Today 14 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব -১১-৪ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১০/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 666বার পড়া হয়েছে।

ধরতি আই , ডি, পি ক্যাম্পে তদন্ত চলা কালে আমরা দাঁড়িয়ে আছি , দেখি একটি মেয়ে গাধার পিঠে চড়ে আমাদের দিকে আসছে । এ দেশে যেখানে সেখানে গাধার ছড়াছড়ি । আর তার আরোহী অধিকাংশই মহিলা । ক্যাম্পের নিকট দাঁড়িয়ে থাকা কালে যে মেয়েটিকে গাধার পিঠে দেখলাম , সে দেখতে ঠিক আমাদের বাংলাদেশী বা ইন্ডিয়ানদের মত । সমতো কালো নয় । গঠন প্রকৃতিও সুদানীদের মতো নয় । এই কালোর দেশে একটু রং চরা মেয়ে দেখে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলাম না । কিন্তু মেয়েটি তার গাধা নিয়ে আমাদের কাছ দিয়ে না এসে দূরে গাধা দাঁড় করিয়ে থেমে রইল ।কাজেই আমি সুবিধা মতো ছবি নিতে পারছিলাম না । আমার এ অবস্থা দেখে একজন সেনেগালী সৈনিক এগিয়ে এসে আমার কাছ থেকে ক্যামেরা নিয়ে কয়েকটি ছবি তোলে দিল । আমরা ধরতি ক্যাম্প থেকে ফিরে আল আল- রিয়াদ , আরদামাতা , ক্রিনডিং , আল-হাজাজ ইত্যাদি ক্যাম্পে একবার করে টহল দিয়ে এলাম । মূলত অদ্যকার ওড়িয়েন্টেশনে আমাদের বিভিন্ন ক্যাম্প চেনানো হল । সন্ধ্যা ৭ টার আগেই আমরা সুপার ক্যাম্পে ফিরে এলাম ।
পর দিন থেকে আমরা প্রতিনিয়তই পেট্রোলে যাচ্ছি ।অবশ্য নাইট পেট্রোল এখনও শুরু হয়নি । কিভাবে শিখলো বা কে শিখালো তা জানিনা , আমরা যে দিকেই যাই রাস্তার ধারে এবং ক্যাম্প এলাকায় একেবারে ছোট থেকে শুরু করে ১০/১২ বছর বয়সের বাচ্চারাও বাংলাদেশী পুলিশ দেখলে বন্ধুত্বের প্রতিক হিসেবে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখায় । আর কাছে এসে বলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ । আমি কয়েকটি বাচ্চাকেই কাছে এসে বলতে শুনেছি “বাংলাদেশ মুসলিম , সেনেগাল নো মুসলিম “ ।এত ছোট বাচ্চাদের মধ্যে মুসলিম ভ্রাতৃত্ব বোধ এমনি এমনি গড়ে উঠার কথা নয় । আমার ধারণা তাদের বয়োজৈষ্ঠরাই ছোটদের মনে বাংলাদেশীদের সম্পর্কে এমন ধারণা র অণুপ্রবেশ ঘটিয়ে দিয়ে থাকবেন ।সুদানের লোক গরীব না থাকলেও এ ই সকল আই ডি, পি ক্যাম্পের লোকেরা যথার্থ ই গরীব এতে কোন সন্দেহ নে ই ।কারণ এই সকল ক্যাম্পে যারা আছে , তাদের সংসারের কেহ না কেহ গৃহ যুদ্ধে মারা গিয়েছে । গৃহ যুদ্ধের সময় সুদান সরকার সমর্থিত গ্রোপএদের সর্বশান্ত করে দিয়েছে । তারা বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়ে এদের পরিবারের পুরূষ সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে এবং এদের উট , গরূ ,দুম্বাছাগল সহ সকল সম্পদ লুটে নিয়েছে ।পরে ইউ ,এন এর সহায়তায় যুদ্ধ বিরতি চুক্তি সম্পাদনের পর এরা ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এই সকল ক্যাম্পে চলে এসেছে ।ক্যাম্পে ইউ , এন থেকে রিলিফ প্রদান করা হয় । কিন্তু রিলিফ মানেইতো অপর্য়াপ্ত খাদ্য সরবরাহ করা । কাজেই ছোট বাচ্চারা গাড়ি দেখলেই খাদ্যের আশায় দৌড়ে কাছে আসে । আমাদের কাছে বিস্কুট , ফল যা কিছু থাকে তা দিতেও এচ্ছে করে , কিন্তু ইউ, এন থেকে এ বিষয়ে কড়া নিষেধ আছে । অবশ্য এর পিছনে যুক্তিও আছে । কারণ আমরা যাই ক্যাম্পের লোকদের এবং ইউ , এন এর সিভিল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বিধান করতে ।সেখানে যদি একবার খাদ্য বিতরণ শুরু হয় , তাহলে দেখা যাবে , কোন ক্যাম্পের কাছে গাড়ি এসে থামলেই শিশুরা এসে গাড়ি ঘিরে ধরবে । এভাবে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হুমকীর মুখে পরে যাবে ।ফলে আমরাও াামাদের ফোর্সদের নিষেধ করে দিয়েছিলাম, শিশুদের মধ্যে কোন প্রকার খাদ্য বিতরণ করতে ।তবু এদের জন্য খারাপ লাগে । এরা মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়েও – না পাচ্ছে খাদ্য , না পাচ্ছে শিক্ষা, না পাচ্ছে বাস স্থান । তবু এরা বেঁচে আছে , বেভচে থাকবেসভ্য পৃথিবীর অসভ্যতার প্রতীক হিসেবে ।

৬৫৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লিখেছেন প্রিয়।

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

  3. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগছে। সাথে আছি।

  4. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক কথা জানা গেল ।
    শুভকামনা

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top