Today 15 Aug 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব–১০ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১৮/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1140বার পড়া হয়েছে।

আমাদের ব্যাটালিয়নে এক জন এস পি , এক জন এডিশনাল এস, পি , সাত জন এ এস পি এবং দুই জন ডাক্তার আছে । আমরা শুরুতে এসে তাবুতে উঠেছিলাম । কিছু দিনের মধ্যেই অফিসারদের জন্য হার্ড স্ট্রাকচার
তৈরী হয়ে গেল । অবশ্য পর্য়ায় ক্রমে সকলের জন্যই হার্ডস্ট্রাকচার তৈরী হবে । একজন কন্ট্রাক্টরের লোক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ।কাজ যাতে দ্রুত হয়সে জন্য আমাদের লোক জন কন্ট্রাক্টরের লোকদের সাহায্য করছে । এ কারণে কাজ এগুচ্ছেও দ্রুত গতিতে । অল্প সময়ের মধ্যেই সকল হার্ড স্ট্রাক্চার উঠে যাবে বলে মনে হচ্ছে । যাই হোক যে চারটি কমপ্লিট হয়েছে তার থেকে অফিসের জন্য প্রয়োজনীয় কক্ষ রেখে আমাদেরকে দুজন করে প্রতি রুমে উঠার নির্দেশ হলো । ফলে ছয় জন সিনিয়র এ এস পি ছির এক ব্যাচের , তারা দুজন দুজন করে এক এক রুমে উঠে গেলেন । দুই ডাক্তার উঠলেন এক রুমে ।এস পি সাহেব একা এক রুমে উঠলেন । এখন বেশী হলেন এডিশনাল এস পি । তাকে কেউ সাথে নিলেন না । আর আমিতো শুরু থেকেই দল ছুট । ফলে াামি আর এডিশনাল এস পি সাহেব বাধ্য হয়ে এক রুমে উঠলাম । আমরা মশিনে আসার জন্য মহেড়া ট্রেনিং সেন্টারে ট্রেনিং নিতে অবস্থান করা কালেই সকলেরই জানা হয়ে গিয়েীছল যে ,এডি, এস পি সাহেবকে নিয়ে থাকার অসুবিধা কতটা । সব চেয়ে বড় সমস্যা তিনি আধ ঘন্টা পর পর একটি করে সিগারেট খান ।সিগারেটের ধোয়ার গন্ধে রুমে থাকা দায় । দ্বিতীয়ত তিনি লোকটা একেবারেই অগোছালো । বিছানায় তিনি কখনও চাদর ব্যবহার করেন না। অনেক সময় দেখা যায় বাইরে থেকে এসে জামা প্যান্ট ঝুলিয়ে না রেখে খুলে মেঝেতেই ফেলে রেখেছেন । রাতে ঘুমালে দেখা যায়, তার পা দুটোর হাটুর নিচের অংশ খাটের নিচে ঝুলছে । ঘুমিয়ে পরার পর লুঙ্গির কি অবস্থা হয় তা না বলাই ভাল । কথা বলেন একটু বেশী । বয়স অনুসারে ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেনি । এখনও আচরনে কোন ভারবারতিকতা আসেনি । তাই বলে ভাববেন না তিনি লোক খারাপ বা কিছু বুঝেন না । লোক হিসেবে তিনি ভাল বলেই শুনেছি । আর তার ঞ্জান বুদ্ধি আরও ভাল । আমাদের এ এস পি সাহেবরা তাকে পাগলাটে হিসেবে ধরে নিয়ে তেমন মূল্যায়ন করেন না । কিন্তু তিনি এক দিন আমার নিকট সকল এ এস পি দের সম্পর্কে যে সকল মন্তব্য করলেন তা শোনে আমি অবাক হয়ে গেলাম । দেখলাম সকলের ক্ষেত্রেতিনি যে সকল মন্তব্য করেছেন –তা একেবারেই যথার্থ । আরো বললেন—“ ওরা ভাবে আমি কিছু বুঝি না ।আসলে আমি ওদের নাড়ি নক্ষত্র সবই চিনি । শুধু কিছু বলি না ।“
কথাটি যে পুরো পুরি সত্য তা আর কেহ না বুঝলেও আমি বুঝতে ভুল করিনি ।
এডি, এস পি সাহেব সিগারেট খান একটু বেশী ।অবশ্য অনেকেই তা খান । এক সময় আমি নিজেও প্রচুর সিগারেট খেতাম । সিগারেট বললে ভুল হবে , বিড়ি খেতাম । বিড়ি খাওয়ার কথা মনে পড়লে আর তখন বিড়ি না পেলে এক রকম পাগল হয়ে যেতাম । তাই বলে ভাববেন না যে আমি খুব শখ করে বিড়ি খাওয়া শিখেছিলাম ।মোটেই শখ করে বিড়ি খাওয়া শিখিনি । আমার বড় ভাই আমাকে বিড়ি খাওয়া শিখিয়েছিলেন ।তাকে কে শিখিয়েছিল তা অবশ্য আমি জানি না । তবে আমার বাবা বিড়ি খেতেন । তাকে দেখেও বড় ভাই বিড়ি খাওয়া শিখে থাকতে পারেন । আমি তখন ক্লাশ ফপইভ অথবা সিক্সে পড়ি ।বাবা ছিলেন একা মানুষ । কাজেই স্কুলে যাওয়ার আগে এবং স্কুল থেকে ফিরে এসে প্রচুর কাজ করতে হতো আমাদের । ফলে শারীরিক ভবাবে আমরা সব সময় ই কিছুটা ক্লান্ত থাকতাম । কাজেই পড়তে বসার কিছুক্ষণ পরই ঘুমে ঢলে পরতাম । আমার বড় ভাই আমার ঘুম থামানোর জন্য চর থাপ্পর থেকে শুরু করে আমার উপর অনেক রকমের ঔষধই প্রয়োগ করলেন । কিন্তু কোন চিকিৎ সায়ই তেমন কোন কাজ করছিল না । আমি ও ভাই একই টেবিলের দুই পাশে বসে পড়া লেখা করতাম । আসলে পড়া লেখার সুবিধার জন্য এক টেবিলে বসে পড়তাম কি না জানি না । তবে আমরা ভাই বোন ছিলাম ৯ জন । সকলের জন্য আলাদা ভাবে টেবিল তৈরী করে দেওয়া যে আমার বাবার পক্ষে সম্ভব ছিলনা এ কথাটি সত্য । কাজেই যে যেমন সুবিধা, যেমন খাটে, মাটিতে মাদুর বিছিয়ে , টেবিলে সুবিধা পেতাম সেখানেই পড়া রেডি করে নিতাম ।সেদিক থেকে আমার বড় ভাইয়ের সাথে এক টেবিলে বসে পড়া লেখা করাই সুবিধা ছিল । তাছারা আমি রাতে বড় ভাইয়ের এক খাটিয়াতেই ঘুমাতাম । আর বড় ভাইয়ের টেবিলে পড়ার কারণে তিনি আমার উপর একটু আধটুকু কর্তৃত্ব খাটাবেন এটাইতো স্বাভাবিক । সে সুবাদেই তিনি আমার ঘুম তাড়ানোর জন্য চর থাপ্পর দিয়ে থাকতেন । সব চিকিৎসাই যখন ব্যর্থতায় পর্যবাসিত হল, তখন তিনি একদিন আমাকে একটি বিড়িতে আগুন লাগাতে দিলেন । তখন ছিল কুম্বি পাতার বিড়ি । সেই বিড়ি হাড়িকেনের চিমনী উচু করে ভিতরে ডুকিয়ে দিয়ে ধরে রাখলেও সহজে আগুন ধরতে চাইতো না । অনেক কষ্ট করে সেদিন বিড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলাম । কিন্তু এতে আমার চোখ দিয়ে পানি বেড়িয়ে গেল । ফলে ঘুম একদম চলে গেল । সেদিন অনেক্ষণ ভাল ভাবে পড়তে পারলাম ।পরদিন আবার যখন পড়ার টেবিলে ঘুমের আগমন ঘটলো , তখন বড় ভাই তার নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে লাগলেন । অতিরিক্ত শিক্ষা হিসেবে কিছু ট্রিপসও পেলাম । বিড়ি হাড়িকেনের চিমনীর নিচে ডুকিয়ে দিলে তিনি বললেন—
“আরে গাধা, ঐ ভাবে কি বিড়িতে আগুন ধরে ? বিড়িতে মুখ লাগিয়ে টান দে ।“আমি বিড়িতে মুখ মুখ লাগিয়ে যেই দিলাম টান , আর যায় কোথা ।কাশতে কাশতে একদম অস্থির হয়ে গেলাম আমি । ঘুম কোথায় হাওয়া হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না ।বড় ভাই আমার ঘুম তাড়ানোর একটা বড় চিকিৎসা পেয়ে গেলেন । আর এভাবেই আমি বিড়ি খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেলাম ।

১,১১৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    অনবদ্য ——– সাথে আছি ।

  2. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    স্মৃতির পাতা থেকে পড়লাম। অনেক চমত্কার করে বর্ণনা করেছেন পুরো গল্পটি। অনেক শুভেচ্ছা রইল।

  3. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ । ভাল থাকুন ।

  4. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    স্মৃতির পাতা ভাল লাগল।

  5. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য । শুভ কামনা ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top