগের জায়গায় রেখে আস।

সে রাজি হয়না।

ওর মা নাই দেখো একা ও। আমার ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে খাওয়াতে হবে। অনেকটা মায়ের বাচ্চা কোলে দুলানোর মত করে সে তার ছোট জার টি দোলাতে থাকে আর আবেগে বলতে থাকে।

মা অসহায় হয়ে মাথা নাড়ে।

বাবা বুঝিয়ে সুঝিয়ে অবশেষে হাত থেকে মাছ টি নেয় আগের জায়গায় রেখে আসে।

একসময়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে মাছটির জন্য বুকভরা দুশ্চিন্তা নিয়ে।

সকাল এ ঘুম থেকে উঠে সবার আগে মাছের কাছে গিয়ে দাড়ায় ।

কেমন আছ। ..বলে আস্তে আস্তে।

এরপর সে তার প্রিয় খেলা খেলতে থাকে। জারে টোকা দেয় যাতে মাছটি সাতার কাটতে থাকে আনন্দে।
মাছটির কোন ও সাড়া শব্দ পায়না অনেকক্ষণ ধরে।

মাম্মি আমার মাছ ক্ষিধে লেগেছে কিছু খেতে দাও জোরে ,বলে উঠে।

সকাল দশটা দেখা গেল মাছটি মরে আছে জারের ভিতরে। তার কান্নায় মাও কানতে শুরু করে।

বাবা অসহায়ের মতন মাথা নাড়ে।
আমি বলেছি একোরিয়াম এর মাছ গুলি ঘরে বেশিদিন বাচেনা। যার যেখানে থাকার কথা সঠিক জায়গা আমাদের তার ব্যবস্থা করা উচিত স্বর্নার মা।

অবশেষে বাবা মেয়েকে বুঝলেন এইভাবে মা তোমার যখন দেখতে ইচ্ছে হবে আমরা গিয়ে একোরিয়াম দেখে আসব, নদীতে মাছ ধরব , পানির মাছ দেখব। শুধু ঘরের শোভা আর তোমার আনন্দের জন্য এখানে এনে ওদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে মা। তোমার আনন্দে ওদের জীবন সংশয় হচ্ছে।

চোখ মুছে অতঃপর সে রাজি হল বাকি মাছগুলি তারা ফেরত ফিয়ে আসবে দোকানে কেননা তারা ঠিক যত্ন করতে পারছেনা।

মাছ দিয়ে আসল দোকানে। সেদিন ই বাবা তাকে বড় মাছের পোনা যেখানে চাষ হয় নিয়ে গেল। মাছদের প্রাণ দেখতে দেখতে খোলা হওয়ায় তাদের সাতার দেখে ভুলে গেল তার একোরিয়াম এর কথা।

১,২৭৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

২৬ টি মন্তব্য

  1. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    _+_+_+_+_+_+_+_+_+_+_

  2. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    +_+_+_+_+_+_+_+_+_+মাইনাস এ.ভয়.পেয়ে.গেলাম

  3. রোদের ছায়া মন্তব্যে বলেছেন:

    ছোট্ট সুন্দর গল্প আর গল্পের ছলে বেশ শিক্ষণীয় একটি দিক তুলে ধরেছেন। আমরা নিজেদের শখের জন্য মাছ, পশু-পাখি পুষি কিন্তু ওদের কষ্ট আমাদের চোখে পড়েনা।

  4. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    শিক্ষনীয় লেখা লিখেছেন, অনেক সুন্দৱ হয়েছে. carry on

  5. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    সকাল দশটা দেখা গেল মাছটি মরে আছে জারের ভিতরে। তার কান্নায় মাও কানতে শুরু করে।

    বাবা অসহায়ের মতন মাথা নাড়ে।——— সুন্দর কাহিনীর সাথে সাবলীল শব্দ চয়নে মুগ্ধ করে দিয়েছ!
    গল্প লেখার সহজাত ক্ষমতা আছে তোমার তা যে কাউকেই মানতে হবে। অভিনন্দন।

  6. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    গত ২০ তারিখে তোমার ভাবী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে । তুমি আন্টি হয়েছ । এখনও নাম ঠিক করিনি।
    একটা ভাল নাম দিও ।

  7. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    তোমার ফেসবুক ইমেল নাম্বার দিও ।
    সেসবুকে আমার নাম- Jasim uddin

  8. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    মূনজারিন.আমার নাম

  9. কল্পদেহী মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো গল্পটি…….

  10. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    এ রকম গল্প পড়েই ফ্রেশ হয়ে যায় ।
    খুব খুব ভাল ।

  11. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    এ রকম কমেন্টস পড়ে মন.ভাল হয়ে যায় ।
    খুব খুব ভাল ।..♥♥

  12. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পটি পুরো পড়ে মন্তব্য লিখতে যাবো হঠাৎ খেয়াল হলো লেখক কে দেখা হয় নাই।
    পরে দেখলাম এটা আমার প্রিয় লেখক কবি ও গল্পকার আরজু মূন জারিন।
    এখানে মুনটি মূন হয়েছে কেনো ?
    শিক্ষনীয় অনুসরনীয় সুন্দর ছিমছাম লেখনী।
    অনেক অনেক ভালো লাগা রইল।

  13. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    কিন্তু মায়ের ও জেদ। গোল্ডেন ফিস গুলি ঘরে সুখ সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। মায়ের যুক্তির কাছে বাবাকে হার মানতে হল।

    মায়েরা বুঝেনা কেন ?

  14. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    বাবারা বুঝালে হয়

  15. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ প্রিয় ছাইফুল ভাই কমেন্টসের জন্য।

  16. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লাগল । আমি মিস করে গেছিলাম। কোন ফিছলামো নয় , সুন্দর হয়েছে

  17. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ছেলের জন্মদিনে বোন দিয়েছিল একোরিয়াম। বাঁচাতে পারিনি :-( গল্পটা পড়ে সেটা মনে পিড়ে গেল আপি। ভাল লাগল গল্প

  18. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    একবাৱ পড়লে বাৱবাৱ পড়তে ইচ্ছে কৱে বচন ভঙিমা এক কথায় বলতে গেলে অসাধাৱন আৱজু আপা

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top